সব ধরনের বৈষম্যের অবসান ঘটুক : শায়খ আহমাদুল্লাহ

ডেস্ক, রাজনীতি ডটকম

দুঃখের বিষয় হলো, কিছু বৈষম্য নিয়ে সমাজে আলাপ-আলোচনা থাকলেও একটি বৈষম্য নিয়ে কেউ কথা বলে না। সেটি হলো, দাড়ি-টুপি-হিজাব এবং এর ধারক-বাহকদের প্রতি বৈষম্য। এদেশের মাদরাসা শিক্ষার্থী ও আলেমগণের সাথে যুগ যুগ ধরে নানা রকম বৈষম্যমূলক আচরণ চলে আসছে।

আমাদের নবীজী সা. যে কয়টি গুরুদায়িত্ব নিয়ে পৃথিবীতে এসেছিলেন, তার মধ্যে অন্যতম ছিল বৈষম্যের বিরুদ্ধে লড়াই।

বিদায় হজের ভাষণে তিনি বলেছিলেন, আরবের ওপর অনারবের এবং অনারবের ওপর আরবের কোনো শ্রেষ্ঠত্ব নেই। শ্রেষ্ঠত্ব ও সম্মান নির্ধারিত হবে ব্যক্তির তাকওয়া ও আল্লাহভীরুতা-ভিত্তিক সততার মাধ্যমে।অথচ নবীজীর এই শিক্ষার প্রচারক ও ধারক-বাহকদের সাথেই বৈষম্য করা হয় সব থেকে বেশি।

>>আমাদের সমাজে বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষদের জাতীয় পুরস্কার দেওয়ার রেওয়াজ থাকলেও আলেম সমাজ ও ইমাম খতীবদের জন্য সে রকম কোনো ব্যবস্থা নেই।

>> অন্যদের ছোটখাটো অবদানও অনেক ফলাও করে প্রচার হয়। অথচ আলেম-সমাজ ও ধার্মিকদের বড় বড় অবদানগুলোকেও অবজ্ঞার চোখে দেখা হয়। শুধু মাদরাসা ব্যাকগ্রাউন্ডের হওয়ার কারণে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চাকরি বা পদোন্নতি বঞ্চিত হওয়া এখন নিয়মে পরিণত হয়েছে।

>> এদেশে কোনো গানের কনসার্ট হলে মিডিয়াগুলো ফলাও করে তার নিউজ প্রচার করে। অথচ কনসার্টের চেয়ে কয়েকগুণ বেশি লোকের উপস্থিতির মাহফিলগুলো মিডিয়ার মনোযোগ থেকে বঞ্চিত থাকে।

>> বাজেটের সময় সব শ্রেণি-পেশার মানুষ, এমনকি রিকশাওয়ালাদের কাছ থেকেও বাজেট ভাবনা জানতে চাওয়া হয়। অথচ আজ পর্যন্ত কোনো আলেমের কাছ থেকে বাজেট বিষয়ে মতামত জানতে চাওয়া হয়েছে বলে আমার জানা নেই।

>> রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ কাজে এমন অনেক ব্যক্তিবর্গের অংশগ্রহণ দেখা যায়, যারা এদেশের এক শতাংশ মানুষেরও হয়তো প্রতিনিধিত্ব করে না। অথচ সেসব বিষয়ে প্রচুর জনসম্পৃক্ত ও বিজ্ঞ আলেমদের অংশগ্রহণ সাধারণত দেখা যায় না।

>> সকল যোগত্য থাকার পরও একজন টুপি পরিহিত বা শ্মশ্রুশোভিত যুবক যদি সংবাদ পাঠক হতে চায়, তাকে কি সংবাদ পাঠ করতে দেওয়া হবে? এটা কি ব্যক্তি স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ নয়? এটা কি ধার্মিকদের প্রতি বৈষম্য নয়?

>> এদেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে কর্মস্থল, সবখানে দাড়ি-টুপি ও হিজাব পরিহিতরা বৈষম্যের শিকার হন। ইসলাম ও ইসলামপন্থীদের সাথে বিমাতাসুলভ আচরণ এই সমাজের সাধারণ চিত্র। আমরা এই বৈষম্যের অবসান চাই।

নতুন যুগে প্রবেশ করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। নতুন দিনের এই সন্ধিক্ষণে আমরা চাই, অন্যান্যদের পাশাপাশি ইসলাম ও ইসলামপন্থীদের সাথে চলা সব ধরনের বৈষম্যের অবসান ঘটুক। নতুবা বিশাল জনগোষ্ঠী এভাবে জুলুম ও বৈষম্যের শিকার হতে থাকলে জমানো ক্ষোভ এক সময় বিস্ফোরণের রূপ ধারণ করবে।

শায়খ আহমাদুল্লাহ

ad
ad

খবরাখবর থেকে আরও পড়ুন

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি পুনর্বিবেচনার পরামর্শ সিপিডির

সিপিডি নতুন সরকারের প্রতি পরামর্শ দিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বিদায়ী সরকারের করা অন্তর্বর্তী বাণিজ্য চুক্তি থেকে সরে আসার। তারা মনে করছে, প্রফেসর ড. ইউনূসের প্রশাসন বিদায় বেলায় মার্কিন সরকারের সঙ্গে একটি বৈষম্যমূলক চুক্তি সম্পন্ন করেছে।

৩ ঘণ্টা আগে

জাতিসংঘ নির্বাচনে বাংলাদেশের পক্ষে প্রচার চালাবে ওআইসি: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

‘সরকার পরিবর্তনের পর আমাদের প্রার্থী পরিবর্তন করা হয়েছে। সাইপ্রাস সারাবছর প্রচার চালিয়েছে, অথচ আমাদের হাতে সময় আছে মাত্র তিন মাস বা তারও কম। এটাই আমাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।’

৪ ঘণ্টা আগে

ঈদে পরিবহন ভাড়া বাড়ালে কঠোর ব্যবস্থা: সড়কমন্ত্রী

শীতলক্ষ্যা নদীর দূষণের বিষয়ে তিনি বলেন, নদী দূষণের ব্যাপারে আমরা পরিবেশ মন্ত্রণালয়কে অবগত করব। আমাদের জায়গা থেকেও কিছু করণীয় আছে। সেগুলো চিহ্নিত করে আমাদের পক্ষ থেকে যে পদক্ষেপগুলো নেওয়া দরকার, সেগুলো দ্রুততম সময়ের মধ্যে নেব।

৫ ঘণ্টা আগে

ছুটির দিনেও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে ব্যস্ত তারেক রহমান

প্রশাসনিক এই ব্যস্ততা শেষে বিকেলে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীর বিশেষ ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে তার।

৫ ঘণ্টা আগে