সাহিত্য

পাখির বাসা

পাখির বাসা

মানুষ যেমন নানারকম জিনিস দিয়ে নানা কায়দায় নিজেদের বাড়ি বানায়— কেউ ইঁট, কেউ পাথড়, কেউ বাঁশ-কাদা, কেউ মাটি; কারো এক-চালা, কারো দো-চালা— পাখিরাও সেরকম নানা জিনিস দিয়ে নানান কায়দায় নিজেদের বাসা বানায়। কেউ বানায় কাদা দিয়ে, কেউ বানায় ডাল-পালা দিয়ে, কেউ বানায় পালক দিয়ে, কেউ বানায় ঘাস দিয়ে; তার গড়নই বা কতরকমের— কারো বাসা কেবল একটি ঝুড়ির মতো, কারো বাসা গোল, কারো বাসা লম্বা চোঙার মতো।

এক একটা পাখির বাসা দেখলে অবাক হয়ে যেতে হয়, তাতে বুদ্ধিই বা কত খরচ করেছে, আর মেহনতই বা করেছে কত। পাখির বাসা তোমরা অনেকেই দেখেছ বোধহয়। কেমন সুন্দর করে শুকনো ঘাস দিয়ে বুনে তার বাসাটি সে তৈরি করে। পাছে কোন জন্তু বা সাপ আক্রমণ করে সেজন্য বাসায় ঢুকবার রাস্তা তলার দিকে। শত্রুকে জব্দ করবার আর একটা উপায় তারা করেছে— অনেক সময় বাসার গায়ে আর একটা গর্তের মতো মুখ তৈরি করে রাখে, সেটা কেবল ঠকাবারই জন্যে, তার ভিতর দিয়ে বাসার মধ্যে ঢোকা যায় না।

টুন্‌টুনি পাখি তার বাসা তৈরি করার আগে দুটি কি তিনটি পাতা সেলাই করে একটা বাটির মতো তৈরি করে; তার মধ্যে নরম ঘাস পাতা দিয়ে সে তার বাসাটি বানায়। সেলাইয়ের সুতো সাধারণত রেশমেরই ব্যবহার করে; কাছে রেশম না থাকলে যে সুতো পায় তাই দিয়ে করে। সেলাইয়ের ছুঁচ হল তার সরু ঠোঁট-জোড়া। বাসাটা অনেকটা দোলনার মতো ঝুলতে থাকে।

খুব ছোট জাতের পাখিরা হিংস্র জন্তু আর সাপ গিরগিটির আক্রমণ থেকে রক্ষা পাবার জন্য প্রায়ই ঐরকম দোলনার মতো বাসা তৈরি করে থাকে। অনেক জাতের পাখি আবার মাটিতেই বাসা করে; গাছে বাসা তারা পছন্দই করে না। তাদের মধ্যে কেউ কেউ আবার বাসা তৈরিই করে না। নিজেরা গাছের আড়ালে ঝোপের মধ্যে লুকিয়ে থাকে আর মাটিতে গর্ত করে তার মধ্যে ডিম পাড়ে। মোরগ, তিতির, পেরু এরা সবই এই জাতের।

আবার কোন কোন পাখি সুন্দর করে লতা পাতা দিয়ে কুঞ্জবনের মতো বানায়। অস্ট্রেলিয়া দেশের 'কুঞ্জ-পাখি' (Bower bird) তার বাসার সামনে খুব সুন্দর লতা-কুঞ্জ তৈরি করে। পাখিটি আকারে ছোট বটে, কিন্তু কুঞ্জটি কিছু ছোট হয় না। এদের আবার রংচঙে জিনিসের বড় সখ; ভাঙা কাচ, পাথর, রঙিন জিনিস, যা সামনে পাবে এনে বাসার চারিদিকে সাজিয়ে রাখবে।

কোন কোন পাখি থুতু দিয়ে বাসা তৈরি করে। তালচোঁচ পাখি এই জাতের। পালক, ঘাস এসব জিনিস থুতু দিয়ে জোড়া লাগিয়ে তার বাসা তৈরি হয়। ইস্ট ইন্ডিয়া দ্বীপপুঞ্জে এক জাতের তালচোঁচ আছে, তারা কেবলই থুতু দিয়ে নিজের বাসা বানায়। চীন দেশে এ বাসার খুব আদর; তারা এর ঝোল বানিয়ে খায়। এইজন্য সে দেশে এর দামও খুব বেশি।

অনেক জাতের পাখি কাদা দিয়েও তাদের বাসা বানায়। আফ্রিকার ফ্লামিঙ্গোর বাসা কাদার তৈরি। একটা ঢিপির মতো কাদা সাজিয়ে তার মাঝে একটা গর্ত করে ফ্লামিঙ্গো ডিম পাড়ে। আরো অনেক জাতের পাখিও কাদার বাসা বানায়; তাদের অধিকাংশই আফ্রিকার।

তোমরা অনেকেই বোধহয় কাঠ-ঠোকরা দেখেছ। এরা ঠোঁট দিয়ে ঠোকর মেরে গাছের গায়ে গর্ত করে তার ভিতর বাসা বানায়। দুষ্টু ছেলেরা ছানা চুরি করার লোভে কাঠ-ঠোকরার বাসার গর্তে হাত ঢুকিয়ে দিয়ে অনেক সময় সাপের কামড় খায়, কারণ সাপেরা কাঠ-ঠোকরার বাসা ডাকাতি করে অধিকার করতে বড় পটু।

ad
ad

খবরাখবর থেকে আরও পড়ুন

প্রধানমন্ত্রীর একান্ত ও সহকারী একান্ত সচিব নিয়োগ

এছাড়া অন্য আরেকটি প্রজ্ঞাপনে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব মোহাম্মদ মামুন শিবলীকে প্রধানমন্ত্রীর সহকারী একান্ত সচিব-১ হিসেবে নিয়োগের তথ্য জানানো হয়।

৬ ঘণ্টা আগে

মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী মর্যাদায় প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা হলেন ১০ জন

মন্ত্রী পদমর্যাদায় মির্জা আব্বাস উদ্দিন আহমেদ, নজরুল ইসলাম খান, রুহুল কবির রিজভী আহমেদ, মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ ও রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীরকে উপদেষ্টা নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

৬ ঘণ্টা আগে

৮০ থেকে ৩৫: তারেকের মন্ত্রিসভায় তারুণ্য ও অভিজ্ঞতার সমন্বয়

মন্ত্রিসভায় যেমন ৮০ বছরের প্রজ্ঞা আছে, তেমনি ৩৫ বছরের তারুণ্যের তেজও আছে। উত্তরবঙ্গ থেকে আসা মিজানুর রহমান মিনু (৭৫) কিংবা দক্ষিণের মীর শাহে আলম (৬৭) যেমন আছেন, তেমনি তারুণ্যের প্রতিনিধি হয়ে চট্টগ্রামের মীর হেলাল (৪২) বা যশোরের অমিতের (৪৪) মতো নেতারা আগামী দিনের নেতৃত্বের মহড়া দিচ্ছেন।

৬ ঘণ্টা আগে

ভারত সফরের আমন্ত্রণ পেলেন নতুন প্রধানমন্ত্র্রী তারেক রহমান

ভারতে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার রিয়াজ হামিদুল্লাহ জানান, ভারতের স্পিকার তারেক রহমানকে সেদেশে সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন এবং উভয় নেতা বাংলাদেশ ও ভারতের জনগণের কল্যাণে একসঙ্গে কাজ করার বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।

৬ ঘণ্টা আগে