
প্রতিবেদক, রাজনীতি ডটকম

এক সপ্তাহে ইসলামী ব্যাংক থেকে গ্রাহকরা চার হাজার কোটি টাকার বেশি আমানত সরিয়ে নিয়েছেন। পরিস্থিতি সামাল দিতে ব্যাংকটি বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে ১০ হাজার কোটি টাকা ধার চেয়েছে, যা এখনো অনুমোদিত হয়নি। চলমান এ অস্থিরতার মধ্যেই ব্যাংকটিতে পর্যবেক্ষক নিয়োগ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
ইসলামী ব্যাংক নিয়ে চলমান ‘অস্থিরতা’য় গভীর উদ্বেগ জানিয়েছেন বিভিন্ন তফসিলি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকরাও (এমডি)। তারা এ অস্থিরতার দ্রুত অবসানে কার্যকর পদক্ষেপ প্রত্যাশা করছেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছ থেকে। পাশাপাশি ইসলামী ব্যাংকের বিভিন্ন শাখার গ্রাহকদের মধ্যেও কমছে না অস্থিরতা। তারা ফের বিক্ষোভ করেছেন সচিবালয়ের সামনে, যেখানে তাদের সমাবেশের চেষ্টায় বাধা দিয়েছে পুলিশ।
বুধবার (১০ জুন) সচিবালয়ে ইসলামী ব্যাংকের বিভিন্ন শাখার গ্রাহকরা বিক্ষোভ করেন। এ দিনই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমানের সঙ্গে ব্যাংকগুলোর প্রধান নির্বাহীদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স, বাংলাদেশের (এবিবি) বৈঠকে ইসলামী ব্যাংক নিয়ে আলোচনা হয়। পরে সন্ধ্যায় বাংলাদেশ ব্যাংক জানায় ইসলামী ব্যাংকে পর্যবেক্ষক নিয়োগের তথ্য।
এর আগে মঙ্গলবারও (৯ জুন) জাতীয় সংসদ অধিবেশনে অন্যতম আলোচিত ইস্যু ছিল ইসলামী ব্যাংক। বিরোধী দলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান সংসদের কার্যপ্রণালি বিধির ৬৮ ধারায় নোটিশ দিলে তা নিয়ে আলোচনার জন্য এক ঘণ্টা সময় বরাদ্দ দেন স্পিকার। সেখানে শফিকুর রহমানসহ জামায়াতে ইসলামীর পাঁচ সংসদ সদস্য এবং সরকারি দলের হয়ে অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের বক্তব্য-পালটা বক্তব্যে উত্তাপ ছড়ায় সংসদে।
চলমান পরিস্থিতির মধ্যে বুধবারই ইসলামী ব্যাংকে পর্যবেক্ষক নিয়োগ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১-এর ধারা ৪৯(১)(ঘ)(আ) অনুযায়ী প্রদত্ত ক্ষমতাবলে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক মো. আশরাফুল আলমকে ইসলামী ব্যাংকের পর্যবেক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বলেছে, ব্যাংকটির সার্বিক কার্যক্রম নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ, ব্যাংকের স্বার্থ সংরক্ষণ, আমানতকারীদের স্বার্থ রক্ষা ও বৃহত্তর জনস্বার্থ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এ নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। পর্যবেক্ষক হিসেবে আশরাফুল আলম ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সভাসহ প্রাসঙ্গিক কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করবেন এবং ব্যাংকের কার্যক্রম সম্পর্কে বাংলাদেশ ব্যাংককে প্রয়োজনীয় তথ্য ও পর্যবেক্ষণ জানাবেন।
দেশের ব্যাংকিং খাতের স্থিতিশীলতা, সুশাসন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক প্রতিশ্রুতিবদ্ধ উল্লেখ করে বাংলাদেশ ব্যাংক বলেছে, ইসলামী ব্যাংকে পর্যবেক্ষক নিয়োগের এ পদক্ষেপ ব্যাংকটির কার্যক্রমে আস্থা ও শৃঙ্খলা আরও সুদৃঢ় করতে সহায়ক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
ইসলামী ব্যাংকের বিভিন্ন শাখার গ্রাহক ও আমানতকারীরা বুধবার সচিবালয়ের সামনে সমাবেশের চেষ্টা করেছিলেন। সকাল থেকেই ব্যাংকের ক্ষুব্ধ গ্রাহকরা সচিবালয়ের দিকে মিছিল নিয়ে অগ্রসর হতে থাকেন। তারা ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা ও আমানতের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে বিভিন্ন স্লোগান দেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, পুলিশ সচিবালয়ের প্রবেশপথে ব্যারিকেড দিয়ে বিক্ষোভকারীদের পথরোধ করেন। এ সময় সচিবালয়ের আশপাশের এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

বিক্ষোভকারীরা অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে ব্যাংকের বিভিন্ন সমস্যার কারণে তারা ভোগান্তিতে রয়েছেন। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য তারা বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করছেন। এ সময় গ্রাহকদের একটি প্রতিনিধি দলকে স্মারকলিপি দেওয়ার সুযোগ করে দেওয়ার নিয়ে আলোচনা হয়।
গত ১ জুন ঈদুল আজহার পর প্রথম কর্মদিবস থেকেই ব্যাংকটির গ্রাহকরা মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করে আসছেন। ওই দিন মতিঝিলে ইসলামী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে নতুন চেয়ারম্যানের পদত্যাগের দাবিতে গ্রাহকদের মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচিতে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ, লাঠিচার্জ, টিয়ারশেল ও জলকামান ব্যবহারের ঘটনা পর্যন্ত ঘটে।
ইসলামী ব্যাংকের সচেতন গ্রাহক ফোরামের ব্যানারে বিক্ষোভকারীরা পরের কয়েকদিনও বিক্ষোভ অব্যাহত রাখেন এবং চেয়ারম্যানের পদত্যাগসহ সাত দফা দাবি তুলে ধরেন। পরের কর্মসূচিগুলো নিয়ে অবশ্য পুলিশের সঙ্গে তাদের আর কোনো সংঘর্ষ ঘটেনি। তবে এসব বিক্ষোভকারী প্রকৃতই ব্যাংকের গ্রাহক নাকি উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে কোনো গোষ্ঠী তাদের বিক্ষোভে ইন্ধন জুগিয়ে যাচ্ছে— তা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেন বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র।
বুধবার বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমানের সঙ্গে বৈঠক করে ইসলামী ব্যাংকে চলমান অস্থিরতা নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স, বাংলাদেশ (এবিবি)। এ সংকটের দ্রুত সমাধানের তাগিদ দিয়ে তারা বলেন, সেটি ব্যাংক খাতের জন্য ভালো হবে।
বৈঠকের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন এবিবি চেয়ারম্যান ও সিটি ব্যাংকের এমডি মাসরুর আরেফিন। তিনি বলেন, ইসলামী ব্যাংকের পরিস্থিতি শুধু একটি প্রতিষ্ঠানের সমস্যা নয়, এর প্রভাব পুরো ব্যাংক খাতে পড়ছে। বিষয়টি নিয়ে ব্যাংকাররা উদ্বিগ্ন।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর এ পরিস্থিতিকে কেবল ব্যাংকিং খাতের সমস্যা হিসেবে নয়, রাজনৈতিক ইস্যু হিসেবেও দেখছেন বলে জানান মাসরুর আরেফিন। তিনি বলেন, সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে সমঝোতার মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা চলছে। ব্যাংক খাতে সুশাসন নিশ্চিত করার বিষয়ে গভর্নর কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছেন। তিনি ব্যাংকগুলোর প্রধান নির্বাহীদের রাজনৈতিক চাপের কাছে নতি স্বীকার না করার আহ্বান জানিয়েছেন।
এদিকে ইসলামী ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ তথ্য বলছে, ঈদুল আজহার ছুটি শেষে ব্যাংক খোলার পর এক সপ্তাহের ব্যবধানে চার হাজার ২৪০ কোটি টাকা আমানত হারিয়েছে ইসলামী ব্যাংক। ৩১ মে ব্যাংকটির মোট আমানত ছিল এক লাখ ৮৪ হাজার ৩৮২ কোটি টাকা। সেখান থেকে কমে ৭ জুন আমানত নেমে এসেছে এক লাখ ৮০ হাজার ১৪১ কোটি টাকায়।
ব্যাংকটির কর্মকর্তারা বলছেন, নতুন চেয়ারম্যানের নিয়োগের পর সৃষ্ট অস্থিরতার জের ধরে অনেক গ্রাহক আস্থা হারিয়ে ব্যাংকে রাখা আমনত তুলে ফেলছেন। বিভিন্ন শাখায় গ্রাহকদের বিক্ষোভ পরিস্থিতিতে আরও নাজুক করে তুলছে। সম্প্রতি শেয়ারবাজারে ব্যাংকটির ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে অবনমনও আমানত কমে যাওয়ার পেছনে ভূমিকা রেখেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এর আগে মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে ‘জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে’ আলোচনার জন্য ৬৮ বিধিতে নোটিশ দেন বিরোধী দলীয় নেতা শফিকুর রহমান। নোটিশে তিনি বলেন, স্বৈরাচারী শাসনামলের পতনের পর ইসলামী ব্যাংক ধীরে ধীরে ঘুরে দাঁড়াচ্ছিল। গ্রাহকের আস্থা ফিরে পাচ্ছিল। নতুন করে বিতর্কিত ব্যক্তিদের নিয়োগ দিয়ে ব্যাংকটি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চলছে। এতে ব্যাংকের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।
ব্যাংকের শেয়ার পুনরায় ‘প্রকৃত মালিক’দের কাছে ফেরত দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে আইন অনুযায়ী বোর্ড পুনর্গঠনের দাবি করেন জানান শফিকুর রহমান।
আলোচনায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, নাবিল গ্রুপ নির্বাচনের আগে (ইসলামী ব্যাংক থেকে) ৭০০ কোটি টাকা নিয়েছে, সেই বন্ডেজ বিক্রি করে টাকা আর ফেরত দেয়নি, এই টাকার কোনো হদিস নাই। দুষ্টলোকেরা বলেন, একটি বিশেষ রাজনৈতিক দলের নির্বাচনে ব্যয় করেছে এই টাকা। আমি নাম নিতে চাচ্ছি না, এগুলো তদন্ত হবে, কোথায় গেছে সেই টাকা। আরডিএস (রুবাল ডেভেলপমেন্ট স্কিম) প্রকল্পে ১১ হাজার কোটি টাকা নির্বাচন পর্যন্ত ব্যয় করা হয়েছে। সেই টাকার কোনো হদিস নাই। কোথায় ব্যয় হয়েছে, তদন্ত হবে সব।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, যাদের (ইসলামী ব্যাংক থেকে) চাকরিচ্যুত করা হয়েছে, তাদের ব্যাপারে তদন্ত হোক কোনো ইনজাস্টিস হলো কি না। আবার নতুন যাদের নিয়োগ করা হয়েছে তাদের ব্যাপারেও তদন্ত হোক, রাজনৈতিকভাবে নিয়োগ হয়েছে কি না। আপনারা বলেছেন, আপনারা প্রয়োজনে বুক পেতে দেবেন টিয়ারগ্যাসের সামনে গ্রাহকদের আমানত রক্ষায়। শুধু আপনারা নয়, আমরাও প্রয়োজন হলে বুক পেতে দেবো টিয়ারগ্যাসের সামনে গ্রাহকদের আমানত রক্ষার জন্য।
ইসলামী ব্যাংক ঘিরে গ্রাহকদের বিক্ষোভের রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা নিয়ে সংসদে প্রশ্ন তোলেন অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। বিক্ষোভ ও আন্দোলনের মাধ্যমে অস্থিতিশীলতা তৈরির চেষ্টা করা হচ্ছে এবং কিছু গোষ্ঠী জনআস্থা নষ্ট করতে কাজ করছে বলে মনে করেন তিনি।
অর্থমন্ত্রীর পর্যবেক্ষণ, ইসলামী ব্যাংক ঘিরে আন্দোলন, ব্যাংকের ভেতরে-বাইরে বিক্ষোভ এবং আমানত প্রত্যাহারের মধ্যে সম্পর্ক রয়েছে। যারা টাকা তুলে নিচ্ছে, তারা ইসলামী ব্যাংককে বিপদে ফেলতে চায়। এর পেছনে ‘কিছু শক্তি’র হাত আছে। তবে দেশে আর্থিক শৃঙ্খলা বজায় রাখার বিষয়ে সরকার কোনো আপস করবে না বলেও জানান তিনি। বলেন, ‘বিএনপি আর্থিক শৃঙ্খলায় বিশ্বাস করে এবং কোনো অবস্থাতেই এতে আপস করবে না।’
আওয়ামী লীগের শাসনামলে ২০১৭ সালে এস আলম গ্রুপের কর্ণধার এস আলম তথা সাইফুল ইসলাম নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নেন ইসলামী ব্যাংক। তিনি নিজে ব্যাংকটির কোনো পদে না থাকলেও ছেলেকে চেয়ারম্যান বানিয়েছিলেন। জুলাই অভ্যুত্থানের পর হাজার হাজার কোটি টাকা পাচার ও নানা ধরনের আর্থিক দুর্নীতি-অনিয়মের অভিযোগ নিয়ে এস আলম দেশ ছাড়েন। ইসলামী ব্যাংকও তার দখলমুক্ত হয়।
প্রায় দুই বছর পর গত ২৪ মে ঈদুল আজহার আগের শেষ কর্মদিবসে ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান জোবায়দুর রহমান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক ওমর ফারুক খান পদত্যাগ করেন। সেদিনই নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর খুরশীদ আলমকে নিয়োগ দেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
বাংলাদেশ ব্যাংকের এ সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে ঈদের ছুটির পর প্রথম কর্মদিবস থেকেই ইসলামী ব্যাংকটির কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন একদল ব্যক্তি। ‘সচেতন গ্রাহক ফোরাম’ ব্যানারে তারা টানা কয়েকদিন ধরে বিক্ষোভ করেন।
খুরশীদ আলমের পদত্যাগ ও ব্যাংক রেজল্যুশন অ্যাক্ট থেকে ১৮(ক) ধারা বাতিল করাসহ সাত দফা দাবি রয়েছে ইসলামী ব্যাংকের ‘সচেতন গ্রাহক ফোরামে’র। দাবিগুলো হলো—
সচেতন গ্রাহক ফোরামের পক্ষ থেকে ব্যাংক রেজল্যুশন অ্যাক্টের যে ১৮(ক) ধারা বাতিলের দাবি জানানো হয়েছে সেটি নিয়ে এর আগেও বিতর্ক হয়েছে। এই ধারা অনুযায়ী, একীভূত হওয়া বা রেজ্যুলেশন প্রক্রিয়ায় যাওয়া দুর্বল ব্যাংকের আগের মালিক ও শেয়ারহোল্ডারদের আবারও ব্যাংকের মালিকানায় ফিরে আসার সুযোগ রয়েছে।
আওয়ামী লীগ আমলে ২০১৭ সালে ইসলামী ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছিলেন এস আলম। তিনি নিজে কখনো পদে না বসলেও ছেলে আহসানুল আলমকে এই ব্যাংকের চেয়ারম্যান বানিয়েছিলেন। জুলাই অভ্যুত্থানের পর তিনি দেশ ছাড়েন। তার বিরুদ্ধে সোয়া দুই লাখ কোটি টাকা বিদেশে পাচারের অভিযোগ ওঠে।
বিরোধী দলগুলোর অভিযোগ, সাইফুল আলম তথা এস আলমসহ আর্থিক দুর্নীতিতে যুক্তদের ব্যাংকের মালিকানায় ফিরিয়ে আনতেই বিএনপি ব্যাংক আইনের এই ধারাটি যুক্ত করেছে। অবশ্য আওয়ামী লীগ ২০০৯ সালে ক্ষমতায় এসে নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার আগ পর্যন্ত ইসলামী ব্যাংক জামায়াতপন্থি লোকজনের মাধ্যমে পরিচালিত হতো।

এক সপ্তাহে ইসলামী ব্যাংক থেকে গ্রাহকরা চার হাজার কোটি টাকার বেশি আমানত সরিয়ে নিয়েছেন। পরিস্থিতি সামাল দিতে ব্যাংকটি বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে ১০ হাজার কোটি টাকা ধার চেয়েছে, যা এখনো অনুমোদিত হয়নি। চলমান এ অস্থিরতার মধ্যেই ব্যাংকটিতে পর্যবেক্ষক নিয়োগ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
ইসলামী ব্যাংক নিয়ে চলমান ‘অস্থিরতা’য় গভীর উদ্বেগ জানিয়েছেন বিভিন্ন তফসিলি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকরাও (এমডি)। তারা এ অস্থিরতার দ্রুত অবসানে কার্যকর পদক্ষেপ প্রত্যাশা করছেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছ থেকে। পাশাপাশি ইসলামী ব্যাংকের বিভিন্ন শাখার গ্রাহকদের মধ্যেও কমছে না অস্থিরতা। তারা ফের বিক্ষোভ করেছেন সচিবালয়ের সামনে, যেখানে তাদের সমাবেশের চেষ্টায় বাধা দিয়েছে পুলিশ।
বুধবার (১০ জুন) সচিবালয়ে ইসলামী ব্যাংকের বিভিন্ন শাখার গ্রাহকরা বিক্ষোভ করেন। এ দিনই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমানের সঙ্গে ব্যাংকগুলোর প্রধান নির্বাহীদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স, বাংলাদেশের (এবিবি) বৈঠকে ইসলামী ব্যাংক নিয়ে আলোচনা হয়। পরে সন্ধ্যায় বাংলাদেশ ব্যাংক জানায় ইসলামী ব্যাংকে পর্যবেক্ষক নিয়োগের তথ্য।
এর আগে মঙ্গলবারও (৯ জুন) জাতীয় সংসদ অধিবেশনে অন্যতম আলোচিত ইস্যু ছিল ইসলামী ব্যাংক। বিরোধী দলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান সংসদের কার্যপ্রণালি বিধির ৬৮ ধারায় নোটিশ দিলে তা নিয়ে আলোচনার জন্য এক ঘণ্টা সময় বরাদ্দ দেন স্পিকার। সেখানে শফিকুর রহমানসহ জামায়াতে ইসলামীর পাঁচ সংসদ সদস্য এবং সরকারি দলের হয়ে অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের বক্তব্য-পালটা বক্তব্যে উত্তাপ ছড়ায় সংসদে।
চলমান পরিস্থিতির মধ্যে বুধবারই ইসলামী ব্যাংকে পর্যবেক্ষক নিয়োগ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১-এর ধারা ৪৯(১)(ঘ)(আ) অনুযায়ী প্রদত্ত ক্ষমতাবলে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক মো. আশরাফুল আলমকে ইসলামী ব্যাংকের পর্যবেক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বলেছে, ব্যাংকটির সার্বিক কার্যক্রম নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ, ব্যাংকের স্বার্থ সংরক্ষণ, আমানতকারীদের স্বার্থ রক্ষা ও বৃহত্তর জনস্বার্থ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এ নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। পর্যবেক্ষক হিসেবে আশরাফুল আলম ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সভাসহ প্রাসঙ্গিক কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করবেন এবং ব্যাংকের কার্যক্রম সম্পর্কে বাংলাদেশ ব্যাংককে প্রয়োজনীয় তথ্য ও পর্যবেক্ষণ জানাবেন।
দেশের ব্যাংকিং খাতের স্থিতিশীলতা, সুশাসন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক প্রতিশ্রুতিবদ্ধ উল্লেখ করে বাংলাদেশ ব্যাংক বলেছে, ইসলামী ব্যাংকে পর্যবেক্ষক নিয়োগের এ পদক্ষেপ ব্যাংকটির কার্যক্রমে আস্থা ও শৃঙ্খলা আরও সুদৃঢ় করতে সহায়ক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
ইসলামী ব্যাংকের বিভিন্ন শাখার গ্রাহক ও আমানতকারীরা বুধবার সচিবালয়ের সামনে সমাবেশের চেষ্টা করেছিলেন। সকাল থেকেই ব্যাংকের ক্ষুব্ধ গ্রাহকরা সচিবালয়ের দিকে মিছিল নিয়ে অগ্রসর হতে থাকেন। তারা ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা ও আমানতের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে বিভিন্ন স্লোগান দেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, পুলিশ সচিবালয়ের প্রবেশপথে ব্যারিকেড দিয়ে বিক্ষোভকারীদের পথরোধ করেন। এ সময় সচিবালয়ের আশপাশের এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

বিক্ষোভকারীরা অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে ব্যাংকের বিভিন্ন সমস্যার কারণে তারা ভোগান্তিতে রয়েছেন। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য তারা বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করছেন। এ সময় গ্রাহকদের একটি প্রতিনিধি দলকে স্মারকলিপি দেওয়ার সুযোগ করে দেওয়ার নিয়ে আলোচনা হয়।
গত ১ জুন ঈদুল আজহার পর প্রথম কর্মদিবস থেকেই ব্যাংকটির গ্রাহকরা মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করে আসছেন। ওই দিন মতিঝিলে ইসলামী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে নতুন চেয়ারম্যানের পদত্যাগের দাবিতে গ্রাহকদের মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচিতে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ, লাঠিচার্জ, টিয়ারশেল ও জলকামান ব্যবহারের ঘটনা পর্যন্ত ঘটে।
ইসলামী ব্যাংকের সচেতন গ্রাহক ফোরামের ব্যানারে বিক্ষোভকারীরা পরের কয়েকদিনও বিক্ষোভ অব্যাহত রাখেন এবং চেয়ারম্যানের পদত্যাগসহ সাত দফা দাবি তুলে ধরেন। পরের কর্মসূচিগুলো নিয়ে অবশ্য পুলিশের সঙ্গে তাদের আর কোনো সংঘর্ষ ঘটেনি। তবে এসব বিক্ষোভকারী প্রকৃতই ব্যাংকের গ্রাহক নাকি উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে কোনো গোষ্ঠী তাদের বিক্ষোভে ইন্ধন জুগিয়ে যাচ্ছে— তা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেন বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র।
বুধবার বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমানের সঙ্গে বৈঠক করে ইসলামী ব্যাংকে চলমান অস্থিরতা নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স, বাংলাদেশ (এবিবি)। এ সংকটের দ্রুত সমাধানের তাগিদ দিয়ে তারা বলেন, সেটি ব্যাংক খাতের জন্য ভালো হবে।
বৈঠকের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন এবিবি চেয়ারম্যান ও সিটি ব্যাংকের এমডি মাসরুর আরেফিন। তিনি বলেন, ইসলামী ব্যাংকের পরিস্থিতি শুধু একটি প্রতিষ্ঠানের সমস্যা নয়, এর প্রভাব পুরো ব্যাংক খাতে পড়ছে। বিষয়টি নিয়ে ব্যাংকাররা উদ্বিগ্ন।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর এ পরিস্থিতিকে কেবল ব্যাংকিং খাতের সমস্যা হিসেবে নয়, রাজনৈতিক ইস্যু হিসেবেও দেখছেন বলে জানান মাসরুর আরেফিন। তিনি বলেন, সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে সমঝোতার মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা চলছে। ব্যাংক খাতে সুশাসন নিশ্চিত করার বিষয়ে গভর্নর কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছেন। তিনি ব্যাংকগুলোর প্রধান নির্বাহীদের রাজনৈতিক চাপের কাছে নতি স্বীকার না করার আহ্বান জানিয়েছেন।
এদিকে ইসলামী ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ তথ্য বলছে, ঈদুল আজহার ছুটি শেষে ব্যাংক খোলার পর এক সপ্তাহের ব্যবধানে চার হাজার ২৪০ কোটি টাকা আমানত হারিয়েছে ইসলামী ব্যাংক। ৩১ মে ব্যাংকটির মোট আমানত ছিল এক লাখ ৮৪ হাজার ৩৮২ কোটি টাকা। সেখান থেকে কমে ৭ জুন আমানত নেমে এসেছে এক লাখ ৮০ হাজার ১৪১ কোটি টাকায়।
ব্যাংকটির কর্মকর্তারা বলছেন, নতুন চেয়ারম্যানের নিয়োগের পর সৃষ্ট অস্থিরতার জের ধরে অনেক গ্রাহক আস্থা হারিয়ে ব্যাংকে রাখা আমনত তুলে ফেলছেন। বিভিন্ন শাখায় গ্রাহকদের বিক্ষোভ পরিস্থিতিতে আরও নাজুক করে তুলছে। সম্প্রতি শেয়ারবাজারে ব্যাংকটির ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে অবনমনও আমানত কমে যাওয়ার পেছনে ভূমিকা রেখেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এর আগে মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে ‘জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে’ আলোচনার জন্য ৬৮ বিধিতে নোটিশ দেন বিরোধী দলীয় নেতা শফিকুর রহমান। নোটিশে তিনি বলেন, স্বৈরাচারী শাসনামলের পতনের পর ইসলামী ব্যাংক ধীরে ধীরে ঘুরে দাঁড়াচ্ছিল। গ্রাহকের আস্থা ফিরে পাচ্ছিল। নতুন করে বিতর্কিত ব্যক্তিদের নিয়োগ দিয়ে ব্যাংকটি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চলছে। এতে ব্যাংকের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।
ব্যাংকের শেয়ার পুনরায় ‘প্রকৃত মালিক’দের কাছে ফেরত দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে আইন অনুযায়ী বোর্ড পুনর্গঠনের দাবি করেন জানান শফিকুর রহমান।
আলোচনায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, নাবিল গ্রুপ নির্বাচনের আগে (ইসলামী ব্যাংক থেকে) ৭০০ কোটি টাকা নিয়েছে, সেই বন্ডেজ বিক্রি করে টাকা আর ফেরত দেয়নি, এই টাকার কোনো হদিস নাই। দুষ্টলোকেরা বলেন, একটি বিশেষ রাজনৈতিক দলের নির্বাচনে ব্যয় করেছে এই টাকা। আমি নাম নিতে চাচ্ছি না, এগুলো তদন্ত হবে, কোথায় গেছে সেই টাকা। আরডিএস (রুবাল ডেভেলপমেন্ট স্কিম) প্রকল্পে ১১ হাজার কোটি টাকা নির্বাচন পর্যন্ত ব্যয় করা হয়েছে। সেই টাকার কোনো হদিস নাই। কোথায় ব্যয় হয়েছে, তদন্ত হবে সব।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, যাদের (ইসলামী ব্যাংক থেকে) চাকরিচ্যুত করা হয়েছে, তাদের ব্যাপারে তদন্ত হোক কোনো ইনজাস্টিস হলো কি না। আবার নতুন যাদের নিয়োগ করা হয়েছে তাদের ব্যাপারেও তদন্ত হোক, রাজনৈতিকভাবে নিয়োগ হয়েছে কি না। আপনারা বলেছেন, আপনারা প্রয়োজনে বুক পেতে দেবেন টিয়ারগ্যাসের সামনে গ্রাহকদের আমানত রক্ষায়। শুধু আপনারা নয়, আমরাও প্রয়োজন হলে বুক পেতে দেবো টিয়ারগ্যাসের সামনে গ্রাহকদের আমানত রক্ষার জন্য।
ইসলামী ব্যাংক ঘিরে গ্রাহকদের বিক্ষোভের রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা নিয়ে সংসদে প্রশ্ন তোলেন অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। বিক্ষোভ ও আন্দোলনের মাধ্যমে অস্থিতিশীলতা তৈরির চেষ্টা করা হচ্ছে এবং কিছু গোষ্ঠী জনআস্থা নষ্ট করতে কাজ করছে বলে মনে করেন তিনি।
অর্থমন্ত্রীর পর্যবেক্ষণ, ইসলামী ব্যাংক ঘিরে আন্দোলন, ব্যাংকের ভেতরে-বাইরে বিক্ষোভ এবং আমানত প্রত্যাহারের মধ্যে সম্পর্ক রয়েছে। যারা টাকা তুলে নিচ্ছে, তারা ইসলামী ব্যাংককে বিপদে ফেলতে চায়। এর পেছনে ‘কিছু শক্তি’র হাত আছে। তবে দেশে আর্থিক শৃঙ্খলা বজায় রাখার বিষয়ে সরকার কোনো আপস করবে না বলেও জানান তিনি। বলেন, ‘বিএনপি আর্থিক শৃঙ্খলায় বিশ্বাস করে এবং কোনো অবস্থাতেই এতে আপস করবে না।’
আওয়ামী লীগের শাসনামলে ২০১৭ সালে এস আলম গ্রুপের কর্ণধার এস আলম তথা সাইফুল ইসলাম নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নেন ইসলামী ব্যাংক। তিনি নিজে ব্যাংকটির কোনো পদে না থাকলেও ছেলেকে চেয়ারম্যান বানিয়েছিলেন। জুলাই অভ্যুত্থানের পর হাজার হাজার কোটি টাকা পাচার ও নানা ধরনের আর্থিক দুর্নীতি-অনিয়মের অভিযোগ নিয়ে এস আলম দেশ ছাড়েন। ইসলামী ব্যাংকও তার দখলমুক্ত হয়।
প্রায় দুই বছর পর গত ২৪ মে ঈদুল আজহার আগের শেষ কর্মদিবসে ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান জোবায়দুর রহমান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক ওমর ফারুক খান পদত্যাগ করেন। সেদিনই নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর খুরশীদ আলমকে নিয়োগ দেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
বাংলাদেশ ব্যাংকের এ সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে ঈদের ছুটির পর প্রথম কর্মদিবস থেকেই ইসলামী ব্যাংকটির কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন একদল ব্যক্তি। ‘সচেতন গ্রাহক ফোরাম’ ব্যানারে তারা টানা কয়েকদিন ধরে বিক্ষোভ করেন।
খুরশীদ আলমের পদত্যাগ ও ব্যাংক রেজল্যুশন অ্যাক্ট থেকে ১৮(ক) ধারা বাতিল করাসহ সাত দফা দাবি রয়েছে ইসলামী ব্যাংকের ‘সচেতন গ্রাহক ফোরামে’র। দাবিগুলো হলো—
সচেতন গ্রাহক ফোরামের পক্ষ থেকে ব্যাংক রেজল্যুশন অ্যাক্টের যে ১৮(ক) ধারা বাতিলের দাবি জানানো হয়েছে সেটি নিয়ে এর আগেও বিতর্ক হয়েছে। এই ধারা অনুযায়ী, একীভূত হওয়া বা রেজ্যুলেশন প্রক্রিয়ায় যাওয়া দুর্বল ব্যাংকের আগের মালিক ও শেয়ারহোল্ডারদের আবারও ব্যাংকের মালিকানায় ফিরে আসার সুযোগ রয়েছে।
আওয়ামী লীগ আমলে ২০১৭ সালে ইসলামী ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছিলেন এস আলম। তিনি নিজে কখনো পদে না বসলেও ছেলে আহসানুল আলমকে এই ব্যাংকের চেয়ারম্যান বানিয়েছিলেন। জুলাই অভ্যুত্থানের পর তিনি দেশ ছাড়েন। তার বিরুদ্ধে সোয়া দুই লাখ কোটি টাকা বিদেশে পাচারের অভিযোগ ওঠে।
বিরোধী দলগুলোর অভিযোগ, সাইফুল আলম তথা এস আলমসহ আর্থিক দুর্নীতিতে যুক্তদের ব্যাংকের মালিকানায় ফিরিয়ে আনতেই বিএনপি ব্যাংক আইনের এই ধারাটি যুক্ত করেছে। অবশ্য আওয়ামী লীগ ২০০৯ সালে ক্ষমতায় এসে নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার আগ পর্যন্ত ইসলামী ব্যাংক জামায়াতপন্থি লোকজনের মাধ্যমে পরিচালিত হতো।

রয়টার্স জানিয়েছে, বুধবার (১০ জুন) সকাল সাড়ে ৮টা পর্যন্ত স্পট গোল্ডের দাম ১ দশমিক ৮ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ১৮৭ দশমিক ৫৯ ডলারে দাঁড়িয়েছে। যা গত ২৩ মার্চের পর সর্বনিম্ন। একই সময়ে আগস্ট ডেলিভারির মার্কিন স্বর্ণ ফিউচারের দাম ১ দশমিক ৭ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ২১৩ দশমিক ৪০ ডলারে নেমে আসে।
১৪ ঘণ্টা আগে
২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর পুনর্গঠিত কমিশন ১২টি আলোচিত বিষয়ে অনুসন্ধান ও তদন্ত চালিয়ে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিয়েছে।
১ দিন আগে
মঙ্গলবার (৯ জুন) জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে তিনি এ তথ্য জানান। সংসদের সংরক্ষিত নারী আসন-৩ এর সংসদ সদস্য রাশেদা বেগম হীরার এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এই সিদ্ধান্তের কথা উল্লেখ করেন।
১ দিন আগে
বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) নবনিযুক্ত চেয়ারম্যান মাসুদ খানকে আজ সোমবার অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানিয়েছেন সিটি ব্রোকারেজ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (এমডি ও সিইও) এম আফফান ইউসুফ।
২ দিন আগে