গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিতে আচরণবিধি মানতে হবে: সিইসি

প্রতিবেদক, রাজনীতি ডটকম
আপডেট : ১৬ নভেম্বর ২০২৫, ১৩: ০৮
প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এমনাসির উদ্দিন

প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন বলেছেন, আসন্ন নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে আয়োজন করার জন্য রাজনৈতিক দলগুলোকে অবশ্যই আচরণবিধি মেনে চলতে হবে। তিনি বলেন, ‘আচরণবিধি মানলেই গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজন সম্ভব।’

রোববার (১৬ নভেম্বর) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন ভবনে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে দ্বিতীয় দিনের সংলাপের সূচনা বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

রাজনৈতিক দলগুলোকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, একটি সুষ্ঠু ও সুন্দর নির্বাচন অনেকটাই আচরণবিধি মানার ওপর নির্ভর করে। প্রার্থীরা যদি এই আচরণবিধি যথাযথভাবে অনুসরণ করেন, তবে নির্বাচনের পরিবেশ স্বাভাবিক, সুন্দর ও গ্রহণযোগ্য থাকবে। তাই এই বিষয়ে আপনাদের সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

সিইসি বলেন, এ বছর আমরা অনেকগুলো নতুন উদ্যোগ নিয়েছি, বিশেষ করে প্রবাসীদের ভোটের ব্যবস্থার বিষয়টি তার মধ্যে অন্যতম। এটা অত্যন্ত জটিল বিষয় বলে অতীতে কেউ এখানে হাত দেয়নি। 

তিনি আরও জানান, বিভিন্ন চ্যালেঞ্জের মুখে বিশ্বের অনেক দেশই সফলভাবে এটি করতে পারেনি। তবে আমরা বিভিন্ন রকমের পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে বাংলাদেশে প্রথমবারের মত শুরু করতে যাচ্ছি।

প্রধান নির্বাচন কমিশনার বলেন, পোস্টাল ভোটিংয়ের মত নানা জটিল ও নতুন বিষয় আগামী নির্বাচনে দেখা যাবে। এজন্যই এবারের নির্বাচনটি হবে বিশেষ।

তিনি বলেন, এর বাইরেও আমাদেরকে অনেকগুলো বড় কাজে হাত দিতে হয়েছে। বিশেষ করে ভোটার তালিকা হালনাগাদের বিশাল কাজ করতে হয়েছে। এসব কাজে ৭৭ হাজার কর্মী মাঠে ছিল। তাদের সবাইকে প্রশিক্ষণও দিতে হয়েছে।

এ এম এম নাসির উদ্দিন বলেন, ভোটগ্রহণের দিন প্রায় দশ লক্ষ লোক বিভিন্ন  দায়িত্বে নিয়োজিত থাকবেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য থেকে শুরু করে প্রিসাইডিং অফিসার-নিজেরাই অনেকসময় ভোট দিতে পারেন না। তাদের জন্য এবছর ভোট দেওয়ার ব্যবস্থা করেছি। এছাড়া সরকারি চাকরিজীবীরাও বিভিন্ন ইনস্টিটিউশনে পোস্টেড থাকেন। আবার যারা কারাগারে আছে, তাদেরও ভোটের ব্যবস্থা করা হয়েছে। 

বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় সুবিধা ছিল যে নির্বাচন সংস্কার কমিশন আমাদের পক্ষে অনেকগুলো উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। কারণ তারা আমাদের কাছে রিপোর্ট দেওয়ার আগে বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করেছেন। বিভিন্ন অংশীদার ও রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিসহ অনান্য পক্ষের সঙ্গে ৮০টিরও বেশি সংলাপ করেন তারা। সেইসঙ্গে ঐকমত্যের জন্য কমিশনেও অনেকগুলো বৈঠক হয়েছে। এতে আমাদের কাজ অনেকখানি এগিয়ে গেছে।

একটি সুন্দর, গ্রহণযোগ্য পরিবেশে নির্বাচন পরিচালনার জন্য রাজনৈতিক নেতাদের সহযোগিতা প্রয়োজন বলেও মনে করেন তিনি।

সিইসি বলেন, নির্বাচন কমিশনের একার পক্ষে এই কাজ শেষ করা সম্ভব নয়। ভোটারদের ওপর রাজনৈতিক ও জাতীয় নেতাদের সরাসরি প্রভাব রয়েছে। তাই তাদের সহযোগিতা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ভোটারদের কেন্দ্রমুখী করা এবং তাদের নিরাপত্তার জন্য করণীয় বিষয়েও আমাদের পরামর্শ দরকার।

বক্তব্যের শেষে যথাযথভাবে নির্বাচন আচরণবিধি পালন করতে সকলের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

সংলাপে উপস্থিত ছিলেন নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ (অবঃ), তাহমিদা আহমেদ ও মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার, সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদসহ আরও অনেকে।

সকালের বৈঠকে অংশ নেয়া দলগুলো হল: গণফোরাম, গণফ্রন্ট, ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশ, ইসলামী ঐক্যজোট, বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টি (বিএসপি) ও বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি।

উল্লেখ্য, আজ দুপুর ২টা থেকে আরও ৬টি রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদের সঙ্গে কমিশনের সংলাপ হবে। দলগুলো হল: বাংলাদেশ জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (বাংলাদেশ জাসদ), বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (বাংলাদেশ ন্যাপ), তৃণমূল বিএনপি, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ।

ad
ad

খবরাখবর থেকে আরও পড়ুন

‘ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি’ অধ্যাদেশ চূড়ান্ত

ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি অধ্যাদেশ চূড়ান্ত করা হয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ পর্যায়ের সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে চূড়ান্ত খসড়া রোববার (১৮ জানুয়ারি) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পাঠানো হয়েছে। দ্রুততম সময়ে অধ্যাদেশটি যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদন পাবে বলে জানা গেছে।

১৪ ঘণ্টা আগে

নির্বাচন কমিশনের সামনে বিজিবি মোতায়েন

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে অবস্থিত নির্বাচন কমিশন (ইসি) ভবনের সামনে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) মোতায়েন করা হয়েছে।

১৪ ঘণ্টা আগে

শাকসু নির্বাচন: প্রচারণার সময় বাড়ল ১২ ঘণ্টা

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (শাকসু) নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের দাবির প্রেক্ষিতে নির্বাচন কমিশন প্রচারণার সময় ১২ ঘণ্টা বাড়িয়েছে।

১৫ ঘণ্টা আগে

পুলিশ সংস্কার যেভাবে চেয়েছি, সেভাবে হয়নি: আসিফ নজরুল

যেভাবে পুলিশ সংস্কার করতে চেয়েছি, সেভাবে হয়নি মন্তব্য করে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল বলেছেন, কিছু মানুষের কাছে সংস্কার নিয়ে নেতিবাচক কথা উদ্দীপকের মতো। বাড়তি ভিউ পাওয়া যায়। কোনো সংস্কার হয় নাই, এটা ঠিক নয়। এক্সপেকটেশন যদি ১০ থাকে, অন্তত চার তো অর্জন করতে পেরেছি।

১৭ ঘণ্টা আগে