পর্যটকের ঢল নেমেছে সিলেটে, হোটেলগুলো টইটম্বুর

শারদীয় দুর্গাপূজা ও সাপ্তাহিক ছুটিসহ টানা পাঁচ দিনের ছুটিতে পর্যটকের ঢলে উপচে পড়ছে সিলেট। নগরীর চা বাগান থেকে শুরু করে জেলার বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্রে এখন দর্শনার্থীদের সরব উপস্থিতি। এবারের ছুটিতে সিলেটে ৫০ কোটি টাকার ব্যবসা হওয়ার প্রত্যাশার কথা জানিয়েছেন পর্যটন খাতের সংশ্লিষ্টরা।
পর্যটকদের চাপে হোটেল-মোটেল ও রিসোর্টের অধিকাংশ কক্ষ আগেই বুকিং হয়ে গেছে। ফলে শেষ মুহূর্তে সিলেটে আসা অনেক পর্যটক পড়েছেন আবাসন সংকটে। হোটেল-রিসোর্টে রুম খালি না পেয়ে কেউ স্বজনের বাসায় উঠছেন, আবার কেউ থাকার জায়গা না পেয়ে হজরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজারে আশ্রয় খুঁজছেন।
এদিকে পর্যটকদের বাড়তি চাপকে কেন্দ্র করে প্রাইভেট কার ও মাইক্রোবাসের ভাড়া বাড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এতে একদিকে আবাসন সংকট, অন্যদিকে বাড়তি যাতায়াত খরচের চাপে বিপাকে পড়েছেন অনেক পর্যটক। বিশেষ করে পরিবার-পরিজন নিয়ে ঘুরতে আসা পর্যটকদের ভোগান্তি বেড়েছে।
সিলেটের পর্যটন খাতের সংশ্লিষ্টরা বলছেন, শারদীয় দুর্গাপূজার ছুটি ঘিরে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে সিলেটে ছুটে এসেছে মানুষ। নগরীর মালনীছড়া, লাক্কাতুরা ও তারাপুর চা বাগানসহ বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্রে মানুষের ঢল নেমেছে। চা-গাছের সারি, সবুজে ঘেরা টিলা ও মনোরম প্রাকৃতিক পরিবেশে ঘুরে বেড়াচ্ছেন হাজারও দর্শনার্থী।
মঙ্গলবার ও বুধবার (২০ ও ২১ অক্টোবর) সিলেটের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, চা বাগানগুলোতে পর্যটকদের ব্যাপক ভিড়। পরিবার, বন্ধু ও স্বজনদের নিয়ে বিভিন্ন জেলা থেকে আসা মানুষের পদচারণায় মুখর হয়ে উঠেছে এসব এলাকা। সিলেট শহরের বিভিন্ন রেস্তোরাঁতেও দেখা গেছে পর্যটকদের উপস্থিতি।

হোটেল-মোটেল খাতের সংশ্লিষ্টরা জানান, সিলেট জেলার প্রায় পাঁচ শতাধিক হোটেল, মোটেল ও রিসোর্টের প্রায় সব কক্ষ অগ্রিম বুকিং হয়ে গেছে অনেক আগেই। ফলে যারা বুকিং না দিয়ে ঘুরতে এসেছেন, তাদের অনেকেই থাকার জায়গা পাচ্ছেন না। বিশেষ করে নগরীর গুরুত্বপূর্ণ এলাকা ও পর্যটনকেন্দ্রের কাছাকাছি হোটেলগুলোতে নতুন করে কক্ষ পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।
চট্টগ্রাম থেকে আসা সবুজ তালুকদার বলেন, হোটেলে রুম খালি পাইনি। আম্বরখানা-জিন্দাবাজারের কয়েকটা হোটেলে ঘুরেও থাকার ব্যবস্থা হয়নি। বাধ্য হয়ে মাজারে থাকছি। দেখি হোটেলে কোনো ব্যবস্থা হয় কি না।
সিলেট হোটেল, মোটেল অ্যান্ড গেস্ট হাউজ ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সুমাত নূরী জুয়েল জানান, তাদের হোটেলের কক্ষ আগেই বুকিং হয়ে গেছে। কোনো কক্ষ খালি নেই। অনেক পর্যটককে কক্ষ দিতে না পেরে ফিরিয়ে দিতে হয়েছে।
নগরের জিন্দাবাজার, তালতলা, আম্বরখানা, বন্দরবাজার ও শাহজালাল মাজার গেট এলাকার হোটেলগুলো পর্যটকদের আতিথেয়তা দিতে প্রস্তুত থাকলেও প্রায় সবগুলো হোটেলে মঙ্গলবার থেকে কক্ষ পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে আগে থেকে বুকিং দিয়ে রাখা পর্যটকেরা স্বস্তিতে বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্রে ঘুরে বেড়াতে পারছেন। তবে শেষ মুহূর্তে আসা পর্যটকরা পড়েছেন ভোগান্তিতে।
সুমাত নূরী জুয়েল বলেন, সরকার দুর্গাপূজায় টানা পাঁচ দিনের ছুটি ঘোষণার পরপরই মূলত হোটেল-মোটেলগুলোর কক্ষ বুকিং হতে শুরু করে। কয়েক দিনের মধ্যেই বুকিং শেষও হয়ে যায়। ছুটিতে পর্যটকদের কাছ থেকে আমরা ব্যাপক সাড়া পেয়েছি। আশা করছি, এবারের ছুটিতে সিলেটে পর্যটন খাতে ৫০ কোটি টাকার বেশি ব্যবসা হবে।
এদিকে পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নগরীর বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্র ও আশপাশের এলাকায় পুলিশি টহল জোরদার করা হয়েছে। সিলেট নগর পুলিশের (সিএমপি) অতিরিক্ত উপকমিশনার মো. আফজাল হোসেন জানান, নিয়মিত টহলের পাশাপাশি পূজার ছুটিতে পর্যটকদের নিরাপত্তায় পুলিশের একটি বিশেষ মোবাইল প্যাট্রল টিম কাজ করছে। পর্যটনকেন্দ্রগুলোর বাইরেও পুলিশের নিয়মিত টহল অব্যাহত রয়েছে।
কোনো পর্যটক সমস্যায় পড়লে পুলিশকে জানালে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন সিএমপির এই অতিরিক্ত কমিশনার। যেকোনো প্রয়োজনে পর্যটকদের স্থানীয় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অথবা জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ যোগাযোগ করতে বলেন তিনি।



-62abf3.jpg)











-91653c-256x144.webp)
-bf5e38-256x144.webp)
