ভোক্তা-অধিকার আইনের খসড়ায় বেড়েছে জরিমানা, মতামতের জন্য উন্মুক্ত ৩০ দিন

প্রতিবেদক, রাজনীতি ডটকম
রাজধানীর একটি বাজারে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান। ফাইল ছবি
রাজধানীর একটি বাজারে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান। ফাইল ছবি

ডিজিটাল কমার্সসহ অনলাইন কেনাকাটার বিভিন্ন বিষয় যুক্ত করে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন ২০০৯-এর সংশোধনীর খসড়া প্রকাশ করেছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। সংশোধনীতে ভোক্তা অধিকারের বিভিন্ন ক্ষেত্রে জরিমানা বাড়ানো হয়েছে। খসড়াটি প্রকাশ করে অংশীজনদের মতামতের জন্য আগামী ৩০ দিন ওয়েবসাইটে রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে ‘ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ (সংশোধন) আইন ২০২৬’-এর এই খসড়া প্রকাশ করা হয়েছে।

আইনের খসড়ায় বিভিন্ন পণ্যের মোড়কে তথ্য না দেওয়ার শাস্তি হিসেবে একবছর কারাদণ্ড বা দুই লাখ টাকা জরিমানা বা অর্থদণ্ডের কথা বলা হয়েছে। বর্তমান আইনে এ ক্ষেত্রে একবছর বা ৫০ হাজার টাকা জরিমানার বিধান রয়েছে।

একইরকম বিধান করা হয়েছে পণ্যের নির্ধারিত দামের তুলনায় বেশি মূল্য নেওয়ার ক্ষেত্রেও। এ ছাড়া ভেজাল বা নিষিদ্ধ পণ্য বিক্রির শাস্তি হিসেবে কারাদণ্ড তিন বছর থেকে কমিয়ে দুই বছর করা হলেও অর্থদণ্ড দুই লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে তিন লাখ টাকা করা হয়েছে। নকল পণ্যের ক্ষেত্রেও নতুন আইনে শাস্তি ভেজাল পণ্যের মতই করা হয়েছে।

খসড়ার যুক্তি হিসেবে বলা হয়েছে, আইনে সর্বোচ্চ জরিমানা পর্যাপ্ত না হওয়ায় বড় প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে শাস্তির উদ্দেশ্য ব্যাহত হয়। আইনের কয়েকটি ধারায় মুদ্রাস্ফীতির কারণে অর্থের মূল্য কমে যাওয়ার কথাও বলা হয়েছে। ত্রুটিপূর্ণ পণ্য বদলানো বা ফেরত নিয়ে মূল্য ফেরত দেওয়ার বিধানও যুক্ত হচ্ছে।

সংকট তৈরির উদ্দেশ্যে অবৈধ মজুতের শাস্তি করা হয়েছে দুই বছর কারাদণ্ড বা পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা। বিক্রয় রশিদ না দিলে এক বছরের কারাদণ্ড বা এক লাখ টাকা জরিমানা এবং আইন প্রয়োগে বাধা দিলে একবছরের কারাদণ্ড বা দুই লাখ টাকা জরিমানার কথা বলা হয়েছে।

ভোক্তা অধিকার আইনের এই সংশোধনীতে সংযোজন হিসেবে এসেছে ডিজিটাল কমার্স। খসড়ায় বলা হয়েছে, অনলাইনে পণ্যের বিবরণ না দিলে ও ডিজিটাল বিজনেস আইডেন্টিটি (ডিবিআইডি) ছাড়া ব্যবসা চালালে এক বছর কারাদণ্ড বা দুই লাখ টাকা জরিমানা করা হবে। ডিজিটাল কমার্সে প্রতিশ্রুত পণ্য না পেলে অগ্রিম অর্থ ফেরতেরও ব্যবস্থা থাকছে। এসব ক্ষেত্রে সাজার বদলে জরিমানা, লাইসেন্স বাতিল বা ব্যবসা স্থগিত করা যাবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমতি ছাড়া ডিজিটাল গিফট কার্ড, ওয়ালেট, ক্রিপ্টোকারেন্সি বা ক্যাশ ভাউচার তৈরি ও বিক্রিতে একই দণ্ড রাখা হয়েছে। নিষিদ্ধ পণ্যের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ বা অনলাইন জুয়া-বেটিংয়ে দুই বছর কারাদণ্ড বা তিন লাখ টাকা জরিমানার বিধানের কথা বলা হয়েছে। এ ছাড়া নিবন্ধন ছাড়া ডিজিটাল কমার্স চালালে এক বছর কারাদণ্ড বা দুই লাখ টাকা জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে খসড়ায়।

খসড়ায় বলা হয়েছে, ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের পাশাপাশি জেলা ম্যাজিস্ট্রেটও ব্যবস্থা নিতে পারবেন।

Ad
ad
Ad 300x250

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

Ad 300x250
ad
Advertisement