কৃষক কার্ড বিতরণ কর্মসূচির উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

টাঙ্গাইল প্রতিনিধি
আপডেট : ১৪ এপ্রিল ২০২৬, ১৪: ৪০
টাঙ্গাইলের শহীদ মারুফ স্টেডিয়ামে কৃষক কার্ড বিতরণ ও প্রি-পাইলটিং কর্মসূচির উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: সংগৃহীত

বাংলা নতুন বছরের প্রথম দিনে কৃষক কার্ড বিতরণ কর্মসূচির উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মঙ্গলবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে টাঙ্গাইলের শহীদ মারুফ স্টেডিয়ামে প্রধান অতিথি হিসেবে তিনি কৃষক কার্ড বিতরণ ও প্রি-পাইলটিং কর্মসূচির উদ্বোধন করেন।

এ সময় ১৫ জন কৃষক-কৃষানিকে প্রধানমন্ত্রী নিজ হাতে কৃষক কার্ড বিতরণ করেন ও গাছের চারা তুলে দেন। ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে আরও ৯ উপজেলায় কৃষক কার্ডের উদ্বোধন করেন তিনি।

টাঙ্গাইলের প্রথম কৃষক হিসেবে কৃষক কার্ড পান সদর উপজেলার বড়রিয়া গ্রামের মোহাম্মদ আবু কায়সার। তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে কৃষক কার্ড পেয়ে আমি আনন্দিত ও গর্বিত। কৃষক কার্ড দিয়ে সব সুযোগ-সুবিধা পাব। এখন আমরা এদেশের একজন গর্বিত কৃষক। কৃষক কার্ড পেয়ে আমি খুবই খুশি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানাই।’

মঙ্গলবার টাঙ্গাইলে কৃষক কার্ড সেবার উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: বিএনপি মিডিয়া সেল
মঙ্গলবার টাঙ্গাইলে কৃষক কার্ড সেবার উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: বিএনপি মিডিয়া সেল

এর আগে এ দিন সকাল ৯টার দিকে টাঙ্গাইলের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রীর গাড়িবহর তার গুলশানের বাসভবন ছেড়ে যায়। সকাল ১০টায় মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর মাজার জিয়ারত করার কথা থাকলেও তিনি ঢাকা থেকে সরাসরি টাঙ্গাইলে যান।

বেলা ১১টা ২০ মিনিটে টাঙ্গাইলের শহীদ মারুফ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী। দুপুরে টাঙ্গাইল পৌর উদ্যানে কৃষি মেলা উদ্বোধন শেষে মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর মাজার জিয়ারত করার কথা রয়েছে তার।

কৃষক কার্ড বিতরণ কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতানা সালাউদ্দিন টুকু এবং প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী।

এতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন কৃষি সচিব রফিকুল ই মোহামেদ। এ ছাড়া একজন করে কৃষক ও কৃষানি বক্তব্য রাখেন।

উল্লেখ্য, শুরুতে দেশের ১০টি উপজেলার ১১টি কৃষি ব্লকে ‘কৃষক কার্ড’ কর্মসূচির প্রি-পাইলটিং পর্যায় বাস্তবায়ন করা হবে, যাতে ২০ হাজার ৬৭১ জন ভূমিহীন, প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র কৃষক কৃষক কার্ড পাবেন। এ কার্ডের মাধ্যমে বছরে ২ হাজার ৫০০ টাকা নগদ সুবিধা পাবেন তারা।

প্রাক-পাইলটিং কার্যক্রমের জন্য সরকারের ব্যয় হচ্ছে ৮ কোটি ৩৪ লাখ টাকা। এ প্রাক-পাইলটিং শেষ হওয়ার পর দেশের ১৫টি উপজেলায় পাইলট কার্যক্রম সম্পন্ন করা হবে। আজ টাঙ্গাইল সদর উপজেলার ঘারিন্দা ইউনিয়নের সুরুজ ব্লকে ১ হাজার ৪৫৩ জন কৃষকের মাঝে কৃষক কার্ড বিতরণের কথা রয়েছে।

আজ দেশের আরও ৯ স্থানে প্রাক-পাইলট কার্যক্রম শুরু হবে। এর মধ্যে রয়েছে— পঞ্চগড় সদরের কমলাপুর, বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার উথলি, ঝিনাইদহের শৈলকূপা উপজেলার কৃপালপুর, পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলার রাজাবাড়ি, কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার রাজারছড়া, রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার তেনাপচা, মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলার ফুলতলা, পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলার পাঁচপি এবং জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলার গাইবান্ধা।

আর কুমিল্লার আদর্শ সদর উপজেলার অরণ্যপুরে কৃষক কার্ড বিতরণ করা হবে ১৭ এপ্রিল।

ad
ad

খবরাখবর থেকে আরও পড়ুন

কৃষক কার্ডের উদ্বোধন করতে টাঙ্গাইলের পথে প্রধানমন্ত্রী

পহেলা বৈশাখে কৃষকদের হাতে ‘কৃষক কার্ড’ তুলে দিতে টাঙ্গাইলের উদ্দেশে রওয়ানা হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) সকাল ৯টার দিকে তার গাড়িবহর গুলশানের বাসভবন ছেড়ে যায়।

৭ ঘণ্টা আগে

বৈশাখী শোভাযাত্রায় মানুষের ঢল, গণতন্ত্র পুনরুত্থানের বার্তা

গত শতক থেকেই এ শোভাযাত্রা বাংলা বর্ষবরণের অবিচ্ছেদ্য অংশে পরিণত হয়েছে। যশোরে ‘বর্ষবরণ শোভাযাত্রা’ ও ঢাকায় ‘আনন্দ শোভাযাত্রা’ নামে সূচনা এ আয়োজনের। পরে এটি তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে ‘মঙ্গল শোভাযাত্রা’ নামে গণমানুষকে বৈশাখের ডাকে এক করে এসেছে। ২০১৬ সালে ‘মঙ্গল শোভাযাত্রা’ নামেই ইউনেসকো একে বিশ্ব সাংস্

৭ ঘণ্টা আগে

রমনায় ছায়ানটের বর্ষবরণ, ভয়হীন-শঙ্কামুক্ত সমাজের আকাঙ্ক্ষা

ছায়ানট সভাপতি আরও বলেন, আমরা সমাজের কাছে অভয় বাণী শুনতে চাই— সংবাদকর্মীরা যেন নির্ভয়ে প্রকৃত মত প্রকাশ করতে পারেন, আমরা যেন নির্ভয়ে গান গাইতে পারি, সংস্কৃতির সকল প্রকাশ যেন নির্বিঘ্নে হয়। বাঙালি যেন শঙ্কামুক্ত জীবন যাপন করতে পারে।

৮ ঘণ্টা আগে

পহেলা বৈশাখ: ইতিহাস-ঐতিহ্যে বাঙালির মহামিলন, বর্ষবরণে প্রস্তুত গোটা দেশ

এবারের বর্ষবরণে ইতিহাস-ঐতিহ্যের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে শোভাযাত্রার নাম পরিবর্তন, চারুকলার নতুন মোটিফ, বিশ্বশান্তির বার্তা ও নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা। ‘নববর্ষের ঐকতান, গণতন্ত্রের পুনরুত্থান’ স্লোগানে বাংলা বর্ষপঞ্জির নতুন অধ্যায়ে রয়েছে নতুন দিনের প্রত্যাশাও। ফলে পহেলা বৈশাখ আবারও হয়ে উঠছে বাঙালির আত্ম

১২ ঘণ্টা আগে