
ডেস্ক, রাজনীতি ডটকম

সমুদ্রের গভীরে বাস করে নানা রকম আশ্চর্য প্রাণী। এর মধ্যে ইলেকট্রিক ইল অন্যতম। দেখতে বাইম মাছের মতো হলেও এর এক বিশেষ ক্ষমতা আছে, যা শুনলে অবাক হতে হয়—এই মাছ নিজের শরীর থেকে বিদ্যুৎ তৈরি করতে পারে!
ইলেকট্রিক ইল আসলে এক ধরনের সামুদ্রিক মাছ। সাধারণত এরা গভীর পানিতে বসবাস করে। ইলেকট্রিক ইলের শরীরে থাকে বিশেষ ধরনের কোষ, যাদের বলা হয় ‘ইলেকট্রোসাইটস’। এই কোষগুলো একসঙ্গে মিলে একটি শক্তিশালী বিদ্যুৎ প্রবাহ তৈরি করতে সক্ষম হয়। ভাবা যায়? মাছের শরীর থেকেই বিদ্যুৎ উৎপন্ন হচ্ছে!
এই ইলেকট্রোসাইট কোষগুলো শরীরে ধারাবাহিকভাবে, অর্থাৎ সিরিজের মতো করে সাজানো থাকে। একে তুলনা করা যেতে পারে ব্যাটারির সিরিজ কানেকশনের সঙ্গে। যেমন কয়েকটি ব্যাটারি যদি একসঙ্গে জোড়া দেওয়া হয়, তাহলে মোট ভোল্টেজ বেড়ে যায়। ঠিক একইভাবে, ইলের শরীরের এই কোষগুলো একসঙ্গে কাজ করে বড় ধরনের বিদ্যুৎ তৈরি করে।
কীভাবে ইলেকট্রিক ইল বিদ্যুৎ তৈরি করে?
এর মস্তিষ্ক যখন নির্দেশ দেয়, তখন ইলেকট্রোসাইট কোষগুলোর মধ্যে তড়িৎ প্রবাহ তৈরি হয়। প্রতিটি কোষ আলাদা করে খুব সামান্য ভোল্টেজ তৈরি করে। কিন্তু সব কোষ একসঙ্গে কাজ করলে অনেক বড় ভোল্টেজের বিদ্যুৎ সৃষ্টি হয়। ইলেকট্রিক ইল এই বিদ্যুৎ ব্যবহার করে শিকার ধরতে, শত্রুর হাত থেকে আত্মরক্ষা করতে, এমনকি অন্ধকার পানিতে পথ খুঁজতেও।
তাহলে প্রশ্ন আসে—একটি ইলেকট্রিক ইল কতটা শক্তিশালী বিদ্যুৎ তৈরি করতে পারে?
একটি পূর্ণবয়স্ক ইলেকট্রিক ইল ৫০০ থেকে ৬০০ ভোল্ট পর্যন্ত বিদ্যুৎ উৎপন্ন করতে পারে! শুধু তাই নয়, এরা প্রায় ১ অ্যাম্পিয়ার পর্যন্ত বিদ্যুৎ প্রবাহ তৈরি করতে সক্ষম। তবে মনে রাখতে হবে, এই বিদ্যুৎ মুহূর্তের জন্য তৈরি হয়, খুব বেশি সময় ধরে নয়।
তুলনা করতে চাইলে বলা যায়, ইলের তৈরি বিদ্যুৎ দিয়ে বর্তমান যুগের প্রায় ১০টি ছয় ওয়াটের বাল্ব জ্বালানো সম্ভব। তবে যেহেতু ইলের বিদ্যুৎ একটানা চলে না, তাই বাল্বগুলো একবার জ্বলে আবার নিভে যাবে।
ইলেকট্রিক ইলের শরীরে থাকা বিশেষ পেশি তাদের বিদ্যুৎ প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করে। শিকারের অবস্থান টের পেতে বা শিকারের ওপর আঘাত হানতে ইলেরা এই বিদ্যুৎ ব্যবহার করে। কখনো কখনো আত্মরক্ষার জন্যও এরা বিদ্যুৎ দিয়ে প্রতিপক্ষকে দুর্বল করে দেয়।
প্রশ্ন আসতে পারে, ইলেকট্রিক ইলের বিদ্যুৎ কি মানুষের জন্য ভয়ংকর?
আসলে, ইলের একটি একক আঘাত সাধারণত মানুষের জন্য প্রাণঘাতী হয় না। তবে যদি কেউ দীর্ঘ সময় ধরে ইলের আক্রমণের মধ্যে পড়ে, অথবা যদি কোনো দুর্বল ব্যক্তি হয়, তখন বিপদ হতে পারে। বিশেষ করে পানিতে থাকলে ইলের শক আরও বেশি বিপজ্জনক হতে পারে, কারণ পানি বিদ্যুৎ পরিবাহকের কাজ করে।
ইলেকট্রিক ইল সম্পর্কে আরও কিছু মজার তথ্য জানা যাক—
ইলেকট্রিক ইল আসলে কোনো ‘সত্যিকারের ইল’ নয়! এর বৈজ্ঞানিক নাম Electrophorus electricus। এরা ‘নাইফফিশ’ গোত্রের সদস্য। সাধারণত দক্ষিণ আমেরিকার নদী, জলাভূমি আর প্লাবনভূমিতে এদের দেখা মেলে। বিশেষ করে আমাজন নদী আর তার শাখা-উপশাখায় এদের সংখ্যা বেশি।
ইলেকট্রিক ইলের দেহ লম্বা ও নলাকার। বেশিরভাগ ইলের দৈর্ঘ্য প্রায় ২ মিটার (৬ ফুট) পর্যন্ত হতে পারে, আর ওজন প্রায় ২০ কেজি পর্যন্ত হয়। এরা মূলত নিশাচর প্রাণী, অর্থাৎ রাতের বেলা বেশি সক্রিয় হয়। দিনের বেলা পানির তলায় চুপচাপ থাকে।
এরা সাধারণত ছোট মাছ, জলজ কীটপতঙ্গ ও কিছু জলজ উদ্ভিদ খেয়ে বেঁচে থাকে। শিকার ধরার সময় এরা হঠাৎ করে তীব্র বিদ্যুৎ প্রবাহ ছাড়ে। এতে শিকার সংজ্ঞাহীন হয়ে পড়ে, তখন সহজেই ইল তাকে ধরে ফেলে। কখনো কখনো ইল তার বিদ্যুৎ ব্যবহার করে জলজ উদ্ভিদের ভেতর লুকিয়ে থাকা শিকারকেও বের করে আনতে পারে।
ইলেকট্রিক ইল শুধু বিদ্যুৎ উৎপাদন করে না, নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ করার জন্যও ছোট ছোট বিদ্যুৎ সংকেত ব্যবহার করে। বিশেষ করে প্রজনন মৌসুমে এরা একে অপরের সঙ্গে যোগাযোগ করতে এই পদ্ধতি ব্যবহার করে।
তাদের এই বিদ্যুৎ উৎপাদনের ক্ষমতা দেখে বিজ্ঞানীরাও মুগ্ধ। আজকাল গবেষকরা ইলের বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রক্রিয়া থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে নানা ধরনের জৈবিক ব্যাটারি তৈরির চেষ্টা করছেন। ভবিষ্যতে হয়তো ইলের মতো প্রাকৃতিক উপায়ে বিদ্যুৎ তৈরি করার প্রযুক্তি আমাদের দৈনন্দিন জীবনে কাজে লাগবে!
শেষ কথা হলো, ইলেকট্রিক ইল প্রকৃতির এক বিস্ময়। ছোট একটি মাছ হয়েও এরা আমাদের দেখিয়েছে যে, প্রকৃতির শক্তি কত বৈচিত্র্যময় হতে পারে। এই আশ্চর্য প্রাণী আমাদের শেখায়—প্রকৃতি কখনোই একঘেয়ে নয়, বরং প্রতিটি প্রাণীর ভেতরেই লুকিয়ে আছে এক একটি ভিন্ন জগৎ।
সূত্র: বিবিসি ফোকাস

সমুদ্রের গভীরে বাস করে নানা রকম আশ্চর্য প্রাণী। এর মধ্যে ইলেকট্রিক ইল অন্যতম। দেখতে বাইম মাছের মতো হলেও এর এক বিশেষ ক্ষমতা আছে, যা শুনলে অবাক হতে হয়—এই মাছ নিজের শরীর থেকে বিদ্যুৎ তৈরি করতে পারে!
ইলেকট্রিক ইল আসলে এক ধরনের সামুদ্রিক মাছ। সাধারণত এরা গভীর পানিতে বসবাস করে। ইলেকট্রিক ইলের শরীরে থাকে বিশেষ ধরনের কোষ, যাদের বলা হয় ‘ইলেকট্রোসাইটস’। এই কোষগুলো একসঙ্গে মিলে একটি শক্তিশালী বিদ্যুৎ প্রবাহ তৈরি করতে সক্ষম হয়। ভাবা যায়? মাছের শরীর থেকেই বিদ্যুৎ উৎপন্ন হচ্ছে!
এই ইলেকট্রোসাইট কোষগুলো শরীরে ধারাবাহিকভাবে, অর্থাৎ সিরিজের মতো করে সাজানো থাকে। একে তুলনা করা যেতে পারে ব্যাটারির সিরিজ কানেকশনের সঙ্গে। যেমন কয়েকটি ব্যাটারি যদি একসঙ্গে জোড়া দেওয়া হয়, তাহলে মোট ভোল্টেজ বেড়ে যায়। ঠিক একইভাবে, ইলের শরীরের এই কোষগুলো একসঙ্গে কাজ করে বড় ধরনের বিদ্যুৎ তৈরি করে।
কীভাবে ইলেকট্রিক ইল বিদ্যুৎ তৈরি করে?
এর মস্তিষ্ক যখন নির্দেশ দেয়, তখন ইলেকট্রোসাইট কোষগুলোর মধ্যে তড়িৎ প্রবাহ তৈরি হয়। প্রতিটি কোষ আলাদা করে খুব সামান্য ভোল্টেজ তৈরি করে। কিন্তু সব কোষ একসঙ্গে কাজ করলে অনেক বড় ভোল্টেজের বিদ্যুৎ সৃষ্টি হয়। ইলেকট্রিক ইল এই বিদ্যুৎ ব্যবহার করে শিকার ধরতে, শত্রুর হাত থেকে আত্মরক্ষা করতে, এমনকি অন্ধকার পানিতে পথ খুঁজতেও।
তাহলে প্রশ্ন আসে—একটি ইলেকট্রিক ইল কতটা শক্তিশালী বিদ্যুৎ তৈরি করতে পারে?
একটি পূর্ণবয়স্ক ইলেকট্রিক ইল ৫০০ থেকে ৬০০ ভোল্ট পর্যন্ত বিদ্যুৎ উৎপন্ন করতে পারে! শুধু তাই নয়, এরা প্রায় ১ অ্যাম্পিয়ার পর্যন্ত বিদ্যুৎ প্রবাহ তৈরি করতে সক্ষম। তবে মনে রাখতে হবে, এই বিদ্যুৎ মুহূর্তের জন্য তৈরি হয়, খুব বেশি সময় ধরে নয়।
তুলনা করতে চাইলে বলা যায়, ইলের তৈরি বিদ্যুৎ দিয়ে বর্তমান যুগের প্রায় ১০টি ছয় ওয়াটের বাল্ব জ্বালানো সম্ভব। তবে যেহেতু ইলের বিদ্যুৎ একটানা চলে না, তাই বাল্বগুলো একবার জ্বলে আবার নিভে যাবে।
ইলেকট্রিক ইলের শরীরে থাকা বিশেষ পেশি তাদের বিদ্যুৎ প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করে। শিকারের অবস্থান টের পেতে বা শিকারের ওপর আঘাত হানতে ইলেরা এই বিদ্যুৎ ব্যবহার করে। কখনো কখনো আত্মরক্ষার জন্যও এরা বিদ্যুৎ দিয়ে প্রতিপক্ষকে দুর্বল করে দেয়।
প্রশ্ন আসতে পারে, ইলেকট্রিক ইলের বিদ্যুৎ কি মানুষের জন্য ভয়ংকর?
আসলে, ইলের একটি একক আঘাত সাধারণত মানুষের জন্য প্রাণঘাতী হয় না। তবে যদি কেউ দীর্ঘ সময় ধরে ইলের আক্রমণের মধ্যে পড়ে, অথবা যদি কোনো দুর্বল ব্যক্তি হয়, তখন বিপদ হতে পারে। বিশেষ করে পানিতে থাকলে ইলের শক আরও বেশি বিপজ্জনক হতে পারে, কারণ পানি বিদ্যুৎ পরিবাহকের কাজ করে।
ইলেকট্রিক ইল সম্পর্কে আরও কিছু মজার তথ্য জানা যাক—
ইলেকট্রিক ইল আসলে কোনো ‘সত্যিকারের ইল’ নয়! এর বৈজ্ঞানিক নাম Electrophorus electricus। এরা ‘নাইফফিশ’ গোত্রের সদস্য। সাধারণত দক্ষিণ আমেরিকার নদী, জলাভূমি আর প্লাবনভূমিতে এদের দেখা মেলে। বিশেষ করে আমাজন নদী আর তার শাখা-উপশাখায় এদের সংখ্যা বেশি।
ইলেকট্রিক ইলের দেহ লম্বা ও নলাকার। বেশিরভাগ ইলের দৈর্ঘ্য প্রায় ২ মিটার (৬ ফুট) পর্যন্ত হতে পারে, আর ওজন প্রায় ২০ কেজি পর্যন্ত হয়। এরা মূলত নিশাচর প্রাণী, অর্থাৎ রাতের বেলা বেশি সক্রিয় হয়। দিনের বেলা পানির তলায় চুপচাপ থাকে।
এরা সাধারণত ছোট মাছ, জলজ কীটপতঙ্গ ও কিছু জলজ উদ্ভিদ খেয়ে বেঁচে থাকে। শিকার ধরার সময় এরা হঠাৎ করে তীব্র বিদ্যুৎ প্রবাহ ছাড়ে। এতে শিকার সংজ্ঞাহীন হয়ে পড়ে, তখন সহজেই ইল তাকে ধরে ফেলে। কখনো কখনো ইল তার বিদ্যুৎ ব্যবহার করে জলজ উদ্ভিদের ভেতর লুকিয়ে থাকা শিকারকেও বের করে আনতে পারে।
ইলেকট্রিক ইল শুধু বিদ্যুৎ উৎপাদন করে না, নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ করার জন্যও ছোট ছোট বিদ্যুৎ সংকেত ব্যবহার করে। বিশেষ করে প্রজনন মৌসুমে এরা একে অপরের সঙ্গে যোগাযোগ করতে এই পদ্ধতি ব্যবহার করে।
তাদের এই বিদ্যুৎ উৎপাদনের ক্ষমতা দেখে বিজ্ঞানীরাও মুগ্ধ। আজকাল গবেষকরা ইলের বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রক্রিয়া থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে নানা ধরনের জৈবিক ব্যাটারি তৈরির চেষ্টা করছেন। ভবিষ্যতে হয়তো ইলের মতো প্রাকৃতিক উপায়ে বিদ্যুৎ তৈরি করার প্রযুক্তি আমাদের দৈনন্দিন জীবনে কাজে লাগবে!
শেষ কথা হলো, ইলেকট্রিক ইল প্রকৃতির এক বিস্ময়। ছোট একটি মাছ হয়েও এরা আমাদের দেখিয়েছে যে, প্রকৃতির শক্তি কত বৈচিত্র্যময় হতে পারে। এই আশ্চর্য প্রাণী আমাদের শেখায়—প্রকৃতি কখনোই একঘেয়ে নয়, বরং প্রতিটি প্রাণীর ভেতরেই লুকিয়ে আছে এক একটি ভিন্ন জগৎ।
সূত্র: বিবিসি ফোকাস

উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি ও সমমান) পরীক্ষার প্রথম দিনেই ২৪ হাজার ৭৮৪ জন পরীক্ষার্থী অনুপস্থিত ছিলেন। ফরম পূরণ করেও এসব শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেননি। সংখ্যার হিসাবে এটি গত দুই বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।
১৭ ঘণ্টা আগে
কালেমা খচিত পতাকা বা ইসলামের অন্যান্য ধর্মীয় প্রতীককে ঘিরে কোনো ধরনের বিভ্রান্তি, অবমাননা কিংবা রাজনৈতিক অপব্যবহার কাম্য নয় বলে মন্তব্য করেছেন ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন কায়কোবাদ।
১৮ ঘণ্টা আগে
পদ্মা রেল সংযোগ সেতুর পিলারের নিচে মাটি কেটে নেওয়া ‘ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার স্বার্থেই’ এবং এতে কোনো ধরনের ‘ঝুঁকি নেই’ বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতু, নৌপরিবহন এবং রেলপথ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।
১৮ ঘণ্টা আগে
এ পর্যন্ত হামের লক্ষণ নিয়ে সবচেয়ে বেশি ২৭২ শিশু মারা গেছে ঢাকা বিভাগে। এ ছাড়া রাজশাহী বিভাগে ৮৮, সিলেটে ৮২, চট্টগ্রামে ৫১, বরিশালে ৪০, ময়মনসিংহে ৬২, খুলনায় ২৮ এবং রংপুরে ৮ শিশু মারা গেছে।
১৯ ঘণ্টা আগে