রাষ্ট্রীয় সম্মানি ভাতা পাবেন আড়াই লাখের বেশি ইমাম-পুরোহিত

প্রতিবেদক, রাজনীতি ডটকম
আপডেট : ১০ আগস্ট ২০২৬, ১৬: ২৫
ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়

চলতি অর্থবছরে মসজিদ, মন্দির, বৌদ্ধ বিহার ও গির্জাসহ ৮৬ হাজার ৭০৯টি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানকে রাষ্ট্রীয় সম্মানি ভাতার আওতায় আনা হচ্ছে। এসব প্রতিষ্ঠানে কর্মরত মোট ২ লাখ ৫৬ হাজার ৭৪ জন ধর্মীয় নেতা ও কর্মী এ সুবিধা পাবেন। এ জন্য চলতি অর্থবছরের বাজেটে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ১ হাজার ১০০ কোটি টাকা।

সোমবার (১০ আগস্ট) ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে। এতে বলা হয়, সম্মানি ভাতার আওতায় ৮২ হাজার ৬৫৬টি মসজিদ, ৩ হাজার মন্দির, ৭৫২টি বৌদ্ধ বিহার ও ৩০১টি গির্জা রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চলতি মাসেই এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন।

সরকারের নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়নে মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন, খাদেম এবং অন্যান্য ধর্মীয় উপাসনালয়ে কর্মরত ব্যক্তিদের জন্য মাসিক সম্মানি ও প্রশিক্ষণভিত্তিক কল্যাণ ব্যবস্থা চালুর লক্ষ্যে গঠিত সেলের এক সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসন বিষয়ক উপদেষ্টা ও ওই সেলের সভাপতি মো. ইসমাইল জবিউল্লাহর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, শরীয়তপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য হুইপ মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদ অপু, গাইবান্ধা-৪ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ শামীম কায়সার, ধর্মসচিব মুন্সী আলাউদ্দিন আল আজাদ, সমাজকল্যাণ সচিব মোহাম্মদ আবু ইউছুফসহ সেলের অন্যান্য সদস্য উপস্থিত ছিলেন।

ধর্ম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরে সম্মানি ভাতার জন্য প্রতিটি ইউনিয়ন থেকে ১৫টি করে মসজিদ নির্বাচন করা হবে। পৌরসভাগুলোর মধ্যে ‘ক’ শ্রেণির পৌরসভার প্রতিটি ওয়ার্ড থেকে চারটি, ‘খ’ শ্রেণির পৌরসভার প্রতিটি ওয়ার্ড থেকে তিনটি এবং ‘গ’ শ্রেণির পৌরসভার প্রতিটি ওয়ার্ড থেকে দুটি করে মসজিদ নির্বাচন করা হবে। এ ছাড়া সিটি করপোরেশনের প্রতিটি ওয়ার্ড থেকে ছয়টি করে মসজিদ নির্বাচন করা হবে।

চলতি অর্থবছরে দেশের প্রতিটি উপজেলা থেকে পাঁচটি করে মন্দির নির্বাচন করা হবে। এর মধ্যে ‘ক’ শ্রেণির পৌরসভার প্রতিটি থেকে দুটি এবং অন্যান্য শ্রেণির পৌরসভার প্রতিটি থেকে একটি করে মন্দির নির্বাচন করা হবে। অবশিষ্ট মন্দির ইউনিয়ন পর্যায় থেকে নির্বাচন করা হবে। তবে বৌদ্ধ বিহার ও গির্জার সংখ্যা জেলাভিত্তিক ২৫ শতাংশ হারে নির্ধারণ করা হবে।

এ কার্যক্রমের আওতায় নির্বাচিত মসজিদের ইমাম, মন্দিরের পুরোহিত, বৌদ্ধ বিহারের অধ্যক্ষ ও গির্জার যাজক প্রত্যেকে মাসে ৫ হাজার টাকা করে সম্মানি পাবেন। মসজিদের মুয়াজ্জিন, মন্দিরের সেবাইত, বৌদ্ধ বিহারের উপাধ্যক্ষ ও গির্জার সহকারী যাজক পাবেন ৩ হাজার টাকা করে। আর মসজিদের খাদেমকে মাসিক ২ হাজার টাকা সম্মানি দেওয়া হবে।

সম্মানির অর্থ সরাসরি উপকারভোগীদের ব্যাংক হিসাবে ইএফটির মাধ্যমে পাঠানো হবে। মসজিদ ও অন্যান্য উপাসনালয়ে কর্মরত ধর্মীয় নেতাদের মাসিক সম্মানি দিতে চলতি অর্থবছরের বাজেটে ১ হাজার ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

ধর্ম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, চলতি অর্থবছরে দেশের প্রায় এক-চতুর্থাংশ ধর্মীয় উপাসনালয়কে এ কর্মসূচির আওতায় আনা হচ্ছে। পরবর্তী তিন অর্থবছরে পর্যায়ক্রমে দেশের শতভাগ ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানকে রাষ্ট্রীয় সম্মানি সুবিধার আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে।

এর আগে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে পাইলট প্রকল্পের আওতায় দেশের ৬ হাজার ১৭টি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের ইমাম, মুয়াজ্জিন, খাদেম, পুরোহিত ও সেবাইতসহ মোট ১৩ হাজার ৯৪৯ জনকে প্রথমবারের মতো রাষ্ট্রীয় সম্মানি দেওয়া হয়। চলতি বছরের ১৪ মার্চ রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ওই কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন।

Ad
Ad
ad
ad
ad

খবরাখবর থেকে আরও পড়ুন

রংপুর, চট্টগ্রাম ও সিলেটসহ দেশের অধিকাংশ অঞ্চলে ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস

মৌসুমি বায়ুর অক্ষের বর্ধিতাংশ রাজস্থান, পাঞ্জাব, হরিয়ানা, উত্তরপ্রদেশ, বিহার, গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের মধ্যাঞ্চল হয়ে আসাম পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। এর একটি বর্ধিতাংশ উত্তর বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত প্রসারিত। বর্তমানে মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশের ওপর মোটামুটি সক্রিয় এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরে মাঝারি অবস্থায

৩ ঘণ্টা আগে

এসএসসিতে ৬৬৯ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শতভাগ পাস

এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফলে এবার দেশের ৬৬৯টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শতভাগ পরীক্ষার্থী পাস করেছে। অর্থাৎ, এসব প্রতিষ্ঠান থেকে যতজন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়েছিল সবাই পাস করেছে। অন্যদিকে দেশের ৩১২টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কোনো পরীক্ষার্থীই পাস করতে পারেনি। অর্থাৎ, এসব প্রতিষ্ঠান থেকে পরীক্ষায় অংশ নেওয়া সবাই ফেল

৪ ঘণ্টা আগে

এসএসসিতে পাসের হারে শীর্ষে ঢাকা, সর্বনিম্ন মাদরাসায়

এবার সবচেয়ে কম পাসের হার মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডে। এ বোর্ডের অধীনে দাখিল পরীক্ষায় পাসের হার ৫৫ দশমিক ৪৯ শতাংশ। আর বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এসএসসি (ভোকেশনাল) ও দাখিল (ভোকেশনাল) পরীক্ষায় গড় পাসের হার ৫৮ দশমিক ২০ শতাংশ।

৪ ঘণ্টা আগে

সবচেয়ে বেশি জিপিএ-৫ ঢাকা বোর্ডে, সর্বনিম্ন বরিশালে

ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, সবচেয়ে বেশি ৩৩ হাজার ২৫৩ শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছে ঢাকা বোর্ড থেকে। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ জিপিএ-৫ রাজশাহী বোর্ডে— ১৬ হাজার ১১৩ জন। তৃতীয় সর্বোচ্চ ১৩ হাজার ৬৩৯ জন জিপিএ-৫ পেয়েছে দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ড থেকে।

৪ ঘণ্টা আগে