
ডেস্ক, রাজনীতি ডটকম

ভাবুন তো, ঘরের কোণে রাখা টবে একগুচ্ছ গাছ, আর রাত নামতেই হালকা নীল, সবুজ, লাল কিংবা বেগুনি আলো ছড়িয়ে পুরো ঘরটাকে আলোকিত করে তুলল। বিদ্যুতের বাল্ব নয়, সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক গাছের ভেতর থেকেই বের হচ্ছে সেই আলো। এমন স্বপ্নময় কল্পনাকে বাস্তবে রূপ দিয়েছেন চীনের একদল বিজ্ঞানী। তাঁরা তৈরি করেছেন পৃথিবীর প্রথম বহুরঙা গ্লো-ইন-দ্য-ডার্ক সাকুলেন্টস, যেগুলো সূর্যের আলো কিংবা ঘরের লাইটে চার্জ হয়ে অন্ধকারে জ্বলে উঠতে পারে।
দক্ষিণ চায়না এগ্রিকালচারাল ইউনিভার্সিটির গবেষক শু-টিং লিউ এবং তাঁর সহকর্মীরা বিশেষ একধরনের আফটারগ্লো ফসফর পার্টিকলস গাছের পাতার ভেতরে প্রবেশ করান। এগুলো সূর্যের আলো শোষণ করে পরে ধীরে ধীরে আলো ছেড়ে দেয়। ফলে গাছগুলো একেক সময় একেক রঙের আলো ছড়াতে শুরু করে। গবেষণায় দেখা গেছে, সবুজ পার্টিকলস সবচেয়ে বেশি সময় ধরে জ্বলে থাকে—একটানা দুই ঘণ্টা পর্যন্ত, যা একটি ছোট নাইট ল্যাম্পের মতোই উজ্জ্বল।
এর আগেও বিজ্ঞানীরা গ্লো-ইন-দ্য-ডার্ক গাছ বানানোর চেষ্টা করেছেন। কারও কারও গবেষণায় ব্যবহার করা হয়েছে জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং, যেখানে জেলিফিশ বা ফায়ারফ্লাইয়ের মতো জীবের বায়োলুমিনেসেন্ট জিন ব্যবহার করে গাছকে জ্বলজ্বল করানো হয়। তবে এগুলোর সীমাবদ্ধতা ছিল—রঙের বৈচিত্র্য কম এবং আলো খুব ম্লান। আবার অন্য পদ্ধতিতে ন্যানো-পার্টিকল ঢোকানো হলেও আলো ছিল ক্ষণস্থায়ী ও দুর্বল। লিউ ও তাঁর টিম এবার ব্যবহার করেছেন মাইক্রন-সাইজড পার্টিকল, যা মানুষের লোহিত রক্তকণিকার সমান বড়। এগুলো গাছের ভেতর অবাধে ছড়িয়ে পড়তে পারে এবং যথেষ্ট শক্তিশালী আলো উৎপাদন করে।
পরীক্ষার জন্য বিজ্ঞানীরা বেছে নেন Echeveria Mebina নামের এক প্রজাতির সাকুলেন্টস। এর পাতার ফাঁকা কোষগুলো মাইক্রন-সাইজড কণার ভেতরে প্রবেশের জন্য যথেষ্ট উপযুক্ত। অন্যদিকে বকচয় বা মানিপ্ল্যান্টের মতো গাছে এই কৌশল কাজ করেনি, কারণ সেগুলোর কোষের ফাঁক অনেক ছোট।
সবচেয়ে চমকপ্রদ ব্যাপার হলো, বিজ্ঞানীরা শুধু একরঙা নয়, বরং একাধিক রঙ মিলিয়ে তৈরি করেছেন রেইনবো প্ল্যান্ট। নীল, সবুজ, লাল, বেগুনি—সব একসঙ্গে মিশে একেকটি গাছকে করে তুলেছে যেন আলোকিত শিল্পকর্ম। তাঁরা ৫৬টি সাকুলেন্ট দিয়ে বানিয়েছেন একটি গাছের দেয়াল, যা অন্ধকার ঘরে এত আলো ছড়িয়েছে যে আশপাশের জিনিস স্পষ্ট দেখা গেছে এবং বইয়ের লেখা পড়া সম্ভব হয়েছে।
গবেষক শু-টিং লিউ এক বিবৃতিতে বলেছেন—
“ভাবুন তো, একদিন হয়তো বৈদ্যুতিক খুঁটির জায়গায় রাস্তাজুড়ে থাকবে জ্বলজ্বলে গাছ। সূর্যের আলোতে চার্জ হয়ে রাতের অন্ধকারে তারা আলোকিত করে তুলবে চারপাশ। এই সমন্বয় প্রকৃতি ও প্রযুক্তির এক অপূর্ব মেলবন্ধন।”
এ আবিষ্কার কেবল চমকপ্রদ নয়, বরং টেকসই জ্বালানি ব্যবস্থার জন্যও নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে পারে। প্রচলিত বৈদ্যুতিক লাইটের পরিবর্তে একদিন হয়তো আমরা ব্যবহার করব এই গ্লো-ইন-দ্য-ডার্ক গাছ। এতে বিদ্যুতের খরচ কমবে, কার্বন নিঃসরণও হ্রাস পাবে।
বিজ্ঞানীরা বলছেন, প্রক্রিয়াটি খুবই সহজ এবং ব্যয়সাশ্রয়ী। মাত্র দশ মিনিটেই গাছকে চার্জ করা যায়, আর তখনই দেখা দেয় আলোকিত রূপ। এখনো সীমাবদ্ধতা আছে—সব ধরনের গাছে এটি কাজ করছে না। তবে ভবিষ্যতে গবেষণার মাধ্যমে অন্যান্য উদ্ভিদেও এই কৌশল প্রয়োগ করা সম্ভব হবে বলে আশা করছেন তাঁরা।
শু-টিং লিউ বলেন, “আমি বিস্মিত যে, সম্পূর্ণ মানবসৃষ্ট এক ক্ষুদ্র কণা কীভাবে এত নিখুঁতভাবে গাছের প্রাকৃতিক গঠনের সঙ্গে মিশে যায়। এ যেন জাদুর মতো।”
যদি একদিন সত্যিই ঘরের আলো, রাস্তার লাইট বা বাগানের সাজসজ্জা এসব আলোকিত গাছ দিয়ে করা যায়, তবে সেটি হবে এক অভিনব বিপ্লব। শুধু প্রযুক্তি নয়, পরিবেশবান্ধব জীবনযাপনের ক্ষেত্রেও এটি এনে দিতে পারে নতুন সম্ভাবনা।
সুত্র: লাইভ সায়েন্স

ভাবুন তো, ঘরের কোণে রাখা টবে একগুচ্ছ গাছ, আর রাত নামতেই হালকা নীল, সবুজ, লাল কিংবা বেগুনি আলো ছড়িয়ে পুরো ঘরটাকে আলোকিত করে তুলল। বিদ্যুতের বাল্ব নয়, সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক গাছের ভেতর থেকেই বের হচ্ছে সেই আলো। এমন স্বপ্নময় কল্পনাকে বাস্তবে রূপ দিয়েছেন চীনের একদল বিজ্ঞানী। তাঁরা তৈরি করেছেন পৃথিবীর প্রথম বহুরঙা গ্লো-ইন-দ্য-ডার্ক সাকুলেন্টস, যেগুলো সূর্যের আলো কিংবা ঘরের লাইটে চার্জ হয়ে অন্ধকারে জ্বলে উঠতে পারে।
দক্ষিণ চায়না এগ্রিকালচারাল ইউনিভার্সিটির গবেষক শু-টিং লিউ এবং তাঁর সহকর্মীরা বিশেষ একধরনের আফটারগ্লো ফসফর পার্টিকলস গাছের পাতার ভেতরে প্রবেশ করান। এগুলো সূর্যের আলো শোষণ করে পরে ধীরে ধীরে আলো ছেড়ে দেয়। ফলে গাছগুলো একেক সময় একেক রঙের আলো ছড়াতে শুরু করে। গবেষণায় দেখা গেছে, সবুজ পার্টিকলস সবচেয়ে বেশি সময় ধরে জ্বলে থাকে—একটানা দুই ঘণ্টা পর্যন্ত, যা একটি ছোট নাইট ল্যাম্পের মতোই উজ্জ্বল।
এর আগেও বিজ্ঞানীরা গ্লো-ইন-দ্য-ডার্ক গাছ বানানোর চেষ্টা করেছেন। কারও কারও গবেষণায় ব্যবহার করা হয়েছে জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং, যেখানে জেলিফিশ বা ফায়ারফ্লাইয়ের মতো জীবের বায়োলুমিনেসেন্ট জিন ব্যবহার করে গাছকে জ্বলজ্বল করানো হয়। তবে এগুলোর সীমাবদ্ধতা ছিল—রঙের বৈচিত্র্য কম এবং আলো খুব ম্লান। আবার অন্য পদ্ধতিতে ন্যানো-পার্টিকল ঢোকানো হলেও আলো ছিল ক্ষণস্থায়ী ও দুর্বল। লিউ ও তাঁর টিম এবার ব্যবহার করেছেন মাইক্রন-সাইজড পার্টিকল, যা মানুষের লোহিত রক্তকণিকার সমান বড়। এগুলো গাছের ভেতর অবাধে ছড়িয়ে পড়তে পারে এবং যথেষ্ট শক্তিশালী আলো উৎপাদন করে।
পরীক্ষার জন্য বিজ্ঞানীরা বেছে নেন Echeveria Mebina নামের এক প্রজাতির সাকুলেন্টস। এর পাতার ফাঁকা কোষগুলো মাইক্রন-সাইজড কণার ভেতরে প্রবেশের জন্য যথেষ্ট উপযুক্ত। অন্যদিকে বকচয় বা মানিপ্ল্যান্টের মতো গাছে এই কৌশল কাজ করেনি, কারণ সেগুলোর কোষের ফাঁক অনেক ছোট।
সবচেয়ে চমকপ্রদ ব্যাপার হলো, বিজ্ঞানীরা শুধু একরঙা নয়, বরং একাধিক রঙ মিলিয়ে তৈরি করেছেন রেইনবো প্ল্যান্ট। নীল, সবুজ, লাল, বেগুনি—সব একসঙ্গে মিশে একেকটি গাছকে করে তুলেছে যেন আলোকিত শিল্পকর্ম। তাঁরা ৫৬টি সাকুলেন্ট দিয়ে বানিয়েছেন একটি গাছের দেয়াল, যা অন্ধকার ঘরে এত আলো ছড়িয়েছে যে আশপাশের জিনিস স্পষ্ট দেখা গেছে এবং বইয়ের লেখা পড়া সম্ভব হয়েছে।
গবেষক শু-টিং লিউ এক বিবৃতিতে বলেছেন—
“ভাবুন তো, একদিন হয়তো বৈদ্যুতিক খুঁটির জায়গায় রাস্তাজুড়ে থাকবে জ্বলজ্বলে গাছ। সূর্যের আলোতে চার্জ হয়ে রাতের অন্ধকারে তারা আলোকিত করে তুলবে চারপাশ। এই সমন্বয় প্রকৃতি ও প্রযুক্তির এক অপূর্ব মেলবন্ধন।”
এ আবিষ্কার কেবল চমকপ্রদ নয়, বরং টেকসই জ্বালানি ব্যবস্থার জন্যও নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে পারে। প্রচলিত বৈদ্যুতিক লাইটের পরিবর্তে একদিন হয়তো আমরা ব্যবহার করব এই গ্লো-ইন-দ্য-ডার্ক গাছ। এতে বিদ্যুতের খরচ কমবে, কার্বন নিঃসরণও হ্রাস পাবে।
বিজ্ঞানীরা বলছেন, প্রক্রিয়াটি খুবই সহজ এবং ব্যয়সাশ্রয়ী। মাত্র দশ মিনিটেই গাছকে চার্জ করা যায়, আর তখনই দেখা দেয় আলোকিত রূপ। এখনো সীমাবদ্ধতা আছে—সব ধরনের গাছে এটি কাজ করছে না। তবে ভবিষ্যতে গবেষণার মাধ্যমে অন্যান্য উদ্ভিদেও এই কৌশল প্রয়োগ করা সম্ভব হবে বলে আশা করছেন তাঁরা।
শু-টিং লিউ বলেন, “আমি বিস্মিত যে, সম্পূর্ণ মানবসৃষ্ট এক ক্ষুদ্র কণা কীভাবে এত নিখুঁতভাবে গাছের প্রাকৃতিক গঠনের সঙ্গে মিশে যায়। এ যেন জাদুর মতো।”
যদি একদিন সত্যিই ঘরের আলো, রাস্তার লাইট বা বাগানের সাজসজ্জা এসব আলোকিত গাছ দিয়ে করা যায়, তবে সেটি হবে এক অভিনব বিপ্লব। শুধু প্রযুক্তি নয়, পরিবেশবান্ধব জীবনযাপনের ক্ষেত্রেও এটি এনে দিতে পারে নতুন সম্ভাবনা।
সুত্র: লাইভ সায়েন্স

জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে উত্তরা এলাকায় সংঘটিত হত্যাযজ্ঞের ঘটনায় দায়ীদের বিচারে কোনো পক্ষপাত বা আপস করা হবে না বলে জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম।
৫ ঘণ্টা আগে
আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়কমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, একজন বিচারককে তার চিন্তা ও চেতনায় সব সময় স্বাধীন থেকে বিচারিক ক্ষমতা প্রয়োগ করতে হবে। তিনি বিচারকদের সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
৫ ঘণ্টা আগে
আমাদের মূল লক্ষ্য প্রচলিত শিক্ষাব্যবস্থাকে আধুনিক ও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে রূপান্তর করা বলে জানিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
৬ ঘণ্টা আগে
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘রড-সিমেন্ট নয়, চীন-বাংলাদেশ সম্পর্কের মূলভিত্তি হবে শিক্ষা। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে চীন যেভাবে জনসংখ্যাকে জনসম্পদে রূপান্তর করেছে জনবহুল দেশ হিসেবে দেশের জন্য অনুকরণীয়।’
৬ ঘণ্টা আগে