ভোটের বাজিতে জেতা সেই মহিষটি ফিরিয়ে দিলেন বিএনপি সমর্থক

শেরপুর প্রতিনিধি
আপডেট : ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০২: ২৭
শেরপুর-২ আসনে জামায়াত সমর্থকের সঙ্গে বাজি ধরে জেতা মহিষটি ফিরিয়ে দিয়েছেন বিএনপি সমর্থক। বিএনপি সমর্থক আব্দুল মান্নান (বাঁয়ের ইনসেটে) ও জামায়াত সমর্থক আমীর হোসেন (ডানের ইনসেটে)। ছবি: রাজনীতি ডটকম

শেরপুর-২ (নকলা-নালিতাবাড়ী) আসনের নালিতাবাড়ীতে নির্বাচনি ফলাফল নিয়ে আমীর হোসেন নামের জামায়াতে ইসলামীর এক সমর্থকের সঙ্গে বাজিতে জেতা মহিষটি শেষ পর্যন্ত তাকে ফিরিয়ে দিয়েছেন বিএনপি সমর্থক আব্দুল মান্নান। মানবিক বিবেচনায় তিনি এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানা গেছে।

ঘটনাটি ঘটে নালিতাবাড়ী উপজেলার ১২ নম্বর কলসপাড় ইউনিয়নের উত্তর নাকশী গ্রামে। গত শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে ঢাক-ঢোল পিটিয়ে গ্রামবাসীদের সঙ্গে নিয়ে মহিষটি বুঝে নিয়েছিলেন উত্তর নাকশীর শিমুলগড়া এলাকার বাসিন্দা ও নির্বাচনে জেতা বিএনপি প্রার্থী মোহাম্মদ ফাহিম চৌধুরীর সমর্থক আব্দুল মান্নান। তবে এ দিন রাতেই তিনি মহিষটি এর মালিককে ফিরিয়ে দিয়েছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নির্বাচনের আগে শেরপুর-২ আসনে বিএনপি প্রার্থী মোহাম্মদ ফাহিম চৌধুরীর সমর্থক আব্দুল মান্নান এবং জামায়াত প্রার্থী মো. গোলাম কিবরিয়ার সমর্থক আমীর হোসেন এ ব্যতিক্রমী বাজি ধরেন। শর্ত ছিল— জামায়াত প্রার্থী জয়ী হলে আব্দুল মান্নান দেবেন পাঁচটি মহিষ। আর বিএনপি প্রার্থী জিতলে আমীর হোসেন দেবেন একটি মহিষ।

বৃহস্পতিবার রাতে প্রকাশিত বেসরকারি ফলাফলে দেখা যায়, বিএনপির ফাহিম চৌধুরী ১ লাখ ১৮ হাজার ৪৭২ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। আর জামায়াত প্রার্থী মো. গোলাম কিবরিয়া পেয়েছেন ১ লাখ ৮ হাজার ৩৩৫ ভোট। ফলাফল ঘোষণার পর পূর্বনির্ধারিত শর্ত অনুযায়ী শুক্রবার সকালে আমীর হোসেন তার পালের সবচেয়ে বড় মহিষটি আব্দুল মান্নানের কাছে হস্তান্তর করেন।

ঢাক-ঢোল পিটিয়ে গ্রামবাসীদের সঙ্গে নিয়ে বাজিতে জেতা মহিষটি বুঝে নিয়েছিলেন বিএনপি সমর্থক আব্দুল মান্নান। ছবি: রাজনীতি ডটকম
ঢাক-ঢোল পিটিয়ে গ্রামবাসীদের সঙ্গে নিয়ে বাজিতে জেতা মহিষটি বুঝে নিয়েছিলেন বিএনপি সমর্থক আব্দুল মান্নান। ছবি: রাজনীতি ডটকম

জানা গেছে, আব্দুল মান্নান ও আমীর হোসেন দীর্ঘদিন ধরে একসঙ্গে কৃষিকাজ এবং মহিষ পালন করেন। বাজিতে হেরে আমীর তার চারটি মহিষের মধ্যে সবচেয়ে বড় মহিষটি হস্তান্তর করেছিলেন। আব্দুল মান্নান মহিষটি নিয়ে বিজয় মিছিলের আদলে গ্রামে প্রবেশ করলে উত্তর নাকশীজুড়ে আনন্দঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। শিশু থেকে বয়স্ক— সব বয়সী মানুষ এ দৃশ্য দেখতে ভিড় করেন।

বাজিতে জয়ের বিষয়ে আব্দুল মান্নান বলেছিলেন, ‘আমি দীর্ঘ ৩০ বছর ধরে শহিদ জিয়াউর রহমানের আদর্শের রাজনীতি করি। দলকে ভালোবেসেই বাজি ধরেছিলাম। হেরে গেলে আমার পালের পাঁচটি মহিষ দিয়ে দিতাম। আমি নিশ্চিত ছিলাম ধানের শীষই জিতবে।’

অন্যদিকে আমীর হোসেন বলেছিলেন, ‘আমি জামায়াত ইসলামীকে ভালোবাসি। আমাদের দলের আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, কাউকে কথা দিলে কথা রাখতে হবে। সেই জন্য আমি আমার পালের বড় মহিষটা দিয়ে দিয়েছি।’

শুক্রবার রাতে মহিষটি এর মালিককে ফিরিয়ে দেন আব্দুল মান্নান। এ বিষয়ে তিনি বলেন, বাজি ছিল নিছক আনন্দের জন্য, কিন্তু কারও জীবিকা বিপন্ন হোক, তা তিনি চান না। গ্রামবাসী তার এ সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানিয়েছেন।

নালিতাবাড়ী উপজেলার কলসপাড় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল মজিদ বলেন, ‘মানবিক দিক বিবেচনায় আব্দুল মান্নান বাজিতে জেতা মহিষটি আমীর হোসেনকে ফেরত দিয়েছেন। এতে এলাকায় সম্প্রীতি ও মানবতার একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত তৈরি হয়েছে।’

ad
ad

মাঠের রাজনীতি থেকে আরও পড়ুন

কৃষি কার্ডে সরাসরি সহায়তা পাবেন কৃষকরা: তথ্যমন্ত্রী

মন্ত্রী বলেন, নিম্নমানের বীজ কৃষি উৎপাদনের বড় অন্তরায়। পরিকল্পিতভাবে উন্নত জাতের বীজ সরবরাহ করা গেলে একই জমিতে উৎপাদন বাড়ানো সম্ভব। এতে কৃষকের আয় বাড়বে এবং খাদ্য আমদানির ওপর নির্ভরতা কমবে।

১ দিন আগে

সিরাজগঞ্জে ট্রাকের ধাক্কায় অটোভ্যান চালক নিহত

নিহতের পরিচয় শনাক্তসহ পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

১ দিন আগে

রাজশাহী জেলা আ.লীগ কার্যালয়ে ছাত্রলীগের স্লোগান, ভিডিও ভাইরাল

রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের পরিত্যক্ত কার্যালয়ে গিয়ে স্লোগান দিয়েছেন নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতাকর্মী। এ সময় তাদের হাতে জাতীয় ও দলীয় পতাকা এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও শেখ হাসিনা-র ছবি দেখা গেছে। ঘটনাটির একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।

২ দিন আগে

জনগণের টাকায় উন্নয়ন প্রকল্পে অনিয়ম চলবে না: এমপি মিলন

রাজশাহী-৩ (পবা-মোহনপুর) আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য শফিকুল হক মিলন বলেছেন, জনগণের অর্থে পরিচালিত কোনো উন্নয়ন প্রকল্পে অনিয়ম বা দুর্নীতির সুযোগ রাখা হবে না। সরকারি উন্নয়ন কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করাই বর্তমান সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার।

২ দিন আগে