উন্মুক্ত পদ্ধতিতে কয়লা উত্তোলনের সিদ্ধান্ত, ছাত্র ইউনিয়নের প্রতিবাদ

ফুলবাড়ীসহ দেশের বিভিন্ন কয়লাখনি থেকে উন্মুক্ত পদ্ধতিতে কয়লা উত্তোলনের সরকারি সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন। সংগঠনটির অভিযোগ, এ পদ্ধতিতে কয়লা উত্তোলন হলে কৃষিজমি ও ভূগর্ভস্থ পানির পাশাপাশি পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের ওপর বড় ধরনের ক্ষতি হতে পারে।
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) এক যৌথ বিবৃতিতে ছাত্র ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় সংসদের সভাপতি মাহির শাহরিয়ার রেজা ও সাধারণ সম্পাদক বাহাউদ্দিন শুভ এ প্রতিবাদ জানান।
এর আগে সোমবার ঢাকায় এক আলোচনা সভায় অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ফুলবাড়ীসহ দেশের অন্যান্য কয়লাখনি থেকে উন্মুক্ত পদ্ধতিতে কয়লা উত্তোলনের সিদ্ধান্তের কথা জানান। অর্থমন্ত্রীর ওই বক্তব্যের পরই সংগঠনটি তাদের অবস্থান তুলে ধরে।
ছাত্র ইউনিয়নের নেতারা বলেন, বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর রাষ্ট্রীয় সম্পদ বেসরকারি খাতে দেওয়ার বিভিন্ন উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে। ৪৪টি রাষ্ট্রায়ত্ত কলকারখানা বেসরকারিকরণ এবং জ্বালানি খাতের বেসরকারিকরণের উদ্যোগও এর অংশ বলে তারা দাবি করেন। বিশ্বব্যাংক ও এডিবির পরামর্শে সরকার নয়া-উদারবাদী নীতি বাস্তবায়নের দিকে এগোচ্ছে বলেও অভিযোগ তাদের।
সংগঠনটির ভাষ্য, অতীতের অভিজ্ঞতা অনুযায়ী দেশের কয়লাখনির দায়িত্ব বিদেশি কোনো প্রতিষ্ঠানের হাতে দেওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাদের দাবি, এমন হলে বিদেশি কোম্পানি বাংলাদেশ থেকে কয়লা উত্তোলন করে তা বেশি দামে দেশের বাজারে বিক্রি করতে পারে কিংবা বিদেশে রপ্তানি করতে পারে।
উন্মুক্ত পদ্ধতিতে কয়লা উত্তোলনের বিরোধিতা করে ছাত্র ইউনিয়ন বলছে, এতে হাজার হাজার একর কৃষিজমি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি ভূগর্ভস্থ পানির স্তর ও পরিবেশের ওপর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়তে পারে।
বিবৃতিতে ২০০৫ সালে সুনামগঞ্জের ছাতকের টেংরাটিলা গ্যাসক্ষেত্রে কানাডীয় কোম্পানি নাইকোর কার্যক্রমের কথাও তুলে ধরা হয়। সংগঠনটির অভিযোগ, ওই ঘটনায় বিস্ফোরণের পর পরিবেশের ক্ষতি এবং বিপুল পরিমাণ গ্যাসের অপচয় হয়েছিল। তাদের দাবি, সেই অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা না নিয়ে সরকার আবারও একই ধরনের ঝুঁকিপূর্ণ পথে যাচ্ছে।
২০০৬ সালের ফুলবাড়ী আন্দোলনের প্রসঙ্গ টেনে ছাত্র ইউনিয়নের নেতারা বলেন, সে সময় উন্মুক্ত পদ্ধতিতে কয়লা উত্তোলনের বিরোধিতায় ব্যাপক আন্দোলন গড়ে উঠেছিল। ওই আন্দোলনে তরিকুল, আমিন ও সালেকিন নিহত হন বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।
ছাত্র ইউনিয়ন বলেছে, সরকার যদি ফুলবাড়ীসহ দেশের অন্যান্য কয়লাখনিতে উন্মুক্ত পদ্ধতিতে কয়লা উত্তোলনের উদ্যোগ বাস্তবায়নে এগোয়, তাহলে আবারও বড় ধরনের গণআন্দোলন গড়ে তোলা হবে। একই সঙ্গে রাষ্ট্রীয় সম্পদ বেসরকারিকরণ এবং জ্বালানি খাত বেসরকারিকরণের সিদ্ধান্তও বাতিলের দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।
সরকারকে উন্মুক্ত পদ্ধতিতে কয়লা উত্তোলনের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসার পাশাপাশি নয়া-উদারবাদী নীতি পরিহার করে রাষ্ট্রীয় সম্পদের ওপর জনগণের মালিকানা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে ছাত্র ইউনিয়ন।














-93027b-256x144.webp)

-adbf69-256x144.webp)
-e8d740-256x144.webp)
