
ডেস্ক, রাজনীতি ডটকম

কালু মিয়া বাঁশি বড় ভালো বাজায়। বাঁশের বাঁশি। কিন্তু তার মনে বড় দুঃখ। নিজের গ্রামেই বাঁশি বাজাতে পারে না, পাছে তার বাঁশি শুনে গাঁয়ের মেয়েরা উদাসী হয়ে ঘর ছাড়া হয়, তাই মোড়লেরা বাঁশিতে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন। বেচারার মন খারাপ।
কালু মিয়ার দুঃসম্পর্কের আত্মীয় পল্লীকবি জসীম উদদীন। কবি তখন তরুণ, কলকাতায় থাকেন। কবিতা লিখে নামও করেছেন। এরই মধ্যে বেরিয়েছে কবির কাব্যকাহিনি ‘সোজন বাঁধিয়ার ঘাট’। কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ এ বইয়ের অকুণ্ঠ প্রসংশা করেছেন।
জসীমউদদীন তখন জোড়াসাকোর ঠাকুরবাড়ির অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুরের একটি ঘর ভাড়া নিয়ে সেখানে থাকেন। অবন ঠাকুরের সঙ্গে আড্ডা দেন, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সঙ্গে মাঝে মাঝে কথা হয়। সে সময় জসীমউদদীনের মনে হলো, কালু মিয়াকে কলকতায় এনে চেষ্টা করা যেতে পারে। রেডিওতে যদি সুযোগ পায়, তাহলে সারা দেশে তাঁর নাম ছড়িয়ে পড়বে, বেচারার দুঃখও ঘুঁচবে।
কলকাতায় এনে কালু মিয়াকে নিয়ে রেকর্ড কোম্পানিগুলোর দ্বারে দ্বারে ঘুরলেন জসীমউদদীন। কিন্তু কেউ তার বাঁশি রেকর্ড করতে রাজি হল না। রেডিওতে চেষ্টা করলেন, সুবিধা হলো না। তখন বিখ্যাত নাট্যকার শিশিরকুমার ভাদুড়ির কাছে নিয়ে গেলেন কালুমিয়াকে। শিশিরকুমার তাঁর বাঁশি শুনে মুগ্ধ হলেন, সুযোগ করে দিলেন নিজের নাট্যদলের অর্কেস্টাতে বাজাবার। কিন্তু দলের অন্য বাজনদারেরা কালুমিয়াকে সহ্য করতে পারছিল না। বাইরের একটা লোক এসে তাদের দলে বাঁশি বাজাবে, অথচ নিজেদের আত্মীয় স্বজনের মধ্যেই কত কত বাজিয়ে রয়েছে! সুতরাং অবস্থা এমন দাঁড়াল কালু মিয়া দলে থাকলে, তারা দল ছেড়ে দেবে।
শিশিরকুমার বাধ্য হয়েই তাই কালুমিয়াকে অব্যাহতি দিলেন। জসীমউদদীন তখন শেষ উপায়টা বের করলেন। কোনোভাবে যদি কালুমিয়ার বাঁশি একবার কবিগুরুকে শোনানো যায়, আর তিনি যদি পছন্দ করেন, তাহলে কালু বাঁশিওয়ালার জীবন বদলে যাবে।
কিন্তু কবিগুরুকে কীভাবে শোনাবেন? তাঁর মনমেজাজ কখন কেমন থাকে অনুমান করার জো নেই। জসীমউদ্দীন তখন গেলেন অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুরের নাতি মোহনলাল গঙ্গোপাধ্যয়ের সঙ্গে পরামর্শ করতে। দুজন মিলে পেয়ে গেলন একটা ফন্দি!
কবিগুরু থাকেন পুবের কোঠায় দোতালায়। ঠিক হলো, কালুমিয়া উত্তরের গাড়ি বারান্দায় বসে বাঁশি বাজাবেন। বাঁশি শুনে কবিগুরু কী মন্তব্য করেন, সেটা জানবার জন্য সমরেন্দ্রনাথ ঠাকুর নিজে যাবেন কবিগুরুর সঙ্গে গল্প করতে।
তখন কেবল সকাল হয়েছে, সেই সকালের কালু মিয়ার বাঁশি যেন করুণ সুরে কেঁদে উঠল, যে শুনবে তারই অন্তর আর্দ্র হবে।
কিন্তু রবীন্দ্রনাথ সেই বাঁশি শুনে অত্যন্ত বিরক্ত হয়ে বললেন, সাত সকালে এমন বিরহী সুর কে বাজায় রে! একী সকালে শোনবার সুর!
সুতরাং কালুমিয়ার কলকতা অভিযান সেখানেই সমাপ্ত হলো।

কালু মিয়া বাঁশি বড় ভালো বাজায়। বাঁশের বাঁশি। কিন্তু তার মনে বড় দুঃখ। নিজের গ্রামেই বাঁশি বাজাতে পারে না, পাছে তার বাঁশি শুনে গাঁয়ের মেয়েরা উদাসী হয়ে ঘর ছাড়া হয়, তাই মোড়লেরা বাঁশিতে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন। বেচারার মন খারাপ।
কালু মিয়ার দুঃসম্পর্কের আত্মীয় পল্লীকবি জসীম উদদীন। কবি তখন তরুণ, কলকাতায় থাকেন। কবিতা লিখে নামও করেছেন। এরই মধ্যে বেরিয়েছে কবির কাব্যকাহিনি ‘সোজন বাঁধিয়ার ঘাট’। কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ এ বইয়ের অকুণ্ঠ প্রসংশা করেছেন।
জসীমউদদীন তখন জোড়াসাকোর ঠাকুরবাড়ির অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুরের একটি ঘর ভাড়া নিয়ে সেখানে থাকেন। অবন ঠাকুরের সঙ্গে আড্ডা দেন, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সঙ্গে মাঝে মাঝে কথা হয়। সে সময় জসীমউদদীনের মনে হলো, কালু মিয়াকে কলকতায় এনে চেষ্টা করা যেতে পারে। রেডিওতে যদি সুযোগ পায়, তাহলে সারা দেশে তাঁর নাম ছড়িয়ে পড়বে, বেচারার দুঃখও ঘুঁচবে।
কলকাতায় এনে কালু মিয়াকে নিয়ে রেকর্ড কোম্পানিগুলোর দ্বারে দ্বারে ঘুরলেন জসীমউদদীন। কিন্তু কেউ তার বাঁশি রেকর্ড করতে রাজি হল না। রেডিওতে চেষ্টা করলেন, সুবিধা হলো না। তখন বিখ্যাত নাট্যকার শিশিরকুমার ভাদুড়ির কাছে নিয়ে গেলেন কালুমিয়াকে। শিশিরকুমার তাঁর বাঁশি শুনে মুগ্ধ হলেন, সুযোগ করে দিলেন নিজের নাট্যদলের অর্কেস্টাতে বাজাবার। কিন্তু দলের অন্য বাজনদারেরা কালুমিয়াকে সহ্য করতে পারছিল না। বাইরের একটা লোক এসে তাদের দলে বাঁশি বাজাবে, অথচ নিজেদের আত্মীয় স্বজনের মধ্যেই কত কত বাজিয়ে রয়েছে! সুতরাং অবস্থা এমন দাঁড়াল কালু মিয়া দলে থাকলে, তারা দল ছেড়ে দেবে।
শিশিরকুমার বাধ্য হয়েই তাই কালুমিয়াকে অব্যাহতি দিলেন। জসীমউদদীন তখন শেষ উপায়টা বের করলেন। কোনোভাবে যদি কালুমিয়ার বাঁশি একবার কবিগুরুকে শোনানো যায়, আর তিনি যদি পছন্দ করেন, তাহলে কালু বাঁশিওয়ালার জীবন বদলে যাবে।
কিন্তু কবিগুরুকে কীভাবে শোনাবেন? তাঁর মনমেজাজ কখন কেমন থাকে অনুমান করার জো নেই। জসীমউদ্দীন তখন গেলেন অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুরের নাতি মোহনলাল গঙ্গোপাধ্যয়ের সঙ্গে পরামর্শ করতে। দুজন মিলে পেয়ে গেলন একটা ফন্দি!
কবিগুরু থাকেন পুবের কোঠায় দোতালায়। ঠিক হলো, কালুমিয়া উত্তরের গাড়ি বারান্দায় বসে বাঁশি বাজাবেন। বাঁশি শুনে কবিগুরু কী মন্তব্য করেন, সেটা জানবার জন্য সমরেন্দ্রনাথ ঠাকুর নিজে যাবেন কবিগুরুর সঙ্গে গল্প করতে।
তখন কেবল সকাল হয়েছে, সেই সকালের কালু মিয়ার বাঁশি যেন করুণ সুরে কেঁদে উঠল, যে শুনবে তারই অন্তর আর্দ্র হবে।
কিন্তু রবীন্দ্রনাথ সেই বাঁশি শুনে অত্যন্ত বিরক্ত হয়ে বললেন, সাত সকালে এমন বিরহী সুর কে বাজায় রে! একী সকালে শোনবার সুর!
সুতরাং কালুমিয়ার কলকতা অভিযান সেখানেই সমাপ্ত হলো।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দেশের যেসব এলাকা বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, সেসব এলাকায় সরকারের পক্ষ থেকে জরিপ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। জরিপ শেষে ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, বেড়িবাঁধসহ বিভিন্ন অবকাঠামোর পুনর্বাসন এবং ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সহায়তায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে, যাতে তারা দ্রুত
১৩ ঘণ্টা আগে
বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের সঙ্গে জাতিসংঘে ইউরোপীয় ইউনিয়ন প্রতিনিধিদলের প্রধান রাষ্ট্রদূত স্তাভরস লামব্রিনিদিস এবং জি৭৭ ও চীনের চেয়ার ও জাতিসংঘে উরুগুয়ের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত লরা দুপুই লাসেরের মধ্যে বৈঠকগুলো অনুষ্ঠিত হয়।
১৫ ঘণ্টা আগে
প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ক্ষুদ্র গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনার উদ্যোগ নিয়েছে জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমি (নেপ)। এ লক্ষ্যে মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তা ও প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের কাছ থেকে গবেষণা প্রস্তাব আহ্বান করা হয়েছে।
১৭ ঘণ্টা আগে
এর ফলে উপসচিব থেকে সচিব পদমর্যাদার কর্মকর্তাদের গাড়ি রক্ষণাবেক্ষণের খরচ আগের মতো ৫০ হাজার টাকাই থাকছে। বেসামরিক প্রশাসনের কর্মকর্তাদের পাশাপাশি বিচার বিভাগ, নির্বাচন কমিশন ও সশস্ত্র বাহিনীর প্রাধিকারভুক্ত কর্মকর্তারাও গাড়ি রক্ষণাবেক্ষণের এ খরচ পেয়ে থাকেন। তাদের জন্যও এ খরচ কমানোর উদ্যোগ নিয়েও তা থেক
১৭ ঘণ্টা আগে