টাঙ্গাইলজুড়ে ক্ষোভ, নিন্দা

প্রশাসনের অনুষ্ঠানে উপেক্ষিত ‘জুলাই শহীদ’ হৃদয়ের পরিবার

টাঙ্গাইল প্রতিনিধি
আপডেট : ১৭ জুলাই ২০২৫, ১৩: ৩৭
জুলাই শহীদ হৃদয়। ছবি : রাজনীতি ডটকম

টাঙ্গাইলের গোপালপুরে ‘জুলাই বিপ্লবে’ পুলিশের গুলিতে নিহত কলেজছাত্র হৃদয়ের পরিবার উপজেলা প্রশাসনের আয়োজিত শহীদ দিবসের অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ না পাওয়ায় জেলাজুড়ে ক্ষোভ ও নিন্দার ঝড় বয়ে যাচ্ছে।

গতকাল বুধবার (১৬ জুলাই) গোপালপুর উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে সরকারঘোষিত 'জুলাই শহীদ দিবস' উপলক্ষে বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। তবে এসব অনুষ্ঠানে হৃদয়ের পরিবারের কাউকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি।

গত বছরের ৫ আগস্ট গাজীপুরের কোনাবাড়ীতে পুলিশের গুলিতে নিহত হৃদয়ের মৃত্যুর ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে দেখা যায়, পুলিশ তাকে গলির মধ্যে থেকে টেনে এনে প্রকাশ্যে গুলি করার পর তার মরদেহ টেনে হিঁচড়ে নিয়ে যায়। হৃদয় গোপালপুর উপজেলার আলমনগর উত্তরপাড়া গ্রামের দিনমজুর লাল মিয়ার ছেলে। হৃদয় হেমনগর ডিগ্রি কলেজে পড়াশোনা করতো। সংসারে অভাব-অনটনের কারণে গাজীপুর মহানগরীর কোনাবাড়ীতে ভগ্নীপতি ইব্রাহীমের সাথে অটোরিকশা চালাত সে। তার আয়ে পঙ্গু বাবার চিকিৎসা, সংসার ও নিজের পড়াশোনার খরচ চলতো।

বুধবার গোপালপুর উপজেলা পরিষদ হলরুমে ‘জুলাই শহীদ দিবস’ উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা ও দোয়া মাহফিলে সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে আমন্ত্রণ জানানো হলেও হৃদয়ের পরিবারকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। বিষয়টি নিয়ে হৃদয়ের পরিবার এবং স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।

হৃদয়ের মা রেহানা বেগম বলেন, 'আমার ছেলের লাশ এখনো পাইনি। ওর আয়েই চলতো সংসার। এখন সব কিছু থেমে গেছে। বাড়িতে পঙ্গু স্বামী। সম্পত্তি বলতে তিন শতাংশের ভিটে। মহাজনী ঋণের আড়াই লক্ষ টাকায় ছেলেকে অটো কিনে দেই। এখন অটোর চাকা বন্ধ হওয়ায় সংসারের চাকাও বন্ধ হওয়ার দশা।'

হৃদয়ের ভাগ্নী জেসমিন বলেন, 'অনেক শহীদ পরিবার সরকারি অনুদান পেলেও, লাশ গুম হওয়ায় হৃদয়ের নাম শহীদ তালিকায় ওঠেনি। সম্প্রতি শহিদ তালিকায় হৃদয়কে অন্তর্ভুক্ত করার দাবিতে গোপালপুর উপজেলা পরিষদ ঘেরাও এবং মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়। আজকের (বুধবারের) অনুষ্ঠানে আমাদের পরিবারের কাউকে আমন্ত্রণ না জানানোয় প্রমাণিত হয়, গোপালপুর উপজেলা প্রশাসনের মধ্যে স্বৈরাচারের প্রেতাত্মা লুকিয়ে রয়েছে।'

এ বিষয়ে গোপালপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তুহিন হোসেন বলেন, 'আমন্ত্রণ জানানোর দায়িত্ব ছাত্র আন্দোলনের নেতাদের দেওয়া হয়েছিল। কেন তারা হৃদয়ের পরিবারকে ডাকেনি, তা জানা নেই। তাছাড়া জুলাই ফাউন্ডেশনের শহীদ তালিকায় হৃদয়ের নাম যুক্ত হয়নি। তবে তার নাম শহীদ তালিকায় যুক্ত করতে প্রশাসনিক প্রক্রিয়া চলছে।'

স্থানীয় বিএনপি ও জামায়াত নেতারাও শহীদ দিবসে হৃদয়ের পরিবারের অনুপস্থিতিকে বৈষম্যমূলক ও দুঃখজনক বলে মন্তব্য করেছেন।

গোপালপুর উপজেলা জামায়াতের আমীর হাবিবুর রহমান জানান, তার দলের নেতারা হৃদয়ের পরিবারের সাথে সাক্ষাৎ করে শহিদদের তালিকায় তার নাম অন্তর্ভূক্তকরণ ও বিচারের আশ্বাস দিয়েছেন। এছাড়া জুলাই শহীদ দিবসের অনুষ্ঠানে তার পরিবারের সদস্যদের আমন্ত্রণ না জানানোর ঘটনায় নিন্দা জানান তিনি।

গোপালপুর পৌর বিএনপির সম্পাদক চাঁন মিয়া বলেন, 'হৃদয় ৫ আগষ্ট শহীদ হন এটা সবাই জানেন। উপজেলা প্রশাসন তার পরিবারের সদস্যদের আমন্ত্রণ না জানিয়ে বৈষম্য করেছে।'

ad
ad

খবরাখবর থেকে আরও পড়ুন

নিরাপত্তা প্রধান হত্যার প্রতিশোধে ইসরায়েলে ‘ক্লাস্টার ওয়ারহেড’ হামলা ইরানের

ইরানের নিরাপত্তা প্রধান আলী লারিজানিকে হত্যার প্রতিশোধ নিতে ইসরায়েলের তেল আবিবে ক্লাস্টার ওয়ারহেডযুক্ত (গুচ্ছ বোমা) ক্ষেপণাস্ত্রের হামলা চালিয়েছে তেহরান। আজ বুধবার (১৮ মার্চ) ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের বরাত দিয়ে রয়টার্সের খবরে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

৭ ঘণ্টা আগে

জাতীয় ঈদগাহে ঈদের প্রধান জামাত সকাল সাড়ে ৮টায়

ইসলামিক ফাউন্ডেশন জানায়, আসন্ন পবিত্র ঈদুল ফিতরে দেশের প্রধান ঈদ জামাত সকাল সাড়ে ৮টায় জাতীয় ঈদগাহে অনুষ্ঠিত হবে। বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের খতীব মুফতি মুহাম্মদ আবদুল মালেক জাতীয় ঈদগাহে ইমামতির দায়িত্ব পালন করবেন। বিকল্প ইমাম হিসেবে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মুফাসসির ড. মাওলানা মো. আবু ছালেহ পাটো

৭ ঘণ্টা আগে

ঈদের চাঁদ দেখতে কাল সন্ধ্যায় জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভা

ঈদুল ফিতরের দিনক্ষণ ঠিক করতে আগামীকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভা আহ্বান করা হয়েছে। ইসলামিক ফাউন্ডেশনের বায়তুল মোকাররম সভাকক্ষে অনুষ্ঠেয় এই সভায় সারাদেশের চাঁদ দেখার সংবাদ পর্যালোচনা করে ঈদের চূড়ান্ত ঘোষণা দেওয়া হবে। দেশের কোথাও চাঁদ দেখা গেলে তা নির্দিষ্ট টেলিফোন নম্বরে বা স্থান

৭ ঘণ্টা আগে

জাতিসংঘে নারীর ক্ষমতায়নে বাংলাদেশের সুদৃঢ় অঙ্গীকার

তিনি জানান, জলবায়ু পরিবর্তন, অর্থনৈতিক অস্থিরতা, সংঘাত এবং ডিজিটাল বিভাজন নতুন প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে, যা বিশেষভাবে গ্রামীণ ও ঝুঁকিপূর্ণ সম্প্রদায়ের নারীদের উপর প্রভাব ফেলে। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বাংলাদেশ নারী নেতৃত্বের মাধ্যমে বিচার ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করণ এবং মানবপাচার প্রতিরোধে আঞ্চলিক ও

৮ ঘণ্টা আগে