তারশঙ্করের এক্স-রে ফিল্ম

ডেস্ক, রাজনীতি ডটকম
ফাইল ছবি

সাগরময় ঘোষ তখন দেশ পত্রিকার সম্পাদক। পুজোসংখ্যার তোড়জোড় চলছে। সাগরময় লেখকদের কাছে চিঠির পর চিঠি দিয়েছেন, লেখা চেয়ে। এর মধ্যে একদিন অফিসে গিয়ে দেখলেন, একটা চিঠি এসেছে তাঁর নামে। প্রেরক বিখ্যাত ঔপন্যাসিক তারাশঙ্কর বন্দোপাধ্যায়। তিনি সাগরময়কে পরের বুধবার নিজের বাড়িতে ডেকে পাঠিছেন। বার বার করে বলে দিয়েছেন, সাগর যেন সকাল নটার মধ্যেই আসেন। সেখান থেকেই যেন অফিস ধরেন।

এই কথার মধ্যে সাগরময় দুটো প্রচ্ছন্ন ইঙ্গিত পেলেন। এক. বাড়িতে যখন ডেকেছেন, তখন নিশ্চয়ই লেখা দেবেন বলেই ডেকেছেন। দুই. সাত সকালে যখন ডেকে পাঠিয়েছেন, তখন সকালের নাস্তাটা তাঁর ওখানেই করাবেন, নইলে তাঁর বাসা থেকেই সরাসরি অফিস ধরার কথা বলতেন না।

সাক্ষাতের আগের রাতে সাগরময় বাড়ি ফিরে স্ত্রীকে চিঠিটা, বললেন, সকালে যেন তার নাস্তার ব্যবস্থা না করেন। স্ত্রী বললেন, তোমাকে বাড়িতে ডেকেছে, খেতে তো ডাকেনি।

সাগরময় মুচকি হাসলেন, মনে মনে অর্ধাঙ্গিনীর স্ত্রীবুদ্ধিকে বিদ্রুপও করলেন। স্ত্রীকে বুঝিয়ে দিলেন, কোথায় কীভাবে ইঙ্গিতে খাওয়ার কথা লিখেছেন তারাশঙ্কর, সেটা বুঝিয়ে দিলেন।

সকালবেলা ঘুম থেকে উঠে সাগরময় দেখলেন, চিঠির ইঙ্গিত উপেক্ষা করে ঠিকই তাঁর স্ত্রী নাস্তা বানিয়ে রেখেছেন। সাগরময় আপত্তি করাতে স্ত্রী বললেন, লেখকদের মতিগতির ঠিক নেই, খেতে দেয় কি না দেয়! অগত্যা নাস্তা করে স্ত্রীর স্ত্রীবুদ্ধিকে বিদ্রুপ করতে করতে তারাশঙ্করের বাসায় রওনা দিলেন।

তাঁকে দেখেই তারাশঙ্কর নিজের ছেলেকে হাঁক দিয়ে বললেন, কইরে সনৎ, প্লেটটা নিয়ে আয়, সাগর এসেছে। সাগরময় তো মহাখুশি তাঁর অনুমানই ঠিক, নাস্তার বন্দোবস্ত করেই রেখেছেন লেখক। কিন্তু প্লেট আসতে দেরি হচ্ছিল। তারাশঙ্কর বার বার তাগাদা দিচ্ছিলেন। ব্যাপারখানা এমন, বেচারা কত দূর থেকে এসেছে, নিশ্চয়ই খিদেই পেট চো চো করছে!

সনৎ প্লেট হাতে উদয় হলেন। কিন্তু প্লেটে নাস্তা কোথায়, কাগজের বড় একটা খাম! তা দেখে সাগরময় অবশ্য মহাখুশি, নিশ্চয়ি তারাশঙ্কর লেখা রেডি করে নিয়ে এসেছেন।

কিন্তু খাম খুলে লেখক বের করলেন একটা এক্স-রে ফিল্ম। তাতে বুকের খাঁচা, পেটের নাড়ি দৃশ্যমান। সাগরময়কে সেটা দেখিয়ে বললেন, বড্ড অসুখ, সাগর৷ পাঁচদিনের মধ্যে চেঞ্জে যেতে বলেছেন ডাক্তার। এ সময় লিখি কী করে বলো তো? কিন্তু সে কথা বললে তো তোমরা বিশ্বাস করবে না। তাই ডেকে দেখালাম।

সাগরময় মন খারাপ করে বেরিয়ে যাচ্ছিলেন, তারাশঙ্কর বললেন, খালি মুখে যাবে, এক কাপ চা খেয়ে যাও!

স্ত্রী পেট ভরে খাইয়ে দিয়েছে, দাদা। আরেকদিন এসে খেয়ে যাব।

আসার সময় যে স্ত্রীবুদ্ধিকে অবজ্ঞা করেছিলেন, ফেরার সময় মনে মনে সেই স্ত্রীবুদ্ধির তারিফ করতে বাধ্য হলেন সাগরময় ঘোষ।

সূত্র: সম্পাদকের বৈঠকে/সাগরময় ঘোষ

ad
ad

খবরাখবর থেকে আরও পড়ুন

বন্যাদুর্গতদের সহায়তায় সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগ অব্যাহত: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দেশের যেসব এলাকা বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, সেসব এলাকায় সরকারের পক্ষ থেকে জরিপ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। জরিপ শেষে ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, বেড়িবাঁধসহ বিভিন্ন অবকাঠামোর পুনর্বাসন এবং ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সহায়তায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে, যাতে তারা দ্রুত

১৬ ঘণ্টা আগে

এলডিসি উত্তরণে বাংলাদেশকে ইইউ ও জি৭৭-এর সমর্থন

বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের সঙ্গে জাতিসংঘে ইউরোপীয় ইউনিয়ন প্রতিনিধিদলের প্রধান রাষ্ট্রদূত স্তাভরস লামব্রিনিদিস এবং জি৭৭ ও চীনের চেয়ার ও জাতিসংঘে উরুগুয়ের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত লরা দুপুই লাসেরের মধ্যে বৈঠকগুলো অনুষ্ঠিত হয়।

১৭ ঘণ্টা আগে

প্রাথমিক শিক্ষায় গবেষণা প্রস্তাব আহ্বান, প্রতিটিতে বরাদ্দ ২ লাখ টাকা

প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ক্ষুদ্র গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনার উদ্যোগ নিয়েছে জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমি (নেপ)। এ লক্ষ্যে মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তা ও প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের কাছ থেকে গবেষণা প্রস্তাব আহ্বান করা হয়েছে।

২০ ঘণ্টা আগে

সরকারি কর্মকর্তাদের গাড়ির খরচ কমছে না

এর ফলে উপসচিব থেকে সচিব পদমর্যাদার কর্মকর্তাদের গাড়ি রক্ষণাবেক্ষণের খরচ আগের মতো ৫০ হাজার টাকাই থাকছে। বেসামরিক প্রশাসনের কর্মকর্তাদের পাশাপাশি বিচার বিভাগ, নির্বাচন কমিশন ও সশস্ত্র বাহিনীর প্রাধিকারভুক্ত কর্মকর্তারাও গাড়ি রক্ষণাবেক্ষণের এ খরচ পেয়ে থাকেন। তাদের জন্যও এ খরচ কমানোর উদ্যোগ নিয়েও তা থেক

২০ ঘণ্টা আগে