
ভোলা প্রতিনিধি

মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক, সাবেক শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রী এবং নয়বারের সংসদ সদস্য তোফায়েল আহমেদকে ভোলায় সমাহিত করা হয়েছে। আজ মঙ্গলবার বেলা সোয়া ৪টায় ভোলা সদরের দক্ষিণ দিঘলদী ইউনিয়নের কোড়ালিয়া গ্রামে বাবা-মা ও স্ত্রীর কবরের পাশে শেষ শয্যায় শায়িত করা হয়েছে ষাটের দশকের ছাত্ররাজনীতির এ উজ্জ্বল নক্ষত্রকে।
এর আগে বেলা আড়াইটায় ভোলা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে হাজারো মানুষের অংশগ্রহণে তোফায়েল আহমেদের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় ইমামতি করেন মাওলানা মুফতি মজিরুদ্দিন। জানাজা শেষে তাকে গার্ড অব অনার প্রদান করে প্রশাসন। জানাজার আগে বক্তব্য দেন ভোলা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও জেলা পরিষদের প্রশাসক গোলাম নবী আলমগীর, তোফায়েল আহমেদের জামাতা ডা. তৌহিদুজ্জামান তুহিন।
বাংলাদেশের রাজনীতির নানা বাঁক-বদলের সাক্ষী তোফায়েল আহমেদ গতকাল সোমবার বিকেলে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে মারা যান। গত ২৪ সেপ্টেম্বর বিকালে নিউমোনিয়াজনিত শ্বাসকষ্ট, হৃদ্রোগ ও শারীরিক দুর্বলতা নিয়ে তিনি হাসপাতালে ভর্তি হন। পরে আট মাস আট দিন ধরে হাসপাতালটির নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন ছিলেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮৩ বছর।

সোমবার বাদ মাগরিব রাজধানীর ধানমন্ডির তাকওয়া মসজিদে তার প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। রাজনীতিবিদ থেকে শুরু করে বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষজন বর্ষীয়ান রাজনীতিক তোফায়েলের জানাজায় অংশ নেন। জানাজা শেষে স্কয়ার হাসপাতালের হিমঘরে তোফায়েল আহমেদের মরদেহ রাখা হয়। পরে মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে স্কয়ার হাসপাতাল থেকে এই রাজনীতিকের মরদেহ নেওয়া হয় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে। সেখান থেকে মরদেহবাহী একটি হেলিকপ্টার ভোলার উদ্দেশ্যে রওনা হয়।
পরে বেলা দেড়টার দিকে তোফায়েল আহমেদকে বহনকারী হেলিকপ্টার ভোলা হ্যালিপেডে অবতরণ করে এবং দুপুর দুইটার দিকে তার মরদেহ নিয়ে ফ্রিজিং অ্যাম্বুলেন্স জানাজাস্থল ভোলা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে পৌঁছায়। সেখানে জানাজা ও গার্ড অব অনার প্রদান শেষে তার মরদেহ নেওয়া হয় গ্রামের বাড়িতে। পরে বাড়ি সংলগ্ন মসজিদ প্রাঙ্গণে তার তৃতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।
১৯৪৩ সালের ২২ অক্টোবর ভোলার কোড়ালিয়া গ্রামের আজহার আলী ও ফাতেমা খানমের ঘরে জন্মগ্রহণ করা তোফায়েল আহমেদ ছাত্রজীবন থেকেই রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। ভোলা সরকারি হাই স্কুল থেকে ১৯৬০ সালে তৎকালীন ম্যাট্রিকুলেশন পাসের পর ভর্তি হন বরিশাল ব্রজমোহন কলেজে।

সেখান থেকে ১৯৬২ সালে আইএসসি এবং ১৯৬৪ সালে বিএসসি সম্পন্ন করেন। সে বছরই তিনি ভোলা শহরের আনোয়ারা বেগমের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। তাদের একমাত্র সন্তান তাসলিমা আহমেদ জামান মুন্নী পেশায় চিকিৎসক। ব্রজমোহন কলেজে স্নাতক শেষে তোফায়েল ভর্তি হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে; মৃত্তিকা বিজ্ঞান বিভাগ থেকে স্নাতকোত্তর করেন।
তোফায়েল আহমেদ ১৯৬৪ সালে তৎকালীন ইকবাল হল (শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হল) ছাত্র সংসদের ক্রীড়া সম্পাদক, পরের বছর মৃত্তিকা বিজ্ঞান বিভাগের সহসভাপতি এবং ১৯৬৬-৬৭ শিক্ষাবর্ষে ইকবাল হল ছাত্র সংসদের সহসভাপতি (ভিপি) নির্বাচিত হন। ১৯৬৭ থেকে ১৯৬৯ সাল পর্যন্ত ডাকসুর ভিপি থাকাকালে চারটি ছাত্রসংগঠনের সমন্বয়ে ‘সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ’ গঠন করে বঙ্গবন্ধুর ৬ দফা কর্মসূচি ১১ দফায় অন্তর্ভুক্ত করে উনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেন তোফায়েল।
ঊনসত্তরেই তোফায়েল আহমেদ ছাত্রলীগের সভাপতি নির্বাচিত হন। ডাকসুর ভিপি থাকাকালে তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সাহচর্যে আসেন। পরের বছরের ২ জুন শেখ মুজিবের নির্দেশে তোফায়েল আনুষ্ঠানিকভাবে আওয়ামী লীগের রাজনীতি শুরু করেন। সে বছর ভোলার দৌলতখান-তজুমদ্দিন-মনপুরা আসন থেকে মাত্র ২৭ বছর বয়সে পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন তিনি।
মুক্তিযুদ্ধে মুজিব বাহিনীর অঞ্চলভিত্তিক চার প্রধানের একজন ছিলেন তোফায়েল। তিনি ছিলেন বরিশাল, পটুয়াখালী, খুলনা, ফরিদপুর, যশোর, কুষ্টিয়া ও পাবনা সমন্বয়ে গঠিত দক্ষিণাঞ্চলীয় কমান্ডের দায়িত্বে। মুজিবনগর সরকার প্রতিষ্ঠার অন্যতম সংগঠক তোফায়েল স্বাধীনতার পর সংবিধান প্রণয়নে ভূমিকা রাখেন। এর মধ্যে ১৯৭৩ সালে ভোলা থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন তোফায়েল আহমেদ। পঁচাত্তরের ২৫ জানুয়ারি দেশে রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার চালু হলে প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদায় রাষ্ট্রপতির বিশেষ সহকারী নিযুক্ত হন তিনি।
সে বছরই বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ বা বাকশাল গঠিত হলে এর যুব সংগঠন জাতীয় যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন তিনি। পরে ১৯৭৫ সালের ১৫ অগাস্ট বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের পরপরই তোফায়েলকে গৃহবন্দি করা হয়। একই বছরের ৬ সেপ্টেম্বর তাকে গ্রেপ্তার করা হয়, রাখা হয় ময়মনসিংহ কারাগারের কনডেম সেলে। পরে কুষ্টিয়া কারাগারে তাকে স্থানান্তর করা হয়। তখন দীর্ঘ ৩৩ মাস তিনি কারাগারে ছিলেন।
কুষ্টিয়া কারাগারে থাকা অবস্থায় ১৯৭৮ সালে তোফায়েল আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক নির্বাচিত হন। আওয়ামী লীগকে সুসংগঠিত করে সামরিক শাসনবিরোধী গণতান্ত্রিক আন্দোলনে ভূমিকা রাখেন। বঙ্গবন্ধুকে সপরিবার হত্যার পর ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলে তোফায়েল আহমেদ শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রী এবং ২০১৪ সাল থেকে থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত বাণিজ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন।
তোফায়েল আহমেদ নৌকা প্রতীক নিয়ে মোট ১২ বার নির্বাচন করেছেন। মাত্র ২৭ বছর বয়সে প্রথম ভোটে বিজয়ী এ রাজনীতিক ৮০ বছর বয়সেও জয়ের মুখে দেখেছেন। ২০২৪ সালের দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে তিনি নৌকা প্রতীকেই জয় পান। সবমিলিয়ে তিনি নয়বার এমপি হয়েছেন— ১৯৭০-এ পাকিস্তান জাতীয় পরিষদ, ১৯৭৩, ১৯৮৬, ১৯৯১, ১৯৯৬, ২০০৮, ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালের নির্বাচন।
১৯৯২ সালে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য নির্বাচিত হন তোফায়েল আহমেদ। দীর্ঘ ১৮ বছর তিনি এই পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। এ ছাড়া সংবিধান থেকে ‘ইনডেমনিটি অর্ডিন্যান্স’ অপসারণ, বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার এবং মানবতাবিরোধী যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিতে সোচ্চার ছিলেন তিনি। ২০১০ সালে আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য হয়ে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি এই পদেই বহাল ছিলেন।

মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক, সাবেক শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রী এবং নয়বারের সংসদ সদস্য তোফায়েল আহমেদকে ভোলায় সমাহিত করা হয়েছে। আজ মঙ্গলবার বেলা সোয়া ৪টায় ভোলা সদরের দক্ষিণ দিঘলদী ইউনিয়নের কোড়ালিয়া গ্রামে বাবা-মা ও স্ত্রীর কবরের পাশে শেষ শয্যায় শায়িত করা হয়েছে ষাটের দশকের ছাত্ররাজনীতির এ উজ্জ্বল নক্ষত্রকে।
এর আগে বেলা আড়াইটায় ভোলা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে হাজারো মানুষের অংশগ্রহণে তোফায়েল আহমেদের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় ইমামতি করেন মাওলানা মুফতি মজিরুদ্দিন। জানাজা শেষে তাকে গার্ড অব অনার প্রদান করে প্রশাসন। জানাজার আগে বক্তব্য দেন ভোলা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও জেলা পরিষদের প্রশাসক গোলাম নবী আলমগীর, তোফায়েল আহমেদের জামাতা ডা. তৌহিদুজ্জামান তুহিন।
বাংলাদেশের রাজনীতির নানা বাঁক-বদলের সাক্ষী তোফায়েল আহমেদ গতকাল সোমবার বিকেলে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে মারা যান। গত ২৪ সেপ্টেম্বর বিকালে নিউমোনিয়াজনিত শ্বাসকষ্ট, হৃদ্রোগ ও শারীরিক দুর্বলতা নিয়ে তিনি হাসপাতালে ভর্তি হন। পরে আট মাস আট দিন ধরে হাসপাতালটির নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন ছিলেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮৩ বছর।

সোমবার বাদ মাগরিব রাজধানীর ধানমন্ডির তাকওয়া মসজিদে তার প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। রাজনীতিবিদ থেকে শুরু করে বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষজন বর্ষীয়ান রাজনীতিক তোফায়েলের জানাজায় অংশ নেন। জানাজা শেষে স্কয়ার হাসপাতালের হিমঘরে তোফায়েল আহমেদের মরদেহ রাখা হয়। পরে মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে স্কয়ার হাসপাতাল থেকে এই রাজনীতিকের মরদেহ নেওয়া হয় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে। সেখান থেকে মরদেহবাহী একটি হেলিকপ্টার ভোলার উদ্দেশ্যে রওনা হয়।
পরে বেলা দেড়টার দিকে তোফায়েল আহমেদকে বহনকারী হেলিকপ্টার ভোলা হ্যালিপেডে অবতরণ করে এবং দুপুর দুইটার দিকে তার মরদেহ নিয়ে ফ্রিজিং অ্যাম্বুলেন্স জানাজাস্থল ভোলা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে পৌঁছায়। সেখানে জানাজা ও গার্ড অব অনার প্রদান শেষে তার মরদেহ নেওয়া হয় গ্রামের বাড়িতে। পরে বাড়ি সংলগ্ন মসজিদ প্রাঙ্গণে তার তৃতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।
১৯৪৩ সালের ২২ অক্টোবর ভোলার কোড়ালিয়া গ্রামের আজহার আলী ও ফাতেমা খানমের ঘরে জন্মগ্রহণ করা তোফায়েল আহমেদ ছাত্রজীবন থেকেই রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। ভোলা সরকারি হাই স্কুল থেকে ১৯৬০ সালে তৎকালীন ম্যাট্রিকুলেশন পাসের পর ভর্তি হন বরিশাল ব্রজমোহন কলেজে।

সেখান থেকে ১৯৬২ সালে আইএসসি এবং ১৯৬৪ সালে বিএসসি সম্পন্ন করেন। সে বছরই তিনি ভোলা শহরের আনোয়ারা বেগমের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। তাদের একমাত্র সন্তান তাসলিমা আহমেদ জামান মুন্নী পেশায় চিকিৎসক। ব্রজমোহন কলেজে স্নাতক শেষে তোফায়েল ভর্তি হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে; মৃত্তিকা বিজ্ঞান বিভাগ থেকে স্নাতকোত্তর করেন।
তোফায়েল আহমেদ ১৯৬৪ সালে তৎকালীন ইকবাল হল (শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হল) ছাত্র সংসদের ক্রীড়া সম্পাদক, পরের বছর মৃত্তিকা বিজ্ঞান বিভাগের সহসভাপতি এবং ১৯৬৬-৬৭ শিক্ষাবর্ষে ইকবাল হল ছাত্র সংসদের সহসভাপতি (ভিপি) নির্বাচিত হন। ১৯৬৭ থেকে ১৯৬৯ সাল পর্যন্ত ডাকসুর ভিপি থাকাকালে চারটি ছাত্রসংগঠনের সমন্বয়ে ‘সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ’ গঠন করে বঙ্গবন্ধুর ৬ দফা কর্মসূচি ১১ দফায় অন্তর্ভুক্ত করে উনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেন তোফায়েল।
ঊনসত্তরেই তোফায়েল আহমেদ ছাত্রলীগের সভাপতি নির্বাচিত হন। ডাকসুর ভিপি থাকাকালে তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সাহচর্যে আসেন। পরের বছরের ২ জুন শেখ মুজিবের নির্দেশে তোফায়েল আনুষ্ঠানিকভাবে আওয়ামী লীগের রাজনীতি শুরু করেন। সে বছর ভোলার দৌলতখান-তজুমদ্দিন-মনপুরা আসন থেকে মাত্র ২৭ বছর বয়সে পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন তিনি।
মুক্তিযুদ্ধে মুজিব বাহিনীর অঞ্চলভিত্তিক চার প্রধানের একজন ছিলেন তোফায়েল। তিনি ছিলেন বরিশাল, পটুয়াখালী, খুলনা, ফরিদপুর, যশোর, কুষ্টিয়া ও পাবনা সমন্বয়ে গঠিত দক্ষিণাঞ্চলীয় কমান্ডের দায়িত্বে। মুজিবনগর সরকার প্রতিষ্ঠার অন্যতম সংগঠক তোফায়েল স্বাধীনতার পর সংবিধান প্রণয়নে ভূমিকা রাখেন। এর মধ্যে ১৯৭৩ সালে ভোলা থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন তোফায়েল আহমেদ। পঁচাত্তরের ২৫ জানুয়ারি দেশে রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার চালু হলে প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদায় রাষ্ট্রপতির বিশেষ সহকারী নিযুক্ত হন তিনি।
সে বছরই বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ বা বাকশাল গঠিত হলে এর যুব সংগঠন জাতীয় যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন তিনি। পরে ১৯৭৫ সালের ১৫ অগাস্ট বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের পরপরই তোফায়েলকে গৃহবন্দি করা হয়। একই বছরের ৬ সেপ্টেম্বর তাকে গ্রেপ্তার করা হয়, রাখা হয় ময়মনসিংহ কারাগারের কনডেম সেলে। পরে কুষ্টিয়া কারাগারে তাকে স্থানান্তর করা হয়। তখন দীর্ঘ ৩৩ মাস তিনি কারাগারে ছিলেন।
কুষ্টিয়া কারাগারে থাকা অবস্থায় ১৯৭৮ সালে তোফায়েল আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক নির্বাচিত হন। আওয়ামী লীগকে সুসংগঠিত করে সামরিক শাসনবিরোধী গণতান্ত্রিক আন্দোলনে ভূমিকা রাখেন। বঙ্গবন্ধুকে সপরিবার হত্যার পর ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলে তোফায়েল আহমেদ শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রী এবং ২০১৪ সাল থেকে থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত বাণিজ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন।
তোফায়েল আহমেদ নৌকা প্রতীক নিয়ে মোট ১২ বার নির্বাচন করেছেন। মাত্র ২৭ বছর বয়সে প্রথম ভোটে বিজয়ী এ রাজনীতিক ৮০ বছর বয়সেও জয়ের মুখে দেখেছেন। ২০২৪ সালের দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে তিনি নৌকা প্রতীকেই জয় পান। সবমিলিয়ে তিনি নয়বার এমপি হয়েছেন— ১৯৭০-এ পাকিস্তান জাতীয় পরিষদ, ১৯৭৩, ১৯৮৬, ১৯৯১, ১৯৯৬, ২০০৮, ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালের নির্বাচন।
১৯৯২ সালে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য নির্বাচিত হন তোফায়েল আহমেদ। দীর্ঘ ১৮ বছর তিনি এই পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। এ ছাড়া সংবিধান থেকে ‘ইনডেমনিটি অর্ডিন্যান্স’ অপসারণ, বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার এবং মানবতাবিরোধী যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিতে সোচ্চার ছিলেন তিনি। ২০১০ সালে আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য হয়ে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি এই পদেই বহাল ছিলেন।

রাজধানীর পল্লবীতে ধর্ষণের পর সাত বছর বয়সী শিশু রামিসাকে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় শিশুটির মা-বাবাসহ ১০ জন আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন। আজ মঙ্গলবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত ঢাকার শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে তাদের সাক্ষ্য গ্রহণ হয়।
৩ ঘণ্টা আগে
সাক্ষাৎকালে পারস্পরিক শুভেচ্ছা বিনিময়ের পাশাপাশি বাংলাদেশ ও অস্ট্রেলিয়ার মধ্যকার বিদ্যমান দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক, প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আরও জোরদারকরণ, পারস্পরিক অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং সামরিক সংক্রান্ত ভবিষ্যৎ সহযোগিতার সম্ভাব্য ক্ষেত্রসমূহ নিয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়। উভয় পক্ষ দুই দেশের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্ব
৩ ঘণ্টা আগে
নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বেসরকারি মেডিকেল কলেজগুলোতে ডেঙ্গু রোগীদের জন্য ১০ শতাংশ বেড বরাদ্দ থাকবে এবং সেখানে বেড ও চিকিৎসা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে দেওয়া হবে। এ ছাড়া বিভিন্ন স্বাস্থ্য পরীক্ষার ৮০ শতাংশ খরচ বেসরকারি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বহন করবে। একই সঙ্গে মশার লার্ভা ধ্বংস ও ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে সারাদেশে কঠোর
৪ ঘণ্টা আগে
ডেঙ্গু মোকাবিলায় সরকার সর্বাত্মক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। এর অংশ হিসেবে চিকিৎসক ও নার্সদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। আজ সোমবার সচিবালয়ে মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে ডেঙ্গু মোকাবিলায় করণীয় নিয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে তিনি এ কথা বলেন।
৪ ঘণ্টা আগে