ইতালি প্রবাসী ফখরুলের মরদেহ দেশে আনতে সরকারের সহায়তা চায় পরিবার

বড়লেখা (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি
ফখরুল ইসলাম। ছবি: সংগৃহীত
ফখরুল ইসলাম। ছবি: সংগৃহীত

ইতালি থেকে দেশে ফেরার পথে মারা যাওয়া প্রবাসী ফখরুল ইসলামের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনতে সরকারের সহযোগিতা চেয়েছেন তার স্ত্রী ও স্বজনরা। এ জন্য ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের মহাপরিচালকের কাছে লিখিত আবেদনও করেছেন তার স্ত্রী হাফসা খানম।

মৌলভীবাজারের বড়লেখা পৌরসভার মহুবন্দ এলাকার বাসিন্দা ফখরুল ইসলাম প্রায় সাত বছর পর দেশে ফিরছিলেন। গত ১৭ জুন তুর্কি এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে যাত্রার সময় তিনি হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে বিমানটি জরুরি ভিত্তিতে জর্জিয়ার তিবিলিসি বিমানবন্দরে অবতরণ করলে তাকে স্থানীয় ইউনিভার্সিটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। টানা ২৮ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর গত ১৪ জুলাই রাতে তিনি মারা যান।

বর্তমানে তার মরদেহ জর্জিয়ার ওই হাসপাতালের মর্গে সংরক্ষিত রয়েছে। পরিবারের দাবি, নিজস্ব অর্থে মরদেহ দেশে আনার সামর্থ্য তাদের নেই। তাই সরকারি উদ্যোগে মরদেহ সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর পর্যন্ত পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

ফখরুলের মৃত্যুর পর থেকে তার বাড়িতে স্বজন ও প্রতিবেশীদের ভিড় লেগেই আছে। শোকে ভেঙে পড়েছেন বাবা-মা, স্ত্রী ও পরিবারের সদস্যরা। তাদের একমাত্র প্রত্যাশা, যত দ্রুত সম্ভব প্রিয়জনের মরদেহ দেশে এনে নিজ গ্রামের মাটিতে দাফন করা।

ফখরুলের খালাতো ভাই জানান, মরদেহ দেশে আনার জন্য বিভিন্ন দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে। একই সঙ্গে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতাও চেয়েছেন তারা।

ফখরুলের স্ত্রী হাফসা খানম বলেন, সরকারের সহায়তা ছাড়া মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব নয়। শেষবারের মতো স্বামীর মুখ দেখার সুযোগ করে দিতে সরকারের কাছে আবেদন জানিয়েছেন তিনি।

স্থানীয় বিএনপি নেতা আব্দুল মালিক জানান, মরদেহ দ্রুত দেশে ফেরাতে স্থানীয় সংসদ সদস্য নাসির উদ্দিন আহমেদের সঙ্গে কথা হয়েছে। তিনি বিষয়টি প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় করবেন বলে আশ্বাস দিয়েছেন।

উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান এমাদুল ইসলাম বলেন, ফখরুলের মৃত্যুতে তার বৃদ্ধ বাবা-মা, স্ত্রী ও চার বছরের সন্তান চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছেন। তিনি দ্রুত মরদেহ দেশে ফেরাতে সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

বড়লেখা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহবুব আলম মাহবুব বলেন, বিষয়টি অত্যন্ত মর্মান্তিক। এ বিষয়ে এখনো কোনো সরকারি নির্দেশনা পাননি। নির্দেশনা পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Ad
ad
Ad 300x250

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

Ad 300x250
ad
Advertisement