
অরুণাভ বিশ্বাস

আমাদের শরীর প্রতিনিয়ত নানা জীবাণু, ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া আর ক্ষতিকর কণার সঙ্গে যুদ্ধ করে চলে। এই যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার শক্তি জোগায় শরীরের ভেতরে থাকা একটা জটিল প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, যাকে বলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বা ইমিউন সিস্টেম। এই ইমিউন সিস্টেমকে শক্তিশালী রাখার জন্য দরকার সঠিক পুষ্টি, যার মধ্যে কিছু ভিটামিনের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে ভিটামিন এ, সি, ডি, ই, এবং বি-কমপ্লেক্সের ঘাটতি হলে শরীর সহজেই নানা সংক্রমণে আক্রান্ত হয়। এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণভাবে গবেষকেরা যেসব ভিটামিনকে চিহ্নিত করেছেন, সেগুলো নিয়েই এই লেখায় সহজ করে ব্যাখ্যা করা হবে।
প্রথমেই বলতে হয় ভিটামিন সি-এর কথা। এই ভিটামিন এক ধরনের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে, অর্থাৎ এটি শরীরের কোষকে ক্ষতির হাত থেকে বাঁচায় এবং শরীরের রোগপ্রতিরোধী শ্বেত রক্তকণিকা ঠিকভাবে কাজ করতে সাহায্য করে। ভিটামিন সি-এর অভাবে শরীর জীবাণুর সঙ্গে যুদ্ধ করার ক্ষমতা হারাতে থাকে। যুক্তরাষ্ট্রের বিখ্যাত ‘ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব হেলথ’-এর পুষ্টি বিজ্ঞানী ড. রবার্ট প্যাটারসন বলেন, “ভিটামিন সি শ্বেত রক্তকণিকার উৎপাদন এবং কার্যকারিতা বাড়ায়, যা সংক্রমণের বিরুদ্ধে লড়াই করতে অত্যন্ত জরুরি।”
এরপরেই আসে ভিটামিন ডি। আমরা অনেকেই জানি সূর্যের আলো থেকে ভিটামিন ডি পাওয়া যায়। কিন্তু ভিটামিন ডি শুধু হাড়ের স্বাস্থ্যেই কাজ করে না, এটি ইমিউন সিস্টেমের সাথেও গভীরভাবে জড়িত। ভিটামিন ডি-এর অভাবে শরীরের প্রতিরক্ষা কোষ যেমন টি-সেল, ম্যাক্রোফেজ, ও অন্যান্য প্রতিরোধী কণিকা দুর্বল হয়ে পড়ে। এর ফলে ভাইরাস বা ব্যাকটেরিয়া শরীরে ঢুকলে সেগুলোকে চিনে ফেলা ও ধ্বংস করা কঠিন হয়ে যায়। ব্রিটেনের অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক এবং ইমিউনোলজিস্ট ড. স্যামুয়েল ম্যাকগ্রেগর এ বিষয়ে বলেন, “যাদের শরীরে ভিটামিন ডি-এর ঘাটতি আছে, তারা ঠান্ডা, ফ্লু ও অন্যান্য শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণে বেশি আক্রান্ত হন।"
ভিটামিন এ-ও রোগ প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ। এটি বিশেষ করে ত্বক, শ্বাসনালি ও অন্ত্রের অভ্যন্তরের কোষগুলোকে মজবুত করে, যেগুলো জীবাণুর প্রথম প্রতিরোধ স্তর। এর অভাবে ত্বক ও শ্লেষ্মা ঝিল্লি দুর্বল হয়ে পড়ে এবং জীবাণু সহজে শরীরে প্রবেশ করতে পারে। ইউনিসেফ-এর পুষ্টি বিভাগে কর্মরত ক্যানাডীয় গবেষক ড. লরা ব্রাউন বলেন, “ভিটামিন এ শ্লেষ্মা আবরণকে সুরক্ষা দেয়, যা জীবাণুর বিরুদ্ধে শরীরের প্রথম প্রতিরক্ষা স্তর হিসেবে কাজ করে।”
এছাড়া ভিটামিন ই এবং বি-কমপ্লেক্স ভিটামিনও রোগ প্রতিরোধে কার্যকর। ভিটামিন ই শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে, যা শরীরের কোষগুলোকে রক্ষা করে এবং শরীরের প্রতিরক্ষা কৌশলকে মজবুত করে। অপরদিকে, বি-কমপ্লেক্স বিশেষ করে ভিটামিন বি৬ এবং বি১২ স্নায়ুতন্ত্রের পাশাপাশি প্রতিরোধ ব্যবস্থাকেও সক্রিয় রাখতে সাহায্য করে। জার্মানির হেইডেলবার্গ ইউনিভার্সিটির নিউট্রিশন এক্সপার্ট ড. কার্ল হফম্যান বলেন, “বি ভিটামিন, বিশেষ করে বি৬ ও বি১২ শরীরে রোগপ্রতিরোধী কোষ এবং অ্যান্টিবডি তৈরিতে সাহায্য করে।"
এইসব তথ্য থেকে স্পষ্ট বোঝা যায়, আমাদের শরীরের ইমিউন সিস্টেম ঠিকভাবে কাজ করার জন্য একাধিক ভিটামিনের উপস্থিতি দরকার। কিন্তু আধুনিক জীবনে অনেকেই নিয়মিত পুষ্টিকর খাবার খান না, বিশেষ করে শিশু ও বয়স্কদের ক্ষেত্রে এই ঘাটতি আরও প্রকট হয়। ফলে তারা সহজেই ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া বা ছত্রাকজনিত সংক্রমণে আক্রান্ত হন। বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার বহু অঞ্চলে বিশেষ করে ভিটামিন এ ও ডি-এর অভাব খুব সাধারণ একটি সমস্যা।
এই পরিস্থিতি থেকে মুক্তির জন্য প্রয়োজন সচেতনতা। প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় ভিটামিন সি-এর জন্য লেবু, পেয়ারা, কমলা, কাঁচামরিচ, টমেটো রাখতে হবে। ভিটামিন ডি-এর জন্য সকালের রোদে ১৫-২০ মিনিট শরীর রাখা জরুরি, আর ভিটামিন এ-এর জন্য গাজর, কলিজা, ডিমের কুসুম, মিষ্টিকুমড়া খাওয়া উচিত। এছাড়া বাদাম, ডাল, মাছ, দুধ, শাকসবজি এসবই বিভিন্ন ভিটামিনের ভালো উৎস। অনেক সময় শরীরের ঘাটতি পূরণে চিকিৎসকের পরামর্শে ভিটামিন সাপ্লিমেন্টও প্রয়োজন হতে পারে।
সবশেষে বলা যায়, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা শরীরের সেই ভিত, যা আমাদের সুস্থভাবে বেঁচে থাকার মৌলিক চাবিকাঠি। আর সেই ভিতকে মজবুত রাখতে হলে প্রয়োজন পর্যাপ্ত ভিটামিন। একটিও অবহেলা করলে তার ফল হতে পারে দীর্ঘস্থায়ী দুর্বলতা ও অসুখে ভোগা। তাই সচেতন হোন, পুষ্টিকর খাবার খান, আর নিজের ইমিউন সিস্টেমকে দিন প্রতিদিন সজাগ রাখার শক্তি।

আমাদের শরীর প্রতিনিয়ত নানা জীবাণু, ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া আর ক্ষতিকর কণার সঙ্গে যুদ্ধ করে চলে। এই যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার শক্তি জোগায় শরীরের ভেতরে থাকা একটা জটিল প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, যাকে বলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বা ইমিউন সিস্টেম। এই ইমিউন সিস্টেমকে শক্তিশালী রাখার জন্য দরকার সঠিক পুষ্টি, যার মধ্যে কিছু ভিটামিনের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে ভিটামিন এ, সি, ডি, ই, এবং বি-কমপ্লেক্সের ঘাটতি হলে শরীর সহজেই নানা সংক্রমণে আক্রান্ত হয়। এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণভাবে গবেষকেরা যেসব ভিটামিনকে চিহ্নিত করেছেন, সেগুলো নিয়েই এই লেখায় সহজ করে ব্যাখ্যা করা হবে।
প্রথমেই বলতে হয় ভিটামিন সি-এর কথা। এই ভিটামিন এক ধরনের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে, অর্থাৎ এটি শরীরের কোষকে ক্ষতির হাত থেকে বাঁচায় এবং শরীরের রোগপ্রতিরোধী শ্বেত রক্তকণিকা ঠিকভাবে কাজ করতে সাহায্য করে। ভিটামিন সি-এর অভাবে শরীর জীবাণুর সঙ্গে যুদ্ধ করার ক্ষমতা হারাতে থাকে। যুক্তরাষ্ট্রের বিখ্যাত ‘ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব হেলথ’-এর পুষ্টি বিজ্ঞানী ড. রবার্ট প্যাটারসন বলেন, “ভিটামিন সি শ্বেত রক্তকণিকার উৎপাদন এবং কার্যকারিতা বাড়ায়, যা সংক্রমণের বিরুদ্ধে লড়াই করতে অত্যন্ত জরুরি।”
এরপরেই আসে ভিটামিন ডি। আমরা অনেকেই জানি সূর্যের আলো থেকে ভিটামিন ডি পাওয়া যায়। কিন্তু ভিটামিন ডি শুধু হাড়ের স্বাস্থ্যেই কাজ করে না, এটি ইমিউন সিস্টেমের সাথেও গভীরভাবে জড়িত। ভিটামিন ডি-এর অভাবে শরীরের প্রতিরক্ষা কোষ যেমন টি-সেল, ম্যাক্রোফেজ, ও অন্যান্য প্রতিরোধী কণিকা দুর্বল হয়ে পড়ে। এর ফলে ভাইরাস বা ব্যাকটেরিয়া শরীরে ঢুকলে সেগুলোকে চিনে ফেলা ও ধ্বংস করা কঠিন হয়ে যায়। ব্রিটেনের অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক এবং ইমিউনোলজিস্ট ড. স্যামুয়েল ম্যাকগ্রেগর এ বিষয়ে বলেন, “যাদের শরীরে ভিটামিন ডি-এর ঘাটতি আছে, তারা ঠান্ডা, ফ্লু ও অন্যান্য শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণে বেশি আক্রান্ত হন।"
ভিটামিন এ-ও রোগ প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ। এটি বিশেষ করে ত্বক, শ্বাসনালি ও অন্ত্রের অভ্যন্তরের কোষগুলোকে মজবুত করে, যেগুলো জীবাণুর প্রথম প্রতিরোধ স্তর। এর অভাবে ত্বক ও শ্লেষ্মা ঝিল্লি দুর্বল হয়ে পড়ে এবং জীবাণু সহজে শরীরে প্রবেশ করতে পারে। ইউনিসেফ-এর পুষ্টি বিভাগে কর্মরত ক্যানাডীয় গবেষক ড. লরা ব্রাউন বলেন, “ভিটামিন এ শ্লেষ্মা আবরণকে সুরক্ষা দেয়, যা জীবাণুর বিরুদ্ধে শরীরের প্রথম প্রতিরক্ষা স্তর হিসেবে কাজ করে।”
এছাড়া ভিটামিন ই এবং বি-কমপ্লেক্স ভিটামিনও রোগ প্রতিরোধে কার্যকর। ভিটামিন ই শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে, যা শরীরের কোষগুলোকে রক্ষা করে এবং শরীরের প্রতিরক্ষা কৌশলকে মজবুত করে। অপরদিকে, বি-কমপ্লেক্স বিশেষ করে ভিটামিন বি৬ এবং বি১২ স্নায়ুতন্ত্রের পাশাপাশি প্রতিরোধ ব্যবস্থাকেও সক্রিয় রাখতে সাহায্য করে। জার্মানির হেইডেলবার্গ ইউনিভার্সিটির নিউট্রিশন এক্সপার্ট ড. কার্ল হফম্যান বলেন, “বি ভিটামিন, বিশেষ করে বি৬ ও বি১২ শরীরে রোগপ্রতিরোধী কোষ এবং অ্যান্টিবডি তৈরিতে সাহায্য করে।"
এইসব তথ্য থেকে স্পষ্ট বোঝা যায়, আমাদের শরীরের ইমিউন সিস্টেম ঠিকভাবে কাজ করার জন্য একাধিক ভিটামিনের উপস্থিতি দরকার। কিন্তু আধুনিক জীবনে অনেকেই নিয়মিত পুষ্টিকর খাবার খান না, বিশেষ করে শিশু ও বয়স্কদের ক্ষেত্রে এই ঘাটতি আরও প্রকট হয়। ফলে তারা সহজেই ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া বা ছত্রাকজনিত সংক্রমণে আক্রান্ত হন। বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার বহু অঞ্চলে বিশেষ করে ভিটামিন এ ও ডি-এর অভাব খুব সাধারণ একটি সমস্যা।
এই পরিস্থিতি থেকে মুক্তির জন্য প্রয়োজন সচেতনতা। প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় ভিটামিন সি-এর জন্য লেবু, পেয়ারা, কমলা, কাঁচামরিচ, টমেটো রাখতে হবে। ভিটামিন ডি-এর জন্য সকালের রোদে ১৫-২০ মিনিট শরীর রাখা জরুরি, আর ভিটামিন এ-এর জন্য গাজর, কলিজা, ডিমের কুসুম, মিষ্টিকুমড়া খাওয়া উচিত। এছাড়া বাদাম, ডাল, মাছ, দুধ, শাকসবজি এসবই বিভিন্ন ভিটামিনের ভালো উৎস। অনেক সময় শরীরের ঘাটতি পূরণে চিকিৎসকের পরামর্শে ভিটামিন সাপ্লিমেন্টও প্রয়োজন হতে পারে।
সবশেষে বলা যায়, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা শরীরের সেই ভিত, যা আমাদের সুস্থভাবে বেঁচে থাকার মৌলিক চাবিকাঠি। আর সেই ভিতকে মজবুত রাখতে হলে প্রয়োজন পর্যাপ্ত ভিটামিন। একটিও অবহেলা করলে তার ফল হতে পারে দীর্ঘস্থায়ী দুর্বলতা ও অসুখে ভোগা। তাই সচেতন হোন, পুষ্টিকর খাবার খান, আর নিজের ইমিউন সিস্টেমকে দিন প্রতিদিন সজাগ রাখার শক্তি।

পল কাপুরের সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের সংকট নিয়ে আলোচনা হয়েছে জানিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমি তার কাছে উল্লেখ করেছি, আমাদের দুজন বাংলাদেশি মারা গেছেন, সাতজন আহত হয়েছেন। এই যুদ্ধ যদি দীর্ঘতর বা বিস্তৃত হয় তাহলে এ শঙ্কা বাড়তে পারে। তার চাইতে…এবং একইসঙ্গে আমাদের মতো দেশের পক্ষে এই যুদ্ধের অর্থনীতিক যে
৭ ঘণ্টা আগে
জানা গেছে, ঘটনার পর খবর পেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডি ও ইবি থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে উভয়কে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে প্রথমে বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেল সেন্টারে নেয়। পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাদের কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসক আসমা সাদিয়া রুনাকে মৃত ঘোষণা করেন।
৭ ঘণ্টা আগে
নারীদের জন্য জাতীয় ঈদগাহের দক্ষিণ দিকে আলাদা প্রবেশপথসহ আসন রাখার ব্যবস্থা রাখার বিষয়টিও প্রচার করতে হবে। ঈদুল ফিতরের প্রধান জামাতের ইমাম মনোনয়নের জন্য তিনজন আলেম, পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত পরিচালনার জন্য তিনজন উপস্থাপকের তালিকা ধর্ম মন্ত্রণালয়ের পাঠাতে হবে।
৭ ঘণ্টা আগে
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে হাতে থাকা জ্বালানি জনগণকে সাশ্রয়ীভাবে ব্যবহারের অনুরোধ জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ।
৯ ঘণ্টা আগে