
প্রতিবেদক, রাজনীতি ডটকম

সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদকে দেশে ফিরিয়ে আনতে সরকার ব্যর্থ হয়েছে বলে জাতীয় সংসদে ক্ষোভ জানিয়েছেন বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা। দুবাইয়ে গ্রেপ্তারের পরও বেনজীরের জামিনে মুক্তি এবং পরে তার সেন্ট লুসিয়ায় যাওয়ার খবর জানিয়ে তারা দ্রুত তাকে দেশে ফিরিয়ে বিচারের মুখোমুখি করার দাবি জানিয়েছেন।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) সংসদ অধিবেশনে কার্যপ্রণালি বিধির ১৪৭ ধারায় দেওয়া বক্তব্যে বেনজীরের বিষয়টি উত্থাপন করেন ঢাকা-১৮ আসনের জামায়াতের সংসদ সদস্য মীর আহমাদ বিন কাসেম। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ এ সময় অধিবেশনে সভাপতিত্ব করছিলেন।
মীর কাসেম বলেন, মানবতাবিরোধী অপরাধ, গুম, অর্থপাচার ও দুর্নীতির মামলায় অভিযুক্ত সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ ইন্টারপোলের রেড নোটিশে দুবাইয়ে গ্রেপ্তার হন। গত ১৪ জুন সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, শিগগিরই তাকে দেশে ফিরিয়ে আনা হবে। তা সত্ত্বেও বেনজীরের জামিনে মুক্তি লাভ ও ক্যারিবীয় দ্বীপরাষ্ট্র সেন্ট লুসিয়ায় গমনের ঘটনা প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়ার পরিচালনার গুরুতর ব্যর্থতার পরিচয়।
এ বক্তব্যের পর মীর কাসেম স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে সুনির্দিষ্ট চারটি দাবি উত্থাপন করেন—
একটি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত প্রতিবেদনের তথ্য তুলে ধরে জামায়াতের এই সংসদ সদস্য বলেন, গত ২৭ জুলাই দুবাইয়ের আদালতে বেনজীরকে জামিন দেওয়া হয়। ৩০ জুলাই তিনি কারামুক্ত হন। ১৭ আগস্ট দুবাই ত্যাগ করে সেন্ট লুসিয়ায় যান। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে তার বিরুদ্ধে ১০টি তদন্ত মামলা রয়েছে, যার মধ্যে তিনটি মামলায় রয়েছে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা।
এ বিষয়ে জামায়াতের সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য রোকেয়া বেগম বলেন, যারা বিগত সরকারের ক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন, বেনজীর আহমেদ তাদের অন্যতম। মানবতাবিরোধী অপরাধ থেকে শুরু করে গুম, অর্থপাচারসহ নানা অভিযোগে তার বিরুদ্ধে মামলা ও গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে। কিন্তু গ্রেপ্তার হওয়া আর বিচার নিশ্চিত হওয়া এক বিষয় নয়। একজন অভিযুক্তকে আইনের আওতায় এনে মামলা পরিচালনা ও আদালতের মাধ্যমে বিচার নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব।
রোকেয়া বেগম বলেন, বেনজীরকে দেশে ফিরিয়ে এনে সংশ্লিষ্ট আদালতে বিচার প্রক্রিয়ার সম্মুখীন করার জন্য সরকারের বর্তমান অবস্থান কী পর্যায়ে আছে, এ ক্ষেত্রে আইনি বা কূটনৈতিক বাধা কতটা নিরসন করা গেছে, সেন্ট লুসিয়ায় তার বর্তমান অবস্থান কী, হেফাজতে আছেন নাকি আদালতের নির্দেশে উনি মুক্ত আছেন— তা জাতি জানতে চায়।
ভবিষ্যতে কোনো অভিযুক্ত ব্যক্তি বিদেশে অবস্থান করলে তার বিরুদ্ধে মামলা, সম্পদ শনাক্তকরণ, প্রত্যাবর্তন, প্রত্যর্পণ ও বিচার— এই চারটি ধাপের অগ্রগতি সংসদে নিয়মিত জানানোর কোনো ব্যবস্থা সরকার পরিকল্পনায় আছে কি না, সেটিও সংসদে জানতে চান সংরক্ষিত আসনে জামায়াতের এই সংসদ সদস্য।
রোকেয়া বেগম বলেন, আমি সরকারের কাছে প্রতিশোধ চাই না, আমি চাই বিচার। আমি চাই না কোনো অভিযুক্ত ব্যক্তি রাজনৈতিক পরিচয় অথবা বিদেশে অবস্থানের কারণে আইনের ঊর্ধ্বে থাকুক। এই সংসদের মাধ্যমে আমি সংসদের কাছে সেই নিশ্চয়তা চাই।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর স্পষ্ট প্রতিশ্রুতি সত্ত্বেও বেনজীরের জামিন নিয়ে সেন্ট লুসিয়ায় চলে যাওয়াকে প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়ার এক চরম ব্যর্থতা হিসেবে অভিহিত করেন জামায়াতের সংরক্ষিত আসনের আরেক সংসদ সদস্য মারজিয়া বেগম। নিজেকে রাষ্ট্রীয় বাহিনীর ক্ষমতার অপব্যবহার ও বিচারহীনতার চরম ভুক্তভোগী বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
মারজিয়া বলেন, আমার স্বামী ডাক্তার ফয়েজ আহমেদকে কোনো সাধারণ সন্ত্রাসী হত্যা করেনি, রাষ্ট্রীয় পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীকে বেআইনি হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে ঠান্ডা মাথায় তাকে হত্যা করা হয়েছে। রাষ্ট্রীয় বাহিনীর প্রভাবে ও প্রভাব খাটিয়ে সাক্ষ্য-প্রমাণ নষ্ট করা হয়েছে এবং বছরের পর বছর এই হত্যার বিচার প্রক্রিয়াকে সুকৌশলে আটকে রাখা হয়েছে।
সংরক্ষিত আসনের এই সংসদ সদস্য আরও বলেন, স্পষ্ট প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও বেনজীরের মতো শীর্ষ অপরাধীরা যখন অবলীলায় জামিন নিয়ে দেশ থেকে পালিয়ে যায়, তখন আমার মতো স্বজনহারাদের ক্ষত আরও রক্তাক্ত হয়। বেনজীর আহমেদের মতো ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালেও গুম ও হত্যার অভিযোগে তদন্ত হয়েছে। অথচ এ ধরনের ভয়াবহ অপরাধীরা কীভাবে আইনের ফাঁক গলে বেরিয়ে যায়, তা এক বিরাট প্রশ্নের তৈরি করেছে।
মারজিয়া জানতে চান— বেনজীর আহমেদ সরকারি চাকরিতে থেকে কীভাবে জালিয়াতির মাধ্যমে ছয়টি দেশের পাসপোর্ট পেলেন এবং প্রত্যর্পণে কাদের আইনি বা পদ্ধতিগত ত্রুটি বা গাফিলতি ছিল, তা দ্রুত চিহ্নিত করা হোক। বেনজীর আহমেদকে অবিলম্বে দেশে ফিরিয়ে এনে তার দেশ-বিদেশের সব অবৈধ সম্পদ বাজেয়াপ্ত করার দাবিও জানান তিনি। পাশাপাশি ডা. ফয়েজ আহমেদকে হত্যাসহ সব গুম ও হত্যার দ্রুত বিচার নিশ্চিতের দাবিও জানান এই সংসদ সদস্য।
একই ইস্যুতে সরকারদলীয় দুজন সংসদ সদস্যও বক্তব্য রাখেন। তারা দুজনেই জামায়াতের এমপি মীর কাসেমকে এ বিষয়টি সংসদে উত্থাপনের জন্য ধন্যবাদ জানান। তাদের মধ্যে ফরিদপুর-৪ আসনের বিএনপির সংসদ সদস্য মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, বেনজীর আহমেদ একজন কুখ্যাত সন্ত্রাসী ও ফ্যাসিস্টের সহযোগী। শেখ হাসিনার অপরাধ যদি হিমালয় সমান হয়, অবশ্যই বেনজীরের অপরাধ পর্বতসম হবে।
শহিদুল ইসলাম বলেন, বেনজীরকে বাংলাদেশ সরকারের উদ্যোগে ও তৎপরতার মাধ্যমে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। গ্রেপ্তারের পর সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রচলিত আইনেই তার বিচার চলছে। এখানে বাংলাদেশ সরকারের শুধুমাত্র প্রচেষ্টা ও তৎপরতাই থাকতে পারে। সেখানে তাদের নিজস্ব আইন আছে, সেভাবে সে মুক্তি পেলে অবশ্যই এ বিষয়ে আমরা উদ্বেগ প্রকাশ করি।
বেনজীর সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে কীভাবে সেন্ট লুসিয়া গেছেন, সে বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ব্যাখ্যা দেবেন বলে বলে জানান ফরিদপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য শহিদুল ইসলাম।
পটুয়াখালী-৪ আসনের বিএনপির সংসদ সদস্য এ বি এম মোশাররফ হোসেন বলেন, কুখ্যাত বেনজীর আহমেদ শুধু পুলিশের কর্মকর্তা ছিলেন না, উনি ছিলেন শেখ হাসিনার ১৫ বছরের ফ্যাসিস্ট শাসন দীর্ঘায়িত করার সহযোগী। আমাদের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী যখন গুম হয়েছিলেন তখন র্যাবের দায়িত্বে ছিলেন এই বেনজীর আহমেদ। প্রস্তাবটা এনেছেন যে মীর কাসেম, উনিও যখন গুম হয়েছিলেন তখন দায়িত্বে ছিলেন এই বেনজীর আহমেদ। অর্থাৎ বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক শক্তিগুলিকে নিশ্চিহ্ন করে দেওয়ার জন্য যে প্রক্রিয়া শেখ হাসিনা অনুসরণ করেছিলেন, তার মূল বাস্তবায়নকারী ছিলেন এই বেনজীর আহমেদ।
বেনজীর আহমেদের আরও দুর্নীতি-অনিয়মের কথাও তুলে ধরেন এ বি এম মোশাররফ। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়ে এই সংসদ সদস্য বলেন, দুবাইয়ে এই বেনজীর আহমেদ যখন গ্রেপ্তার হয়েছিলেন, উনি আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তাকে বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনার জন্য রেড অ্যালার্ট জারি করেছিলেন, দুদকের মাধ্যমে উনি ব্যবস্থা নিয়েছিলেন।
পটুয়াখালী-৪ আসনের এই সংসদ সদস্য আরও বলেন, এই বেনজীরদের মতো যারা এখনো বাংলাদেশে ঘুরে বেড়ায়, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নিয়ে বিচার নিশ্চিত করতে হবে। বেনজীর কীভাবে ছয়টি পাসপোর্ট পায়— সেটা তদন্ত করে যারা এর সঙ্গে জড়িত, তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নিতে হবে।

সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদকে দেশে ফিরিয়ে আনতে সরকার ব্যর্থ হয়েছে বলে জাতীয় সংসদে ক্ষোভ জানিয়েছেন বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা। দুবাইয়ে গ্রেপ্তারের পরও বেনজীরের জামিনে মুক্তি এবং পরে তার সেন্ট লুসিয়ায় যাওয়ার খবর জানিয়ে তারা দ্রুত তাকে দেশে ফিরিয়ে বিচারের মুখোমুখি করার দাবি জানিয়েছেন।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) সংসদ অধিবেশনে কার্যপ্রণালি বিধির ১৪৭ ধারায় দেওয়া বক্তব্যে বেনজীরের বিষয়টি উত্থাপন করেন ঢাকা-১৮ আসনের জামায়াতের সংসদ সদস্য মীর আহমাদ বিন কাসেম। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ এ সময় অধিবেশনে সভাপতিত্ব করছিলেন।
মীর কাসেম বলেন, মানবতাবিরোধী অপরাধ, গুম, অর্থপাচার ও দুর্নীতির মামলায় অভিযুক্ত সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ ইন্টারপোলের রেড নোটিশে দুবাইয়ে গ্রেপ্তার হন। গত ১৪ জুন সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, শিগগিরই তাকে দেশে ফিরিয়ে আনা হবে। তা সত্ত্বেও বেনজীরের জামিনে মুক্তি লাভ ও ক্যারিবীয় দ্বীপরাষ্ট্র সেন্ট লুসিয়ায় গমনের ঘটনা প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়ার পরিচালনার গুরুতর ব্যর্থতার পরিচয়।
এ বক্তব্যের পর মীর কাসেম স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে সুনির্দিষ্ট চারটি দাবি উত্থাপন করেন—
একটি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত প্রতিবেদনের তথ্য তুলে ধরে জামায়াতের এই সংসদ সদস্য বলেন, গত ২৭ জুলাই দুবাইয়ের আদালতে বেনজীরকে জামিন দেওয়া হয়। ৩০ জুলাই তিনি কারামুক্ত হন। ১৭ আগস্ট দুবাই ত্যাগ করে সেন্ট লুসিয়ায় যান। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে তার বিরুদ্ধে ১০টি তদন্ত মামলা রয়েছে, যার মধ্যে তিনটি মামলায় রয়েছে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা।
এ বিষয়ে জামায়াতের সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য রোকেয়া বেগম বলেন, যারা বিগত সরকারের ক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন, বেনজীর আহমেদ তাদের অন্যতম। মানবতাবিরোধী অপরাধ থেকে শুরু করে গুম, অর্থপাচারসহ নানা অভিযোগে তার বিরুদ্ধে মামলা ও গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে। কিন্তু গ্রেপ্তার হওয়া আর বিচার নিশ্চিত হওয়া এক বিষয় নয়। একজন অভিযুক্তকে আইনের আওতায় এনে মামলা পরিচালনা ও আদালতের মাধ্যমে বিচার নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব।
রোকেয়া বেগম বলেন, বেনজীরকে দেশে ফিরিয়ে এনে সংশ্লিষ্ট আদালতে বিচার প্রক্রিয়ার সম্মুখীন করার জন্য সরকারের বর্তমান অবস্থান কী পর্যায়ে আছে, এ ক্ষেত্রে আইনি বা কূটনৈতিক বাধা কতটা নিরসন করা গেছে, সেন্ট লুসিয়ায় তার বর্তমান অবস্থান কী, হেফাজতে আছেন নাকি আদালতের নির্দেশে উনি মুক্ত আছেন— তা জাতি জানতে চায়।
ভবিষ্যতে কোনো অভিযুক্ত ব্যক্তি বিদেশে অবস্থান করলে তার বিরুদ্ধে মামলা, সম্পদ শনাক্তকরণ, প্রত্যাবর্তন, প্রত্যর্পণ ও বিচার— এই চারটি ধাপের অগ্রগতি সংসদে নিয়মিত জানানোর কোনো ব্যবস্থা সরকার পরিকল্পনায় আছে কি না, সেটিও সংসদে জানতে চান সংরক্ষিত আসনে জামায়াতের এই সংসদ সদস্য।
রোকেয়া বেগম বলেন, আমি সরকারের কাছে প্রতিশোধ চাই না, আমি চাই বিচার। আমি চাই না কোনো অভিযুক্ত ব্যক্তি রাজনৈতিক পরিচয় অথবা বিদেশে অবস্থানের কারণে আইনের ঊর্ধ্বে থাকুক। এই সংসদের মাধ্যমে আমি সংসদের কাছে সেই নিশ্চয়তা চাই।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর স্পষ্ট প্রতিশ্রুতি সত্ত্বেও বেনজীরের জামিন নিয়ে সেন্ট লুসিয়ায় চলে যাওয়াকে প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়ার এক চরম ব্যর্থতা হিসেবে অভিহিত করেন জামায়াতের সংরক্ষিত আসনের আরেক সংসদ সদস্য মারজিয়া বেগম। নিজেকে রাষ্ট্রীয় বাহিনীর ক্ষমতার অপব্যবহার ও বিচারহীনতার চরম ভুক্তভোগী বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
মারজিয়া বলেন, আমার স্বামী ডাক্তার ফয়েজ আহমেদকে কোনো সাধারণ সন্ত্রাসী হত্যা করেনি, রাষ্ট্রীয় পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীকে বেআইনি হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে ঠান্ডা মাথায় তাকে হত্যা করা হয়েছে। রাষ্ট্রীয় বাহিনীর প্রভাবে ও প্রভাব খাটিয়ে সাক্ষ্য-প্রমাণ নষ্ট করা হয়েছে এবং বছরের পর বছর এই হত্যার বিচার প্রক্রিয়াকে সুকৌশলে আটকে রাখা হয়েছে।
সংরক্ষিত আসনের এই সংসদ সদস্য আরও বলেন, স্পষ্ট প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও বেনজীরের মতো শীর্ষ অপরাধীরা যখন অবলীলায় জামিন নিয়ে দেশ থেকে পালিয়ে যায়, তখন আমার মতো স্বজনহারাদের ক্ষত আরও রক্তাক্ত হয়। বেনজীর আহমেদের মতো ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালেও গুম ও হত্যার অভিযোগে তদন্ত হয়েছে। অথচ এ ধরনের ভয়াবহ অপরাধীরা কীভাবে আইনের ফাঁক গলে বেরিয়ে যায়, তা এক বিরাট প্রশ্নের তৈরি করেছে।
মারজিয়া জানতে চান— বেনজীর আহমেদ সরকারি চাকরিতে থেকে কীভাবে জালিয়াতির মাধ্যমে ছয়টি দেশের পাসপোর্ট পেলেন এবং প্রত্যর্পণে কাদের আইনি বা পদ্ধতিগত ত্রুটি বা গাফিলতি ছিল, তা দ্রুত চিহ্নিত করা হোক। বেনজীর আহমেদকে অবিলম্বে দেশে ফিরিয়ে এনে তার দেশ-বিদেশের সব অবৈধ সম্পদ বাজেয়াপ্ত করার দাবিও জানান তিনি। পাশাপাশি ডা. ফয়েজ আহমেদকে হত্যাসহ সব গুম ও হত্যার দ্রুত বিচার নিশ্চিতের দাবিও জানান এই সংসদ সদস্য।
একই ইস্যুতে সরকারদলীয় দুজন সংসদ সদস্যও বক্তব্য রাখেন। তারা দুজনেই জামায়াতের এমপি মীর কাসেমকে এ বিষয়টি সংসদে উত্থাপনের জন্য ধন্যবাদ জানান। তাদের মধ্যে ফরিদপুর-৪ আসনের বিএনপির সংসদ সদস্য মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, বেনজীর আহমেদ একজন কুখ্যাত সন্ত্রাসী ও ফ্যাসিস্টের সহযোগী। শেখ হাসিনার অপরাধ যদি হিমালয় সমান হয়, অবশ্যই বেনজীরের অপরাধ পর্বতসম হবে।
শহিদুল ইসলাম বলেন, বেনজীরকে বাংলাদেশ সরকারের উদ্যোগে ও তৎপরতার মাধ্যমে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। গ্রেপ্তারের পর সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রচলিত আইনেই তার বিচার চলছে। এখানে বাংলাদেশ সরকারের শুধুমাত্র প্রচেষ্টা ও তৎপরতাই থাকতে পারে। সেখানে তাদের নিজস্ব আইন আছে, সেভাবে সে মুক্তি পেলে অবশ্যই এ বিষয়ে আমরা উদ্বেগ প্রকাশ করি।
বেনজীর সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে কীভাবে সেন্ট লুসিয়া গেছেন, সে বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ব্যাখ্যা দেবেন বলে বলে জানান ফরিদপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য শহিদুল ইসলাম।
পটুয়াখালী-৪ আসনের বিএনপির সংসদ সদস্য এ বি এম মোশাররফ হোসেন বলেন, কুখ্যাত বেনজীর আহমেদ শুধু পুলিশের কর্মকর্তা ছিলেন না, উনি ছিলেন শেখ হাসিনার ১৫ বছরের ফ্যাসিস্ট শাসন দীর্ঘায়িত করার সহযোগী। আমাদের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী যখন গুম হয়েছিলেন তখন র্যাবের দায়িত্বে ছিলেন এই বেনজীর আহমেদ। প্রস্তাবটা এনেছেন যে মীর কাসেম, উনিও যখন গুম হয়েছিলেন তখন দায়িত্বে ছিলেন এই বেনজীর আহমেদ। অর্থাৎ বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক শক্তিগুলিকে নিশ্চিহ্ন করে দেওয়ার জন্য যে প্রক্রিয়া শেখ হাসিনা অনুসরণ করেছিলেন, তার মূল বাস্তবায়নকারী ছিলেন এই বেনজীর আহমেদ।
বেনজীর আহমেদের আরও দুর্নীতি-অনিয়মের কথাও তুলে ধরেন এ বি এম মোশাররফ। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়ে এই সংসদ সদস্য বলেন, দুবাইয়ে এই বেনজীর আহমেদ যখন গ্রেপ্তার হয়েছিলেন, উনি আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তাকে বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনার জন্য রেড অ্যালার্ট জারি করেছিলেন, দুদকের মাধ্যমে উনি ব্যবস্থা নিয়েছিলেন।
পটুয়াখালী-৪ আসনের এই সংসদ সদস্য আরও বলেন, এই বেনজীরদের মতো যারা এখনো বাংলাদেশে ঘুরে বেড়ায়, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নিয়ে বিচার নিশ্চিত করতে হবে। বেনজীর কীভাবে ছয়টি পাসপোর্ট পায়— সেটা তদন্ত করে যারা এর সঙ্গে জড়িত, তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নিতে হবে।

তথ্য গোপন ও আদালতের সঙ্গে প্রতারণার অভিযোগে এক আইনজীবী ও মামলার আবেদনকারীকে পাঁচ লাখ টাকা করে জরিমানা করাকে কেন্দ্র করে প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী এবং সুপ্রিম কোর্ট বার সমিতির সভাপতি ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকনের মধ্যে বাগবিতণ্ডা প্রসঙ্গে মুখ খুলেছেন অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার ম
৪ ঘণ্টা আগে
ইতালিতে অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধনের ওপর হামলা ও হেনস্তার ঘটনায় বাংলাদেশ সরকার প্রয়োজনীয় কনস্যুলার সহায়তা দিচ্ছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-১ হুমায়ুন কবির। তিনি বলেন, বাঁধন আনুষ্ঠানিক অভিযোগ করার পর বিষয়টি ইতালির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে জোরালোভাবে তুলে ধরা হবে।
৫ ঘণ্টা আগে
হাসান শিপুল বলেন, ডেঙ্গু পরিস্থিতির জন্য আগামী তিন মাসকে ‘গুরুত্বপূর্ণ’ বলে বর্ণনা করেছেন সরকারপ্রধান। তিনি বলেছেন, ‘এ সময়ে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। বাসাবাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সরকারি-বেসরকারি স্থাপনা ও আশপাশের এলাকা নিয়মিত পরিষ্কার রাখার বিষয়ে মানুষক
৬ ঘণ্টা আগে
তথ্য গোপন ও প্রতারণার অভিযোগে এক আইনজীবীকে পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা করার ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুনানির সময় প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী ও সুপ্রিম কোর্ট বার সভাপতি ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকনের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডার ঘটনা ঘটেছে। একপর্যায়ে প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের বিচারপতিরা এজ
৬ ঘণ্টা আগে