বিকেলে বিদ্যুতের নতুন দাম ঘোষণা

প্রতিবেদক, রাজনীতি ডটকম
আপডেট : ০৩ জুন ২০২৬, ১১: ৪২
বিএনপি সরকার ক্ষমতায় এসে দুই বছর পর্যন্ত বিদ্যুতের দাম না বাড়ানোর ঘোষণা দিলেও সে সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসতে হচ্ছে। ছবি: সংগৃহীত

গ্রাহক ও পাইকারি পর্যায়ে বিদ্যুতের নতুন দাম ঘোষণা করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। আজ মঙ্গলবার বিকেল ৩টায় এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে পাইকারি, সঞ্চালন এবং খুচরা মূল্যহার পুনর্নির্ধারণের এই আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হবে।

এর আগে দেশের ছয়টি বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানি প্রতি ইউনিটে ৮৫ পয়সা থেকে ২ টাকা ৫ পয়সা পর্যন্ত দাম বাড়ানোর প্রস্তাব দিলে বিইআরসির কারিগরি কমিটি গড়ে প্রতি ইউনিটে ১ টাকা ২৫ পয়সা বাড়ানোর সুপারিশ করে।

মঙ্গলবার (৩ জুন) এক বার্তায় এ তথ্য জানায় বিইআরসি। এতে বলা হয়, বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) বিদ্যুতের পাইকারি (বাল্ক) ও খুচরা মূল্যহার, পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ পিএলসি (পিজিবিপিএলসি) বিদ্যুতের সঞ্চালন মূল্যহার এবং বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড (বাপবিবো), ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড (ডিপিডিসি), ঢাকা ইলেক্ট্রিক সাপ্লাই কোম্পানি লিমিটেড (ডেসকো), ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড (ওজোপাডিকো) ও নর্দান ইলেক্ট্রিসিটি সাপ্লাই পিএলসি (নেসকো) বিদ্যুতের খুচরা মূল্যহার পরিবর্তনের জন্য কমিশনে প্রস্তাব দাখিল করেছে।

প্রস্তাব অনুযায়ী, পিডিবি প্রতি ইউনিট ৮৫ পয়সা, আরইবি ১ টাকা ৭৭ পয়সা, ডিপিডিসি ১ টাকা ৫৪ পয়সা, ডেসকো ১ টাকা ৯৮ পয়সা, ওজোপাডিকো ১ টাকা ৩৯ পয়সা এবং নেসকো ২ টাকা ৫ পয়সা পর্যন্ত মূল্যবৃদ্ধির আবেদন করেছে। তবে বিইআরসির কারিগরি কমিটি সুপারিশ করেছে, বিতরণ কোম্পানিগুলোর বিদ্যুতের দাম গড়ে প্রতি ইউনিট ১ টাকা ২৫ পয়সা বাড়ানো যেতে পারে।

বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির এসব প্রস্তাব নিয়ে গত ২০ ও ২১ এপ্রিল দুই দিনব্যাপী গণশুনানি আয়োজন করে বিইআরসি। আজ বুধবার বিকেল ৩টায় প্রস্তাবের বিষয়ে কমিশন কার্যালয়ের শুনানি কক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত জানানো হবে।

বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর দুই বছর পর্যন্ত বিদ্যুতের দাম না বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছিল। এর বদলে সিস্টেম লস বা চুরি কমিয়ে বিদ্যুতের লোকসান কমানোর কথা বলেছিলেন জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু। তবে সে সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসতে হচ্ছে সরকারকে।

বিদ্যুৎ বিভাগের একটি সূত্র বলছে, গত অর্থবছরে বিদ্যুৎ খাতে সরকারের ভর্তুকির পরিমাণ ছিল প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকা। এবার বিদ্যুৎ বিভাগ আরও ২০ হাজার কোটি টাকা অতিরিক্ত ভর্তুকি দাবি করেছে। এত বিপুল পরিমাণ ভর্তুকির বোঝা কমাতেই বিদ্যুতের দাম না কমানোর ঘোষণা দিয়েও সে সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসতে হচ্ছে সরকারকে।

এর আগে বিএনপি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার মাস দুয়েক পর গত ১৩ এপ্রিল অর্থমন্ত্রীকে প্রধান করে বিদ্যুতের দাম নির্ধারণ বিষয়ে একটি মন্ত্রিসভা কমিটি গঠন করা হয়। ওই কমিটির সুপারিশে গত ৪ মে পিডিবি বিদ্যুতের বাল্ক মূল্য হার প্রতি ইউনিটে ১ টাকা ২০ পয়সা থেকে বাড়িয়ে দেড় টাকা বাড়ানোর প্রস্তাব করেছিল।

এর পরপরই পিডিবি বিইআরসির কাছে পাইকারি ও খুচরা উভয় পর্যায়েই বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর আবেদন করে। পরে গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর আবেদন করে নেসকো। এ ছাড়া পিজিবিপিএলসি, বাপবিবো, ডিপিডিসি, ডেসকো ও ওজোপাডিকো বিদ্যুতের খুচরা মূল্যহার পরিবর্তনের জন্য কমিশনে প্রস্তাব দাখিল করে।

বিইআরসি দেশে বিদ্যুৎ ও জ্বালানির দাম সমন্বয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থা। আওয়ামী লীগ সরকার ২০২৪ সালে এই সংস্থার বদলে সরকারের নির্বাহী আদেশে বিদ্যুৎ-জ্বালানির দাম বাড়ানোর আইন চালু করেছিল। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর অন্তর্বর্তী সরকার ‘বিইআরসি আইন ২০০৩’ পুনর্বহাল করে ফের এ ক্ষমতা বিইআরসিকে ফিরিয়ে দেয়।

ভর্তুকি বাড়ছে বিদ্যুতে

বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর পেছনে মূলত কাজ করছে বড় অঙ্কের ভর্তুকি। পিডিবি কর্মকর্তারা জানান, আদানির কাছ থেকে প্রতি ইউনিট ১৪ দশমিক ৮৬ টাকা, আরপিজিসিএল থেকে ২৬ দশমিক ৯২ টাকা, আরএনপিএল থেকে ১৫ দশমিক ৭ টাকা, আশুগঞ্জ থেকে ৬ দশমিক ২৬ টাকা, ইজিসিবি থেকে ৬ দশমিক ৩৭ টাকা এনডাব্লুউপিসিসিএল থেকে ১১ দশমিক ২২ টাকা ও পায়রা থেকে ১৪ দশমিক ২৭ টাকা দরে প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ কেনা হচ্ছে। এর বাইরে পিডিবির নিজস্ব বিদ্যুতের দাম পড়ছে প্রতি ইউনিট ৮ দশমিক ৯৬ টাকা।

পিডিবির হিসাব বলছে, সব মিলিয়ে বিদ্যুৎ কিনে সরবরাহ করতে প্রতি ইউনিটে পিডিবির খরচ পড়ে গড়ে ১২ দশমিক ৯৭ টাকা। কিন্তু পিডিবি প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ বিক্রি করে ৭ টাকায়। এতে প্রতি ইউনিটে তাদের লোকসান প্রায় ৬ টাকা। স্বাভাবিকভাবেই এ টাকা ভর্তুকি দিতে হয় সরকারকে।

পিডিবি জানায়, গত বছর তাদের লোকসান ছিল ৫৫ হাজার কোটি টাকা। এর বিপরীতে অন্তর্বর্তী সরকার ভর্তুকি দিয়েছিল ৩৮ হাজার ৬৩৭ কোটি টাকা। বাকি ১৭ হাজার ২১ কোটি টাকা এক বছরের লোকসান জমা পড়ে পিডিবির ঘাড়ে। সব মিলিয়ে পিডিবির বর্তমান লোকসান জমে আছে ৪৪ হাজার কোটি টাকা।

পিডিবি আরও জানায়, ২০২১-২০২২ সালে বিদ্যুৎ খাতে ভর্তুকি চাওয়া হয়েছিল ৩১ হাজার ১৪৮ দশমিক ৩৪ কোটি টাকা, দেওয়া হয় ২৯ হাজার ৬০৯ দশমিক ১৪ কোটি টাকা। পরের অর্থবছরে ভর্তুকির চাহিদা ছিল ৪৩ হাজার ৫৯১ কোটি টাকা, দেওয়া হয় ৩৮ হাজার ৫৫০ কোটি টাকা। ২০২৩-২০২৪ অর্থবছরে ভর্তুকির চাহিদা ছিল ৪০ হাজার ২৭৩ কোটি টাকা, দেওয়া হয় ৩৩ হাজার কোটি টাকা।

এরপর ২০২৪-২০২৫ সালে ভতুর্কির চাহিদা ছিল ৪৩ হাজার ১৭০ কোটি টাকা, দেওয়া হয় ৩৮ হাজার ৬৩৬ কোটি টাকা। চলতি বছরে ভর্তুকির চাহিদা এখন পর্যন্ত দেওয়া হয়েছে ৩৬ হাজার ৪৬১ কোটি টাকা। এখন পর্যন্ত অর্থমন্ত্রণালয় ভর্তুকি দিয়েছে ২০ হাজার ২৯৮ কোটি টাকা।

পিডবি বলছে, চলতি বছর লোকসান আরও বাড়বে। কারণ রূপপুর পরমাণু বিদ্যুৎ, রূপসা ৮০০ মেগাওয়াট, ইউনাইটেড ৪৯০ মেগাওয়াটের বিদ্যুৎকেন্দ্র উৎপাদনে আসবে। তাদের ক্যাপাসিটি চার্জসহ অন্যান্য খরচ দিতে হবে।

রাজনীতি/এসআর

ad
ad

খবরাখবর থেকে আরও পড়ুন

সিআইডির ভারপ্রাপ্ত প্রধান ডিআইজি আলি আকবর

সিআইডির বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আলি আকবর খান ১৯৬৭ সালের ২১ সেপ্টেম্বর চাঁদপুর জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। দীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি রেঞ্জ পুলিশ, বাংলাদেশ পুলিশ অধিদপ্তর ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ইউনিটে দায়িত্ব পালন করেছেন।

১১ ঘণ্টা আগে

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি বাংলাদেশের খলিলুর রহমান

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি পদে নির্বাচিত হয়েছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান।

১৫ ঘণ্টা আগে

১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম কমলো ৫৫ টাকা

রান্নার জন্য সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) ১২ কেজির সিলিন্ডারের দাম ৫৫ টাকা কমিয়ে ১ হাজার ৮৮৫ টাকা নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)।

১৮ ঘণ্টা আগে

ভোলায় চিরনিদ্রায় শায়িত তোফায়েল আহমেদ

মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক, সাবেক শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রী এবং নয়বারের সংসদ সদস্য তোফায়েল আহমেদকে ভোলায় সমাহিত করা হয়েছে। আজ মঙ্গলবার বেলা সোয়া ৪টায় ভোলা সদরের দক্ষিণ দিঘলদী ইউনিয়নের কোড়ালিয়া গ্রামে বাবা-মা ও স্ত্রীর কবরের পাশে শেষ শয্যায় শায়িত করা হয়েছে তাকে।

১৯ ঘণ্টা আগে