ডিসেম্বরে রেমিট্যান্স ইতিহাসের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ, বছরে বেড়েছে ২২%

প্রতিবেদক, রাজনীতি ডটকম
রেমিট্যান্স প্রবাহ। প্রতীকী ছবি
রেমিট্যান্স প্রবাহ। প্রতীকী ছবি

জুলাই অভ্যুত্থান-পরবর্তী রেমিট্যান্সের ঢল অব্যাহত ছিল টানা দ্বিতীয় বছরেও। সে কারণে আগের বছরের মতো ২০২৫ সালেও রেমিট্যান্স প্রবাহে ছিল ইতিবাচক ধারা। এর মধ্যে বছরের শেষ মাস ডিসেম্বরে দেশে রেমিট্যান্স এসেছে ৩ দশমিক ২৩ বিলিয়ন বা ৩২৩ কোটি মার্কিন ডলার। একক মাস হিসেবে এ মাসে দেশের ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ, মার্চে এসেছিল একক মাস হিসেবে সর্বোচ্চ ৩ দশমিক ৩০ বিলিয়ন বা ৩৩০ কোটি মার্কিন ডলার।

কেবল মাসের হিসাবই নয়, বছর হিসেবেও ২০২৫ সাল রেমিট্যান্সে ছাড়িয়ে গেছে আগের সব বছরকে। ২০২৪ সালে দেশে রেমিট্যান্স এসেছিল ২৬ দশমিক ৮৮ বিলিয়ন তথা দুই হাজার ৬৮৮ কোটি মার্কিন ডলার। ২০২৫ সালে রেমিট্যান্স বেড়েছে আরও ৫ দশমিক ৯৪ বিলিয়ন বা ৫৯৪ কোটি ডলার বেশি।

এ বছরে প্রবাসীদের পাঠানো মোট রেমিট্যান্সের পরিমাণ ছিল ৩২ দশমিক ৮২ বিলিয়ন বা তিন হাজার ২৮২ কোটি মার্কিন ডলার। বিদায়ী বছরটিতেই প্রথম দেশে এক বছরে রেমিট্যান্সের পরিমাণ ছাড়ায় তিন হাজার কোটি ডলার। সব মিলিয়ে এ বছরে রেমিট্যান্সে প্রবৃদ্ধি ২২ দশমিক শূন্য ৯ শতাংশ। আগের বছরেও রেমিট্যান্সে ২২ দমমিক ৬২ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছিল।

২০২৫ সালে মাসভিত্তিক রেমিট্যান্স

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, বিদায়ী বছরের প্রথম মাস জানুয়ারিতে রেমিট্যান্স এসেছিল ২ দশমিক ১৯ বিলিয়ন বা ২১৯ কোটি মার্কিন ডলার। এরপর ফেব্রুয়ারিতে রেমিট্যান্স আসে ২ দশমিক ৫২ বা ২৫২ কোটি ডলার। মার্চে তা আরও বেড়ে হয় ৩ দশমিক ৩০ বিলিয়ন বা ৩৩০ কোটি ডলার, যা একক মাসের হিসাবে রেমিট্যান্স প্রবাহের রেকর্ড।

এরপর এপ্রিলে ২ দশমিক ১৪ বিলিয়ন বা ২১৪ কোটি ডলার, মে মাসে ২ দশমিক ৯৯ বিলিয়ন বা ২৯৯ কোটি ডলার, জুনে ২ দশমিক ৮২ বিলিয়ন বা ২৮২ কোটি ডলার, জুলাইয়ে ২ দশমিক ৪৭ বিলিয়ন বা ২৪৭ কোটি ডলার, আগস্টে ২ দশমিক ৪২ বিলিয়ন বা ২৪২ কোটি ডলার, সেপ্টেম্বরে ২ দশমিক ৬৯ বিলিয়ন বা ২৬৯ কোটি ডলার, অক্টোবরে ২ দশমিক ৫৬ বিলিয়ন বা ২৫৬ কোটি ডলার, নভেম্বরে ২ দশমিক ৮৯ বিলিয়ন বা ২৮৯ কোটি ডলার ও ডিসেম্বরে ৩ দশমিক ২৩ বিলিয়ন বা ৩২৩ কোটি ডলার আসে দেশে।

শেষ ৫ বছরের রেমিট্যান্স প্রবাহ

রেকর্ডভাঙা রেমিট্যান্স প্রবাহে ২০২৫ অর্থবছরে মোট রেমিট্যান্সের পরিমাণ ছাড়িয়েছে ৩২ দশমিক ৮২ বিলিয়ন বা তিন হাজার ২৮২ কোটি মার্কিন ডলার। এর আগের বছর ২০২৪ সালে দেশে রেমিট্যান্স এসেছিল ২৬ দশমিক ৮৯ বিলিয়ন বা দুই হাজার ৬৮৯ কোটি ডলার।

এর আগে ২০২৩ সালে প্রবাসীরা দেশে রেমিট্যান্স পাঠিয়েছিলেন ২১ দশমিক ৯২ বিলিয়ন বা দুই হাজার ১৯২ কোটি ডলার। ২০২২ সালে এর পরিমাণ ছিল ২১ দশমিক ২৮ বিলিয়ন বা দুই হাজার ১২৮ কোটি ডলার। আর ২০২১ সালে দেশে রেমিট্যান্স এসেছিল ২১ দশমিক ৭৪ বিলিয়ন বা দুই হাজার ১৭৪ কোটি মার্কিন ডলার।

গত কয়েক বছরের মধ্যে কেবল ২০২২ সালেই রেমিট্যান্সে প্রবৃদ্ধি ছিল নেতিবাচক। অর্থাৎ ২০২১ সালের তুলনায় ২০২২ সালে দেশে রেমিট্যান্স কম এসেছিল।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সংশ্লিষ্টরা বলছেন, হুন্ডি প্রতিরোধে সরকারের কঠোর অবস্থানের পাশাপাশি রেমিট্যান্স বা প্রবাসী আয়ে নগদ প্রণোদনা অব্যাহত থাকায় প্রবাসীরা বৈধ পথে রেমিট্যান্স পাঠাতে আগ্রহী বেশি হচ্ছেন। এ ছাড়া ডলারের বাজার স্থিতিশীল থাকাতেও রেমিট্যান্সে ইতিবাচক ধারা মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

Ad
ad
Ad 300x250

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

Ad 300x250
ad
Advertisement
ডিসেম্বরে রেমিট্যান্স ইতিহাসের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ, বছরে বেড়েছে ২২%