৬টাতেই বন্ধ দোকান, ঈদুল আজহার আগে সমন্বয়

প্রতিবেদক, রাজনীতি ডটকম
শনিবার দোকান মালিক সমিতিসহ ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা করেন জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু। ছবি: মন্ত্রণালয়
শনিবার দোকান মালিক সমিতিসহ ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা করেন জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু। ছবি: মন্ত্রণালয়

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয়ের জন্য সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্তই দোকানপাট ও শপিং মল খোলা রাখার সিদ্ধান্তে অনড় রয়েছে সরকার। তিন মাসের জন্য সরকার এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে জানিয়ে বিদ্যুৎ ও জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু ঈদুল আজহার আগে এ সময়সূচি সমন্বয় করা হবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন।

শনিবার (৪ এপ্রিল) রাজধানীর বিদ্যুৎ ভবনের বিজয় হলে মন্ত্রী দোকান মালিক সমিতিসহ ব্যবসায়ী সংগঠনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এ কথা বলেন।

সভায় গ্রীষ্মকাল ও সেচ মৌসুমে জ্বালানি সাশ্রয় ও নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে সরকারের পক্ষ থেকে ব্যবসায়ীদের সহযোগিতা চান মন্ত্রী। বলেন, আপাতত তিন মাসের জন্য সরকার এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে কোরবানির ঈদের আগে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলোচনা করে সময়সূচিতে সমন্বয় করা যেতে পারে।

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সভায় উপস্থিত ব্যবসায়ী নেতারা সরকারের সিদ্ধান্ত মেনে চলার আশ্বাস দেন। পাশাপাশি তারা সরকারের কাছে কয়েকটি সুপারিশ ও দাবি তুলে ধরেন।

জবাবে মন্ত্রী বলেন, সসরকার সাময়িক সময়ের জন্য এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এ পরিস্থিতিতে সবার সহযোগিতা প্রয়োজন। ব্যবসায়ীদের দাবি-দাওয়া নিয়েও সরকার আলোচনা করবে।

সভায় বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম এবং বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিতসহ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) রাতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে মন্ত্রিসভার বৈঠক হয়। বৈঠক শেষে মধ্যরাতে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে সরকারি ও বেসরকারি অফিসের সময় এক ঘণ্টা কমিয়ে সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা করা হয়েছে, ব্যাংক লেনদেন হবে সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৩টা পর্যন্ত। পাশাপাশি দেশের সব মার্কেট, দোকানপাট ও শপিংমল সন্ধ্যা ৬টার পর বন্ধ করতে হবে। কাঁচাবাজার, ওষুধের দোকান, হোটেল-রেস্তোরাঁ ও জরুরি সেবা এ বিধিনিষেধের বাইরে রাখা হয়েছে।

ইরান যুদ্ধ ঘিরে সৃষ্ট পরিস্থিতিতে জ্বালানি সরবরাহে অনিশ্চয়তা ও বিদ্যুৎ ব্যবহারের চাপ সামাল দিতেই এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব। এ সময় সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের জ্বালানি সাশ্রয়সহ অভ্যন্তরীণ ও বিদেশি প্রশিক্ষণ, আপ্যায়ন খরচ এবং আরও নানা খাতে সরকারের ব্যয় সংকোচন নীতির কথা তুলে ধরেন তিনি।

পরদিন শুক্রবার (৩ এপ্রিল) বাংলাদেশ দোকান ব্যবসায়ী মালিক সমিতি সময়সূচি পুনর্বিবেচনার দাবি তোলে। দোকান বন্ধের সময় দুই ঘণ্টা এগিয়ে আনার বদলে সংগঠনটি দুই ঘণ্টা পরে দোকান খোলার কথা জানায়৷ সে হিসাবে সকাল ১১টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত দোকান খোলা রাখার সুযোগ চায় দোকান মালিক সমিতি।

Ad
ad
Ad 300x250

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

Ad 300x250
ad
Advertisement