
ডেস্ক, রাজনীতি ডটকম

বিশ্বের অন্যতম মারাত্মক ক্যানসার হিসেবে পরিচিত অগ্ন্যাশয় (প্যানক্রিয়াস) ক্যানসার চিকিৎসায় এক অভাবনীয় ও যুগান্তকারী সাফল্যের দেখা মিলেছে। চিকিৎসা বিজ্ঞানীদের দাবি, দৈনিক মাত্র একটি ট্যাবলেট সেবনের মাধ্যমেই এই প্রাণঘাতী ক্যানসারে আক্রান্ত রোগীদের বেঁচে থাকার মেয়াদ দ্বিগুণ করা সম্ভব।
রোববার (৩১ মে) ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম গার্ডিয়ানের খবরে বলা হয়েছে, চলমান একটি ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের (পরীক্ষামূলক প্রয়োগ) ফলাফলে এই বিস্ময়কর সাফল্য উঠে এসেছে। ক্যানসার বিশেষজ্ঞরা একে চিকিৎসা বিজ্ঞানের ইতিহাসে একটি 'গেমচেঞ্জার' এবং বিগত কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে বড় আবিষ্কার হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।
সাধারণত অগ্ন্যাশয়ের ক্যানসার নিরাময়ের সুযোগ অত্যন্ত সীমিত। বর্তমানে যেসব চিকিৎসা সচরাচর ব্যবহৃত হয়, সেগুলোর বেশিরভাগই রোগীদের জীবন বাঁচাতে তেমন কোনো কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে না। দুর্ভাগ্যজনকভাবে, এই ক্যানসারটি সাধারণত একদম শেষ পর্যায়ে গিয়ে ধরা পড়ে। এ ছাড়া অর্ধেকেরও বেশি রোগীর ক্ষেত্রে ক্যানসার কোষ শরীরের অন্যান্য অংশে ছড়িয়ে পড়ার পর রোগ নির্ণয় সম্ভব হয়। ফলে দশকের পর দশক ধরে বিজ্ঞানীরা এর একটি কার্যকর সমাধানের জন্য নিরলস কাজ করে যাচ্ছিলেন।
এমন এক পরিস্থিতিতে বিশ্বের সবচেয়ে বড় ক্যানসার সম্মেলনে বিশেষজ্ঞরা 'ডারাক্সনরাসিব' (daraxonrasib) নামের একটি 'স্মার্ট ড্রাগ' আবিষ্কার করেছেন। তাদের মতে, এই ওষুধটি ক্যানসার চিকিৎসায় এক নতুন বিপ্লবের পথ উন্মোচন করতে যাচ্ছে।
দ্বিগুণ হলো রোগীর বেঁচে থাকার মেয়াদ
শিকাগোতে অনুষ্ঠিত আমেরিকান সোসাইটি অব ক্লিনিক্যাল অনকোলজির (অ্যাসকো) বার্ষিক সভায় এই গবেষণার তথ্য-উপাত্ত উপস্থাপন করা হয়। ৫০০ জন রোগীর ওপর এই ওষুধের পরীক্ষা চালানো হয়েছিল, যাদের সবার শরীরেই অগ্ন্যাশয়ের ক্যানসার মারাত্মকভাবে ছড়িয়ে পড়েছিল। ফলাফলে দেখা যায়, প্রচলিত কেমোথেরাপির তুলনায় এই ওষুধটি রোগীদের বেঁচে থাকার মেয়াদ দ্বিগুণ করেছে। একই সঙ্গে এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও কেমোথেরাপির চেয়ে অনেক কম।

ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে দেখা গেছে, যেসব রোগীকে এই নতুন ওষুধ দেওয়া হয়েছিল, তারা গড়ে ১৩.২ মাস বেঁচে ছিলেন। অন্যদিকে, যেসব রোগীকে প্রথাগত কেমোথেরাপি দেওয়া হয়েছিল, তাদের বেঁচে থাকার গড় মেয়াদ ছিল মাত্র ৬.৬ থেকে ৬.৭ মাস।
বিশেষজ্ঞরাদের উচ্ছ্বাস
সরাসরি যুক্ত না থেকেও অ্যারিজোনা ইউনিভার্সিটি ক্যান্সার সেন্টারের অনকোলজি প্রধান ও অ্যাসকোর গ্যাস্ট্রোইনটেস্টাইনাল ক্যানসার বিশেষজ্ঞ ড. রচনা শ্রফ এই গবেষণার ফলাফল দেখে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, 'এই ফলাফল চিকিৎসা ক্ষেত্রের পুরো দৃশ্যপট বদলে দেওয়ার মতো। আমরা ক্যানসার আক্রান্তদের এমন এক বেঁচে থাকার হার দেখছি, যা এর আগে কখনো দেখা যায়নি।'
বোস্টনের বিশ্বখ্যাত ডানা-ফার্বার ক্যানসার ইনস্টিটিউটের গবেষকদের পরিচালিত এই ট্রায়ালের ফলাফল যখন ড. রচনা শ্রফ প্রথম পড়েন, তখন তিনি আবেগ ধরে রাখতে পারেননি। নিজের অনুভূতি প্রকাশ করে তিনি বলেন, 'দীর্ঘ ১৬ বছর ধরে প্যানক্রিয়াস ক্যানসারের চিকিৎসা করতে গিয়ে আমি নিজেই ক্লিনিকের ভেতর কেঁদে ফেলেছিলাম। আমাদের রোগীদের জন্য এটি অত্যন্ত আশাজাগানিয়া একটি গবেষণা। আমি ট্রায়ালের বিজ্ঞানীদের আন্তরিক অভিনন্দন জানাই।'
একইভাবে এই গবেষণার সঙ্গে যুক্ত না থাকা অ্যাসকোর প্রধান মেডিকেল অফিসার ও নির্বাহী ভাইস প্রেসিডেন্ট ড. জুলি গ্র্যালো একে একটি 'গেমচেঞ্জার' হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, "আমি অনেককে এই গবেষণাকে 'হোম রান' (ক্রিকেট বা বেসবলের পরিভাষায় বড় সাফল্য) বলতে শুনেছি। তবে আমি একে 'গ্র্যান্ড স্ল্যাম' বা তার চেয়েও বড় দুর্দান্ত এক সাফল্য বলব।"
ওষুধটি যেভাবে কাজ করে
বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, ‘ক্রাস’ (Kras) নামের একটি বিশেষ প্রোটিনকে লক্ষ্য করে কাজ করে ডারাক্সনরাসিব। এই ক্রাস প্রোটিনটিই মূলত অগ্ন্যাশয়ের প্রায় সব ধরনের ক্যানসার কোষকে বৃদ্ধি পেতে সাহায্য করে। নতুন এই ওষুধটি মূলত মলিকিউল বা অণুগুলোকে এক সঙ্গে আঠার মতো আটকে ফেলে, যা ক্রাস প্রোটিনকে আঁকড়ে ধরে তার কার্যকারিতা সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেয়।

মূলত 'রাস' (Ras) জিন পরিবারের একটি অংশ হলো এই 'ক্রাস'। এই জিনগুলো ক্যানসার কোষগুলোকে অনবরত বৃদ্ধি পাওয়ার এবং বিভাজিত হওয়ার সংকেত পাঠাতে থাকে। এর ফলেই ক্যানসার কোষগুলো দ্রুত বেড়ে ছড়িয়ে পড়ে।
সবচেয়ে সাধারণ ঘরানার অগ্ন্যাশয়ের ক্যানসার, যা 'প্যানক্রিয়াটিক ডাক্টাল অ্যাডেনোকার্সিনোমা' (mPDAC) নামে পরিচিত, এতে আক্রান্ত ৯০ শতাংশেরও বেশি রোগীর ক্রাস জিনে মিউটেশন ঘটে। এটিকে 'রাস জি১২ ভ্যারিয়েন্ট' বলা হয় এবং এর ফলে ক্রাস প্রোটিন অতিরিক্ত সক্রিয় হয়ে ওঠে।
ডারাক্সনরাসিব হলো এক নতুন ধরনের রাস ইনহিবিটর, যাকে বলা হচ্ছে, 'রাস(অন) মাল্টি-সিলেক্টিভ ইনহিবিটর'। শরীরের ক্রাস জিনের কোনো ভ্যারিয়েন্ট থাকুক বা না থাকুক, কিংবা সেটি যে ধরনের ভ্যারিয়েন্টই হোক না কেন— এটি সরাসরি ক্রাস প্রোটিনকে নিষ্ক্রিয় করে ক্যানসারের বৃদ্ধি পুরোপুরি থামিয়ে দিতে পারে।
ড. রচনা শ্রফ বলেন, 'অধিকাংশ মারাত্মক টিউমারের ক্ষেত্রে ক্রাসকে নিশানা করার ধারণাটি সবসময়ই ছিল একটি অধরা স্বপ্নের (হলি গ্রেইল) মতো। বিশেষ করে অগ্ন্যাশয়ের ক্যানসারের ক্ষেত্রে এটি চরম সত্য, কারণ ক্রাস প্রায় সর্বত্র বিদ্যমান এবং এটিই এই ক্যানসার বৃদ্ধির প্রাথমিক চালিকাশক্তি। রাস বিপ্লব এখন আমাদের দোরগোড়ায় এবং এই গবেষণাটি প্রমাণ করেছে যে অগ্ন্যাশয়ের ক্যানসারে ক্রাসকে নিশানা করে চিকিৎসা করা কেবল সম্ভবই নয়, বরং অত্যন্ত কার্যকর।'
যুক্তরাজ্যভিত্তিক আন্তর্জাতিক দাবত্য সংস্থা প্যানক্রিয়াটিক ক্যানসার অ্যাকশনের প্রধান নির্বাহী পলা হ্যানফোর্ড এই আবিষ্কারকে তার দেখা ক্যানসার চিকিৎসার ইতিহাসে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি বলে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, 'দীর্ঘদিন ধরে প্যানক্রিয়াস ক্যানসারে আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসার সুযোগ ছিল খুবই সীমিত এবং তাদের বেঁচে থাকার হারও ছিল অত্যন্ত হতাশাজনক। শেষ স্টেজের প্যানক্রিয়াস ক্যানসারে বেঁচে থাকার মেয়াদ প্রায় দ্বিগুণ করার মতো একটি ট্রায়াল দেখা সত্যিই অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক। এটি এই রোগে আক্রান্ত রোগী এবং তাদের পরিবারের মনে সত্যিকারের আশা জোগাবে।'
আরেক দাতব্য সংস্থা প্যানক্রিয়াটিক ক্যানসার ইউকের সেবামূলক কার্যক্রম ও গবেষণা পরিচালক অ্যানা জুয়েলও এই ফলাফলকে 'আশাব্যঞ্জক' বলে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, 'ক্রাস মিউটেশনের কার্যকারিতা রোধ করার মাধ্যমে ডারাক্সনরাসিব নামের এই ওষুধটি অগ্ন্যাশয়ের ক্যানসারে আক্রান্ত রোগীদের জীবনকাল বাড়াতে সক্ষম হয়েছে। রোগীরা তাদের প্রিয়জনদের সঙ্গে আরও কয়েক মাস মূল্যবান সময় কাটানোর সুযোগ পাচ্ছেন।'
তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, এখন প্রধান চ্যালেঞ্জ হলো— এই ধরনের ওষুধগুলো দ্রুত সাধারণ রোগীদের হাতের নাগালে পৌঁছানো নিশ্চিত করা। কারণ অত্যন্ত দুঃখজনক হলেও সত্য যে, অগ্ন্যাশয়ের ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়া অর্ধেক মানুষই রোগ ধরা পড়ার মাত্র তিন মাসের মধ্যে মারা যান। ফলে প্রিয়জনদের সঙ্গে কাটানোর মতো একটু বাড়তি সময়ও সত্যিই অমূল্য। তাই সবচেয়ে সম্ভাবনাময় এই নতুন চিকিৎসাটি যেন সবার জন্য সহজলভ্য হয়, তার জন্য আমাদের সম্ভাব্য সবকিছু করতে হবে।
শিকাগোতে অনুষ্ঠিত এই সম্মেলনে ক্যানসার বিশেষজ্ঞরা তাদের মতামত জানিয়েছেন। তারা বলেছেন, যেহেতু রাস জিন অন্যান্য ক্যান্সারের বিস্তারের জন্যও দায়ী, তাই এই সাফল্যের পর অন্যান্য ক্যানসারের ক্ষেত্রেও বড় ধরনের অগ্রগতির আশা তৈরি হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা জানান, ফুসফুস এবং মলাশয়ের (কোলন) ক্যানসারের চিকিৎসার জন্যও বর্তমানে এই ধরনের ওষুধের পরীক্ষামূলক প্রয়োগ বা ট্রায়াল চলছে।
রাজনীতি/আইআর

বিশ্বের অন্যতম মারাত্মক ক্যানসার হিসেবে পরিচিত অগ্ন্যাশয় (প্যানক্রিয়াস) ক্যানসার চিকিৎসায় এক অভাবনীয় ও যুগান্তকারী সাফল্যের দেখা মিলেছে। চিকিৎসা বিজ্ঞানীদের দাবি, দৈনিক মাত্র একটি ট্যাবলেট সেবনের মাধ্যমেই এই প্রাণঘাতী ক্যানসারে আক্রান্ত রোগীদের বেঁচে থাকার মেয়াদ দ্বিগুণ করা সম্ভব।
রোববার (৩১ মে) ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম গার্ডিয়ানের খবরে বলা হয়েছে, চলমান একটি ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের (পরীক্ষামূলক প্রয়োগ) ফলাফলে এই বিস্ময়কর সাফল্য উঠে এসেছে। ক্যানসার বিশেষজ্ঞরা একে চিকিৎসা বিজ্ঞানের ইতিহাসে একটি 'গেমচেঞ্জার' এবং বিগত কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে বড় আবিষ্কার হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।
সাধারণত অগ্ন্যাশয়ের ক্যানসার নিরাময়ের সুযোগ অত্যন্ত সীমিত। বর্তমানে যেসব চিকিৎসা সচরাচর ব্যবহৃত হয়, সেগুলোর বেশিরভাগই রোগীদের জীবন বাঁচাতে তেমন কোনো কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে না। দুর্ভাগ্যজনকভাবে, এই ক্যানসারটি সাধারণত একদম শেষ পর্যায়ে গিয়ে ধরা পড়ে। এ ছাড়া অর্ধেকেরও বেশি রোগীর ক্ষেত্রে ক্যানসার কোষ শরীরের অন্যান্য অংশে ছড়িয়ে পড়ার পর রোগ নির্ণয় সম্ভব হয়। ফলে দশকের পর দশক ধরে বিজ্ঞানীরা এর একটি কার্যকর সমাধানের জন্য নিরলস কাজ করে যাচ্ছিলেন।
এমন এক পরিস্থিতিতে বিশ্বের সবচেয়ে বড় ক্যানসার সম্মেলনে বিশেষজ্ঞরা 'ডারাক্সনরাসিব' (daraxonrasib) নামের একটি 'স্মার্ট ড্রাগ' আবিষ্কার করেছেন। তাদের মতে, এই ওষুধটি ক্যানসার চিকিৎসায় এক নতুন বিপ্লবের পথ উন্মোচন করতে যাচ্ছে।
দ্বিগুণ হলো রোগীর বেঁচে থাকার মেয়াদ
শিকাগোতে অনুষ্ঠিত আমেরিকান সোসাইটি অব ক্লিনিক্যাল অনকোলজির (অ্যাসকো) বার্ষিক সভায় এই গবেষণার তথ্য-উপাত্ত উপস্থাপন করা হয়। ৫০০ জন রোগীর ওপর এই ওষুধের পরীক্ষা চালানো হয়েছিল, যাদের সবার শরীরেই অগ্ন্যাশয়ের ক্যানসার মারাত্মকভাবে ছড়িয়ে পড়েছিল। ফলাফলে দেখা যায়, প্রচলিত কেমোথেরাপির তুলনায় এই ওষুধটি রোগীদের বেঁচে থাকার মেয়াদ দ্বিগুণ করেছে। একই সঙ্গে এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও কেমোথেরাপির চেয়ে অনেক কম।

ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে দেখা গেছে, যেসব রোগীকে এই নতুন ওষুধ দেওয়া হয়েছিল, তারা গড়ে ১৩.২ মাস বেঁচে ছিলেন। অন্যদিকে, যেসব রোগীকে প্রথাগত কেমোথেরাপি দেওয়া হয়েছিল, তাদের বেঁচে থাকার গড় মেয়াদ ছিল মাত্র ৬.৬ থেকে ৬.৭ মাস।
বিশেষজ্ঞরাদের উচ্ছ্বাস
সরাসরি যুক্ত না থেকেও অ্যারিজোনা ইউনিভার্সিটি ক্যান্সার সেন্টারের অনকোলজি প্রধান ও অ্যাসকোর গ্যাস্ট্রোইনটেস্টাইনাল ক্যানসার বিশেষজ্ঞ ড. রচনা শ্রফ এই গবেষণার ফলাফল দেখে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, 'এই ফলাফল চিকিৎসা ক্ষেত্রের পুরো দৃশ্যপট বদলে দেওয়ার মতো। আমরা ক্যানসার আক্রান্তদের এমন এক বেঁচে থাকার হার দেখছি, যা এর আগে কখনো দেখা যায়নি।'
বোস্টনের বিশ্বখ্যাত ডানা-ফার্বার ক্যানসার ইনস্টিটিউটের গবেষকদের পরিচালিত এই ট্রায়ালের ফলাফল যখন ড. রচনা শ্রফ প্রথম পড়েন, তখন তিনি আবেগ ধরে রাখতে পারেননি। নিজের অনুভূতি প্রকাশ করে তিনি বলেন, 'দীর্ঘ ১৬ বছর ধরে প্যানক্রিয়াস ক্যানসারের চিকিৎসা করতে গিয়ে আমি নিজেই ক্লিনিকের ভেতর কেঁদে ফেলেছিলাম। আমাদের রোগীদের জন্য এটি অত্যন্ত আশাজাগানিয়া একটি গবেষণা। আমি ট্রায়ালের বিজ্ঞানীদের আন্তরিক অভিনন্দন জানাই।'
একইভাবে এই গবেষণার সঙ্গে যুক্ত না থাকা অ্যাসকোর প্রধান মেডিকেল অফিসার ও নির্বাহী ভাইস প্রেসিডেন্ট ড. জুলি গ্র্যালো একে একটি 'গেমচেঞ্জার' হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, "আমি অনেককে এই গবেষণাকে 'হোম রান' (ক্রিকেট বা বেসবলের পরিভাষায় বড় সাফল্য) বলতে শুনেছি। তবে আমি একে 'গ্র্যান্ড স্ল্যাম' বা তার চেয়েও বড় দুর্দান্ত এক সাফল্য বলব।"
ওষুধটি যেভাবে কাজ করে
বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, ‘ক্রাস’ (Kras) নামের একটি বিশেষ প্রোটিনকে লক্ষ্য করে কাজ করে ডারাক্সনরাসিব। এই ক্রাস প্রোটিনটিই মূলত অগ্ন্যাশয়ের প্রায় সব ধরনের ক্যানসার কোষকে বৃদ্ধি পেতে সাহায্য করে। নতুন এই ওষুধটি মূলত মলিকিউল বা অণুগুলোকে এক সঙ্গে আঠার মতো আটকে ফেলে, যা ক্রাস প্রোটিনকে আঁকড়ে ধরে তার কার্যকারিতা সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেয়।

মূলত 'রাস' (Ras) জিন পরিবারের একটি অংশ হলো এই 'ক্রাস'। এই জিনগুলো ক্যানসার কোষগুলোকে অনবরত বৃদ্ধি পাওয়ার এবং বিভাজিত হওয়ার সংকেত পাঠাতে থাকে। এর ফলেই ক্যানসার কোষগুলো দ্রুত বেড়ে ছড়িয়ে পড়ে।
সবচেয়ে সাধারণ ঘরানার অগ্ন্যাশয়ের ক্যানসার, যা 'প্যানক্রিয়াটিক ডাক্টাল অ্যাডেনোকার্সিনোমা' (mPDAC) নামে পরিচিত, এতে আক্রান্ত ৯০ শতাংশেরও বেশি রোগীর ক্রাস জিনে মিউটেশন ঘটে। এটিকে 'রাস জি১২ ভ্যারিয়েন্ট' বলা হয় এবং এর ফলে ক্রাস প্রোটিন অতিরিক্ত সক্রিয় হয়ে ওঠে।
ডারাক্সনরাসিব হলো এক নতুন ধরনের রাস ইনহিবিটর, যাকে বলা হচ্ছে, 'রাস(অন) মাল্টি-সিলেক্টিভ ইনহিবিটর'। শরীরের ক্রাস জিনের কোনো ভ্যারিয়েন্ট থাকুক বা না থাকুক, কিংবা সেটি যে ধরনের ভ্যারিয়েন্টই হোক না কেন— এটি সরাসরি ক্রাস প্রোটিনকে নিষ্ক্রিয় করে ক্যানসারের বৃদ্ধি পুরোপুরি থামিয়ে দিতে পারে।
ড. রচনা শ্রফ বলেন, 'অধিকাংশ মারাত্মক টিউমারের ক্ষেত্রে ক্রাসকে নিশানা করার ধারণাটি সবসময়ই ছিল একটি অধরা স্বপ্নের (হলি গ্রেইল) মতো। বিশেষ করে অগ্ন্যাশয়ের ক্যানসারের ক্ষেত্রে এটি চরম সত্য, কারণ ক্রাস প্রায় সর্বত্র বিদ্যমান এবং এটিই এই ক্যানসার বৃদ্ধির প্রাথমিক চালিকাশক্তি। রাস বিপ্লব এখন আমাদের দোরগোড়ায় এবং এই গবেষণাটি প্রমাণ করেছে যে অগ্ন্যাশয়ের ক্যানসারে ক্রাসকে নিশানা করে চিকিৎসা করা কেবল সম্ভবই নয়, বরং অত্যন্ত কার্যকর।'
যুক্তরাজ্যভিত্তিক আন্তর্জাতিক দাবত্য সংস্থা প্যানক্রিয়াটিক ক্যানসার অ্যাকশনের প্রধান নির্বাহী পলা হ্যানফোর্ড এই আবিষ্কারকে তার দেখা ক্যানসার চিকিৎসার ইতিহাসে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি বলে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, 'দীর্ঘদিন ধরে প্যানক্রিয়াস ক্যানসারে আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসার সুযোগ ছিল খুবই সীমিত এবং তাদের বেঁচে থাকার হারও ছিল অত্যন্ত হতাশাজনক। শেষ স্টেজের প্যানক্রিয়াস ক্যানসারে বেঁচে থাকার মেয়াদ প্রায় দ্বিগুণ করার মতো একটি ট্রায়াল দেখা সত্যিই অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক। এটি এই রোগে আক্রান্ত রোগী এবং তাদের পরিবারের মনে সত্যিকারের আশা জোগাবে।'
আরেক দাতব্য সংস্থা প্যানক্রিয়াটিক ক্যানসার ইউকের সেবামূলক কার্যক্রম ও গবেষণা পরিচালক অ্যানা জুয়েলও এই ফলাফলকে 'আশাব্যঞ্জক' বলে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, 'ক্রাস মিউটেশনের কার্যকারিতা রোধ করার মাধ্যমে ডারাক্সনরাসিব নামের এই ওষুধটি অগ্ন্যাশয়ের ক্যানসারে আক্রান্ত রোগীদের জীবনকাল বাড়াতে সক্ষম হয়েছে। রোগীরা তাদের প্রিয়জনদের সঙ্গে আরও কয়েক মাস মূল্যবান সময় কাটানোর সুযোগ পাচ্ছেন।'
তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, এখন প্রধান চ্যালেঞ্জ হলো— এই ধরনের ওষুধগুলো দ্রুত সাধারণ রোগীদের হাতের নাগালে পৌঁছানো নিশ্চিত করা। কারণ অত্যন্ত দুঃখজনক হলেও সত্য যে, অগ্ন্যাশয়ের ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়া অর্ধেক মানুষই রোগ ধরা পড়ার মাত্র তিন মাসের মধ্যে মারা যান। ফলে প্রিয়জনদের সঙ্গে কাটানোর মতো একটু বাড়তি সময়ও সত্যিই অমূল্য। তাই সবচেয়ে সম্ভাবনাময় এই নতুন চিকিৎসাটি যেন সবার জন্য সহজলভ্য হয়, তার জন্য আমাদের সম্ভাব্য সবকিছু করতে হবে।
শিকাগোতে অনুষ্ঠিত এই সম্মেলনে ক্যানসার বিশেষজ্ঞরা তাদের মতামত জানিয়েছেন। তারা বলেছেন, যেহেতু রাস জিন অন্যান্য ক্যান্সারের বিস্তারের জন্যও দায়ী, তাই এই সাফল্যের পর অন্যান্য ক্যানসারের ক্ষেত্রেও বড় ধরনের অগ্রগতির আশা তৈরি হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা জানান, ফুসফুস এবং মলাশয়ের (কোলন) ক্যানসারের চিকিৎসার জন্যও বর্তমানে এই ধরনের ওষুধের পরীক্ষামূলক প্রয়োগ বা ট্রায়াল চলছে।
রাজনীতি/আইআর

সংস্থাটি জানিয়েছে, পশ্চিমা লঘুচাপের বর্ধিতাংশটি পশ্চিমবঙ্গ থেকে উত্তর বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিরাজমান রয়েছে, এ অবস্থায় সোমবার চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের ২৬ থেকে ৫০ শতাংশ এলাকায় এবং ময়মনসিংহ, রাজশাহী, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের ২৫ শতাংশের কম এলাকায় অস্থায়ীভাবে দমকা বা ঝোড়ো হাওয়া ও বিদ্যুৎ চমকানোসহ হালকা থেকে
১৩ ঘণ্টা আগে
নৌযানের কারণে মানুষের কোনো ভোগান্তি মেনে নেওয়া হবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন নৌ পরিবহন প্রতিমন্ত্রী রাজিব আহসান। তিনি বলেছেন, আমরা নৌ শুমারির মাধ্যমে চিহ্নিত করছি নৌযানের সংখ্যা। নৌযানের ক্যাপাসিটির ওপর নির্ভর করে সেগুলোকে রেজিস্ট্রেশনের আওতায় নিয়ে আসা হবে। এই কার্যক্রম শেষ হলে অবৈধ নৌযান আর থাকবে না
১৩ ঘণ্টা আগে
নিপীড়ন ও সহিংসতার শিকার হয়ে মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসার এক দশক পর, বর্তমানে প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থী বাংলাদেশে বসবাস করছে। জীবিকার সুযোগ সীমিত থাকায়, তাদের অধিকাংশ পরিবারই মানবিক সহায়তার ওপর নির্ভরশীল।
১৪ ঘণ্টা আগে
রাজধানীর মগবাজারে অবস্থিত আদ্-দ্বীন হাসপাতালকে তিন লাখ টাকা জরিমানা করেছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন। রবিবার বিকেল থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে এ জরিমানা করা হয়।
১৫ ঘণ্টা আগে