নড়াইল মুক্ত দিবস আজ

নড়াইল প্রতিনিধি
চিত্রা নদীর পাড়ের পুরনো লঞ্চঘাটের বধ্যভূমি। ছবি: সংগৃহীত

আজ ১০ ডিসেম্বর, নড়াইল শত্রুমুক্ত দিবস। ১৯৭১ সালের এ দিনে নড়াইলের মুক্তিপাগল দামাল ছেলেরা সম্মুখযুদ্ধে বুকের তাজা রক্তের বিনিময়ে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ও তাদের দোসরদের পরাজিত করে নড়াইলকে শত্রুমুক্ত করেছিল।

মুক্তিযুদ্ধের ৮ নম্বর সেক্টরে ছিল নড়াইল। সেক্টরের কমান্ডার ছিলেন মেজর মনজুর। তখন নড়াইলে পাক বাহিনীর ১০৭ ব্রিগেড মোতায়েন ছিল। এর কমান্ডার ছিলেন ব্রিগেডিয়ার মো. হায়াত আলী খান। যশোর সেনানিবাস থেকে নড়াইলসহ ছয়টি জেলা নিয়ন্ত্রণ করা হতো। ১০ ডিসেম্বর মিত্র বাহিনীর কোনো সহযোগিতা ছাড়াই বীর মুক্তিযোদ্ধারা নড়াইলকে শত্রুমুক্ত করে।

এ দিন সকালেই বীর মুক্তিযোদ্ধারা নড়াইল পানি উন্নয়ন বোর্ড অফিসে ঘাঁটি গেড়ে থাকা পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ও তাদের দোসর মিলিশিয়া বাহিনীসহ রাজাকারদের ঘিরে ফেলে। দুপুরের পরপর অনেকে সেখান থেকে পালিয়ে যায়। একপর্যায়ে মিলিশিয়া বাহিনীর ২৬ সদস্য আত্মসমর্পণ করে।

মুক্তিযোদ্ধা সাইফুর রহমান হিলু জানান, ৭ ডিসেম্বর সকালে ছাত্রলীগ নেতা প্রয়াত ফজলুর রহমান জিন্নাহর নেতৃত্বে একটি মুক্তিযোদ্ধা দল ভিক্টোরিয়া কলেজের জনৈক অধ্যাপকের বাড়িতে অবস্থান করে। এ কথা জানতে পেরে ওই অধ্যাপক ডাকবাংলোয় অবস্থান নেওয়া মিলিশিয়া বাহিনীদের খবর দেন।

তখন মিলিশিয়া বাহিনী বাড়ি ঘিরে ফেলার চেষ্টা করলে অনেক মুক্তিযোদ্ধা পালিয়ে যান। কিন্তু মিজানুর রহমান নামে একজন মুক্তিযোদ্ধা পালাতে ব্যর্থ হন। তাকে বেওনেট দিয়ে খুঁচিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করে এবং লাশ বাঁশের সঙ্গে বেঁধে শহর জুড়ে ঘুরে বেড়ায় মিলিশিয়া বাহিনী।

এ খবর পেয়ে ৯ ডিসেম্বর বিকেলে রূপগঞ্জ বাজারের চিত্রা নদীর পূর্ব পাড়ে পংকবিলা, বোড়াবাদুড়িয়া, হাটবাড়িয়া নদীর তীরে ঘাঁটি গাড়েন বীর মুক্তিযোদ্ধারা। মিত্র বাহিনীর কোনো সহযোগিতা ছাড়াই ১০ ডিসেম্বর ভোরে চিত্রা নদী পার হয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ড অফিসে মিলিশিয়া ও রাজাকারদের ক্যাম্পে তিন দিক থেকে তারা সাঁড়াশি আক্রমণ চালান।

এ সময় ২৬ জন রাজাকার ও মিলিশিয়া সদস্য আত্মসমর্পণ করে। তখন পানি উন্নয়ন বোর্ড অফিসে বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করা হয়।

মুজিব বাহিনীর নড়াইল মহকুমা কমান্ডার শরীফ হুমায়ূন কবির বলেন, রাজাকার সোলায়মানের নেতৃত্বে অনেক মুক্তিকামী মানুষদের ধরে আনা হতো সাবেক মুন্সেফ আদালতসংলগ্ন চিত্রা নদীর পাড়ে। এরপর লঞ্চঘাটের পন্টুনে গলা কেটে হত্যা শেষে লাশ ফেলে দেওয়া হতো নদীতে। এতে ছয়জন জল্লাদকে কাজে লাগানো হতো বলে জানান তিনি।

শরীফ হুমায়ূন কবির আরও জানান, রাজাকাররা নড়াইলের প্রায় তিন হাজার মুক্তিকামী মানুষকে গলা কেটে হত্যা করে। তাদের চিত্রা নদীর পাড়ের পুরনো লঞ্চঘাটের বধ্যভূমিতে গণকবর দেওয়া হয়। এ ছাড়া স্থানীয় রাজাকার প্রধান সোলায়মান তুলারামপুর এলাকা থেকে কয়েকজনকে ধরে এনে তাদের হত্যা করে পানি উন্নয়ন বোর্ড অফিসের পশ্চিম পাশে গণকবর দিয়েছিলেন। গণকবরটি এখন বাঁধাই করা হয়েছে।

নড়াইলের দানবীর ফাজেল আহম্মেদ মোল্লা চত্বরে (বর্তমানে শিল্পকলা একাডেমি) শহিদ বীর মুক্তিযোদ্ধাদের নাম সম্বলিত একটি স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ করা হয়েছে। দেশ স্বাধীনের কয়েক বছর পর থেকেই সাংবাদিক কার্ত্তিক দাসের নেতৃত্বে নড়াইল বন্ধুসভা নামে একটি সামাজিক সংগঠন নড়াইল মুক্ত দিবসের সন্ধ্যায় প্রদীপ জ্বালিয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করে আসছে।

এ ছাড়া চিত্রা নদীর পাড়ের পুরনো লঞ্চঘাটের বধ্যভূমি ও পানি উন্নয়ন বোর্ড অফিসের গণকবরে ফুল দিয়ে শহিদদের শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করা হয়। বীর মুক্তিযোদ্ধার কাছে নতুন প্রজন্মের স্বাধীনতা যুদ্ধের ইতিহাস শোনারও আয়োজন থাকে এই দিনে।

ad
ad

মাঠের রাজনীতি থেকে আরও পড়ুন

চট্টগ্রামে ১৯ বছর আগের শিক্ষার্থী হত্যা মামলায় ৫ জনের ফাঁসি

মামলার এজাহারে বলা হয়, ২০০৭ সালের ২৪ জুলাই বিকালে শাওন নগরীর জিইসি মোড়ে ‘সাফ’ নামের সিএ কোচিং সেন্টারে যাবার জন্য বাসা থেকে বের হয়। ওইদিন রাতে নগরীর বাদশা মিয়া সড়কে তার গামছা পেঁচানো লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

২ দিন আগে

বাস-ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ৩, আহত ১৫

পুলিশ ও স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, সন্ধ্যা ৬টার দিকে কোনাবাড়ী এলাকায় একটি দ্রুতগামী যাত্রীবাহী বাসের সঙ্গে বিপরীতমুখী একটি মালবাহী ট্রাকের সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষে বাসটি দুমড়ে-মুচড়ে রাস্তার পাশে পড়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই তিনজনের মৃত্যু হয়। তবে তাৎক্ষণিকভাবে নিহতদের নাম-পরিচয় পাওয়া যায়নি।

২ দিন আগে

রাজশাহীতে ভুয়া পরিচয়ে জ্বালানি তেল নেওয়ার চেষ্টা, যুবকের জরিমানা-কারাদণ্ড

রাজশাহীতে একটি পেট্রোল পাম্পে ভুয়া পরিচয় ব্যবহার করে জ্বালানি তেল নেওয়ার চেষ্টা করার অপরাধে তৌহিদুর রহমান (২৯) নামে এক যুবককে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। জরিমানা অনাদায়ে তাকে ছয় মাসের কারাদণ্ডও দেওয়া হয়েছে।

২ দিন আগে

গেটে তালা দেওয়াতেই মৃত্যুপুরীতে পরিণত হয় কদমতলীর লাইটার কারখানা

এ অগ্নিকাণ্ড ছাপিয়ে সামনে এসেছে কারখানা কর্তৃপক্ষের নিষ্ঠুরতার অভিযোগ। প্রত্যক্ষদর্শী ও বেঁচে ফেরা শ্রমিকদের দাবি, আগুন লাগার পর তাদের বাইরে বের হতে না দিয়ে মূল ফটক তালাবদ্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। আর সে কারণেই তারা কারখানা থেকে বের হতে পারেননি, দগ্ধ হয়ে তাদের পাড়ি জমাতে হয়েছে না ফেরার দেশে।

২ দিন আগে