২ তরুণের ‘ঘুসসাইটে’ মাত্র ৬ দিনে ৯১ কোটি টাকার ঘুসের অভিযোগ

ডেস্ক, রাজনীতি ডটকম
শাহেদ শরীফ ও সাইফ কবিরের ‘ঘুসসাইটে’ ৬ দিনে ৯১ কোটি টাকার ঘুসের অভিযোগ জমা পড়েছে। ছবি কোলাজ: রাজনীতি ডটকম

সরকারি সেবা নিতে গিয়ে কোথায়, কী ধরনের সেবার জন্য কত টাকা ঘুস দাবি করা হচ্ছে, তা বেনামে জানানোর সুযোগ করে দিতে ‘ঘুসসাইট’ চালু করেছেন দুই তরুণ বাংলাদেশি উদ্যোক্তা। গত ২১ আগস্ট চালু হওয়ার পর মাত্র ছয় দিনে ওয়েবসাইটটিতে ৭ হাজার ৯৪৬টি রিপোর্ট জমা পড়েছে। এসব রিপোর্টে প্রায় ৯১ কোটি টাকা ঘুস দাবির অভিযোগ এসেছে। অভিযোগকারীদের মধ্যে যারা ঘুস দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন, তাদের হার ২৩ শতাংশ।

‘দপ্তরের নাম বলুন। দাবিকৃত টাকার কথা লিখুন। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির নাম-পরিচয় গোপন রাখুন’— এটাই ‘ঘুসসাইটে’র মূল বার্তা বা স্লোগান। ওয়েবসাইটটির ঠিকানা www.ghush.site। এখানে কোনো অ্যাকাউন্ট খোলা কিংবা নাম, ই-মেইল বা ফোন নম্বর দেওয়ার প্রয়োজন নেই। ব্যবহারকারীরা সরকারি দপ্তরের নাম, সেবার ধরন, আনুমানিক অবস্থান, ঘুসের পরিমাণ এবং ঘুস দাবির পর কী ঘটেছে— এসব তথ্য জানাতে পারেন।

ঘুসসাইটের নির্মাতা শাহেদ শরীফ ও সাইফ কবিরের মতে, কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তির অপকর্ম প্রমাণ করা এই প্ল্যাটফর্মের উদ্দেশ্য নয়। সরকারি সেবা নিতে গিয়ে অনানুষ্ঠানিকভাবে অর্থ দাবির একটি উন্মুক্ত পাবলিক রেকর্ড বা লেজার তৈরি করাই তাদের লক্ষ্য। এর মাধ্যমে বিভিন্ন দপ্তরে ঘুস লেনদেনের নিয়মিত চিত্র বা ধরন শনাক্ত করা সম্ভব হবে বলে তারা মনে করেন।

‘বাংলাদেশের প্রত্যেকেই জানে যে ঘুসের অস্তিত্ব আছে। তবে যে তথ্যটি কারও কাছে নেই, তা হলো এর সুনির্দিষ্ট অঙ্ক বা হিসাব,’ বলেন ঘুসসাইটের নির্মাতা সাইফ কবির।

তিনি আরও বলেন, ‘তাড়াহুড়োর মধ্যে কাউন্টারে একা দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় আপনি হয়তো জানতে পারলেন যে একটি পাসপোর্ট ফাইল, ড্রাইভিং লাইসেন্স কিংবা নামজারির জন্য কত টাকা খরচ দিতে হবে। কিন্তু তখন আপনার জানা থাকে না যে চাওয়া টাকাটা ঘুসের স্বাভাবিক হার নাকি তার দ্বিগুণ। আমরা সেই তথ্যের ঘাটতি মেটাতেই এই উন্মুক্ত লেজার তৈরি করেছি।’

সাইফের ভাষ্য, যথেষ্টসংখ্যক মানুষ তাদের কাছে দাবিকৃত ঘুসের পরিমাণ জানালে পরবর্তীতে ওই দপ্তরে যাওয়া অন্য একজন আগেই ধারণা করতে পারবেন, তার কাছে কত টাকা চাওয়া হতে পারে।

ভারতের ‘bribes.fyi’ নামের একটি ওয়েবসাইট থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে ঘুসসাইট তৈরির চিন্তা আসে বলে জানান সাইফ। তিনি ওয়েবসাইটটি দেখে বন্ধু ও সহ-নির্মাতা শাহেদ শরীফকে পাঠান। এরপর দুজন মিলে মাত্র এক দিনের মধ্যে এর বাংলাদেশি সংস্করণ তৈরি করেন।

বিভাগভিত্তিক রিপোর্ট

বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) দুপুর ১টা পর্যন্ত ঘুসসাইটের তথ্য অনুযায়ী, আট বিভাগে মোট ৭ হাজার ৯৪৬টি ঘুসের অভিযোগ জমা পড়েছে। এর মধ্যে ঢাকা বিভাগে সবচেয়ে বেশি ৩ হাজার ৩৬৪টি রিপোর্টে ৪৬ কোটি ২৯ লাখ টাকা ঘুস দাবির কথা বলা হয়েছে। চট্টগ্রামে ১ হাজার ৭৭০টি রিপোর্টে ২৯ কোটি ৭ লাখ, রাজশাহীতে ৬৪৯টি রিপোর্টে ৩ কোটি ৯১ লাখ, খুলনায় ৬১৯টি রিপোর্টে ২ কোটি ৯৯ লাখ, রংপুরে ৫৪০টি রিপোর্টে ৩ কোটি ৩১ লাখ, বরিশালে ৩৫৮টি রিপোর্টে ২ কোটি ৩১ লাখ, ময়মনসিংহে ৩৫০টি রিপোর্টে ১ কোটি ৮৪ লাখ এবং সিলেটে ২৯৬টি রিপোর্টে ১ কোটি ২৯ লাখ টাকা ঘুস দাবির অভিযোগ এসেছে।

বৃহস্পতিবার দুপুর পর্যন্ত দেশের আট বিভাগে মোট ৭ হাজার ৯৪৬টি ঘুসের অভিযোগ জমা পড়েছে। ছবি: ঘুসসাইট ওয়েবসাইট থেকে নেওয়া স্ক্রিনশট
বৃহস্পতিবার দুপুর পর্যন্ত দেশের আট বিভাগে মোট ৭ হাজার ৯৪৬টি ঘুসের অভিযোগ জমা পড়েছে। ছবি: ঘুসসাইট ওয়েবসাইট থেকে নেওয়া স্ক্রিনশট

কোন দপ্তরে কত অভিযোগ

দপ্তরভিত্তিক হিসাবে ‘অন্যান্য সরকারি সেবা’ শ্রেণিতে সবচেয়ে বেশি ২ হাজার ৬২৪টি রিপোর্ট জমা পড়েছে। এসব রিপোর্টে ৪৮ কোটি ৪৩ লাখ টাকা ঘুস দাবির কথা বলা হয়েছে।

ভূমি অফিস নিয়ে ১ হাজার ৬৯৩টি রিপোর্টে ১০ কোটি ৭৮ লাখ টাকা, পাসপোর্ট অফিস নিয়ে ৮৭৭টি রিপোর্টে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ বা বিআরটিএ নিয়ে ৬০০টি রিপোর্টে ৬৭ লাখ ২২ হাজার টাকা এবং সিটি করপোরেশন নিয়ে ৪৪২টি রিপোর্টে ২ কোটি ৩৭ লাখ টাকা ঘুস দাবির অভিযোগ এসেছে।

দপ্তরভিত্তিক জমা পড়া অভিযোগ ও টাকার পরিমাণ। ছবি: ঘুসসাইটের ওয়েবসাইট থেকে নেওয়া স্ক্রিনশট
দপ্তরভিত্তিক জমা পড়া অভিযোগ ও টাকার পরিমাণ। ছবি: ঘুসসাইটের ওয়েবসাইট থেকে নেওয়া স্ক্রিনশট

এ ছাড়া শিক্ষা অফিসে ৩৪১টি রিপোর্টে ৩ কোটি ৯৮ লাখ টাকা, সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে ৩১০টি রিপোর্টে ৩ কোটি ৫২ লাখ টাকা, সরকারি হাসপাতালে ২৮৩টি রিপোর্টে ১ কোটি ৩৬ লাখ টাকা, হিসাবরক্ষণ অফিসে ২৬৮টি রিপোর্টে ১ কোটি ৭৩ লাখ টাকা, ট্রাফিক পুলিশ নিয়ে ২০৩টি রিপোর্টে ৫৫ লাখ ৯১ হাজার টাকা, কর অফিসে ১৯০টি রিপোর্টে ১০ কোটি ৫৮ লাখ টাকা এবং কাস্টমস অফিস নিয়ে ১১৫টি রিপোর্টে ৫ কোটি ৭৮ লাখ টাকা ঘুস দাবির কথা বলা হয়েছে।

তবে এসব পরিসংখ্যান পুরোপুরি ওয়েবসাইটের ব্যবহারকারীদের দেওয়া এবং অযাচাইকৃত তথ্যের ওপর ভিত্তি করে তৈরি। তাই সাইটে দেওয়া গড় ঘুসের পরিমাণকে একজন সাধারণ সেবাগ্রহীতার কাছ থেকে চাওয়া টাকার স্বাভাবিক চিত্র হিসেবে বিবেচনা না করার বিষয়ে সতর্ক করেছেন সাইফ।

সাইটে প্রকাশিত গড় ঘুসের দাবি ১ লাখ ১ হাজার ৭৭৬ টাকা। তবে জমি, কাস্টমস ও কর-সংক্রান্ত কয়েকটি বড় অঙ্কের ঘটনার কারণে এই গড় কিছুটা বেড়েছে। এসব ঘটনায় দাবিকৃত অর্থের পরিমাণ ছিল লাখ লাখ টাকা।

সাইফ বলেন, ‘যেসব তথ্য এসেছে, যার মধ্যে বড় অঙ্কের দাবিগুলোও অন্তর্ভুক্ত, সেগুলো সবই ব্যবহারকারীদের নিজস্ব রিপোর্ট এবং অযাচাইকৃত।’

কীভাবে কাজ করে ঘুসসাইট?

ওয়েবসাইটটির কার্যক্রম মূলত তিনটি ধাপে বিভক্ত। প্রথম ধাপে ব্যবহারকারীরা সরকারি দপ্তর, সেবার ধরন, আনুমানিক অবস্থান, টাকার পরিমাণ এবং শেষ পর্যন্ত কী ঘটেছে, তা বিস্তারিত উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে কোনো কর্মকর্তার ব্যক্তিগত নাম বা পরিচয় না লেখার কঠোর নির্দেশনা দেওয়া থাকে।

তথ্য জমা দেওয়ার পর তা প্রকাশের আগে একটি স্বয়ংক্রিয় পরিমার্জন ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে যায়। সাইফ জানান, প্রকাশিত তথ্য থেকে কারও নাম, ফোন নম্বর, জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর, ফাইল নম্বর বা অন্যান্য শনাক্তকারী তথ্য এবং আপত্তিকর ভাষা বা স্প্যাম বাদ দিতে একটি ভাষাভিত্তিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবস্থা স্বয়ংক্রিয়ভাবে লেখাগুলো পরীক্ষা করে।

‘পরিমার্জনের পর যা প্রকাশিত হয় তা হলো— দপ্তরের নাম, সেবার ধরন, আনুমানিক অবস্থান, অর্থের পরিমাণ, ফলাফল এবং কোনো নাম-পরিচয় ছাড়া সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির নিজস্ব বিবরণ,’ বলেন তিনি।

তবে কোনো ঘটনা প্রকৃতপক্ষে ঘটেছে কি না, তা এই ব্যবস্থা যাচাই করে না। সাইফ বলেন, ‘এটি ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষার একটি ব্যবস্থা, সত্যতা যাচাইয়ের কোনো যন্ত্র নয়। কোনো ঘটনা ঘটেছে কি না, এটি তা নিশ্চিত করে না। আবার আমরাও সাইটের কোনো তথ্যকে যাচাইকৃত বলে উপস্থাপন করি না।’

প্রতিটি রিপোর্ট ম্যানুয়ালি পরীক্ষা করার মতো লোকবল তাদের নেই বলেও জানান সাইফ। বরং স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থার কারণেই দুই নির্মাতা বিপুলসংখ্যক রিপোর্ট সামাল দিতে পারছেন।

ফিল্টার এড়িয়ে কোনো ব্যক্তিগত তথ্য প্রকাশিত হলে তা রিপোর্ট করে সাইট থেকে সরিয়ে নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। সাইফ বলেন, ‘আমরা যে নিয়মটি সবচেয়ে কঠোরভাবে প্রয়োগ করি তা হলো— কারও নাম উল্লেখ করা যাবে না। এটি সরকারি দপ্তর ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পর্কিত উদ্যোগ, নির্দিষ্ট কোনো ব্যক্তিকে লক্ষ্যবস্তু বানানোর বিষয় নয়।’

ওয়েবসাইটটিতেও বলা হয়েছে, প্রকাশিত রিপোর্টগুলো ‘অভিযোগ, দোষ প্রমাণের রায় নয়’। এটিকে কোনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জানানোর কর্তৃপক্ষ নয়, বরং একটি ‘সচেতনতামূলক লেজার’ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে।

অভিযোগ থেকে কী জানা যেতে পারে?

সাইফ বলেন, নির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ প্রমাণ করার চেয়ে ধারাবাহিকভাবে চলে আসা অনিয়ম-দুর্নীতির ধরন বা ‘প্যাটার্ন’ উন্মোচন করাই এই প্ল্যাটফর্মের মূল লক্ষ্য।

তিনি বলেন, ‘কেউ যদি বলেন একটি লাইসেন্সের জন্য তার ১০ হাজার টাকা লেগেছে, তবে তা কেবল একটি ঘটনা বা বিচ্ছিন্ন তথ্য। কিন্তু একই অফিসের ক্ষেত্রে ৪০ জন ব্যক্তি যখন সমপরিমাণ বা কাছাকাছি অঙ্কের টাকার কথা অভিযোগ করেন, তখন তা একটি নির্দিষ্ট ধরন বা প্যাটার্নে রূপ নেয়। আর এমন নিয়মিত চিত্র বা প্যাটার্নকে অস্বীকার করা কঠিন।’

তার মতে, এসব তথ্য তিনভাবে কাজে লাগতে পারে। প্রথমত, কোনো দপ্তরে যাওয়ার আগে সাধারণ মানুষ কী ধরনের পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে পারেন, তা বোঝা। দ্বিতীয়ত, সাংবাদিক, গবেষক ও নীতিনির্ধারকদের জন্য প্রাথমিক তথ্যের উৎস তৈরি করা। তৃতীয়ত, যেসব অভিজ্ঞতা এ ধরনের সাইট না থাকলে আড়ালেই থেকে যেত, সেগুলো নথিবদ্ধ করতে মানুষকে উৎসাহিত করা।

‘অধিকাংশ মানুষ ঘুস দিয়ে তা আর কাউকে বলেন না। বেনামে হলেও এটি প্রকাশ্যে লিখে রাখার মাধ্যমে সেই নীরবতা ভাঙে,’ বলেন সাইফ।

প্ল্যাটফর্মে জমা পড়া রিপোর্ট বিভাগ, দপ্তর, অর্থের পরিমাণ এবং ফলাফলের ভিত্তিতে অনুসন্ধান করা যায়। যেমন, একটি রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, বিআরটিএতে একটি ড্রাইভিং লাইসেন্সের জন্য ১৫ হাজার টাকা দিতে হয়েছে। ওই ব্যবহারকারী লিখেছেন, ‘যতক্ষণ না পর্যন্ত অনানুষ্ঠানিক পথ ধরলাম, ততক্ষণ প্রতিবারই আমাকে ফেইল করানো হচ্ছিল।’

আরেকটি অভিযোগে বলা হয়েছে, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মহাখালী অঞ্চলে জন্মনিবন্ধনের জন্য ১০ হাজার টাকা নেওয়া হয়েছে। ব্যবহারকারীর দাবি, শুরুতে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সেবা দেওয়া সম্ভব নয় বলে জানালেও পরে ঘুস দাবি করেন।

এসব অভিযোগকে চূড়ান্ত প্রমাণ হিসেবে না নেওয়ার অনুরোধ করেছেন সাইফ। তিনি বলেন, ‘আমি শুধু অনুরোধ করব যে প্রতিবেদনে যেন এটি স্পষ্ট থাকে যে তথ্যগুলো যাচাইকৃত নয়। এতে আমাদের সুরক্ষা নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি তথ্য প্রদানকারী ব্যক্তিরাও সুরক্ষিত থাকবেন।’

ওয়েবসাইটটি সম্পূর্ণভাবে নির্মাতাদের নিজস্ব অর্থায়নে এবং আংশিকভাবে ইচ্ছুক ব্যবহারকারীদের অনুদানের মাধ্যমে পরিচালিত হয়। কোনো রিপোর্ট দাখিলের জন্য অনুদান বা ফি লাগে না।

ঘুসসাইটের নির্মাতারা স্পষ্ট করেছেন, সরকারি কর্তৃপক্ষের কাছে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিলের বিকল্প হিসেবে এটি তৈরি করা হয়নি। তাদের প্রত্যাশা, ভবিষ্যতে রিপোর্টের সংখ্যা বাড়লে এই পাবলিক লেজারের মাধ্যমে সরকারি সেবাখাতে অনানুষ্ঠানিক অর্থ দাবি বা ঘুসের চিত্র আরও স্পষ্ট হয়ে উঠবে।

দুই তরুণের ভাবনা থেকে ঘুসসাইট

সরকারি সেবা নিতে গিয়ে কোথায় কত টাকা ঘুস চাওয়া হচ্ছে, সেই অভিজ্ঞতা বেনামে জানানোর প্ল্যাটফর্মটি কীভাবে তৈরি হলো, সেই গল্প জানিয়েছেন দুই উদ্যোক্তা।

শাহেদ শরীফ বলেন, ‘বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) রাতে সাইফ কবির আমাকে একটি বার্তা পাঠায়। সেখানে সে bribes.fyi নিয়ে একটি ভিডিও শেয়ার করে। ভিডিওটি শেয়ার করার পর সে আমাকে বলে, এটার একটি বাংলাদেশি সংস্করণ আমাদের দরকার।’

সাইফ কবির বলেন, ‘আপনি যদি বাংলাদেশে থাকেন, কোনো না কোনো সময় আপনাকে এর ভুক্তভোগী হতেই হয়। তখন ভাবলাম, এটি বাংলাদেশের মানুষের উপকারে আসতে পারে।’

শাহেদ বলেন, ‘পরে বললাম, আসো বানাই। সেখান থেকেই আমরা সাইটটি তৈরি করা শুরু করি। দুই ঘণ্টার মধ্যেই আমি সাইটটি চালু করে দিই।’

অভিযোগকারী বেনামে অভিযোগ জমা দেওয়ায় তার নাম-পরিচয় প্রকাশ করা হয় না। তবে কেউ যদি কোনো সহকর্মীর নামে মিথ্যা অভিযোগ করেন, তাহলে মানহানির সুযোগ তৈরি হচ্ছে কি না— এমন প্রশ্নও উঠেছে।

এর জবাবে সাইফ বলেন, দপ্তরের নাম উল্লেখ করার সুযোগ থাকলেও কোনো ব্যক্তির নাম প্রকাশের সুযোগ রাখা হয়নি। কেউ নাম, ফোন নম্বর বা ই-মেইল দিলে সেগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে মুছে দেওয়া হয়। এমনকি কারও শারীরিক বৈশিষ্ট্য, যেমন দাড়ি বা চুলের ধরন ও রং উল্লেখ করে পরোক্ষভাবে পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হলেও সেগুলোও সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়।

কোনো প্রতিষ্ঠান বা সরকারি দপ্তর সাইটে প্রকাশিত অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করতে চাইলে উদ্যোক্তাদের কাছে থাকা সেন্সর করা তথ্য বা ব্যক্তির পরিচয় দেওয়া হবে কি না— এমন প্রশ্নের জবাবে সাইফ বলেন, ‘আমরা চাইলেও তা দিতে পারব না। এটি আমাদের নকশারই অংশ। আমরা যখন কোনো তথ্য মুছে দিই, সেটি স্থায়ীভাবে মুছে যায়। পরে সেটি ফিরিয়ে আনার কোনো উপায় নেই। এর উদ্দেশ্য হলো, যাতে কেউ আমাদের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে না পারে।’

অর্থাৎ, সাইটে ব্যবহারকারীরা যে তথ্য দেখতে পাচ্ছেন, উদ্যোক্তাদের কাছেও মূলত সেই একই তথ্যই থাকে। ২১ আগস্ট চালু হওয়ার পর ২৭ আগস্ট দুপুর ১টা পর্যন্ত মাত্র ছয় দিনে ৭ হাজার ৯৪৬টি রিপোর্ট বা অভিযোগ জমা পড়েছে। এসব অভিযোগে প্রায় ৯১ কোটি টাকা ঘুস দাবির কথা বলা হয়েছে।

ওয়েবসাইটটির নির্মাতা সাইফ কবির বলেন, ‘এটি মূলত সচেতনতা তৈরির জন্য। সবাই যাতে এমন একটি প্ল্যাটফর্ম পান, যেখানে তারা নিজেদের অভিজ্ঞতা জানাতে পারেন।’ সহ-নির্মাতা শাহেদ শরীফ বলেন, ‘পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে। আমার খুব শিগগিরই একটি আইনি দল দরকার, নইলে আমি সমস্যায় পড়ে যেতে পারি।’

Ad
Ad
ad
ad
ad

খবরাখবর থেকে আরও পড়ুন

দুষ্টু লোকে বলে টুকু আসে, টুকু যায়— লোডশেডিং নিয়ে সংসদে রুমিন

জ্বালানি সংকট, লোডশেডিং নিয়ে সংসদে সমালোচনা করেছেন স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা। তিনি বলেছেন, ‘গ্যাস ও বিদ্যুতের বিষয়ে মানুষ বলে, দুষ্টু লোকে বলে, ভালো লোকে বলে না— টুকু আসে, টুকু যায়। এ আসে, এই যায়। কতক্ষণ থাকে তারা নাকি বুঝতে পারে না।’

৩ ঘণ্টা আগে

আমি জামিন চাই না, আবেদন প্রত্যাহার করতে চাই: দীপু মনি

‘আমি দুই বছর ধরে কারারুদ্ধ আছি। গত এপ্রিল মাসে আমার জামিন আবেদন করা হয়েছে। এখন আমি জামিন চাই না। আমি জামিন আবেদন প্রত্যাহার করতে চাই।’ আজ বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ এ কথা বলেছেন সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক দীপু মনি।

৫ ঘণ্টা আগে

সালমান শাহ হত্যা মামলা: ৫ দিনের রিমান্ডে অভিনেতা ডন

চিত্রনায়ক সালমান শাহ হত্যা মামলায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য অভিনেতা ও খলনায়ক আশরাফুল হক ডনকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত। তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আজ বৃহস্পতিবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানা এ আদেশ দেন বলে জানিয়েছেন প্রসিকিউশন পুলিশের এসআই শাহ আলম।

৬ ঘণ্টা আগে

চীনের অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে চান এলজিআরডি মন্ত্রী

বৈঠকে ঢাকার বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, পয়ঃনিষ্কাশন, আবাসনসহ বাংলাদেশের শিক্ষা কারিকুলামে ম্যান্ডারিন তথা চীনা ভাষা অন্তর্ভুক্তকরণ, দাশেরকান্দি স্যুয়ারেজ ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট (এসটিপি) পূর্ণমাত্রায় ব্যবহার উপযোগী করতে প্রয়োজনীয় পাইপলাইন নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বৃদ্ধির বিষয়েও আলো

৮ ঘণ্টা আগে