এল নিনো: দক্ষিণ এশিয়া জুড়ে তাপপ্রবাহ-খরা ও খাদ্য সংকটের আশঙ্কা

ডেস্ক, রাজনীতি ডটকম
প্রচণ্ড গরমে স্বেচ্ছাসেবকদের বিতরণ করা শরবতে একটু স্বস্তি খুঁজছে মানুষ। ভারতের পাঞ্জাব রাজ্যের অমৃতসরে। ছবি: সংগৃহীত

জাতিসংঘের আবহাওয়া সংস্থা (ডব্লিউএমও) সতর্ক করে বলেছে, চলতি বছর শক্তিশালী ‘এল নিনো’ ফিরে আসার আশঙ্কা অত্যন্ত বেশি। আর সেটি ঘটলে বিশ্ব জুড়ে তাপমাত্রা বৃদ্ধি, চরম আবহাওয়া ও জলবায়ুজনিত দুর্যোগ আরও তীব্র হতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মানবসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবের সঙ্গে এল নিনো যুক্ত হলে সবচেয়ে ভয়াবহ প্রভাব পড়বে দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের ওপর।

ডব্লিউএমওর তথ্য অনুযায়ী, সেপ্টেম্বরের আগেই এল নিনো গঠনের সম্ভাবনা ৮০ শতাংশ এবং নভেম্বরের মধ্যে তা ৯০ শতাংশে পৌঁছাতে পারে। এর ফলে দক্ষিণ এশিয়ায় তীব্র তাপপ্রবাহ, বৃষ্টিপাতের ঘাটতি, খরা ও কৃষি উৎপাদনে বড় ধরনের চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

ব্রিটিশ গণমাধ্যম গার্ডিয়ানের খবরে বলা হয়েছে, মৌসুমি বৃষ্টিপাত দুর্বল হয়ে পড়াকে দক্ষিণ এশিয়ার জন্য সবচেয়ে বড় উদ্বেগের বিষয় বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তারা বলছেন, এ অঞ্চলের কোটি কোটি মানুষ কৃষি, পানীয় জল ও বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য মৌসুমি বৃষ্টির ওপর নির্ভরশীল। এল নিনোর কারণে বর্ষা বিলম্বিত হলে বা স্বাভাবিকের তুলনায় কম বৃষ্টি হলে কৃষি উৎপাদন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

ভারতীয় কৃষি বিশ্লেষক ও কর্মী দেবেন্দর শর্মা সতর্ক করে বলেছেন, জলবায়ু পরিবর্তন ও বর্তমান ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যে ২০২৬ সাল দক্ষিণ এশিয়ার জন্য বড় পরীক্ষা হয়ে উঠতে পারে। তার মতে, চলমান তীব্র গরমের সঙ্গে এল নিনোর প্রভাব যুক্ত হলে কৃষি খাত সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়বে।

দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশে এরই মধ্যে তাপপ্রবাহের প্রভাব দেখা যাচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এল নিনোর কারণে তাপমাত্রা আরও বাড়তে পারে, যা জনস্বাস্থ্য, শ্রম উৎপাদনশীলতা ও বিদ্যুৎ ব্যবস্থার ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি করবে। একই সঙ্গে পানির চাহিদা বাড়লেও সরবরাহ কমে যাওয়ার ঝুঁকি থাকবে।

সিটি ইউনিভার্সিটি অব হংকংয়ের স্কুল অব এনার্জি অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টের ডিন অধ্যাপক বেনজামিন হর্টন বলেন, ‘দক্ষিণপূর্ব এশিয়া এল নিনোর প্রভাবের ক্ষেত্রে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলগুলোর একটি। আমার কাছে এই এল নিনো পর্বকে বিশেষভাবে উদ্বেগজনক করে তুলেছে যে এটি মানবসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে ঘটছে। আমরা আর বিচ্ছিন্নভাবে শুধু এল নিনোর প্রভাব মোকাবিলা করছি না।’

কৃষি খাতের পাশাপাশি খাদ্য নিরাপত্তাও হুমকির মুখে পড়তে পারে। বৃষ্টিপাত কমে গেলে ধানসহ প্রধান খাদ্যশস্যের উৎপাদন কমে যেতে পারে, যার প্রভাব গিয়ে পড়বে বাজারমূল্য ও নিম্ন আয়ের মানুষের খাদ্যপ্রাপ্তির ওপর। বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, খরা দীর্ঘায়িত হলে গ্রামীণ অঞ্চলে পানির সংকটও তীব্র হতে পারে।

জলবায়ুবিজ্ঞানীরা বলছেন, এল নিনোকে শুধু একটি আবহাওয়া ঘটনা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এটি এমন এক সময়ে ফিরে আসছে, যখন বৈশ্বিক উষ্ণতা ইতোমধ্যেই নতুন নতুন রেকর্ড গড়ছে। ফলে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর জন্য এটি হবে দুর্যোগ প্রস্তুতি, খাদ্য নিরাপত্তা, পানি ব্যবস্থাপনা এবং জনস্বাস্থ্য সুরক্ষার সক্ষমতা যাচাইয়ের একটি বড় পরীক্ষা।

ইউনিভার্সিটি মালয়েশিয়া সাবাহর অধ্যাপক জাস্টিন সেনটিয়ান বলেন, ‘সাধারণত শক্তিশালী বায়ুপ্রবাহ উষ্ণ সমুদ্রপৃষ্ঠের পানি পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরের দিকে ঠেলে দেয়, যা দক্ষিণপূর্ব এশিয়ায় ভারী বৃষ্টিপাতের মাধ্যমে অঞ্চলের জলবায়ু ও জীবিকা টিকিয়ে রাখে। কিন্তু যখন এই বায়ুপ্রবাহ দুর্বল হয়ে যায় বা বিপরীতমুখী হয়, তখন উষ্ণ পানির এই স্তর পূর্ব দিকে সরে যায়। ফলে মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, ইন্দোনেশিয়া, থাইল্যান্ড ও ফিলিপাইনের মতো দেশগুলো বায়ুমণ্ডলের প্রয়োজনীয় আর্দ্রতা থেকে বঞ্চিত হয়।’

সেনটিয়ান আরও বলেন, ‘এল নিনোর কারণে বাষ্পীভবন বাড়তে থাকলে এই ভঙ্গুর পানির উৎসগুলো দ্রুত শুকিয়ে যেতে বাধ্য। পানি পরিশোধনের সুবিধা না থাকায় অনেক পরিবারকে নদীর শুকিয়ে যাওয়া তলদেশে জমে থাকা অনিরাপদ পানি সংগ্রহ করতে হয়, যা কলেরার মতো পানিবাহিত রোগের প্রকোপ বাড়িয়ে দিতে পারে।’

বিশেষজ্ঞদের মতে, সম্ভাব্য ক্ষতি কমাতে এখনই আগাম প্রস্তুতি নেওয়া জরুরি, কারণ এল নিনোর প্রভাব বছরের দ্বিতীয়ার্ধে আরও স্পষ্ট হয়ে উঠতে পারে।

ad
ad

খবরাখবর থেকে আরও পড়ুন

বিয়ের আশ্বাসে শারীরিক সম্পর্ক: অতিরিক্ত ডিআইজি জহিরুলের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা

মামলার অভিযোগে বলা হয়, ২০২১ সালের জানুয়ারিতে মাগুরার পুলিশ সুপার হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে জহিরুল ইসলামের সঙ্গে ওই নারীর পরিচয় হয়। পরে বিভিন্ন অজুহাতে তাকে অফিসে ডেকে ব্যক্তিগত সম্পর্ক গড়ে তোলেন। একপর্যায়ে নিজের সাবেক স্ত্রীকে তালাক দিয়ে ওই নারীকে বিয়ে করার আশ্বাস ও প্রতিশ্রুতি দেন।

২ ঘণ্টা আগে

দাবি না মানলে ২৩ আগস্ট থেকে সিএনজি পাম্প বন্ধ: মালিক সমিতি

সংগঠনটির দাবি, প্রতি ঘনমিটার সিএনজি বিক্রিতে কমিশন ৮ টাকা থেকে বাড়িয়ে কমপক্ষে ১৩ টাকা ৯৬ পয়সা করতে হবে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে গ্যাসের দাম বাড়লে তার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে স্বয়ংক্রিয়ভাবে কমিশন সমন্বয়ের ব্যবস্থা করতে হবে। এ ছাড়া গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির অজুহাতে পুরোনো গ্রাহকদের কাছ থেকে অতিরিক্ত জামানত নেওয়া বন

২ ঘণ্টা আগে

আলিম পরীক্ষায় নকল সরবরাহ: শিক্ষকের কারাদণ্ড, ৫ পরীক্ষার্থী বহিষ্কার

উপজেলা প্রশাসন ও কেন্দ্র সূত্রে জানা যায়, ইসলামের ইতিহাস পরীক্ষা চলাকালে কেন্দ্রের ৩০১ নম্বর কক্ষে পাঁচজন পরীক্ষার্থীকে নকল সরবরাহ করার অভিযোগ ওঠে শিক্ষক মনিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে কেন্দ্রে স্থাপিত সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ পর্যালোচনা করে নকল সরবরাহের বিষয়টি নিশ্চিত হয় উপজেলা

৩ ঘণ্টা আগে

মাধ্যমিক পরীক্ষার ফল প্রকাশ ১০ আগস্ট

সোমবার (২৭ জুলাই) বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামানের সই রয়েছে।

৫ ঘণ্টা আগে