
বিজয় কর রতন, কিশোরগঞ্জ

কিশোরগঞ্জের হাওরাঞ্চলে সোনালি ধানের সমারোহে চোখ জুড়ালেও কৃষকদের মনে লোকসানের শঙ্কা। বাম্পার ফলনে চারদিকে উৎসবের আমেজ থাকলেও তাদের মুখে নেই স্বস্তির হাসি। উৎপাদন বেড়েছে, কিন্তু বাজারে ধানের দাম কমে যাওয়ায় এবং উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় চরম বিপাকে পড়েছেন চাষিরা।
মাঠপর্যায়ে ঘুরে দেখা গেছে, ইটনা, মিঠামইন ও অষ্টগ্রাম উপজেলার হাওর জুড়ে ধান কাটার ব্যস্ততা চলছে। তবে বাজারে প্রতি মণ ধান বিক্রি হচ্ছে মাত্র ৬৫০ থেকে ৭০০ টাকায়। অথচ ধান উৎপাদনে প্রতি মণের খরচ প্রায় ১ হাজার টাকা। শ্রমিকের দৈনিক মজুরি ৯০০ থেকে ১ হাজার টাকা হওয়ায় খরচ আরও বেড়ে গেছে। ফলে এক মণ ধান বিক্রি করেও উৎপাদন খরচ তুলতে পারছেন না কৃষকরা।
ধান মাড়াই ও পরিবহনেও দেখা দিয়েছে নতুন সংকট। জ্বালানি তেলের সংকটে যেমন ধান মাড়াই কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে, তেমনি লোডশেডিংয়ের কারণে চার ব্যাটারিচালিত যানবাহনে পর্যাপ্ত চার্জ দেওয়া যাচ্ছে না। যেখানে ১২ ঘণ্টা চার্জ প্রয়োজন, সেখানে বিদ্যুৎ মিলছে মাত্র ২-৩ ঘণ্টা। এতে ধান পরিবহন ও প্রক্রিয়াজাতকরণে সময় ও খরচ বাড়ছে।
সরকারিভাবে ধান সংগ্রহের জন্য প্রতি কেজি ৩৬ টাকা (মণপ্রতি ১ হাজার ৪৪০ টাকা) দর নির্ধারণ করা হলেও কিশোরগঞ্জ জেলায় এখনো তা শুরু হয়নি। তালিকা প্রণয়ন ও অ্যাপে নিবন্ধন জটিলতার কারণে অনেক কৃষক এই সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
এদিকে আগাম বন্যা ও শিলাবৃষ্টির আশঙ্কায় দ্রুত ধান ঘরে তোলার চাপে রয়েছেন চাষিরা। এই পরিস্থিতির সুযোগ নিচ্ছে মধ্যস্বত্বভোগী ও ফড়িয়ারা। দাদনের চাপে অনেক কৃষক মাঠ থেকেই ভেজা ধান ৬৫০-৭০০ টাকায় বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন। অথচ শুকনো ধানের বাজারদর মণপ্রতি ১ হাজার ১০০ টাকার বেশি।
কৃষকদের অভিযোগ, সরকারিভাবে সরাসরি ধান কেনা শুরু না হওয়ায় মধ্যস্বত্বভোগীরা সিন্ডিকেট করে দাম কমিয়ে রেখেছেন। করিমগঞ্জ উপজেলার বড় হাওরের কৃষক মজিবুর রহমান বলেন, “আমরা কষ্ট করে ধান ফলাই, কিন্তু লাভ করে মিলমালিকরা। বাজারে চালের দাম বাড়লেও ধানের দাম নেই। ২৫ কেজি চাল কিনতে এখন ১৫০০ টাকা লাগে, অথচ এক মণ ধান বিক্রি করছি অর্ধেক দামে।”
হাওরাঞ্চলের ধান বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র ভৈরব বাজার ও করিমগঞ্জের চামড়া নৌবন্দরেও একই চিত্র দেখা গেছে। ভৈরব বাজারে নতুন ধান বিক্রি হচ্ছে ৬৮০-৭০০ টাকায়, যেখানে মাত্র এক মাস আগেও পুরনো ধানের দাম ছিল প্রায় ১ হাজার ৪০০ টাকা। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নতুন ধান উঠলে দাম কিছুটা কমে। তবে এবারের দরপতন অস্বাভাবিক।
আড়তদারদের ভাষ্য, এক মাস আগে দাম দ্বিগুণ থাকলেও এখন মিলমালিকরা ভেজা ধানের অজুহাতে দাম কমিয়ে দিচ্ছেন। ফলে আড়ত থেকে কম দামে ধান কিনে ট্রাকে করে তা রাজশাহী, নওগাঁ ও চাঁপাইনবাবগঞ্জের চালকলে পাঠানো হচ্ছে। এতে লাভবান হচ্ছেন মধ্যস্বত্বভোগীরা, আর লোকসান গুনছেন প্রান্তিক কৃষকরা।
মিঠামইন উপজেলার ঘাগড়া ইউনিয়নের কৃষক আরমান হোসেন বলেন, “গত বছর প্রতি একর জমির ধান কাটতে হারভেস্টর ভাড়া ছিল ৬-৭ হাজার টাকা। এবার তেলের দাম বেড়েছে বলে ১০-১২ হাজার টাকা নেওয়া হচ্ছে। কিন্তু ধানের দাম সেই তুলনায় কমে গেছে। বৃষ্টির ভয় আর ধানের আর্দ্রতার কারণে ব্যবসায়ীরা ধান কিনতে চাইছেন না, ফলে কৃষকরা অনেকটা বাধ্য হয়েই লোকসানে ফসল ছেড়ে দিচ্ছেন।”
জেলা খাদ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, সরকারিভাবে এবার ধান, সিদ্ধ চাল ও আতপ চালের ক্রয়মূল্য যথাক্রমে কেজিপ্রতি ৩৬, ৪৯ ও ৪৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে এখনো জেলায় ধান সংগ্রহ শুরু হয়নি, এমনকি ধান কেনার লক্ষ্যমাত্রাও নির্ধারিত হয়নি।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে কিশোরগঞ্জে ১ লাখ ৬৮ হাজার ২৬০ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে হাওর এলাকায় চাষ হয়েছে ১ লাখ ৪ হাজার হেক্টর জমিতে। উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৭ লাখ ৯৬ হাজার ৬৮৬ টন, কিন্তু উৎপাদন হয়েছে প্রায় ১১ লাখ ৯৮ হাজার ৫৫৮ টন।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ড. সাদিকুর রহমান বলেন, “হাওরে বাম্পার ফলন হয়েছে। কৃষকদের অভিযোগ আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানাব। আমরা চাই, তারা যেন ন্যায্যমূল্য পান।”
জেলা প্রশাসক ও জেলা ধান-চাল ক্রয় কমিটির সভাপতি সোহানা নাসরিন বলেন, “জেলার ধান-চাল ক্রয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণের জন্য মন্ত্রণালয়ে তথ্য পাঠানো হয়েছে। নির্দেশনা পেলেই ক্রয় কার্যক্রম শুরু হবে।”

কিশোরগঞ্জের হাওরাঞ্চলে সোনালি ধানের সমারোহে চোখ জুড়ালেও কৃষকদের মনে লোকসানের শঙ্কা। বাম্পার ফলনে চারদিকে উৎসবের আমেজ থাকলেও তাদের মুখে নেই স্বস্তির হাসি। উৎপাদন বেড়েছে, কিন্তু বাজারে ধানের দাম কমে যাওয়ায় এবং উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় চরম বিপাকে পড়েছেন চাষিরা।
মাঠপর্যায়ে ঘুরে দেখা গেছে, ইটনা, মিঠামইন ও অষ্টগ্রাম উপজেলার হাওর জুড়ে ধান কাটার ব্যস্ততা চলছে। তবে বাজারে প্রতি মণ ধান বিক্রি হচ্ছে মাত্র ৬৫০ থেকে ৭০০ টাকায়। অথচ ধান উৎপাদনে প্রতি মণের খরচ প্রায় ১ হাজার টাকা। শ্রমিকের দৈনিক মজুরি ৯০০ থেকে ১ হাজার টাকা হওয়ায় খরচ আরও বেড়ে গেছে। ফলে এক মণ ধান বিক্রি করেও উৎপাদন খরচ তুলতে পারছেন না কৃষকরা।
ধান মাড়াই ও পরিবহনেও দেখা দিয়েছে নতুন সংকট। জ্বালানি তেলের সংকটে যেমন ধান মাড়াই কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে, তেমনি লোডশেডিংয়ের কারণে চার ব্যাটারিচালিত যানবাহনে পর্যাপ্ত চার্জ দেওয়া যাচ্ছে না। যেখানে ১২ ঘণ্টা চার্জ প্রয়োজন, সেখানে বিদ্যুৎ মিলছে মাত্র ২-৩ ঘণ্টা। এতে ধান পরিবহন ও প্রক্রিয়াজাতকরণে সময় ও খরচ বাড়ছে।
সরকারিভাবে ধান সংগ্রহের জন্য প্রতি কেজি ৩৬ টাকা (মণপ্রতি ১ হাজার ৪৪০ টাকা) দর নির্ধারণ করা হলেও কিশোরগঞ্জ জেলায় এখনো তা শুরু হয়নি। তালিকা প্রণয়ন ও অ্যাপে নিবন্ধন জটিলতার কারণে অনেক কৃষক এই সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
এদিকে আগাম বন্যা ও শিলাবৃষ্টির আশঙ্কায় দ্রুত ধান ঘরে তোলার চাপে রয়েছেন চাষিরা। এই পরিস্থিতির সুযোগ নিচ্ছে মধ্যস্বত্বভোগী ও ফড়িয়ারা। দাদনের চাপে অনেক কৃষক মাঠ থেকেই ভেজা ধান ৬৫০-৭০০ টাকায় বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন। অথচ শুকনো ধানের বাজারদর মণপ্রতি ১ হাজার ১০০ টাকার বেশি।
কৃষকদের অভিযোগ, সরকারিভাবে সরাসরি ধান কেনা শুরু না হওয়ায় মধ্যস্বত্বভোগীরা সিন্ডিকেট করে দাম কমিয়ে রেখেছেন। করিমগঞ্জ উপজেলার বড় হাওরের কৃষক মজিবুর রহমান বলেন, “আমরা কষ্ট করে ধান ফলাই, কিন্তু লাভ করে মিলমালিকরা। বাজারে চালের দাম বাড়লেও ধানের দাম নেই। ২৫ কেজি চাল কিনতে এখন ১৫০০ টাকা লাগে, অথচ এক মণ ধান বিক্রি করছি অর্ধেক দামে।”
হাওরাঞ্চলের ধান বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র ভৈরব বাজার ও করিমগঞ্জের চামড়া নৌবন্দরেও একই চিত্র দেখা গেছে। ভৈরব বাজারে নতুন ধান বিক্রি হচ্ছে ৬৮০-৭০০ টাকায়, যেখানে মাত্র এক মাস আগেও পুরনো ধানের দাম ছিল প্রায় ১ হাজার ৪০০ টাকা। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নতুন ধান উঠলে দাম কিছুটা কমে। তবে এবারের দরপতন অস্বাভাবিক।
আড়তদারদের ভাষ্য, এক মাস আগে দাম দ্বিগুণ থাকলেও এখন মিলমালিকরা ভেজা ধানের অজুহাতে দাম কমিয়ে দিচ্ছেন। ফলে আড়ত থেকে কম দামে ধান কিনে ট্রাকে করে তা রাজশাহী, নওগাঁ ও চাঁপাইনবাবগঞ্জের চালকলে পাঠানো হচ্ছে। এতে লাভবান হচ্ছেন মধ্যস্বত্বভোগীরা, আর লোকসান গুনছেন প্রান্তিক কৃষকরা।
মিঠামইন উপজেলার ঘাগড়া ইউনিয়নের কৃষক আরমান হোসেন বলেন, “গত বছর প্রতি একর জমির ধান কাটতে হারভেস্টর ভাড়া ছিল ৬-৭ হাজার টাকা। এবার তেলের দাম বেড়েছে বলে ১০-১২ হাজার টাকা নেওয়া হচ্ছে। কিন্তু ধানের দাম সেই তুলনায় কমে গেছে। বৃষ্টির ভয় আর ধানের আর্দ্রতার কারণে ব্যবসায়ীরা ধান কিনতে চাইছেন না, ফলে কৃষকরা অনেকটা বাধ্য হয়েই লোকসানে ফসল ছেড়ে দিচ্ছেন।”
জেলা খাদ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, সরকারিভাবে এবার ধান, সিদ্ধ চাল ও আতপ চালের ক্রয়মূল্য যথাক্রমে কেজিপ্রতি ৩৬, ৪৯ ও ৪৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে এখনো জেলায় ধান সংগ্রহ শুরু হয়নি, এমনকি ধান কেনার লক্ষ্যমাত্রাও নির্ধারিত হয়নি।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে কিশোরগঞ্জে ১ লাখ ৬৮ হাজার ২৬০ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে হাওর এলাকায় চাষ হয়েছে ১ লাখ ৪ হাজার হেক্টর জমিতে। উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৭ লাখ ৯৬ হাজার ৬৮৬ টন, কিন্তু উৎপাদন হয়েছে প্রায় ১১ লাখ ৯৮ হাজার ৫৫৮ টন।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ড. সাদিকুর রহমান বলেন, “হাওরে বাম্পার ফলন হয়েছে। কৃষকদের অভিযোগ আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানাব। আমরা চাই, তারা যেন ন্যায্যমূল্য পান।”
জেলা প্রশাসক ও জেলা ধান-চাল ক্রয় কমিটির সভাপতি সোহানা নাসরিন বলেন, “জেলার ধান-চাল ক্রয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণের জন্য মন্ত্রণালয়ে তথ্য পাঠানো হয়েছে। নির্দেশনা পেলেই ক্রয় কার্যক্রম শুরু হবে।”

তিনি জানান, শনিবার রাত থেকে রোববার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা পর্যন্ত জেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে চারজনকে আটক করা হয়েছে। অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এ বিষয়ে সোমবার সকাল সাড়ে ১০টায় প্রেস ব্রিফিংয়ের মাধ্যমে বিস্তারিত জানানো হবে।
১৭ ঘণ্টা আগে
পুলিশ জানায়, রাজধানীর বাড্ডায় পরিবারের সঙ্গে থাকতেন মিমো। তিনি সাধারণত দরজা খোলা রেখে ঘুমালেও রোববার সকালে পরিবারের সদস্যরা তার ঘরের দরজা বন্ধ দেখতে পান। ধাক্কাধাক্কি করেও সাড়া না পেয়ে দরজা ভাঙলে মিমোর মরদেহ ফ্যান থেকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান।
২০ ঘণ্টা আগে
রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলার দাওকান্দি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে অধ্যক্ষের কক্ষে হাতাহাতির ঘটনায় আলেয়া খাতুন হীরা নামে এক শিক্ষিকাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের স্থানীয় নেতাকর্মীদের মারধরের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে এ ব্যবস্থা নিয়েছে রাজশাহী আঞ্চলিক মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশ
২১ ঘণ্টা আগে
মো. ইব্রাহিম নামে ওই ছাত্রশিবির নেতার পোস্টে লিখেন, ‘বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম। আসসালামু আলাইকুম। আশা করি আপনারা সবাই মহান আল্লাহর রহমতে ভালো আছেন। আজ ব্যক্তিগত একটি সিদ্ধান্তের বিষয়ে আপনাদের অবগত করার জন্য এই পোস্টটি লিখছি। দীর্ঘ দিন ধরে আমি 'বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির মহিপুর থানা শাখার' সাথে যু
২ দিন আগে