‘কে পিআর বোঝে আর কে বোঝে না— এর জন্য সংস্কার আটকে থাকবে না’

সাঈদ মুহাম্মদ আনোয়ার, কক্সবাজার
আপডেট : ১৯ জুলাই ২০২৫, ১৯: ১৩
পদযাত্রার পর কক্সবাজারের পৌর পাবলিক লাইব্রেরি প্রাঙ্গণে সমাবেশ করে এনসিপি। ছবি: রাজনীতি ডটকম

জুলাই মাসের মধ্যেই সংস্কার শেষ করে জুলাই ঘোষণাপত্র ও জুলাই সনদ হতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম।

তিনি বলেন, কে পিআর (সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্বমূলক ভোটব্যবস্থা) বোঝে, কে পিআর বোঝে না— এর জন্য সংস্কার আটকে থাকবে না। কারণ আমরা জানি, জনগণ সংস্কার বোঝে, জনগণ সংস্কার চায়। ফলে অবশ্যই সংসদের উচ্চ কক্ষে পিআর হতে হবে। নির্বাচন কমিশন-দুদকসহ সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানে নিরপেক্ষভাবে নিয়োগের জন্য সাংবিধানিক কমিটি করতে হবে। এই দুটি সংস্কার প্রস্তাবে ঐকমত্য হলেই জুলাই সনদ তৈরি হয়ে যায়।

রাজনৈতিক দলগুলোকে সংস্কার প্রসঙ্গে একমত হওয়ার আহ্বান জানিয়ে নাহিদ বলেন, আমরা আহ্বান জানাব— জনগণের দিকে তাকিয়ে, বাংলাদেশের দিকে তাকিয়ে আমরা সব রাজনৈতিক দল যেন সংস্কারে পক্ষে ঐকমত্য পোষণ করি। এই সংস্কার কোনো দলের বিপক্ষে নয়, এই সংস্কার বাংলাদেশের পক্ষে।

শনিবার (১৯ জুলাই) জুলাই অভ্যুত্থানের এক বছর পূর্তিতে দেশব্যাপী পদযাত্রা কর্মসূচির অংশ হিসেবে পর্যটন ও সমুদ্রনগরী কক্সবাজারে পদযাত্রা-পরবর্তী সমাবেশে নাহিদ এসব কথা বলেন। এ সময় কক্সবাজারকে সারা বিশ্বের মধ্যে একটি মডেল হিসেবে গড়ে তুলতে তার দল কাজ করবে বলে জানান তিনি।

NCP-Program-At-Coxs-Bazar-02-19-078-2025

শনিবার দুপুরে পদযাত্রার পর কক্সবাজারের পৌর পাবলিক লাইব্রেরি প্রাঙ্গণে এনসিপির সমাবেশ। ছবি: রাজনীতি ডটকম

নাহিদ ইসলাম বলেন, আমরা কক্সবাজারকে দেখি সম্ভাবনার জায়গা হিসেবে। কক্সবাজারকে শুধু বাংলাদেশ না, গোটা বিশ্বে মডেল হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে হবে। জাতীয় নাগরিক পার্টি সেই সম্ভাবনাময় কক্সবাজার প্রতিষ্ঠার জন্য লড়াই করবে, কাজ করবে। আমরা সেই নতুন বাংলাদেশ, নতুন কক্সবাজার আপনাদের উপহার দিতে চাই।

এনসিপি আহ্বায়ক আরও বলেন, পর্যটন শিল্পের জন্য বিখ্যাত এই শহর। কিন্তু আমরা এই পর্যটন শিল্পের মর্যাদা দিতে পারি নাই। আমরা কক্সবাজারের মানুষকে নিয়ে পর্যটন শিল্প গড়ে তুলকে পারি নাই। পর্যটন শিল্পের নামে এখানে লুটপাট-উচ্ছেদ হয়েছে। আমরা চাই— পরিবেশবান্ধব পর্যটন শিল্প গড়ে তুলতে হবে, যেখানে কক্সবাজারের মানুষের অধিকার নিশ্চিত হবে।

এ দিন সকাল থেকেই কক্সবাজার বাস টার্মিনালে জড়ো হতে থাকেন এনসিপির নেতাকর্মীরা। দুপুর ১২টার দিকে সেখানে দলের কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত হন। পরে সাড়ে ১২টার দিকে শুরু হয় পদযাত্রা।

আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ, মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমিন, সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব তাসনিম জারা, যুগ্ম সদস্য সচিব কক্সবাজারের সন্তান সুজা উদ্দিনসহ এনসিপির অন্য কেন্দ্রীয় নেতারা ছিলেন পদযাত্রার নেতৃত্বে।

বাস টার্মিনাল থেকে বিজিবি ক্যাম্প, আলীর জাঁহাল, তারাবনিয়াছড়া, কালুর দোকান, বার্মিজ মার্কেট, বাজারঘাটা, পেট্রোল পাম্প, লালদিঘীর পার হয়ে পৌর পাবলিক লাইব্রেরি মিলনায়তন প্রাঙ্গণের শহিদ দৌলত মাঠে গিয়ে শেষ হয় এনসিপির পদযাত্রা।

চার কিলোমিটারেরও বেশি পথ এনসিপির নেতাকর্মী ও সমর্থকরা ‘আবু সাঈদ-মুগ্ধ, শেষ হয়নি যুদ্ধ’, ‘শহিদ ওয়াসিম স্মরণে, ভয় করি না মরণে’, ‘দালালি না রাজপথ, রাজপথ রাজপথ’, ‘গোলামি না আজাদি, আজাদি আজাদি’, মুজিববাদ মুর্দাবাদ’, ‘ইনকিলাব জিন্দাবাদ’ ইত্যাদি স্লোগান দেন।

প্রায় দুই ঘণ্টার পদযাত্রা শেষে শহিদ দৌলত মাঠে গিয়ে অনুষ্ঠিত হয় সংক্ষিপ্ত সমাবেশ। সেখানে দেওয়া বক্তব্যে নাহিদ ইসলাম রোহিঙ্গা সমস্যার দ্রুত সমাধানের আহ্বান জানান। বলেন, রোহিঙ্গাদের প্রতি আমাদের দরদ রয়েছে। কিন্তু তার মানে এই নয় যে বছরের পর বছর বাংলাদেশ তাদের দায়িত্ব নেবে। রোহিঙ্গারদের প্রতি দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে কক্সবাজারবাসীর প্রতি আমরা বেইনসাফি করছি কি না, আমাদের সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।

দ্রুত রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে এনসিপি আহ্বায়ক বলেন, আমরা অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি আহ্বান জানাব, ড. ইউনূসের প্রতি আহ্বান জানাব, পুরো বিশ্ব বিবেকের প্রতি আহ্বান জানাব— আপনারা দ্রুত রোহিঙ্গা ইস্যুর সমাধান করুন। রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে সম্মানের সঙ্গে, অধিকারের সঙ্গে প্রত্যাবাসনের ব্যবস্থা করুন।

এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, কক্সবাজারের অনেক সম্ভানা আছে, সমস্যাও আছে। আপনারা ট্যাবলেট বদিকে উৎখাত করেছেন। এখন আমাদের লড়াই করতে হবে ট্যাবলেটের বিরুদ্ধে, ইয়াবার বিরুদ্ধে, মাদকের বিরুদ্ধে।

রাষ্ট্রকে সুসংহত করার জন্য ও গণতান্ত্রিক উত্তরণের জন্য একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের বিকল্প নেই বলেও মন্তব্য করেন হাসনাত। কিন্তু তার জন্য অবশ্যই নির্বাচন প্রক্রিয়া ও নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন করতে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, আগে রেফারিসহ ২২ জন মিলে সরকারি দলের পক্ষে গোল দিয়েছে। আমরা চাই, খেলার নিয়ম পরিবর্তন করতে হবে। পেনাল্টিতে গোল দেওয়ার সুযোগ দেওয়া যাবে না। পেনাল্টি যারা দেবে, তাদের লাল কার্ড দেখাতে হবে। আমরা দেখতে পাচ্ছি একটি দল পেনাল্টির পক্ষে দাঁড়িয়ে যাচ্ছে। তাই নির্বাচন কমিশনের পুনর্গঠন প্রয়োজন। খেলাকে সবার উপযোগী করা প্রয়োজন।

মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব তাসনিম জারা, যুগ্ম সদস্য সচিব সুজা উদ্দিনসহ অন্যরা পদযাত্রা-পরবর্তী সমাবেশে বক্তব্য রাখেন।

ad
ad

মাঠের রাজনীতি থেকে আরও পড়ুন

বেকারদের কর্মসংস্থানে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার অঙ্গীকার মিনুর

বিএনপি চেয়ারম্যানের অন্যতম উপদেষ্টা ও রাজশাহী–২ আসনে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী মিজানুর রহমান মিনু বলেছেন, বর্তমানে দেশের সবচেয়ে বড় সামাজিক সংকট হলো শিক্ষিত বেকারত্ব। লেখাপড়া শেষ করেও অসংখ্য তরুণ কাজ না পাওয়ায় হতাশায় ভুগছে, যার ফলে সামাজিক অবক্ষয় বাড়ছে। জনপ্রতিনিধি হলে শিক্ষিত বেকারদের কর্মস

১৬ ঘণ্টা আগে

ময়মনসিংহ ৯: স্বতন্ত্র হাসিনার জন্য ভোট চাইলেন বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত ছেলে

নাসের খান আমেরিকা থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে সমাবেশে বক্তব্য রেখে মায়ের পক্ষে ভোট চান। তিনি এই আসনে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন। তবে গত ৬ ফেব্রুয়ারি তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়।

১৯ ঘণ্টা আগে

ডিএনসিসি প্রশাসক এজাজকে অপসারণ

মন্ত্রণালয়ের সিটি করপোরেশন-১ শাখা থেকে যুগ্মসচিব মাহবুবা আইরিনের সই করা প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ‘স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৪’-এর ধারা ২৫ক-এর উপধারা (১) অনুযায়ী পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সুরাইয়া আক্তার জাহান এই সিটি করপোরেশনের প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।

১৯ ঘণ্টা আগে

শেষ মুহূর্তেও নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্র করছে জামায়াত: মিলন

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে শেষ মুহূর্তেও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নির্বাচন বানচালের নানা ষড়যন্ত্র করছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির ত্রাণ ও পুনর্বাসন বিষয়ক সহসম্পাদক ও রাজশাহী-৩ (পবা–মোহনপুর) আসনে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী অ্যাডভোকেট শফিকুল হক মিলন।

১৯ ঘণ্টা আগে