বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন থেকে সরকার পতন: এক বছরে বৈষম্য কতটা দূর হলো?

বিবিসি বাংলা
আপডেট : ০৫ আগস্ট ২০২৫, ১১: ১১
বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন

"আমার সোনার বাংলায়, বৈষম্যের ঠাঁই নাই", এই স্লোগান নিয়েই গত বছরের জুলাইয়ে শুরু হয়েছিল কোটা সংস্কার আন্দোলন। ঘটনা পরম্পরায় যা গড়ায় সরকার পতনের আন্দোলনে।

গণ-অভ্যুত্থানের মুখে পাঁচই অগাস্ট শেখ হাসিনার সাড়ে পনেরো বছরের দীর্ঘ শাসনের পতন হয়। ছাত্র প্রতিনিধিসহ শপথ নেয় নতুন অন্তর্বর্তী সরকার। তারও হতে চলেছে বর্ষপূর্তি।

কিন্তু প্রভাব বিস্তার, ক্ষমতার অপব্যবহারের রাজনীতি, দুর্নীতি, চাকরি কিংবা বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তিতে বিশেষ সুবিধা দেওয়ার বিষয়গুলো বন্ধ হয়নি; বরং কোনো কোনো ক্ষেত্রে অভিযোগ বেড়েছে।

এমনকি আন্দোলনের সাথে সংশ্লিষ্টরাই জুলাইকে 'মানিমেকিং মেশিন' হিসেবে ব্যবহার করছেন বলেও অভিযোগ উঠছে।

এমন প্রেক্ষাপটে অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন, অভ্যুত্থানের পর প্রশাসনিক কাঠামোতে আদৌ কতটা পরিবর্তন হলো?

বিশ্লেষকরা বলছেন, সরকার কিংবা জুলাই আন্দোলনের সাথে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কেউই বৈষম্য দূর করতে কার্যকর ভূমিকা রাখেননি। ফলে অপরিবর্তিত কাঠামোতে বহাল রয়েছে পুরনো ব্যবস্থা।

'আমূল কোনো পরিবর্তন নেই'

গণঅভ্যুত্থানের পর গত বছরের আটই অগাস্ট শপথ নেয় নতুন অন্তর্বর্তী সরকার, যার প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব নেন অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস।

এর তিনদিন পর প্রটোকল বিধির তোয়াক্কা না করেই যানজটের মধ্যে আটকে থাকেন তিনি, যা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হলে বেশ প্রশংসা কুড়ায় অন্তর্বর্তী সরকার।

অনেকেই আশা করেন, সেখান থেকেই শুরু হবে পরিবর্তনের। যদিও সে আশা পূরণ হয়নি।

হরহামেশাই এখন যানজটে বসে থাকেন জনসাধারণ, আর বিশেষ প্রটোকল নিয়ে পাশ দিয়েই চলে যেতে দেখা যায় ভিআইপিদের।

এমন আরেকটি উদাহরণ পাসপোর্ট অফিসের ভোগান্তি। অভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে প্রাথমিকভাবে পাসপোর্ট অফিসের ভোগান্তি কমার আলোচনা শোনা গেলেও, এক বছর পরও আঞ্চলিক কার্যালয়ে হয়নি তেমন কোনো পরিবর্তন।

প্রায় সাত লাখের বেশি ড্রাইভিং লাইসেন্স আটকে আছে বিআরটিএতে। একই চিত্র বিভিন্ন সেবা প্রতিষ্ঠানে এবং বিমানবন্দরে, প্রশাসনেও। রয়ে গেছে পুরনো 'স্যার' কালচার।

প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের আসা উপলক্ষে রাতারাতি মাঠের মধ্যে সড়ক নির্মাণ করে শিক্ষার্থীদের দুই পাশে দাঁড় করিয়ে রাখা কিংবা দুর্ব্যবহারের মতো বিতর্কিত নানা কার্যকলাপ কয়েকদিন পরপরই ভাইরাল হয় সামাজিক মাধ্যমে।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা বলছেন, অভ্যুত্থানের পরও প্রশাসনে আমূল কোনো পরিবর্তন হয়নি। পুরনো আমলাতান্ত্রিকতা চলমান থাকার কারণে বিষয়গুলো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে।

ad
ad

খবরাখবর থেকে আরও পড়ুন

আনিসুল ইসলাম মাহমুদের মনোনয়নপত্র বাতিল

জাতীয় পার্টির একাংশের চেয়ারম্যান আনিসুল ইসলাম মাহমুদের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে।

৪ ঘণ্টা আগে

বাণিজ্য মেলা কেবল পণ্যের প্রদর্শনী নয়, বাণিজ্যিক উন্নয়নেরও প্রদর্শনী: বাণিজ্য উপদেষ্টা

বাণিজ্য মেলা কেবল পণ্যের প্রদর্শনী নয়, এটি বাংলাদেশের উদ্যোগ, উদ্ভাবন ও বাণিজ্যিক উন্নয়নের প্রদর্শনীও বলে মন্তব্য করেছেন বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশির উদ্দিন।

৪ ঘণ্টা আগে

নির্বাচন নিয়ে বহির্বিশ্বের কোনো চাপ নেই: পররাষ্ট্র উপদেষ্টা

বাংলাদেশের সঙ্গে বহির্বিশ্বের সবার ভালো সম্পর্ক। আমরাই নির্বাচন করতে চাই, নির্বাচন নিয়ে বহির্বিশ্বের কোনও চাপ নেই বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন। শনিবার মুন্সিগঞ্জে সরকারি দপ্তর প্রধানদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের একথা বলেন তিনি।

৫ ঘণ্টা আগে

কবরের ওপর খেজুরের ডাল পোঁতা হয় কেন?

জিয়া উদ্যানে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার কবরেও খেজুরগাছের ডাল পোঁতা হয়েছে। লাখ লাখ মানুষ কবর জিয়ারত করতে গিয়ে দেখছেন খেজুরের এই ডালটি। সাধারণ মানুষ থেকে অসাধারণ—প্রায় সব মুসলিমের কবরেই খেজুরের ডাল পোঁতা হয়। কিন্তু কেন?

৬ ঘণ্টা আগে