
প্রতিবেদক, রাজনীতি ডটকম

দীর্ঘদিন ধরে আত্মগোপনে থাকা বাংলাদেশের আলোচিত সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদকে সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। জাতীয় সংসদে দেওয়া বক্তব্যে তিনি জানান, ইন্টারপোলের সহযোগিতায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা ছয়টি মামলা রয়েছে বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে। জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও পাসপোর্ট জালিয়াতিসহ দুর্নীতির নানা অভিযোগ রয়েছে এসব মামলায়।
এর মধ্যে দুটি মামলায় ইন্টারপোলের রেড নোটিশের পরিপ্রেক্ষিতে গত শুক্রবার (১২ জুন) বেনজীর আহমেদকে গ্রেপ্তার করে দুবাই পুলিশ। রোববার (১৪ জুন) জাতীয় সংসদের কার্যপ্রণালির ৩০০ বিধিতে দেওয়া এক বিবৃতিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এ তথ্য জানান।
২০১৫ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২০ সালের ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত র্যাবের মহাপরিচালক ছিলেন বেনজীর আহমেদ। এরপর ওই বছরের ১৫ এপ্রিল থেকে ২০২২ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ছিলেন আইজিপি। র্যাবের মহাপরিচালক থাকা অবস্থায় মার্কিন নিষেধাজ্ঞায় পড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছিলেন তিনি।
এর আগে ২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বর-কাণ্ড এবং ডিসেম্বরে তৎকালীন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বাসভবনের সামনের সড়ক বালুর ট্রাক দিয়ে আটকে দেওয়ার মতো আলোচিত ঘটনাগুলোর সময় ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার ছিলেন বেনজীর। ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে পুলিশের এই কর্মকর্তাকে বক্তৃতা-বিবৃতিতে ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের প্রতি সমর্থন দিতে দেখা যেত নিয়মিতই।
আইজিপি পদ থেকে অবসর নেওয়ার বছর দুয়েক পর ২০২৪ সালে বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ তুলে একটি জাতীয় দৈনিক ধারাবাহিক প্রতিবেদন প্রকাশ করে। সারা দেশে তোলপাড় পড়ে যায় সেসব দুর্নীতি ও সম্পদের খবরে।
ওই সময় বেনজীর আহমদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তদন্তে নামে দুদক। একাধিক মামলা হয়। বেনজীরও দেশ ছেড়ে দুবাই চলে যান। আর দেশে ফিরে আসেননি তিনি।
রোববার সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদের আটকের তথ্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সংসদে ঘোষণা করার পর দুদক একটি সংবাদ সম্মেলন আয়োজন করে। সেখানে দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. আকতারুল ইসলাম জানান, তার বিরুদ্ধে দুদকের দায়ের করা ছয়টি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের একটি মামলায় তার বিরুদ্ধে বিচার চলছে। আর পাসপোর্ট জালিয়াতিসহ আরও পাঁচটি মামলার তদন্ত চলছে।
অবৈধ সম্পদ অর্জন, তথ্য গোপন ও অর্থ পাচারের অভিযোগে বেনজীরের বিরুদ্ধে ঢাকায় দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়-১ এ প্রথম মামলাটি করা হয় ২০২৪ সালের ১৫ ডিসেম্বর। মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ২৭ আগস্ট সম্পদ বিবরণী জমা দেন বেনজীর, যেখানে তিনি ছয় কোটি ৪৫ লাখ টাকার স্থাবর সম্পদ ও পাঁচ কোটি ৭৪ লাখ টাকার অস্থাবর সম্পদের তথ্য দেন।
তবে দুদকের তদন্তে দেখা যায়, তার প্রকৃত স্থাবর সম্পদের পরিমাণ সাত কোটি ৫২ লাখ টাকা, অর্থাৎ তিনি প্রায় এক কোটি ৮৫ লাখ টাকার স্থাবর সম্পদের তথ্য গোপন করেছেন। অন্যদিকে তার অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ পাওয়া যায় আট কোটি ১৫ লাখ টাকা, যা তার ঘোষণার তুলনায় দুই কোটি ৪০ লাখ টাকা বেশি। সব মিলিয়ে দুদক প্রায় ১১ কোটি ৪ লাখ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদের তথ্য পায়।
দীর্ঘ তদন্ত শেষে গত বছরের ৩০ নভেম্বর এ মামলায় আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) জমা দেয় দুদক। অভিযোগপত্র গ্রহণ করে গত ৩ মে বেনজীরের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন আদালত।
এদিকে বেনজীরসহ তার স্ত্রী জিসান মির্জা, বড় মেয়ে ফারহিন রিশতা বিনতে বেনজীর ও দ্বিতীয় মেয়ে তাহসিন রাইসা বিনতে বেনজীরের বিরুদ্ধে আরও চারটি পৃথক মামলা করে দুদক। চারটি মামলাতেই বেনজীর আহমেদকে আসামি করা হয়। দুদকের প্রাথমিক অনুসন্ধানে বেনজীর পরিবারের এসব সদস্যদের নামে সাড়ে ৪৩ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদের সন্ধান পাওয়া যায়।
দুদক জানায়, প্রাথমিকভাবে বেনজীরের নামে প্রায় ৯ কোটি ২৬ লাখ টাকার সম্পদ ও তার স্ত্রী জিসান মির্জার নামে ২ কোটি ১৩ লাখ টাকা এবং তাদের বড় মেয়ে ফারহিন রিশতা বিনতে বেনজীরের নামে ৮ কোটি ১১ লাখ টাকা ও ছোট মেয়ে তাহসিন রাইসা বিনতে বেনজীরের নামে প্রায় ৪ কোটি ৭৬ লাখ টাকা পাওয়া গেছে।
এ ছাড়া পাসপোর্ট জালিয়াতির আরও একটি মামলা রয়েছে বেনজীরের নামে। এ মামলার অভিযোগ বলা হয়েছে, সরকারি কর্মকর্তা হয়েও তিনি পরিচয় গোপন করে ‘নীল’ বা ‘লাল’ পাসপোর্ট গ্রহণ করেননি। বরং ক্ষমতার অপব্যবহার করে বেসরকারি চাকরিজীবী পরিচয়ে সাধারণ পাসপোর্ট তৈরি করেন। এ মামলাতেই তার নামে রেড নোটিশ জারির আবেদন করা হয় ইন্টারপোলে।
এ ছাড়া ২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশে গণহত্যার মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহিউদ্দিন খান আলমগীরসহ যে ৯ জনকে আসামি করা হয়েছে, বেনজীর তাদের একজন। এ মামলায় অন্যদের পাশাপাশি তার নামেও গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছিলেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।
দুদকের অব্যাহত অনুসন্ধানে ক্রমেই বেনজীর আহমেদ ও তার পরিবারের সম্পদের তথ্য একের পর এক বেরিয়ে আসতে থাকে। ক্রমেই প্রকাশিত হয়, নামে-বেনামে সারা দেশে এবং দেশের বাইরেও সম্পদের পাহাড় গড়েছেন সাবেক এই পুলিশ কর্মকর্তা।
দুদক সূত্র জানায়, এ পর্যন্ত বেনজীর আহমেদ ও তার পরিবারের সদস্যরা দেশের বিভিন্ন জেলায় অন্তত ৬১৩ দশমিক ৪১ বিঘা জমি কিনেছেন। এর মধ্যে গোপালগঞ্জ ও মাদারীপুরে ৬০৫ দশমিক ৭৭ বিঘা জমি রয়েছে, যেগুলোর মালিকানা একসময় হিন্দু সম্প্রদায়ের সদস্যদের ছিল। অভিযোগ রয়েছে, তাদের জোর করে জমি বিক্রি করতে বাধ্য করা হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে জমির টাকাও পরিশোধ করা হয়নি।
জানা যায়, বেনজীর ২০১৫ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২০ সালের এপ্রিল পর্যন্ত র্যাবের মহাপরিচালক এবং ২০২০ সালের এপ্রিল থেকে ২০২২ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পুলিশের মহাপরিদর্শক হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় নিজ জেলা গোপালগঞ্জে সাভানা ইকো রিসোর্ট অ্যান্ড ন্যাচারাল পার্কসহ অধিকাংশ সম্পদ গড়ে তোলেন।
জুলাই অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর আদালতের এক আদেশে বেনজীরের মালিকানাধীন সাভানা রিসোর্ট ও ন্যাচারাল পার্কের নিয়ন্ত্রণ নেয় গোপালগঞ্জের জেলা প্রশাসন। এ ছাড়া গুলশানের চারটি ফ্ল্যাট দেখাশোনার জন্য একজন প্রথম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেটকে প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেন আদালত।
২০২৪ সালের ২৩ মে বেনজীর আহমেদের সব স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি জব্দের নির্দেশ দেন ঢাকা মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতের বিচারক মোহাম্মদ আশ-শামস জগলুল হোসেন। আদেশে বেনজীরের নামে ৮৩টি দলিলে বিভিন্ন স্থাবর সম্পদ ‘ক্রোক’ ও ৩৩টি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ‘ফ্রিজে’র নির্দেশ দেওয়া হয়।
পরে ২৬ মে একই আদালত বেনজীর ও তার পরিবারের সদস্যদের নামে ১১৯টি দলিলে উল্লেখিত সম্পত্তি ক্রোকের নির্দেশ দেন। এসব দলিলে তাদের নামে থাকা ঢাকার গুলশানে চারটি ফ্ল্যাট ক্রোকের নির্দেশ দেওয়া হয়।
আদালতের আদেশে বেনজীর ও তার পরিবারের শতভাগ মালিকানাধীন আটটি কোম্পানি, আংশিক মালিকানাধীন ১৫টি কোম্পানি ক্রোকের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া মাদারীপুরের রাজৈর থানার ১১৪টি দলিলের কয়েক শ বিঘা জমি, সাভারের বেশ কয়েকটি জমি, বেনজীর পরিবারের সাভানা অ্যাগ্রো লিমিটেড, সাভানা ইকো রিসোর্ট, একটি শিশিরবিন্দু নামে আরেকটি কোম্পানির সব সম্পদ ক্রোকের নির্দেশ দেওয়া হয়।
এ ছাড়া সোনালী ব্যাংকের সঞ্চয়পত্রের ৩০ লাখ টাকা, শান্তা ও লঙ্কা-বাংলায় বেনজীর পরিবারের শেয়ার ও আরও ১৫টি কোম্পানিতে বেনজীর পরিবারের বিভিন্ন জনের নামে আংশিক শেয়ার অবরুদ্ধ করা হয়। এসব সম্পদ বেনজীর আহমেদ, তার স্ত্রী জিশান মির্জা, বড় মেয়ে ফারহিন রিস্তা বিনতে বেনজীর ও ছোট মেয়ে তাহসিন রাইসা বিনতে বেনজীরের নামে ছিল।
২০২৪ সালে শেখ হাসিনার শাসনের পতনের পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর মামলাগুলোর কার্যক্রম গতি পায়। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় ২০২৫ সালে বেনজীর আহমেদকে গ্রেপ্তারে ইন্টারপোলে রেড নোটিশ জারির আবেদন পাঠানো হয়।
দুদক কর্মকর্তা আকতারুল ইসলাম সংবাদ সম্মেলনে বলেন, আমাদের তদন্ত কর্মকর্তা আদালতের মাধ্যমে রেড নোটিশ জারির আবেদন করেছিলেন। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে আমরা ইন্টারপোলে আবেদন করেছিলাম। তার পরিপ্রেক্ষিতে ইন্টারপোল সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদকে গ্রেপ্তার করেছে।
সাবেক এই আইজিপির বিরুদ্ধে যে ছয়টি মামলা ছিল, তার মধ্যে জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পত্তি অর্জন এবং পাসপোর্ট জালিয়াতির দুটি মামলায় ইন্টারপোলের মাধ্যমে নোটিশ পাঠানো হয়েছিল। দুদক জানিয়েছে, সাবেক আইজিপি সরকারি কর্মকর্তা থাকা অবস্থায় বিভিন্ন সময়ে সরকারি পাসপোর্ট ব্যবহার না করে জালিয়াতি করে সাধারণ ব্যক্তি হিসেবে পাসপোর্ট গ্রহণ করেছেন বলে অভিযোগ ছিল এবং একাধিক পাসপোর্ট তিনি গ্রহণ করেছিলেন।
আকতারুল ইসলাম জানান, জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পত্তি অর্জনের যে পাঁচটি মামলা হয়েছিল সাবেক এই পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে, সেখানে তার তার জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদের পরিমাণ ছিল ৭৬ কোটি টাকারও ওপরে।
এসব মামলায় তাকে হাজির করতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে ইন্টারপোলে আবেদন করা হয়। তার পরিপ্রেক্ষিতে রেড নোটিশ জারি করতে ইন্টারপোলের কাছে আবেদন করে বাংলাদেশ পুলিশের ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরো বা এনসিবি।
রোববার জাতীয় সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের মাধ্যমে রেড নোটিশ জারি করা হয়েছিল। ওই রেড নোটিশের মাধ্যমে ইন্টারপোল সংযুক্ত আরব আমিরাতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে গ্রেপ্তারের অনুরোধ জানায়। গত ১২ জুন (শুক্রবা) বাংলাদেশ পুলিশ দুবাই থেকে মেইল পেয়ে তার গ্রেপ্তারের বিষয়টি সম্পর্কে অবগত হয় বাংলাদেশ।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি দণ্ডবিধির ৪২০, ৪৬৭, ৪৬৮-সহ অন্যান্য ধারা এবং বাংলাদেশ পাসপোর্ট অর্ডার ১৯৭৩-এর ১১ ধারায় মামলা বিচারাধীন। বর্তমানে এনসিবি ঢাকা রেড নোটিশ প্রকাশ, আন্তর্জাতিক সমন্বয় ও গ্রেপ্তার-পরবর্তী ফলোআপ কার্যক্রম সম্পন্ন করছে।
সাবেক এই আইজিপিকে গ্রেপ্তারের তথ্য জানিয়ে জাতীয় সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, এটি বাংলাদেশ পুলিশের একটি ঐতিহাসিক সাফল্য। তাকে অতি দ্রুতই দেশে ফেরত আনা হবে। এর মাধ্যমে আমরা বিচারহীনতার সংস্কৃতি থেকে বের হয়ে আসতে সক্ষম হব।
বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির পর তাকে কবে ফেরানো হবে কিংবা ঠিক কি প্রক্রিয়ায় ফেরানো হবে— সংবাদ সম্মেলনে এমন প্রশ্নের জবাবে দুদক কর্মকর্তা আকতারুল ইসলাম বলেন, তাকে গ্রেপ্তারে দুদক ইন্টারপোলের সহযোগিতা নেওয়া হয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে, একই প্রক্রিয়ায় দেশে আনার পর পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া ও বিচার কাজ শেষ করা হবে।
তবে বেনজীর আহমেদকে ঠিক কোন প্রক্রিয়ায় দেশে ফিরিয়ে আনা হবে, সে বিষয়ে কিছু বলেননি দুদকের এই কর্মকর্তা। সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এ প্রক্রিয়া নিয়ে কথা বলেন।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, গত ১২ জুন বাংলাদেশ পুলিশ দুবাই থেকে মেইল পেয়ে বিষয়টি সম্পর্কে অবগত হয়। এনসিবি আবুধাবি জানিয়েছে, ইউএইএ ফেডারেল ল নাম্বার ৩৯ (২০০৬) অনুযায়ী গ্রেপ্তারের তারিখ থেকে ৩০ দিনের মধ্যে কূটনৈতিক চ্যানেলের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক এক্সট্রাডিশন রিকোয়েস্ট (প্রত্যর্পণের আবেদন) পাঠাতে হবে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনে প্রত্যর্পণ প্রস্তাব অতি দ্রুত কূটনৈতিক চ্যানেলে এনসিবি আবুধাবির কাছে পাঠানো হবে এবং তাকে দ্রুততম সময়ে দেশে ফিরিয়ে আনা হবে বলেও সংসদে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

দীর্ঘদিন ধরে আত্মগোপনে থাকা বাংলাদেশের আলোচিত সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদকে সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। জাতীয় সংসদে দেওয়া বক্তব্যে তিনি জানান, ইন্টারপোলের সহযোগিতায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা ছয়টি মামলা রয়েছে বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে। জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও পাসপোর্ট জালিয়াতিসহ দুর্নীতির নানা অভিযোগ রয়েছে এসব মামলায়।
এর মধ্যে দুটি মামলায় ইন্টারপোলের রেড নোটিশের পরিপ্রেক্ষিতে গত শুক্রবার (১২ জুন) বেনজীর আহমেদকে গ্রেপ্তার করে দুবাই পুলিশ। রোববার (১৪ জুন) জাতীয় সংসদের কার্যপ্রণালির ৩০০ বিধিতে দেওয়া এক বিবৃতিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এ তথ্য জানান।
২০১৫ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২০ সালের ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত র্যাবের মহাপরিচালক ছিলেন বেনজীর আহমেদ। এরপর ওই বছরের ১৫ এপ্রিল থেকে ২০২২ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ছিলেন আইজিপি। র্যাবের মহাপরিচালক থাকা অবস্থায় মার্কিন নিষেধাজ্ঞায় পড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছিলেন তিনি।
এর আগে ২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বর-কাণ্ড এবং ডিসেম্বরে তৎকালীন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বাসভবনের সামনের সড়ক বালুর ট্রাক দিয়ে আটকে দেওয়ার মতো আলোচিত ঘটনাগুলোর সময় ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার ছিলেন বেনজীর। ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে পুলিশের এই কর্মকর্তাকে বক্তৃতা-বিবৃতিতে ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের প্রতি সমর্থন দিতে দেখা যেত নিয়মিতই।
আইজিপি পদ থেকে অবসর নেওয়ার বছর দুয়েক পর ২০২৪ সালে বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ তুলে একটি জাতীয় দৈনিক ধারাবাহিক প্রতিবেদন প্রকাশ করে। সারা দেশে তোলপাড় পড়ে যায় সেসব দুর্নীতি ও সম্পদের খবরে।
ওই সময় বেনজীর আহমদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তদন্তে নামে দুদক। একাধিক মামলা হয়। বেনজীরও দেশ ছেড়ে দুবাই চলে যান। আর দেশে ফিরে আসেননি তিনি।
রোববার সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদের আটকের তথ্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সংসদে ঘোষণা করার পর দুদক একটি সংবাদ সম্মেলন আয়োজন করে। সেখানে দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. আকতারুল ইসলাম জানান, তার বিরুদ্ধে দুদকের দায়ের করা ছয়টি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের একটি মামলায় তার বিরুদ্ধে বিচার চলছে। আর পাসপোর্ট জালিয়াতিসহ আরও পাঁচটি মামলার তদন্ত চলছে।
অবৈধ সম্পদ অর্জন, তথ্য গোপন ও অর্থ পাচারের অভিযোগে বেনজীরের বিরুদ্ধে ঢাকায় দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়-১ এ প্রথম মামলাটি করা হয় ২০২৪ সালের ১৫ ডিসেম্বর। মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ২৭ আগস্ট সম্পদ বিবরণী জমা দেন বেনজীর, যেখানে তিনি ছয় কোটি ৪৫ লাখ টাকার স্থাবর সম্পদ ও পাঁচ কোটি ৭৪ লাখ টাকার অস্থাবর সম্পদের তথ্য দেন।
তবে দুদকের তদন্তে দেখা যায়, তার প্রকৃত স্থাবর সম্পদের পরিমাণ সাত কোটি ৫২ লাখ টাকা, অর্থাৎ তিনি প্রায় এক কোটি ৮৫ লাখ টাকার স্থাবর সম্পদের তথ্য গোপন করেছেন। অন্যদিকে তার অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ পাওয়া যায় আট কোটি ১৫ লাখ টাকা, যা তার ঘোষণার তুলনায় দুই কোটি ৪০ লাখ টাকা বেশি। সব মিলিয়ে দুদক প্রায় ১১ কোটি ৪ লাখ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদের তথ্য পায়।
দীর্ঘ তদন্ত শেষে গত বছরের ৩০ নভেম্বর এ মামলায় আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) জমা দেয় দুদক। অভিযোগপত্র গ্রহণ করে গত ৩ মে বেনজীরের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন আদালত।
এদিকে বেনজীরসহ তার স্ত্রী জিসান মির্জা, বড় মেয়ে ফারহিন রিশতা বিনতে বেনজীর ও দ্বিতীয় মেয়ে তাহসিন রাইসা বিনতে বেনজীরের বিরুদ্ধে আরও চারটি পৃথক মামলা করে দুদক। চারটি মামলাতেই বেনজীর আহমেদকে আসামি করা হয়। দুদকের প্রাথমিক অনুসন্ধানে বেনজীর পরিবারের এসব সদস্যদের নামে সাড়ে ৪৩ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদের সন্ধান পাওয়া যায়।
দুদক জানায়, প্রাথমিকভাবে বেনজীরের নামে প্রায় ৯ কোটি ২৬ লাখ টাকার সম্পদ ও তার স্ত্রী জিসান মির্জার নামে ২ কোটি ১৩ লাখ টাকা এবং তাদের বড় মেয়ে ফারহিন রিশতা বিনতে বেনজীরের নামে ৮ কোটি ১১ লাখ টাকা ও ছোট মেয়ে তাহসিন রাইসা বিনতে বেনজীরের নামে প্রায় ৪ কোটি ৭৬ লাখ টাকা পাওয়া গেছে।
এ ছাড়া পাসপোর্ট জালিয়াতির আরও একটি মামলা রয়েছে বেনজীরের নামে। এ মামলার অভিযোগ বলা হয়েছে, সরকারি কর্মকর্তা হয়েও তিনি পরিচয় গোপন করে ‘নীল’ বা ‘লাল’ পাসপোর্ট গ্রহণ করেননি। বরং ক্ষমতার অপব্যবহার করে বেসরকারি চাকরিজীবী পরিচয়ে সাধারণ পাসপোর্ট তৈরি করেন। এ মামলাতেই তার নামে রেড নোটিশ জারির আবেদন করা হয় ইন্টারপোলে।
এ ছাড়া ২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশে গণহত্যার মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহিউদ্দিন খান আলমগীরসহ যে ৯ জনকে আসামি করা হয়েছে, বেনজীর তাদের একজন। এ মামলায় অন্যদের পাশাপাশি তার নামেও গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছিলেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।
দুদকের অব্যাহত অনুসন্ধানে ক্রমেই বেনজীর আহমেদ ও তার পরিবারের সম্পদের তথ্য একের পর এক বেরিয়ে আসতে থাকে। ক্রমেই প্রকাশিত হয়, নামে-বেনামে সারা দেশে এবং দেশের বাইরেও সম্পদের পাহাড় গড়েছেন সাবেক এই পুলিশ কর্মকর্তা।
দুদক সূত্র জানায়, এ পর্যন্ত বেনজীর আহমেদ ও তার পরিবারের সদস্যরা দেশের বিভিন্ন জেলায় অন্তত ৬১৩ দশমিক ৪১ বিঘা জমি কিনেছেন। এর মধ্যে গোপালগঞ্জ ও মাদারীপুরে ৬০৫ দশমিক ৭৭ বিঘা জমি রয়েছে, যেগুলোর মালিকানা একসময় হিন্দু সম্প্রদায়ের সদস্যদের ছিল। অভিযোগ রয়েছে, তাদের জোর করে জমি বিক্রি করতে বাধ্য করা হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে জমির টাকাও পরিশোধ করা হয়নি।
জানা যায়, বেনজীর ২০১৫ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২০ সালের এপ্রিল পর্যন্ত র্যাবের মহাপরিচালক এবং ২০২০ সালের এপ্রিল থেকে ২০২২ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পুলিশের মহাপরিদর্শক হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় নিজ জেলা গোপালগঞ্জে সাভানা ইকো রিসোর্ট অ্যান্ড ন্যাচারাল পার্কসহ অধিকাংশ সম্পদ গড়ে তোলেন।
জুলাই অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর আদালতের এক আদেশে বেনজীরের মালিকানাধীন সাভানা রিসোর্ট ও ন্যাচারাল পার্কের নিয়ন্ত্রণ নেয় গোপালগঞ্জের জেলা প্রশাসন। এ ছাড়া গুলশানের চারটি ফ্ল্যাট দেখাশোনার জন্য একজন প্রথম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেটকে প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেন আদালত।
২০২৪ সালের ২৩ মে বেনজীর আহমেদের সব স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি জব্দের নির্দেশ দেন ঢাকা মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতের বিচারক মোহাম্মদ আশ-শামস জগলুল হোসেন। আদেশে বেনজীরের নামে ৮৩টি দলিলে বিভিন্ন স্থাবর সম্পদ ‘ক্রোক’ ও ৩৩টি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ‘ফ্রিজে’র নির্দেশ দেওয়া হয়।
পরে ২৬ মে একই আদালত বেনজীর ও তার পরিবারের সদস্যদের নামে ১১৯টি দলিলে উল্লেখিত সম্পত্তি ক্রোকের নির্দেশ দেন। এসব দলিলে তাদের নামে থাকা ঢাকার গুলশানে চারটি ফ্ল্যাট ক্রোকের নির্দেশ দেওয়া হয়।
আদালতের আদেশে বেনজীর ও তার পরিবারের শতভাগ মালিকানাধীন আটটি কোম্পানি, আংশিক মালিকানাধীন ১৫টি কোম্পানি ক্রোকের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া মাদারীপুরের রাজৈর থানার ১১৪টি দলিলের কয়েক শ বিঘা জমি, সাভারের বেশ কয়েকটি জমি, বেনজীর পরিবারের সাভানা অ্যাগ্রো লিমিটেড, সাভানা ইকো রিসোর্ট, একটি শিশিরবিন্দু নামে আরেকটি কোম্পানির সব সম্পদ ক্রোকের নির্দেশ দেওয়া হয়।
এ ছাড়া সোনালী ব্যাংকের সঞ্চয়পত্রের ৩০ লাখ টাকা, শান্তা ও লঙ্কা-বাংলায় বেনজীর পরিবারের শেয়ার ও আরও ১৫টি কোম্পানিতে বেনজীর পরিবারের বিভিন্ন জনের নামে আংশিক শেয়ার অবরুদ্ধ করা হয়। এসব সম্পদ বেনজীর আহমেদ, তার স্ত্রী জিশান মির্জা, বড় মেয়ে ফারহিন রিস্তা বিনতে বেনজীর ও ছোট মেয়ে তাহসিন রাইসা বিনতে বেনজীরের নামে ছিল।
২০২৪ সালে শেখ হাসিনার শাসনের পতনের পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর মামলাগুলোর কার্যক্রম গতি পায়। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় ২০২৫ সালে বেনজীর আহমেদকে গ্রেপ্তারে ইন্টারপোলে রেড নোটিশ জারির আবেদন পাঠানো হয়।
দুদক কর্মকর্তা আকতারুল ইসলাম সংবাদ সম্মেলনে বলেন, আমাদের তদন্ত কর্মকর্তা আদালতের মাধ্যমে রেড নোটিশ জারির আবেদন করেছিলেন। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে আমরা ইন্টারপোলে আবেদন করেছিলাম। তার পরিপ্রেক্ষিতে ইন্টারপোল সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদকে গ্রেপ্তার করেছে।
সাবেক এই আইজিপির বিরুদ্ধে যে ছয়টি মামলা ছিল, তার মধ্যে জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পত্তি অর্জন এবং পাসপোর্ট জালিয়াতির দুটি মামলায় ইন্টারপোলের মাধ্যমে নোটিশ পাঠানো হয়েছিল। দুদক জানিয়েছে, সাবেক আইজিপি সরকারি কর্মকর্তা থাকা অবস্থায় বিভিন্ন সময়ে সরকারি পাসপোর্ট ব্যবহার না করে জালিয়াতি করে সাধারণ ব্যক্তি হিসেবে পাসপোর্ট গ্রহণ করেছেন বলে অভিযোগ ছিল এবং একাধিক পাসপোর্ট তিনি গ্রহণ করেছিলেন।
আকতারুল ইসলাম জানান, জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পত্তি অর্জনের যে পাঁচটি মামলা হয়েছিল সাবেক এই পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে, সেখানে তার তার জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদের পরিমাণ ছিল ৭৬ কোটি টাকারও ওপরে।
এসব মামলায় তাকে হাজির করতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে ইন্টারপোলে আবেদন করা হয়। তার পরিপ্রেক্ষিতে রেড নোটিশ জারি করতে ইন্টারপোলের কাছে আবেদন করে বাংলাদেশ পুলিশের ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরো বা এনসিবি।
রোববার জাতীয় সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের মাধ্যমে রেড নোটিশ জারি করা হয়েছিল। ওই রেড নোটিশের মাধ্যমে ইন্টারপোল সংযুক্ত আরব আমিরাতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে গ্রেপ্তারের অনুরোধ জানায়। গত ১২ জুন (শুক্রবা) বাংলাদেশ পুলিশ দুবাই থেকে মেইল পেয়ে তার গ্রেপ্তারের বিষয়টি সম্পর্কে অবগত হয় বাংলাদেশ।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি দণ্ডবিধির ৪২০, ৪৬৭, ৪৬৮-সহ অন্যান্য ধারা এবং বাংলাদেশ পাসপোর্ট অর্ডার ১৯৭৩-এর ১১ ধারায় মামলা বিচারাধীন। বর্তমানে এনসিবি ঢাকা রেড নোটিশ প্রকাশ, আন্তর্জাতিক সমন্বয় ও গ্রেপ্তার-পরবর্তী ফলোআপ কার্যক্রম সম্পন্ন করছে।
সাবেক এই আইজিপিকে গ্রেপ্তারের তথ্য জানিয়ে জাতীয় সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, এটি বাংলাদেশ পুলিশের একটি ঐতিহাসিক সাফল্য। তাকে অতি দ্রুতই দেশে ফেরত আনা হবে। এর মাধ্যমে আমরা বিচারহীনতার সংস্কৃতি থেকে বের হয়ে আসতে সক্ষম হব।
বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির পর তাকে কবে ফেরানো হবে কিংবা ঠিক কি প্রক্রিয়ায় ফেরানো হবে— সংবাদ সম্মেলনে এমন প্রশ্নের জবাবে দুদক কর্মকর্তা আকতারুল ইসলাম বলেন, তাকে গ্রেপ্তারে দুদক ইন্টারপোলের সহযোগিতা নেওয়া হয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে, একই প্রক্রিয়ায় দেশে আনার পর পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া ও বিচার কাজ শেষ করা হবে।
তবে বেনজীর আহমেদকে ঠিক কোন প্রক্রিয়ায় দেশে ফিরিয়ে আনা হবে, সে বিষয়ে কিছু বলেননি দুদকের এই কর্মকর্তা। সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এ প্রক্রিয়া নিয়ে কথা বলেন।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, গত ১২ জুন বাংলাদেশ পুলিশ দুবাই থেকে মেইল পেয়ে বিষয়টি সম্পর্কে অবগত হয়। এনসিবি আবুধাবি জানিয়েছে, ইউএইএ ফেডারেল ল নাম্বার ৩৯ (২০০৬) অনুযায়ী গ্রেপ্তারের তারিখ থেকে ৩০ দিনের মধ্যে কূটনৈতিক চ্যানেলের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক এক্সট্রাডিশন রিকোয়েস্ট (প্রত্যর্পণের আবেদন) পাঠাতে হবে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনে প্রত্যর্পণ প্রস্তাব অতি দ্রুত কূটনৈতিক চ্যানেলে এনসিবি আবুধাবির কাছে পাঠানো হবে এবং তাকে দ্রুততম সময়ে দেশে ফিরিয়ে আনা হবে বলেও সংসদে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

পুলিশ সূত্র জানায়, দুদকের মামলার প্রেক্ষিতে ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইন্টারপোলের মাধ্যমে বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে রেড নোটিশ জারি করা হয়। এর ধারাবাহিকতায় গত ১২ জুন তাকে আটক করে দুবাইয়ের ইন্টারপোল অফিস।
১৪ ঘণ্টা আগে
রোববার (১৪ জুন) হাইকোর্টে উপস্থাপিত জেল আপিলে সোহেল রানা বলেন, তিনি অটোরিকশা গ্যারেজে মিস্ত্রির কাজ করতেন এবং নিয়মিত ইয়াবাসহ বিভিন্ন মাদক সেবন করতেন। মাদকাসক্তির কারণে পরিবারে প্রায়ই কলহ-বিবাদ লেগে থাকত বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
১৬ ঘণ্টা আগে
আবহাওয়া অফিস জানায়, আগামী ২৪ ঘণ্টায় ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়া ও বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে ভারী বর্ষণ হতে পারে। এ সময় দিনের তাপমাত্রা সামান্য
১৭ ঘণ্টা আগে
জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুকে নাস্তিক ও ইসলামবিদ্বেষী বলে মন্তব্য করার অভিযোগে গত ২ এপ্রিল মুফতি আমির হামজার বিরুদ্ধে মানহানির মামলা দায়ের করা হয়। একই দিন আদালত তাকে সমন জারি করে ২১ এপ্রিল হাজির হওয়ার নির্দেশ দেন।
১৮ ঘণ্টা আগে