নান্দাইলে স্কুলের নির্মাণকাজ শেষ না করেই ঠিকাদারদের বিল পরিশোধের অভিযোগ

নান্দাইল (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি
নান্দাইলের কানুরামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সীমানা প্রাচীর নির্মাণ করা হলেও লোহার গ্রিল ও ফটক লাগানো হয়নি। ছবি: রাজনীতি ডটকম

২০২৩-২০২৪ অর্থবছরে ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলায় ১৬টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সীমানা প্রাচীর ও ফটক নির্মাণ এবং প্রায় ৩০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের কক্ষ নির্মাণকাজ শেষ না করেই সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারদের বিল পরিশোধের অভিযোগ উঠেছে। এসব বিলের পরিমাণ প্রায় কোটি টাকার বেশি। নির্মাণকাজগুলো এখনও অর্ধসমাপ্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। এলজিইডি থেকে বারবার তাগাদা দেওয়া হলেও অধিকাংশ ঠিকাদার কাজ শেষ করছেন না।

নান্দাইল উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) কার্যালয়ের একটি সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে। সূত্রটি জানায়, উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের ১৬টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রবেশপথে সুদৃশ্য ফটক, ইটের গাঁথুনির সীমানা প্রাচীর এবং প্রাচীরের ওপর লোহার গ্রিল নির্মাণের জন্য দরপত্র আহ্বান করা হয়। একই সময়ে ৩০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের পৃথক কক্ষ নির্মাণের জন্যও টেন্ডার ডাকা হয়। ২০২৩-২০২৪ অর্থবছরের মধ্যেই এসব নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও চলতি অর্থবছরেও অধিকাংশ কাজ অসমাপ্ত রয়েছে।

সরেজমিনে কয়েকটি বিদ্যালয় পরিদর্শন এবং বিভিন্ন বিদ্যালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করে জানা যায়, কোনো বিদ্যালয়েই নির্মাণকাজ পুরোপুরি শেষ হয়নি। কোথাও ফটকের কাজ অর্ধসমাপ্ত অবস্থায় পড়ে আছে, কোথাও শুধু প্রাচীরের কলাম নির্মাণ করে কাজ ফেলে রাখা হয়েছে।

উপজেলার মোয়াজ্জেমপুর ইউনিয়নের দত্তপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, সীমানা প্রাচীর নির্মাণকাজ অর্ধসমাপ্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। ফটকের নির্মাণকাজই শুরু হয়নি। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সাবিহা সুলতানা জানান, দীর্ঘদিন ধরে এভাবেই কাজ পড়ে রয়েছে। আদৌ কাজটি শেষ হবে কি না, সেটিও তিনি জানেন না।

আচারগাঁও ইউনিয়নের পুরহরি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ফটকের কাঠামো নির্মাণ করা হলেও তাতে রঙ করা হয়নি এবং গ্রিল লাগানো হয়নি। সীমানা প্রাচীরও অর্ধসমাপ্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। তাতে ইতোমধ্যে শেওলা জমেছে। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আতিকুর রহমান ফকির জানান, ঠিকাদার কবে কাজ শেষ করবেন, তা তিনি বলতে পারবেন না।

গাংগাইল ইউনিয়নের অরণ্যপাশা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সীমানা প্রাচীর ও ফটকের নির্মাণকাজ শেষ হলেও প্রাচীরের ওপর লোহার গ্রিল লাগানো হয়নি। অথচ ঠিকাদারকে বিল পরিশোধ করা হয়েছে। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক তোফাজ্জল হোসেন বলেন, ঠিকাদার বাকি কাজ শেষ করবেন কিনা তা তিনি জানে না।

এ ছাড়া উপজেলার কানুরামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, চন্ডীপাশা মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, চরকামটখালী উত্তর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং জাহাঙ্গীরপুর বালুয়া পুকুরপাড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়েও নির্মাণকাজ অসমাপ্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা গেছে।

অন্যদিকে, ৩০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের পৃথক কক্ষ নির্মাণকাজ পরিদর্শন করে দেখা যায়, মিশ্রিপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কাজ এখনও শেষ হয়নি। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রকল্পটির বরাদ্দ ছিল ২২ লাখ ২১ হাজার টাকা। কিন্তু ঠিকাদারকে ২১ লাখ ৫০ হাজার টাকা বিল পরিশোধ করা হয়েছে।

সিংরইল ইউনিয়নের হরিপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়েও প্রধান শিক্ষকের কক্ষ নির্মাণকাজ অর্ধসমাপ্ত। কিন্তু ঠিকাদার বিল তুলে নিয়েছেন। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বেগম নুরুন্নাহার বিভিন্ন জায়গায় তাগাদা দিয়েও কাজটি শেষ করাতে পারছেন না।

কাদিরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের কক্ষ নির্মাণের বিলও ঠিকাদার তুলে নিয়েছেন। তবে কাজ শেষ হয়নি। এ ছাড়া নান্দাইল রোড, বীর ঘোষপালাসহ আরও কয়েকটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নির্মাণকাজ অসমাপ্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে।

অর্ধসমাপ্ত প্রকল্পগুলো পরিদর্শনের পর নান্দাইল উপজেলা এলজিইডি কার্যালয়ে যোগাযোগ করলে জানা যায়, অধিকাংশ বিদ্যালয়ের সীমানা প্রাচীর ও প্রধান শিক্ষকের কক্ষ নির্মাণের পুরো বিলই ঠিকাদারদের পরিশোধ করা হয়েছে। কার্যালয়ের এক শ্রেণির অসাধু কর্মকর্তার যোগসাজশে এসব বিল পরিশোধ করা হয়েছে বলে সূত্রটির দাবি।

মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে বেশ কয়েকটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সীমানা প্রাচীর ও প্রধান শিক্ষকের পৃথক কক্ষ নির্মাণকাজের ঠিকাদার মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘কাজ শেষ হওয়ার পর এলজিইডি আমাকে বিল দিয়েছে। তবে কিছু কাজ বাকী রয়েছে। তা কয়েকদিনের মধ্যে শেষ করে দেব। এলজিইডি অফিস নির্মাণকাজ দেখেই তাকে বিল প্রদান করেছে।’ অন্য ঠিকাদারদের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

এ বিষয়ে গত বুধবার নান্দাইল উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী গোলাম কিবরিয়া পিয়াল বলেন, ‘২০২৩-২০২৪ অর্থবছরে বেশকিছু প্রকেল্পের নির্মাণকাজ শেষ না হলেও ঠিকাদারদের বিল প্রদানের কয়েকটি ঘটনা ঘটেছে। নথি ঘেঁটে দেখার সময় এই তথ্য তর চোখে পড়েছে। তবে এসব অনিয়ম সংঘটিত হয়েছে তিনি নান্দাইলে যোগদানের আগে। এ ধরনের অনিয়মের ঘটনাগুলো উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। যিনি বা যারা এসব ঘটনার সাথে জড়িত ছিলেন কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন।’

Ad
Ad
ad
ad
ad

মাঠের রাজনীতি থেকে আরও পড়ুন

সাভারে এবার বোমাসদৃশ প্রেশার কুকার উদ্ধার, নিরাপত্তা জোরদার

ঢাকার সাভারের তেঁতুলঝড়া ইউনিয়নের শ্যামপুর এলাকায় কিছু হাতবোমা ও বোমা তৈরির উপকরণ উদ্ধারের কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে বনগাঁও ইউনিয়নেও বোমাসদৃশ একটি প্রেসার কুকার উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় আশপাশের এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।

৩ ঘণ্টা আগে

সিলেটে একটি বাসা থেকে ৩ জনের মরদেহ উদ্ধার

সিলেট মহানগর পুলিশের উপকমিশনার মো. সাইফুল ইসলাম জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে সুরতহাল ও আলামত সংগ্রহের কাজ শুরু করেছে। ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত চলছে।

৪ ঘণ্টা আগে

সাভারে ঘিরে রাখা সেই ভবনে ছিল জেএমবির বোমা তৈরির আস্তানা: পুলিশ

আরিফকে জিজ্ঞাসাবাদের পরই পুলিশ ওই ভবন ঘিরে ফেলে। ঢাকা থেকে বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট ও সিটিটিসিকে ডাকা হয়। সবার উপস্থিতিতে রাতে শুরু হয় অভিযান। পরে ওই বাসায় আরও ৯টি পাইপ বোমা, গান পাউডার, সায়ানাইডসহ বোমা তৈরির বিভিন্ন সরঞ্জাম পাওয়া যায়। আরিফের কাছে পাওয়া ছয়টিসহ সব মিলিয়ে ১৫টি পাইপ বোমা নিষ্ক্রিয় করে বোম্

৪ ঘণ্টা আগে

খুলনায় যুবদল কর্মীকে গুলি করে হত্যা

ঘটনার পর খবর পেয়ে তার ভাই ফরহাদসহ তিনভাই ঘটনাস্থলে পৌঁছে গুলিবিদ্ধ ফখরুলকে উদ্ধার করে রূপসা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পুলিশ সুরতহাল রিপোর্ট শেষে ময়নাতদন্তের জন্য বুধবার (১২ আগস্ট) সকালে মরদেহ খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করে।

৪ ঘণ্টা আগে