বিগত সরকারের পরিসংখ্যান ও জিডিপির হিসাবে অসংগতি মিলেছে: অর্থমন্ত্রী

প্রতিবেদক, রাজনীতি ডটকম
বিগত সরকারের পরিসংখ্যান ও জিডিপির হিসাবে অসংগতি মিলেছে: অর্থমন্ত্রী

বিগত সরকারের আমলে দেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) হিসাবসহ বিভিন্ন পরিসংখ্যানে অসংগতি পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এবং পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি। এসব অনিয়ম চিহ্নিত করতে ফরেনসিক অডিট করেছে সংশ্লিষ্ট কমিটি। বিশেষজ্ঞদের পর্যালোচনা শেষে শিগগিরই এ বিষয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছেন তারা।

রোববার (৮ নভেম্বর) জাতীয় পরিসংখ্যান দিবস উপলক্ষে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) মিলনায়তনে আয়োজিত আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন তারা। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা জহির উদ্দিন স্বপন, অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর এবং পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি।

অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, প্রশ্নবিদ্ধ পরিসংখ্যান দিয়ে কোনো কাজ করা সম্ভব নয়। এটি নিজের সঙ্গে প্রতারণার শামিল। সরকারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ তথ্য উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিবিএসকে পূর্ণ স্বাধীনতা দেওয়া হচ্ছে। সংস্থাটির জনবলসংকটের বিষয়টিও সরকার বিবেচনা করছে। তিনি আরও বলেন, অতীতের অনিয়মের গভীরে যাওয়ার জন্য ফরেনসিক অডিট করা হয়েছে, কাউকে লক্ষ্যবস্তু করার উদ্দেশ্যে নয়। তথ্য যত বেশি উন্মুক্ত হবে, তত বেশি ভুল ও অসংগতি সামনে আসবে এবং সংশোধনের সুযোগ তৈরি হবে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগে তথ্য ও ডিজিটাল অবকাঠামোর গুরুত্বও বাড়ছে।

অনুষ্ঠানে অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, বিগত সরকারের সময়ে পরিসংখ্যান ব্যবহার করে একধরনের বয়ান তৈরির চেষ্টা করা হয়েছিল। অতীতের তথ্য পর্যালোচনায় জিডিপির হিসাবসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে অসংগতি পাওয়া গেছে। সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির তথ্যেও ব্যাপক গরমিল ছিল। যাঁদের সহায়তা পাওয়ার কথা, তাঁদের অনেকে তা পাননি। তিনি জানান, আগে দেশে নৌযানের সংখ্যা ১৩ হাজার দেখানো হলেও পর্যালোচনায় প্রকৃত সংখ্যা পাওয়া গেছে ২ লাখ ৬৭ হাজার। এসব অসংগতি দূর করতে ডিজিটাল রেজিস্টার বিনিময়ের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। বর্তমানে মিথ্যা তথ্যের একধরনের হাইব্রিড যুদ্ধ চলছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি বলেন, তথ্য ছাড়া দেশের বর্তমান অবস্থা, ভবিষ্যৎ লক্ষ্য কিংবা কোথায় ভুল হচ্ছে, তা বোঝা সম্ভব নয়। এ কারণে পরিসংখ্যানের ওপর মানুষের আস্থা ফিরিয়ে আনতে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিগত সরকারের সময়ের পরিসংখ্যান নিয়ে ফরেনসিক অডিট করা হয়েছে এবং জিডিপির হিসাব নিয়ে ওঠা প্রশ্নের পর্যালোচনায় যথেষ্ট গরমিল ও তার প্রমাণ পাওয়া গেছে। তিনি আরও জানান, ভোক্তা মূল্যসূচকসহ (সিপিআই) বিভিন্ন তথ্য এখন বিবিএস নিজেই প্রকাশ করছে। এসব তথ্য প্রকাশের জন্য আর মন্ত্রীর স্বাক্ষরের প্রয়োজন হচ্ছে না।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের সচিব মো. ফিরোজ সরকার। স্বাগত বক্তব্য দেন বিবিএসের মহাপরিচালক মো. শামীমুল হক। এ ছাড়া বক্তব্য দেন বিবিএসের পরিচালক কবির উদ্দিন আহাম্মদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সৈয়দ শাহাদৎ হোসেন এবং বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) মহাপরিচালক এ কে এনামুল হক। প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, বৈজ্ঞানিক ভিত্তিতে তৈরি তথ্য অনেক শক্তিশালী। সঠিক পরিসংখ্যান দেশের উন্নয়ন পরিকল্পনা ও নীতিনির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

Ad
ad
Ad 300x250

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

Ad 300x250
ad