
বিবিসি বাংলা

বাংলাদেশে ২০২৪ সালের অগাস্টে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর যখন প্রশাসন থেকে শুরু করে সুপ্রিম কোর্টে পর্যন্ত পরিবর্তন হয়েছে, তখন আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট মো. সাহাবুদ্দিন কীভাবে তার পদে টিকে থাকলেন সেটি অনেকের কাছেই কৌতূহলের বিষয়।
ওই সময় দেশের তখনকার প্রধান বিচারপতিকে পদত্যাগ করতে হয়েছিল এবং সংসদের স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী অজ্ঞাত অবস্থানে থেকেই পরে পদত্যাগ করেছিলেন বলে সংবাদ মাধ্যমে খবর এসেছিল।
অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে কমপক্ষে দুই দফায় রাষ্ট্রপতির অপসারণ কিংবা পদত্যাগের দাবিতে বঙ্গভবন ঘেরাও কিংবা বড় ধরনের চাপ তৈরি করা হলেও মো. সাহাবুদ্দিন থেকে গেছেন বঙ্গভবনেই। তিনিই গত ১২ই ফেব্রুয়ারি সংসদ নির্বাচনের পর ১৭ই ফেব্রুয়ারি নতুন নির্বাচিত সরকারের প্রধানমন্ত্রীকে শপথ পড়িয়েছেন।
মো. সাহাবুদ্দিন নিজেই তার টিকে যাওয়ার রহস্য উন্মোচন করেছেন ঢাকার দৈনিক কালের কণ্ঠকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে। তিনি সেখানে বলেছেন, "আমার দুঃসময়ে বিএনপির সহযোগিতা শতভাগ ছিল"।
পাশাপাশি অন্তর্বর্তী সরকারের ভেতর থেকেও তাকে অপসারণের চেষ্টার অভিযোগ করে তিনি বলেছেন, বিএনপি জোট ও সশস্ত্র বাহিনী তখন তাকে আশ্বস্ত করেছে ও সমর্থন যুগিয়েছে।
রাষ্ট্রপতি ওই সাক্ষাৎকারে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইংয়ের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপতির প্রেস উইং বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ এনেছেন। একই সঙ্গে বিদেশ সফরের পর নিয়মানুযায়ী রাষ্ট্রপতিকে সফর বা চুক্তির বিষয়ে অবহিত না করার অভিযোগ করেছেন বিদায়ী প্রধান উপদেষ্টার বিরুদ্ধে।
তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বিদেশে বাংলাদেশের মিশনগুলো থেকে তাকে অবহিত না করেই রাষ্ট্রপতির ছবি নামানো নিয়েও।
রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের এসব বক্তব্যের বিষয়ে সাবেক প্রধান উপদেষ্টার তৎকালীন প্রেস উইংয়ের সদস্যদের সাথে যোগাযোগ করা হলে, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন সাবেক সদস্য বলেছেন যে, এই বিষয়ে তারা কোনো মন্তব্য করতে চান না।
বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে ২০২৩ সালের ২৪শে এপ্রিল শপথ নিয়েছিলেন মো. সাহাবুদ্দিন।
এর আগে তখনকার ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে ওই বছরের ১৩ই ফেব্রুয়ারি রাষ্ট্রপতি পদে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছিলেন তিনি। রাষ্ট্রপতি হওয়ার আগে তিনি আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ছিলেন।
এখন প্রশ্ন হলো, বিএনপি কেন অন্তর্বর্তী সরকারের ওই সময়কালে রাষ্ট্রপতি পদে মো. সাহাবুদ্দিনের জন্য ঢাল হয়ে দাঁড়িয়েছিল কিংবা কেন রাষ্ট্রপতি পদে তাকে বহাল রাখতে অনড় ছিল?
কেন অনড় ছিল বিএনপি
রাষ্ট্রপতি পদ থেকে মো. সাহাবুদ্দিনের অপসারণের দাবি যখন উঠছিল, তখন বিএনপির সিনিয়র নেতারা রাষ্ট্রপতির অপসারণের বিরোধিতার কথা বলেছিলেন প্রকাশ্যেই।
তখন তারা এর পক্ষে 'রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নষ্ট হতে পারে', 'সাংবিধানিক সংকট হতে পারে' কিংবা 'নির্বাচন বাধাগ্রস্ত হতে পারে' - এমন কিছু যেন না হয় সেই যুক্তি তুলে ধরেছিলেন।
কিন্তু এখন আর বিষয়টি নিয়ে প্রকাশ্যে মন্তব্য করতে রাজি নন দলটি সিনিয়র নেতারা। দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য ডঃ খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেছেন, এ নিয়ে কী আলোচনা হয়েছে সেটি তার জানা নেই।
অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে দলের হয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা স্থায়ী কমিটির আরেকজন সদস্য নাম প্রকাশ না করার অনুরোধ করে বলেছেন, রাষ্ট্রপতি ইস্যুতে তাদের অবস্থান ছিল এমন যে- যাতে করে এটিকে কেন্দ্র করে দেশের স্থিতিশীলতায় কোনো সংকট না হয়, যা সার্বিক রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও বিপন্ন করে তুলতে পারতো।
তার মতে, বিএনপি তখন সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা অক্ষুণ্ণ রাখা ও দ্রুত নির্বাচন আদায়ের নীতি নিয়েছিল। তারা মনে করেছেন শেখ হাসিনার পতনের পর যখন সব সংবিধান অনুসরণ করেই হচ্ছিল, তখন অসাংবিধানিক পন্থায় রাষ্ট্রপতিকে সরানো হলে সেটি পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটাতো।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক মহিউদ্দিন আহমদ বলছেন, শেখ হাসিনার পতনের পর শুরু থেকেই বিএনপি নির্বাচন চেয়ে আসছিল এবং নির্বাচন ঝুঁকিতে পড়বে এমন কিছুতেই দলটি সায় দিতে রাজি ছিলো না।
"রাষ্ট্রপতিকে কেন্দ্র করে নির্বাচন অনিশ্চিত হোক সেটি তারা চায়নি। কারণ তারা জানতো যে যত দ্রুত নির্বাচন হবে তত তারা ভালো করবে। এজন্যই রাষ্ট্রপতিকে অপসারণের বিপক্ষে তারা অবস্থান নিয়েছিল বলে আমার মনে হয়," বলেছেন তিনি।
বিএনপি নেতারা তখন যা বলেছিলেন
ঢাকায় ২২শে অক্টোবর রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের দাবিতে বঙ্গভবন ঘেরাওয়ের পর দিন ২৩শে অক্টোবর প্রধান উপদেষ্টার সাথে সাক্ষাৎ করে রাষ্ট্রপতি বিষয়ে আলোচনা করেন বিএনপির তিনজন সিনিয়র নেতা।
সেখান থেকে বেরিয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান সাংবাদিকদের বলেছিলেন, দেশে যাতে নতুন করে সাংবিধানিক সংকট সৃষ্টি না হয়, সে জন্য তাঁরা অন্তর্বর্তী সরকারকে খেয়াল রাখতে বলেছেন।
ওইদিনই বিএনপি চেয়ারপার্সনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছিলেন, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে সাংবিধানিক সংকট তৈরি হবে এবং এতে জাতীয় সংসদ নির্বাচন বিলম্বিত হবে। তাই এই মুহূর্তে রাষ্ট্রপতির অপসারণ চায় না বিএনপি।
তিনি তখন আরও বলেছিলেন,"এই পদটা একটা সাংবিধানিক পদ, একটা প্রতিষ্ঠান। সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদ। এই পদে হঠাৎ করে পদত্যাগের মাধ্যমে শূন্যতা সৃষ্টি হলে সাংবিধানিক শূন্যতা সৃষ্টি হবে। রাষ্ট্রীয় সংকটের সৃষ্টি হবে।"
অপসারণ বা পদত্যাগের দাবি কখন উঠেছিল
শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর থেকেই আন্দোলনকারীদের দিক থেকে রাষ্ট্রপতির পদ থেকে মো. সাহাবুদ্দিনকে সরিয়ে দেওয়ার দাবি উঠতে থাকে। যদিও তার কাছেই শপথ নিয়েছিল অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার।
মি. ইউনূস শপথ নেওয়ার পর আর কখনো বঙ্গভবনে গিয়ে রাষ্ট্রপতির সাথে সাক্ষাৎ করেননি। এমনকি সরকার প্রধানের বিদেশ সফর থেকে এসে রাষ্ট্রপতির সাথে সাক্ষাৎ করে সফরের বিস্তারিত জানানো কিংবা কোনো চুক্তি হলে তা রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করার যে রাষ্ট্রাচারের চর্চা ছিল সেটিও তিনি মানেননি।
অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের দুই মাসেরও বেশি সময় পর ১৯শে অক্টোবর ঢাকার দৈনিক মানবজমিন পত্রিকায় রাষ্ট্রপতির একটি সাক্ষাৎকার প্রকাশ হয়। এতে তিনি দাবি করেছিলেন 'তিনি শুনেছেন, শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন কিন্তু তাঁর কাছে কোনো দালিলিক প্রমাণ নেই"।
এ ঘটনায় তীব্র ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে অন্তর্বর্তী সরকার ছাড়াও শেখ হাসিনা সরকার পতনের আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনসহ আওয়ামী লীগ ও শেখ হাসিনা বিরোধী বিভিন্ন সংগঠন, যেগুলো শেখ হাসিনার পতনের পর গড়ে ওঠেছিল।
ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পদত্যাগ নিয়ে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন মিথ্যাচার করেছেন বলে তখন মন্তব্য করেছিলেন তখনকার অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল।
কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ২০২৪ সালের ২২শে অক্টোবর রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগ ও ছাত্রলীগকে নিষিদ্ধের দাবিতে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে গণজমায়েত কর্মসূচি শুরু বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন। ওই দিন বঙ্গভবনের সামনে অবস্থান নেয় একদল বিক্ষোভকারী।
ইনকিলাব মঞ্চ, রক্তিম জুলাই'২৪, ৩৬ জুলাই পরিষদ, জিয়াউর রহমান সমাজকল্যাণ পরিষদসহ বিভিন্ন নামে আলাদা আলাদা বিক্ষোভ শুরু হয় বঙ্গভবনের সামনে।
এক পর্যায়ে রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের দাবিতে বঙ্গভবনের সামনের রাস্তা অবরোধের পর রাতে ব্যারিকেড ভেঙে ভেতরে প্রবেশের চেষ্টা করে এসব সংগঠনের কর্মীরা। পরে সেই রাতে পুলিশ ও সেনা সদস্যদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
তখনকার তথ্য উপদেষ্টা নাহিদ ইসলাম ওইদিন সচিবালয়ে সাংবাদিকদের বলেছিলেন যে, রাষ্ট্রপতি ইস্যুতে সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে সরকার রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতা, নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলাকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে।
রাষ্ট্রপতি অবশ্য কালের কণ্ঠকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেছেন, "রাত ১২টার সময় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা তখনকার তথ্য উপদেষ্টা নাহিদ ইসলাম ফোন করল, 'এ রকম একটা খবর পাওয়া গেছে, ওরা আমাদের লোক না। আমি এ বিষয়ে প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে কথা বলেছি। এগুলো সব আমরা ডিসপার্স করার চেষ্টা করছি।"
ওদিকে এই ঘটনার আগে কিংবা পরে অন্তর্বর্তী সরকারের ভেতর থেকেও রাষ্ট্রপতি অপসারণের চেষ্টা হয়েছিল বলে জানিয়েছেন মো.সাহাবুদ্দিন।
বিএনপির বিষয়ে কী বলেছেন রাষ্ট্রপতি
সাক্ষাৎকারে অন্তর্বর্তী সরকারের ভেতর থেকে তাকে অপসারণের চেষ্টা হয়েছিল জানিয়ে রাষ্ট্রপতি কালের কণ্ঠকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেছেন, তখন বিএনপির 'উচ্চপদে আসীন' নেতা তাকে আশ্বস্ত করে বলেছিলেন, "আপনার প্রতি আমাদের সমর্থন আছে। আমরা সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা অক্ষুণ্ণ রাখতে চাই। কোনো অসাংবিধানিক উপায়ে রাষ্ট্রপতিকে অপসারণের পক্ষে আমরা নই"।
রাষ্ট্রপতি জানান, তাকে অপসারণের ওই উদ্যোগটি এসেছিল গণ-অভ্যুত্থানের কিছু নেতার চাপে। তখন দলগুলো ও অন্তর্বর্তী সরকার একটি সিদ্ধান্তে আসে যে রাজনৈতিক দলগুলো চাইলেই কেবল তিনি অপসারিত হবেন।
"আমি বলব যে বিএনপি ও তাদের জোটসঙ্গীরা একটা গ্রুপ হয়ে যায়। আর আরেকটা গ্রুপ হয়ে যায়, তাদের আপনারা সবাই চেনেন। তবে তারা শেষ পর্যন্ত সফল হয়নি। উদ্যোগটা ব্যর্থ হলো বিএনপি ও তাদের জোটের কারণে। একটা বৃহত্তর রাজনৈতিক দল যে স্ট্যান্ডটা নিয়েছে, সেটাকে সরকার তখন সমর্থন করতে বাধ্য হলো," সাক্ষাৎকারে কালের কণ্ঠকে বলেছেন রাষ্ট্রপতি।
তিনি আরও বলেছেন, বিএনপির সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে তাকে তখন এই বলে আশ্বস্ত করা হয়েছিল যে তিনি যেন সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা রক্ষায় অবিচল থাকেন এবং কোনো অবৈধ উপায়ে রাষ্ট্রপতি অপসারণের পক্ষে তারা নয়।
"এ ছাড়া তিন বাহিনীর পক্ষ থেকে আমাকে সর্বোচ্চ সমর্থন দিয়েছে। তারা শুধু একটা কথাই বলেছে, 'মহামান্য, আপনি হচ্ছেন সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান। আপনার পরাজিত হওয়া মানে পুরো সশস্ত্র বাহিনীরই পরাজিত হওয়া। এটা আমরা যেকোনো মূল্যে রোধ করব।' শেষ পর্যন্ত তারা এটা করেছে," ওই সাক্ষাৎকারে বলেছেন মো. সাহাবুদ্দিন।
ওই সময়টিকে কঠিন সময় আখ্যায়িত করে রাষ্ট্রপতি বলেছেন, ওই কঠিন সময়েও বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্ব আমার পাশে ছিলেন এবং তাঁরা তখনো সংবিধানের ধারাবাহিকতা অক্ষুণ্ণ রাখার বিষয়টি আমার কাছে স্পষ্ট ভাষায় ব্যক্ত করেছেন।
"বিশেষ করে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে ঘিরে আমার মনের মধ্যে অনেক কৌতূহল জমা ছিল। কিন্তু আমি পর্যায়ক্রমে বুঝতে পারলাম, তিনি খুবই আন্তরিকতাপূর্ণ মানুষ। হি ওয়াজ সো কর্ডিয়াল! আমার দুঃসময়ে বিএনপির সহযোগিতা শতভাগ ছিল," বলেছেন তিনি।

বাংলাদেশে ২০২৪ সালের অগাস্টে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর যখন প্রশাসন থেকে শুরু করে সুপ্রিম কোর্টে পর্যন্ত পরিবর্তন হয়েছে, তখন আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট মো. সাহাবুদ্দিন কীভাবে তার পদে টিকে থাকলেন সেটি অনেকের কাছেই কৌতূহলের বিষয়।
ওই সময় দেশের তখনকার প্রধান বিচারপতিকে পদত্যাগ করতে হয়েছিল এবং সংসদের স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী অজ্ঞাত অবস্থানে থেকেই পরে পদত্যাগ করেছিলেন বলে সংবাদ মাধ্যমে খবর এসেছিল।
অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে কমপক্ষে দুই দফায় রাষ্ট্রপতির অপসারণ কিংবা পদত্যাগের দাবিতে বঙ্গভবন ঘেরাও কিংবা বড় ধরনের চাপ তৈরি করা হলেও মো. সাহাবুদ্দিন থেকে গেছেন বঙ্গভবনেই। তিনিই গত ১২ই ফেব্রুয়ারি সংসদ নির্বাচনের পর ১৭ই ফেব্রুয়ারি নতুন নির্বাচিত সরকারের প্রধানমন্ত্রীকে শপথ পড়িয়েছেন।
মো. সাহাবুদ্দিন নিজেই তার টিকে যাওয়ার রহস্য উন্মোচন করেছেন ঢাকার দৈনিক কালের কণ্ঠকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে। তিনি সেখানে বলেছেন, "আমার দুঃসময়ে বিএনপির সহযোগিতা শতভাগ ছিল"।
পাশাপাশি অন্তর্বর্তী সরকারের ভেতর থেকেও তাকে অপসারণের চেষ্টার অভিযোগ করে তিনি বলেছেন, বিএনপি জোট ও সশস্ত্র বাহিনী তখন তাকে আশ্বস্ত করেছে ও সমর্থন যুগিয়েছে।
রাষ্ট্রপতি ওই সাক্ষাৎকারে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইংয়ের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপতির প্রেস উইং বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ এনেছেন। একই সঙ্গে বিদেশ সফরের পর নিয়মানুযায়ী রাষ্ট্রপতিকে সফর বা চুক্তির বিষয়ে অবহিত না করার অভিযোগ করেছেন বিদায়ী প্রধান উপদেষ্টার বিরুদ্ধে।
তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বিদেশে বাংলাদেশের মিশনগুলো থেকে তাকে অবহিত না করেই রাষ্ট্রপতির ছবি নামানো নিয়েও।
রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের এসব বক্তব্যের বিষয়ে সাবেক প্রধান উপদেষ্টার তৎকালীন প্রেস উইংয়ের সদস্যদের সাথে যোগাযোগ করা হলে, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন সাবেক সদস্য বলেছেন যে, এই বিষয়ে তারা কোনো মন্তব্য করতে চান না।
বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে ২০২৩ সালের ২৪শে এপ্রিল শপথ নিয়েছিলেন মো. সাহাবুদ্দিন।
এর আগে তখনকার ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে ওই বছরের ১৩ই ফেব্রুয়ারি রাষ্ট্রপতি পদে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছিলেন তিনি। রাষ্ট্রপতি হওয়ার আগে তিনি আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ছিলেন।
এখন প্রশ্ন হলো, বিএনপি কেন অন্তর্বর্তী সরকারের ওই সময়কালে রাষ্ট্রপতি পদে মো. সাহাবুদ্দিনের জন্য ঢাল হয়ে দাঁড়িয়েছিল কিংবা কেন রাষ্ট্রপতি পদে তাকে বহাল রাখতে অনড় ছিল?
কেন অনড় ছিল বিএনপি
রাষ্ট্রপতি পদ থেকে মো. সাহাবুদ্দিনের অপসারণের দাবি যখন উঠছিল, তখন বিএনপির সিনিয়র নেতারা রাষ্ট্রপতির অপসারণের বিরোধিতার কথা বলেছিলেন প্রকাশ্যেই।
তখন তারা এর পক্ষে 'রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নষ্ট হতে পারে', 'সাংবিধানিক সংকট হতে পারে' কিংবা 'নির্বাচন বাধাগ্রস্ত হতে পারে' - এমন কিছু যেন না হয় সেই যুক্তি তুলে ধরেছিলেন।
কিন্তু এখন আর বিষয়টি নিয়ে প্রকাশ্যে মন্তব্য করতে রাজি নন দলটি সিনিয়র নেতারা। দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য ডঃ খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেছেন, এ নিয়ে কী আলোচনা হয়েছে সেটি তার জানা নেই।
অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে দলের হয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা স্থায়ী কমিটির আরেকজন সদস্য নাম প্রকাশ না করার অনুরোধ করে বলেছেন, রাষ্ট্রপতি ইস্যুতে তাদের অবস্থান ছিল এমন যে- যাতে করে এটিকে কেন্দ্র করে দেশের স্থিতিশীলতায় কোনো সংকট না হয়, যা সার্বিক রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও বিপন্ন করে তুলতে পারতো।
তার মতে, বিএনপি তখন সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা অক্ষুণ্ণ রাখা ও দ্রুত নির্বাচন আদায়ের নীতি নিয়েছিল। তারা মনে করেছেন শেখ হাসিনার পতনের পর যখন সব সংবিধান অনুসরণ করেই হচ্ছিল, তখন অসাংবিধানিক পন্থায় রাষ্ট্রপতিকে সরানো হলে সেটি পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটাতো।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক মহিউদ্দিন আহমদ বলছেন, শেখ হাসিনার পতনের পর শুরু থেকেই বিএনপি নির্বাচন চেয়ে আসছিল এবং নির্বাচন ঝুঁকিতে পড়বে এমন কিছুতেই দলটি সায় দিতে রাজি ছিলো না।
"রাষ্ট্রপতিকে কেন্দ্র করে নির্বাচন অনিশ্চিত হোক সেটি তারা চায়নি। কারণ তারা জানতো যে যত দ্রুত নির্বাচন হবে তত তারা ভালো করবে। এজন্যই রাষ্ট্রপতিকে অপসারণের বিপক্ষে তারা অবস্থান নিয়েছিল বলে আমার মনে হয়," বলেছেন তিনি।
বিএনপি নেতারা তখন যা বলেছিলেন
ঢাকায় ২২শে অক্টোবর রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের দাবিতে বঙ্গভবন ঘেরাওয়ের পর দিন ২৩শে অক্টোবর প্রধান উপদেষ্টার সাথে সাক্ষাৎ করে রাষ্ট্রপতি বিষয়ে আলোচনা করেন বিএনপির তিনজন সিনিয়র নেতা।
সেখান থেকে বেরিয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান সাংবাদিকদের বলেছিলেন, দেশে যাতে নতুন করে সাংবিধানিক সংকট সৃষ্টি না হয়, সে জন্য তাঁরা অন্তর্বর্তী সরকারকে খেয়াল রাখতে বলেছেন।
ওইদিনই বিএনপি চেয়ারপার্সনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছিলেন, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে সাংবিধানিক সংকট তৈরি হবে এবং এতে জাতীয় সংসদ নির্বাচন বিলম্বিত হবে। তাই এই মুহূর্তে রাষ্ট্রপতির অপসারণ চায় না বিএনপি।
তিনি তখন আরও বলেছিলেন,"এই পদটা একটা সাংবিধানিক পদ, একটা প্রতিষ্ঠান। সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদ। এই পদে হঠাৎ করে পদত্যাগের মাধ্যমে শূন্যতা সৃষ্টি হলে সাংবিধানিক শূন্যতা সৃষ্টি হবে। রাষ্ট্রীয় সংকটের সৃষ্টি হবে।"
অপসারণ বা পদত্যাগের দাবি কখন উঠেছিল
শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর থেকেই আন্দোলনকারীদের দিক থেকে রাষ্ট্রপতির পদ থেকে মো. সাহাবুদ্দিনকে সরিয়ে দেওয়ার দাবি উঠতে থাকে। যদিও তার কাছেই শপথ নিয়েছিল অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার।
মি. ইউনূস শপথ নেওয়ার পর আর কখনো বঙ্গভবনে গিয়ে রাষ্ট্রপতির সাথে সাক্ষাৎ করেননি। এমনকি সরকার প্রধানের বিদেশ সফর থেকে এসে রাষ্ট্রপতির সাথে সাক্ষাৎ করে সফরের বিস্তারিত জানানো কিংবা কোনো চুক্তি হলে তা রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করার যে রাষ্ট্রাচারের চর্চা ছিল সেটিও তিনি মানেননি।
অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের দুই মাসেরও বেশি সময় পর ১৯শে অক্টোবর ঢাকার দৈনিক মানবজমিন পত্রিকায় রাষ্ট্রপতির একটি সাক্ষাৎকার প্রকাশ হয়। এতে তিনি দাবি করেছিলেন 'তিনি শুনেছেন, শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন কিন্তু তাঁর কাছে কোনো দালিলিক প্রমাণ নেই"।
এ ঘটনায় তীব্র ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে অন্তর্বর্তী সরকার ছাড়াও শেখ হাসিনা সরকার পতনের আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনসহ আওয়ামী লীগ ও শেখ হাসিনা বিরোধী বিভিন্ন সংগঠন, যেগুলো শেখ হাসিনার পতনের পর গড়ে ওঠেছিল।
ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পদত্যাগ নিয়ে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন মিথ্যাচার করেছেন বলে তখন মন্তব্য করেছিলেন তখনকার অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল।
কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ২০২৪ সালের ২২শে অক্টোবর রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগ ও ছাত্রলীগকে নিষিদ্ধের দাবিতে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে গণজমায়েত কর্মসূচি শুরু বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন। ওই দিন বঙ্গভবনের সামনে অবস্থান নেয় একদল বিক্ষোভকারী।
ইনকিলাব মঞ্চ, রক্তিম জুলাই'২৪, ৩৬ জুলাই পরিষদ, জিয়াউর রহমান সমাজকল্যাণ পরিষদসহ বিভিন্ন নামে আলাদা আলাদা বিক্ষোভ শুরু হয় বঙ্গভবনের সামনে।
এক পর্যায়ে রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের দাবিতে বঙ্গভবনের সামনের রাস্তা অবরোধের পর রাতে ব্যারিকেড ভেঙে ভেতরে প্রবেশের চেষ্টা করে এসব সংগঠনের কর্মীরা। পরে সেই রাতে পুলিশ ও সেনা সদস্যদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
তখনকার তথ্য উপদেষ্টা নাহিদ ইসলাম ওইদিন সচিবালয়ে সাংবাদিকদের বলেছিলেন যে, রাষ্ট্রপতি ইস্যুতে সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে সরকার রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতা, নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলাকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে।
রাষ্ট্রপতি অবশ্য কালের কণ্ঠকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেছেন, "রাত ১২টার সময় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা তখনকার তথ্য উপদেষ্টা নাহিদ ইসলাম ফোন করল, 'এ রকম একটা খবর পাওয়া গেছে, ওরা আমাদের লোক না। আমি এ বিষয়ে প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে কথা বলেছি। এগুলো সব আমরা ডিসপার্স করার চেষ্টা করছি।"
ওদিকে এই ঘটনার আগে কিংবা পরে অন্তর্বর্তী সরকারের ভেতর থেকেও রাষ্ট্রপতি অপসারণের চেষ্টা হয়েছিল বলে জানিয়েছেন মো.সাহাবুদ্দিন।
বিএনপির বিষয়ে কী বলেছেন রাষ্ট্রপতি
সাক্ষাৎকারে অন্তর্বর্তী সরকারের ভেতর থেকে তাকে অপসারণের চেষ্টা হয়েছিল জানিয়ে রাষ্ট্রপতি কালের কণ্ঠকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেছেন, তখন বিএনপির 'উচ্চপদে আসীন' নেতা তাকে আশ্বস্ত করে বলেছিলেন, "আপনার প্রতি আমাদের সমর্থন আছে। আমরা সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা অক্ষুণ্ণ রাখতে চাই। কোনো অসাংবিধানিক উপায়ে রাষ্ট্রপতিকে অপসারণের পক্ষে আমরা নই"।
রাষ্ট্রপতি জানান, তাকে অপসারণের ওই উদ্যোগটি এসেছিল গণ-অভ্যুত্থানের কিছু নেতার চাপে। তখন দলগুলো ও অন্তর্বর্তী সরকার একটি সিদ্ধান্তে আসে যে রাজনৈতিক দলগুলো চাইলেই কেবল তিনি অপসারিত হবেন।
"আমি বলব যে বিএনপি ও তাদের জোটসঙ্গীরা একটা গ্রুপ হয়ে যায়। আর আরেকটা গ্রুপ হয়ে যায়, তাদের আপনারা সবাই চেনেন। তবে তারা শেষ পর্যন্ত সফল হয়নি। উদ্যোগটা ব্যর্থ হলো বিএনপি ও তাদের জোটের কারণে। একটা বৃহত্তর রাজনৈতিক দল যে স্ট্যান্ডটা নিয়েছে, সেটাকে সরকার তখন সমর্থন করতে বাধ্য হলো," সাক্ষাৎকারে কালের কণ্ঠকে বলেছেন রাষ্ট্রপতি।
তিনি আরও বলেছেন, বিএনপির সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে তাকে তখন এই বলে আশ্বস্ত করা হয়েছিল যে তিনি যেন সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা রক্ষায় অবিচল থাকেন এবং কোনো অবৈধ উপায়ে রাষ্ট্রপতি অপসারণের পক্ষে তারা নয়।
"এ ছাড়া তিন বাহিনীর পক্ষ থেকে আমাকে সর্বোচ্চ সমর্থন দিয়েছে। তারা শুধু একটা কথাই বলেছে, 'মহামান্য, আপনি হচ্ছেন সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান। আপনার পরাজিত হওয়া মানে পুরো সশস্ত্র বাহিনীরই পরাজিত হওয়া। এটা আমরা যেকোনো মূল্যে রোধ করব।' শেষ পর্যন্ত তারা এটা করেছে," ওই সাক্ষাৎকারে বলেছেন মো. সাহাবুদ্দিন।
ওই সময়টিকে কঠিন সময় আখ্যায়িত করে রাষ্ট্রপতি বলেছেন, ওই কঠিন সময়েও বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্ব আমার পাশে ছিলেন এবং তাঁরা তখনো সংবিধানের ধারাবাহিকতা অক্ষুণ্ণ রাখার বিষয়টি আমার কাছে স্পষ্ট ভাষায় ব্যক্ত করেছেন।
"বিশেষ করে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে ঘিরে আমার মনের মধ্যে অনেক কৌতূহল জমা ছিল। কিন্তু আমি পর্যায়ক্রমে বুঝতে পারলাম, তিনি খুবই আন্তরিকতাপূর্ণ মানুষ। হি ওয়াজ সো কর্ডিয়াল! আমার দুঃসময়ে বিএনপির সহযোগিতা শতভাগ ছিল," বলেছেন তিনি।

ইসি জনবল ব্যবস্থাপনার শাখার সহকারি সচিব মোহাম্মদ শহীদুর রহমানের স্বাক্ষরিত আদেশে বলা হয়, নির্বাচন কমিশন সচিবালয়সহ বিভিন্ন উপজেলা ও থানা নির্বাচন কর্মকর্তা পর্যায়ের ১১২ কর্মকর্তাকে বদলি করা হয়েছে।
৮ ঘণ্টা আগে
প্রত্যাহার হওয়া সচিবদের মধ্যে রয়েছেন ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. কামাল উদ্দিন, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব মো. সাইফুল্লাহ পান্না এবং মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব মিজ রেহানা পারভীন।
৯ ঘণ্টা আগে
বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার-২০২৫ প্রাপ্তরা হলেন- কবিতায় মোহন রায়হান, কথাসাহিত্যে নাসিমা আনিস, প্রবন্ধ/গদ্যে সৈয়দ আজিজুল হক, শিশুসাহিত্যে হাসান হাফিজ, অনুবাদে আলী আহমদ, গবেষণায় মুস্তাফা মজিদ ও ইসরাইল খান, বিজ্ঞানে ফারসীম মান্নান মোহাম্মদী ও মুক্তিযুদ্ধে মঈদুল হাসান।
৯ ঘণ্টা আগে
আগামী ১২ মার্চ বেলা ১১টায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন আহ্বান করেছেন রাষ্ট্রপতি মোঃ সাহাবুদ্দিন। সংবিধানের ৭২ অনুচ্ছেদের (১) দফায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে এ অধিবেশন আহ্বান করেন তিনি।
১০ ঘণ্টা আগে