বাংলা কিউআর আপনাকে কী কী সুবিধা দেবে?

প্রতিবেদক, রাজনীতি ডটকম
বাংলা কিউআর। ছবি: সংগৃহীত

ডিজিটাল লেনদেনকে আরও সহজ, দ্রুত ও সাশ্রয়ী করতে বাংলাদেশ ব্যাংকের চালু করা ‘বাংলা কিউআর’ দেশের সব মার্চেন্ট পয়েন্টে বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। আগামী ৩০ জুনের মধ্যে দেশের সব ব্যাংক ও মোবাইল ব্যাংকিং (এমএফএস) প্রতিষ্ঠানকে তাদের নিজস্ব কিউআর কোড সরিয়ে ফেলতে হবে।

বুধবার (১ এপ্রিল) বাংলাদেশ ব্যাংক এ সংক্রান্ত একটি সার্কুলার জারি করেছে। এতে বলা হয়েছে, কোনো প্রতিষ্ঠান নিয়ম লঙ্ঘন করলে ‘পেমেন্ট অ্যান্ড সেটেলমেন্ট সার্ভিসেস অ্যাক্ট ২০২৪’-এর ৩৭(৫) ধারা এবং অন্যান্য প্রচলিত আইন ও বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দোষী প্রতিষ্ঠানকে সর্বোচ্চ ৩০ লাখ টাকা জরিমানা এবং দায়ীদের তিন বছরের জেল বা উভয় দণ্ড দেওয়া হতে পারে।

নতুন নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, প্রতিটি দোকান বা ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে বাংলা কিউআর স্পষ্টভাবে প্রদর্শন করতে হবে এবং নিরবচ্ছিন্ন লেনদেন নিশ্চিত করতে ব্যাংক ও সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রয়োজনীয় কারিগরি সমন্বয় নিশ্চিত করতে হবে। মার্চেন্ট পয়েন্টগুলো নিয়মিত তদারকিও করতে হবে।

এ ছাড়া কোনো ব্যবসায়ী যদি পেমেন্ট গ্রহণের পরিবর্তে বাংলা কিউআর ব্যবহার করে ক্যাশ-আউট সুবিধা দেন, তবে তাৎক্ষণিকভাবে তার কিউআর সুবিধা বাতিল করতে হবে।

বাংলা কিউআর কী?

বাংলাদেশ ব্যাংক জানায়, একটি নিরাপদ, সাশ্রয়ী ও অন্তর্ভুক্তিমূলক ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থা গড়ে তুলতেই ‘বাংলা কিউআর’ আনা হয়েছে। ২০২৩ সালে এই ইন্টারঅপারেবল সিস্টেম চালু করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

২০২৭ সালের মধ্যে মোট লেনদেনের ৭৫ শতাংশ ক্যাশলেস বা নগদহীন করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সরকার। এরই অংশ হিসেবে ইতোমধ্যে ট্রেড লাইসেন্স প্রাপ্তি বা নবায়নের ক্ষেত্রে কিউআর পেমেন্ট সুবিধা থাকা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

যেসব সুবিধা পাওয়া যাবে

বাংলাদেশ ব্যাংকের এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো— একটি মাত্র কিউআর কোডের মাধ্যমে সব ব্যাংক ও এমএফএসের গ্রাহকদের জন্য পেমেন্ট সুবিধা নিশ্চিত করা।

আগে একটি দোকানে বিকাশ, নগদ কিংবা বিভিন্ন ব্যাংকের আলাদা আলাদা কিউআর কোড দেখা যেত। ফলে গ্রাহককে নির্দিষ্ট সেবাদাতার অ্যাপ ব্যবহার করেই পেমেন্ট করতে হতো। কিন্তু বাংলা কিউআর চালুর ফলে সেই জটিলতা থাকছে না।

এখন একজন গ্রাহক বিকাশ, নগদ বা যেকোনো ব্যাংকের অ্যাপ ব্যবহার করেই একই বাংলা কিউআর স্ক্যান করে মূল্য পরিশোধ করতে পারবেন। এতে দোকানদারদের একাধিক কিউআর কোড রাখার প্রয়োজন হবে না, একই সঙ্গে গ্রাহকদের জন্যও লেনদেন হবে আরও ঝামেলামুক্ত।

বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বাংলা কিউআর ব্যবহারের ফলে ডিজিটাল পেমেন্টের বিস্তার বাড়বে, ব্যবসায়ীদের পরিচালন ব্যয় কমবে এবং আর্থিক খাতে আন্তঃকার্যক্ষমতা (ইন্টারঅপারেবিলিটি) উন্নত হবে। দেশের ন্যাশনাল পেমেন্ট সুইচ বাংলাদেশের (এনপিএসবি) অধীনে এই ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, একটি নিরাপদ, সাশ্রয়ী ও অন্তর্ভুক্তিমূলক নগদহীন অর্থনীতি গড়ে তুলতেই বাংলা কিউআর চালু করা হয়েছে। সরকারের লক্ষ্য, ২০২৭ সালের মধ্যে মোট লেনদেনের ৭৫ শতাংশ নগদহীন করা। সেই লক্ষ্য পূরণে বাংলা কিউআর বড় ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ad
ad

অর্থের রাজনীতি থেকে আরও পড়ুন

তেলের দামে পরিবর্তন আসতে পারে শিগগিরই: অর্থমন্ত্রী

তিনি বলেন, জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্ন ঘটলে কৃষি ও শিল্প খাত মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। উচ্চমূল্যে জ্বালানি আমদানির ফলে সরকারি তহবিলে চাপ তৈরি হওয়ায় ইতোমধ্যে সাশ্রয়ী নীতি গ্রহণ করা হয়েছে। এর অংশ হিসেবে মন্ত্রী ও সরকারি কর্মকর্তাদের জন্য জ্বালানি ব্যবহারে ৩০ শতাংশ রেশনিং চালু করা হয়েছে।

১ দিন আগে

জ্বালানি তেল নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হয়নি: বাণিজ্যমন্ত্রী

সরকারের ভূমিকার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সরকার দায়িত্বশীলভাবে পরিস্থিতি মোকাবিলা করছে এবং অতীতেও দ্রব্যমূল্যের চাপ দক্ষতার সঙ্গে সামাল দিয়েছে। জনগণের সহযোগিতাও এতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

১ দিন আগে

স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে অডিটের জন্য ৬০০ প্রতিষ্ঠান নির্বাচন করল এনবিআর

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ভ্যাট অডিট প্রক্রিয়ায় আমূল পরিবর্তন এনেছে। দীর্ঘদিনের দাবি ও স্বচ্ছতা নিশ্চিতের লক্ষ্যে প্রথমবারের মতো সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয় বা অটোমেটেড পদ্ধতিতে ৬০০টি প্রতিষ্ঠানকে ভ্যাট অডিটের জন্য নির্বাচন করা হয়েছে।

২ দিন আগে

রেমিট্যান্স প্রবাহে বড় অবদান, প্রবাসীদের আস্থার ঠিকানা ইসলামী ব্যাংক

রেমিট্যান্স খাতে ইসলামী ব্যাংকের অবদান দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভকে প্রতিনিয়ত শক্তিশালী করছে। বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে থাকা প্রায় ২ কোটি প্রবাসীর মধ্যে প্রায় ৫০ লাখ প্রবাসী তাদের কষ্টার্জিত অর্থ দেশে পাঠাতে এই ব্যাংকটিকে বেছে নিয়েছেন।

২ দিন আগে