
প্রতিবেদক, রাজনীতি ডটকম

স্বাধীনতার পর বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাস যেমন নানা উত্থান-পতন, সামরিক শাসন, গণঅভ্যুত্থান, গণতান্ত্রিক রূপান্তর ও সরকার পরিবর্তনের সাক্ষী, তেমনি দেশের বাজেট ইতিহাসও সেই পরিবর্তনেরই এক গুরুত্বপূর্ণ দলিল। একটি দেশের অর্থনৈতিক দর্শন, উন্নয়ন পরিকল্পনা, রাজনৈতিক অঙ্গীকার এবং রাষ্ট্র পরিচালনার অগ্রাধিকার সবচেয়ে স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয় জাতীয় বাজেটে। ফলে বাংলাদেশের বাজেটের ইতিহাস শুধু আয়-ব্যয়ের হিসাব নয়; এটি একই সঙ্গে দেশের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বিবর্তনের ইতিহাস।
১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে মুজিবনগর সরকারের প্রথম বাজেট থেকে শুরু করে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের অন্তর্বর্তী সরকারের বাজেট পর্যন্ত মোট ৫৫টি বাজেট উপস্থাপন করা হয়েছে। এসব বাজেট দিয়েছেন ১৪ জন ব্যক্তি। তাদের কেউ ছিলেন নির্বাচিত সরকারের অর্থমন্ত্রী, কেউ সামরিক সরকারের অর্থ উপদেষ্টা, কেউ আবার রাষ্ট্রপতি বা সামরিক আইন প্রশাসক হয়েও সরাসরি বাজেট উপস্থাপন করেছেন।
আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট উপস্থাপন করতে যাচ্ছেন অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। এর মধ্য দিয়ে স্বাধীন বাংলাদেশের বাজেট ইতিহাসে নতুন একটি অধ্যায় যুক্ত হবে। একই সঙ্গে তিনি হবেন বাজেট উপস্থাপনকারী ১৫তম ব্যক্তি।
মুজিবনগর সরকার: যুদ্ধ পরিচালনার জন্য প্রথম বাজেট
বাংলাদেশের বাজেট ইতিহাসের সূচনা হয়েছিল যুদ্ধের মধ্যেই। ১৯৭১ সালের ১৯ জুলাই মুজিবনগর সরকার দেশের প্রথম বাজেট পেশ করে। তখনো স্বাধীন বাংলাদেশ আনুষ্ঠানিকভাবে রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়নি। মুক্তিযুদ্ধ চলছিল পুরোদমে।
অর্থমন্ত্রীর দায়িত্বে ছিলেন এম মনসুর আলী। বাজেটটির উদ্দেশ্য ছিল মূলত মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনা, প্রশাসনিক কার্যক্রম সচল রাখা এবং প্রয়োজনীয় যুদ্ধ ব্যয় নির্বাহ করা। এটি ছিল তিন মাসের একটি সীমিত বাজেট।
সেই বাজেটের ব্যাখ্যায় বলা হয়েছিল, যুদ্ধ পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় ও অপরিহার্য ব্যয় মেটাতেই বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে এবং আশা করা হচ্ছে এই সময়ের মধ্যেই দেশ স্বাধীন হবে।
বঙ্গবন্ধু সরকার: ধ্বংসস্তূপ থেকে রাষ্ট্র পুনর্গঠনের বাজেট
- তাজউদ্দীন আহমদ — ৩টি
- এ আর মল্লিক — ১টি
- মুজিবনগর সরকারের যুদ্ধকালীন বাজেটসহ মোট — ৫টি
স্বাধীনতার পর বাংলাদেশের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল পুনর্গঠন। যুদ্ধবিধ্বস্ত অবকাঠামো, বিধ্বস্ত যোগাযোগ ব্যবস্থা, উৎপাদন ব্যবস্থার ভাঙন, খাদ্য সংকট এবং লাখো মানুষের পুনর্বাসনের দায়িত্ব নিয়ে যাত্রা শুরু করে নবজাত রাষ্ট্র।
এই পরিস্থিতিতে দেশের প্রথম অর্থমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদ ১৯৭২ সালের ৩০ জুন প্রথম জাতীয় বাজেট উপস্থাপন করেন। বিশেষ পরিস্থিতির কারণে তিনি একই সঙ্গে ১৯৭১-৭২ এবং ১৯৭২-৭৩ অর্থবছরের বাজেট পেশ করেছিলেন।
তাজউদ্দীন আহমদের তিনটি বাজেটেই পুনর্গঠন, পুনর্বাসন, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। তবে তাঁর শেষ বাজেটের সময় বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি দ্রুত খারাপ হতে শুরু করে। ১৯৭৩ সালের তেল সংকটের প্রভাব বাংলাদেশেও পড়ে। মূল্যস্ফীতি বাড়ে, খাদ্য সংকট তীব্র হয় এবং অর্থনীতি চাপে পড়ে।
১৯৭৪-৭৫ অর্থবছরের বাজেটে তাজউদ্দীন আহমদ স্পষ্ট ভাষায় সততা, উৎপাদনশীলতা ও সুশাসনের প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন। তাঁর বিখ্যাত মন্তব্য ছিল—স্লোগান দিয়ে সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করা যায় না, দুর্নীতি দূর করা যায় না। পরে ১৯৭৫-৭৬ অর্থবছরের বাজেট উপস্থাপন করেন এ আর মল্লিক। এটি ছিল বঙ্গবন্ধু সরকারের শেষ বাজেট।
জিয়াউর রহমানের আমল: রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণ থেকে বাজারমুখী অর্থনীতির যাত্রা
- জিয়াউর রহমান — ৩টি
- মীর্জা নুরুল হুদা — ১টি
- এম সাইফুর রহমান — ২টি
১৯৭৫ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর দেশের অর্থনৈতিক নীতিতেও বড় ধরনের পরিবর্তন শুরু হয়। রাষ্ট্রনিয়ন্ত্রিত অর্থনীতি থেকে ধীরে ধীরে বেসরকারি খাতভিত্তিক অর্থনৈতিক কাঠামোর দিকে অগ্রসর হয় বাংলাদেশ।
মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান নিজেই অর্থ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব নিয়ে টানা তিনটি বাজেট উপস্থাপন করেন। বাংলাদেশের ইতিহাসে রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে সরাসরি বাজেট উপস্থাপনের ঘটনা বিরল।
রাষ্ট্রপতি জিয়ার সময় শিল্পায়নে বেসরকারি খাতের ভূমিকা বাড়ানো হয়। কর কাঠামোয় পরিবর্তন আনা হয়। দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো কালো টাকা বৈধ করার সুযোগও দেওয়া হয়। এ সময়ে অর্থনৈতিক দর্শনের বড় পরিবর্তন দেখা যায়। রাষ্ট্রীয় খাতের পাশাপাশি ব্যক্তি উদ্যোগকে গুরুত্ব দেওয়া শুরু হয়। কৃষি, ক্ষুদ্র শিল্প, রপ্তানি এবং বৈদেশিক বিনিয়োগকে উৎসাহিত করা হয়।
পরে মীর্জা নুরুল হুদা ও এম সাইফুর রহমানও জিয়া সরকারের আমলে বাজেট উপস্থাপন করেন।
এরশাদ সরকার: দীর্ঘ সামরিক শাসন ও অর্থনৈতিক পুনর্বিন্যাস
- আবুল মাল আবদুল মুহিত — ২টি
- এম সাইদুজ্জামান — ৪টি
- এম এ মুন’এম — ২টি
- ড. ওয়াহিদুল হক — ১টি
১৯৮২ সালে ক্ষমতায় আসেন লেফটেন্যান্ট জেনারেল এইচ এম এরশাদ। তার প্রায় নয় বছরের শাসনামলে দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ কিছু কাঠামোগত পরিবর্তন আসে। এ সময় অর্থমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন আবুল মাল আবদুল মুহিত, এম সাইদুজ্জামান, এম এ মুন’এম ও ড. ওয়াহিদুল হক।
ব্যাংক খাত সংস্কার, বেসরকারি ব্যাংক প্রতিষ্ঠা, নতুন আয়কর আইন, ঋণখেলাপি সমস্যা মোকাবিলা এবং বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নয়নের নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়। এরশাদ আমলে প্রথমবারের মতো অর্থনীতিতে ব্যাপকভাবে বেসরকারি খাতকে উৎসাহিত করা হয়। একই সঙ্গে ব্যাংকিং খাতের দুর্বলতা ও খেলাপি ঋণের সমস্যা জাতীয় আলোচনায় উঠে আসে।
আবুল মাল আবদুল মুহিতের প্রথম বাজেটগুলো ছিল অত্যন্ত বিশ্লেষণধর্মী। অন্যদিকে এম সাইদুজ্জামান প্রায় প্রতিটি বাজেটেই ব্যাংকিং ও আর্থিক খাতের সংস্কারকে অগ্রাধিকার দেন।
বিএনপির প্রথম মেয়াদ: ভ্যাট যুগের সূচনা
১৯৯১ সালে দীর্ঘ সামরিক শাসনের অবসান ঘটিয়ে সংসদীয় গণতন্ত্রে ফিরে আসে বাংলাদেশ। নির্বাচনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করে বিএনপি। অর্থমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেন এম সাইফুর রহমান। তার বাজেটগুলোর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক ছিল আধুনিক কর ব্যবস্থার ভিত্তি স্থাপন।
১৯৯১ সালের বাজেটেই মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) ব্যবস্থা চালুর ঘোষণা দেওয়া হয়। পরবর্তীতে এটি বাংলাদেশের রাজস্ব ব্যবস্থার প্রধান ভিত্তিতে পরিণত হয়। এ সময় কাঠামোগত সংস্কার, বাণিজ্য উদারীকরণ, বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবস্থার সংস্কার এবং বেসরকারি খাতের সম্প্রসারণে জোর দেওয়া হয়।
আওয়ামী লীগের প্রথম মেয়াদ: সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির ভিত্তি
১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর অর্থমন্ত্রী হন শাহ এ এম এস কিবরিয়া। তার নেতৃত্বে পাঁচটি বাজেট উপস্থাপিত হয়। এসব বাজেটে দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন, মানবসম্পদ উন্নয়ন, দারিদ্র্য হ্রাস এবং সামাজিক সুরক্ষাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়।
১৯৯৭-৯৮ অর্থবছরে প্রথমবারের মতো বয়স্ক ভাতা চালু করা হয়। মাত্র ৫০ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়ে শুরু হওয়া কর্মসূচিটি পরবর্তীতে দেশের বৃহত্তম সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিগুলোর একটিতে পরিণত হয়। এ সময় ৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন এবং দীর্ঘমেয়াদে দারিদ্র্য বিমোচনের লক্ষ্যও নির্ধারণ করা হয়।
বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার: কর সংস্কার ও রাজস্ব প্রশাসনের আধুনিকায়ন
২০০১ সালে বিএনপি নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট সরকার ক্ষমতায় আসে। আবারও অর্থমন্ত্রীর দায়িত্ব পান এম সাইফুর রহমান। এ সময় কর প্রশাসনের আধুনিকায়ন, করদাতার সংখ্যা বৃদ্ধি এবং রাজস্ব সংগ্রহ বাড়ানোর নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়।
টিআইএন বাধ্যতামূলক করা, আয়কর রিটার্ন জমা বাধ্যতামূলক করা, সরকারি দরপত্রে অংশ নিতে রিটার্ন দাখিলের শর্ত আরোপসহ নানা সংস্কার কার্যকর করা হয়। এ সময় কালো টাকা বৈধ করার সুযোগও একাধিকবার দেওয়া হয়, যা ব্যাপক বিতর্কের জন্ম দেয়।
তত্ত্বাবধায়ক সরকার: রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার মধ্যে সংস্কারধর্মী বাজেট
২০০৭ সালে রাজনৈতিক সংকটের মধ্যে দায়িত্ব নেয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার। অর্থ উপদেষ্টা এ বি মির্জ্জা মো. আজিজুল ইসলাম দুটি বাজেট উপস্থাপন করেন। এ সময় ভ্যাটের আওতা বাড়ানো, করমুক্ত আয়ের সীমা বৃদ্ধি, কর কাঠামো সহজ করা এবং শিল্প সুরক্ষার উদ্যোগ নেওয়া হয়।
বিশ্ব অর্থনীতিতে অনিশ্চয়তা থাকা সত্ত্বেও আর্থিক শৃঙ্খলা বজায় রাখার চেষ্টা ছিল এ সময়ের বাজেটগুলোর অন্যতম বৈশিষ্ট্য।
আওয়ামী লীগের টানা তিন মেয়াদ: লাখ কোটি টাকার বাজেটের যুগ
- আবুল মাল আবদুল মুহিত — ১০টি
- আ হ ম মুস্তফা কামাল — ৫টি
- আবুল হাসান মাহমুদ আলী — ১টি
২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর বাংলাদেশের বাজেটের আকার অভূতপূর্বভাবে বৃদ্ধি পায়। প্রথম ১০টি বাজেট উপস্থাপন করেন আবুল মাল আবদুল মুহিত। তার সময়েই বাজেট প্রথম এক লাখ কোটি, দুই লাখ কোটি, তিন লাখ কোটি ও চার লাখ কোটি টাকার সীমা অতিক্রম করে।
পরে অর্থমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেন আ হ ম মুস্তফা কামাল। তার সময় বাজেট পাঁচ লাখ, ছয় লাখ ও সাত লাখ কোটি টাকার ঘরে প্রবেশ করে। করোনা মহামারির সময় অর্থনীতি সচল রাখতে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করা হয়। প্রবাসী আয়ে প্রণোদনা, স্টার্টআপ তহবিল, অবকাঠামো উন্নয়ন, ডিজিটাল অর্থনীতি এবং সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির সম্প্রসারণ ছিল এই সময়ের উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য।
২০২৪ সালে আবুল হাসান মাহমুদ আলী শেষ বাজেট উপস্থাপন করেন। তবে বাজেট কার্যকরের আগেই রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের কারণে আওয়ামী লীগ সরকারের মেয়াদ শেষ হয়ে যায়।
অন্তর্বর্তী সরকার: ব্যয় সংযম, সংস্কার ও নতুন অর্থনৈতিক বাস্তবতা
২০২৪ সালের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর দায়িত্ব নেয় অন্তর্বর্তী সরকার। অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বাজেট উপস্থাপন করেন। বাজেটে ব্যয় সংযম, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি সম্প্রসারণ, উন্নয়ন প্রকল্প পুনর্মূল্যায়ন এবং রাজস্ব কাঠামো শক্তিশালী করার ওপর জোর দেওয়া হয়।
ফ্ল্যাট ও ভবনে বিনিয়োগের মাধ্যমে কালো টাকা সাদা করার সুযোগ বাতিল করা হয়। একই সঙ্গে সামাজিক নিরাপত্তা খাতে বরাদ্দ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো হয়।
সবচেয়ে বেশি বাজেট দিয়েছেন কারা?
স্বাধীনতার পর সবচেয়ে বেশি ১২টি করে বাজেট উপস্থাপন করেছেন দুজন ব্যক্তি— সাইফুর রহমান ও আবুল মাল আবদুল মুহিত। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পাঁচটি করে বাজেট উত্থাপনও করেছেন দুজন— শাহ এ এম এস কিবরিয়া ও আ হ ম মুস্তফা কামাল। এনকজরে বাজেট উত্থাপনকারীরা—
- আবুল মাল আবদুল মুহিত — ১২টি
- এম সাইফুর রহমান — ১২টি
- শাহ এ এম এস কিবরিয়া — ৫টি
- আ হ ম মুস্তফা কামাল — ৫টি
- এম সাইদুজ্জামান — ৪টি
- তাজউদ্দীন আহমদ — ৩টি
- জিয়াউর রহমান — ৩টি
অন্যরা এক বা দুইটি করে বাজেট উপস্থাপন করেছেন।
৫৫ বছরে বাজেটের বিবর্তন
বাংলাদেশের প্রথম যুদ্ধকালীন বাজেটের আকার ছিল মাত্র কয়েক কোটি টাকারও কম। স্বাধীনতার পর প্রথম পূর্ণাঙ্গ বাজেট ছিল ৭১৯ কোটি টাকার। এরপর ধীরে ধীরে বাজেটের আকার বেড়ে এক হাজার কোটি, ১০ হাজার কোটি, এক লাখ কোটি এবং পরে কয়েক লাখ কোটি টাকায় পৌঁছায়।
২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাজেটের আকার ছিল সাত লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকা। আর ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের আকার হতে পারে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা। অর্থাৎ যুদ্ধবিধ্বস্ত একটি দেশের পুনর্গঠনের বাজেট থেকে শুরু করে প্রায় ১০ লাখ কোটি টাকার অর্থনৈতিক পরিকল্পনায় পৌঁছানোর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের বাজেট ইতিহাস হয়ে উঠেছে রাষ্ট্রের অর্থনৈতিক যাত্রাপথের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দলিলগুলোর একটি।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট উপস্থাপন করলে বাংলাদেশের বাজেট ইতিহাসে যুক্ত হবে নতুন একটি অধ্যায়। একই সঙ্গে স্বাধীনতার পর বাজেট উপস্থাপনকারীর তালিকায় যুক্ত হবে ১৫তম নাম।

স্বাধীনতার পর বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাস যেমন নানা উত্থান-পতন, সামরিক শাসন, গণঅভ্যুত্থান, গণতান্ত্রিক রূপান্তর ও সরকার পরিবর্তনের সাক্ষী, তেমনি দেশের বাজেট ইতিহাসও সেই পরিবর্তনেরই এক গুরুত্বপূর্ণ দলিল। একটি দেশের অর্থনৈতিক দর্শন, উন্নয়ন পরিকল্পনা, রাজনৈতিক অঙ্গীকার এবং রাষ্ট্র পরিচালনার অগ্রাধিকার সবচেয়ে স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয় জাতীয় বাজেটে। ফলে বাংলাদেশের বাজেটের ইতিহাস শুধু আয়-ব্যয়ের হিসাব নয়; এটি একই সঙ্গে দেশের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বিবর্তনের ইতিহাস।
১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে মুজিবনগর সরকারের প্রথম বাজেট থেকে শুরু করে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের অন্তর্বর্তী সরকারের বাজেট পর্যন্ত মোট ৫৫টি বাজেট উপস্থাপন করা হয়েছে। এসব বাজেট দিয়েছেন ১৪ জন ব্যক্তি। তাদের কেউ ছিলেন নির্বাচিত সরকারের অর্থমন্ত্রী, কেউ সামরিক সরকারের অর্থ উপদেষ্টা, কেউ আবার রাষ্ট্রপতি বা সামরিক আইন প্রশাসক হয়েও সরাসরি বাজেট উপস্থাপন করেছেন।
আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট উপস্থাপন করতে যাচ্ছেন অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। এর মধ্য দিয়ে স্বাধীন বাংলাদেশের বাজেট ইতিহাসে নতুন একটি অধ্যায় যুক্ত হবে। একই সঙ্গে তিনি হবেন বাজেট উপস্থাপনকারী ১৫তম ব্যক্তি।
মুজিবনগর সরকার: যুদ্ধ পরিচালনার জন্য প্রথম বাজেট
বাংলাদেশের বাজেট ইতিহাসের সূচনা হয়েছিল যুদ্ধের মধ্যেই। ১৯৭১ সালের ১৯ জুলাই মুজিবনগর সরকার দেশের প্রথম বাজেট পেশ করে। তখনো স্বাধীন বাংলাদেশ আনুষ্ঠানিকভাবে রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়নি। মুক্তিযুদ্ধ চলছিল পুরোদমে।
অর্থমন্ত্রীর দায়িত্বে ছিলেন এম মনসুর আলী। বাজেটটির উদ্দেশ্য ছিল মূলত মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনা, প্রশাসনিক কার্যক্রম সচল রাখা এবং প্রয়োজনীয় যুদ্ধ ব্যয় নির্বাহ করা। এটি ছিল তিন মাসের একটি সীমিত বাজেট।
সেই বাজেটের ব্যাখ্যায় বলা হয়েছিল, যুদ্ধ পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় ও অপরিহার্য ব্যয় মেটাতেই বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে এবং আশা করা হচ্ছে এই সময়ের মধ্যেই দেশ স্বাধীন হবে।
বঙ্গবন্ধু সরকার: ধ্বংসস্তূপ থেকে রাষ্ট্র পুনর্গঠনের বাজেট
- তাজউদ্দীন আহমদ — ৩টি
- এ আর মল্লিক — ১টি
- মুজিবনগর সরকারের যুদ্ধকালীন বাজেটসহ মোট — ৫টি
স্বাধীনতার পর বাংলাদেশের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল পুনর্গঠন। যুদ্ধবিধ্বস্ত অবকাঠামো, বিধ্বস্ত যোগাযোগ ব্যবস্থা, উৎপাদন ব্যবস্থার ভাঙন, খাদ্য সংকট এবং লাখো মানুষের পুনর্বাসনের দায়িত্ব নিয়ে যাত্রা শুরু করে নবজাত রাষ্ট্র।
এই পরিস্থিতিতে দেশের প্রথম অর্থমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদ ১৯৭২ সালের ৩০ জুন প্রথম জাতীয় বাজেট উপস্থাপন করেন। বিশেষ পরিস্থিতির কারণে তিনি একই সঙ্গে ১৯৭১-৭২ এবং ১৯৭২-৭৩ অর্থবছরের বাজেট পেশ করেছিলেন।
তাজউদ্দীন আহমদের তিনটি বাজেটেই পুনর্গঠন, পুনর্বাসন, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। তবে তাঁর শেষ বাজেটের সময় বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি দ্রুত খারাপ হতে শুরু করে। ১৯৭৩ সালের তেল সংকটের প্রভাব বাংলাদেশেও পড়ে। মূল্যস্ফীতি বাড়ে, খাদ্য সংকট তীব্র হয় এবং অর্থনীতি চাপে পড়ে।
১৯৭৪-৭৫ অর্থবছরের বাজেটে তাজউদ্দীন আহমদ স্পষ্ট ভাষায় সততা, উৎপাদনশীলতা ও সুশাসনের প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন। তাঁর বিখ্যাত মন্তব্য ছিল—স্লোগান দিয়ে সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করা যায় না, দুর্নীতি দূর করা যায় না। পরে ১৯৭৫-৭৬ অর্থবছরের বাজেট উপস্থাপন করেন এ আর মল্লিক। এটি ছিল বঙ্গবন্ধু সরকারের শেষ বাজেট।
জিয়াউর রহমানের আমল: রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণ থেকে বাজারমুখী অর্থনীতির যাত্রা
- জিয়াউর রহমান — ৩টি
- মীর্জা নুরুল হুদা — ১টি
- এম সাইফুর রহমান — ২টি
১৯৭৫ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর দেশের অর্থনৈতিক নীতিতেও বড় ধরনের পরিবর্তন শুরু হয়। রাষ্ট্রনিয়ন্ত্রিত অর্থনীতি থেকে ধীরে ধীরে বেসরকারি খাতভিত্তিক অর্থনৈতিক কাঠামোর দিকে অগ্রসর হয় বাংলাদেশ।
মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান নিজেই অর্থ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব নিয়ে টানা তিনটি বাজেট উপস্থাপন করেন। বাংলাদেশের ইতিহাসে রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে সরাসরি বাজেট উপস্থাপনের ঘটনা বিরল।
রাষ্ট্রপতি জিয়ার সময় শিল্পায়নে বেসরকারি খাতের ভূমিকা বাড়ানো হয়। কর কাঠামোয় পরিবর্তন আনা হয়। দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো কালো টাকা বৈধ করার সুযোগও দেওয়া হয়। এ সময়ে অর্থনৈতিক দর্শনের বড় পরিবর্তন দেখা যায়। রাষ্ট্রীয় খাতের পাশাপাশি ব্যক্তি উদ্যোগকে গুরুত্ব দেওয়া শুরু হয়। কৃষি, ক্ষুদ্র শিল্প, রপ্তানি এবং বৈদেশিক বিনিয়োগকে উৎসাহিত করা হয়।
পরে মীর্জা নুরুল হুদা ও এম সাইফুর রহমানও জিয়া সরকারের আমলে বাজেট উপস্থাপন করেন।
এরশাদ সরকার: দীর্ঘ সামরিক শাসন ও অর্থনৈতিক পুনর্বিন্যাস
- আবুল মাল আবদুল মুহিত — ২টি
- এম সাইদুজ্জামান — ৪টি
- এম এ মুন’এম — ২টি
- ড. ওয়াহিদুল হক — ১টি
১৯৮২ সালে ক্ষমতায় আসেন লেফটেন্যান্ট জেনারেল এইচ এম এরশাদ। তার প্রায় নয় বছরের শাসনামলে দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ কিছু কাঠামোগত পরিবর্তন আসে। এ সময় অর্থমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন আবুল মাল আবদুল মুহিত, এম সাইদুজ্জামান, এম এ মুন’এম ও ড. ওয়াহিদুল হক।
ব্যাংক খাত সংস্কার, বেসরকারি ব্যাংক প্রতিষ্ঠা, নতুন আয়কর আইন, ঋণখেলাপি সমস্যা মোকাবিলা এবং বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নয়নের নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়। এরশাদ আমলে প্রথমবারের মতো অর্থনীতিতে ব্যাপকভাবে বেসরকারি খাতকে উৎসাহিত করা হয়। একই সঙ্গে ব্যাংকিং খাতের দুর্বলতা ও খেলাপি ঋণের সমস্যা জাতীয় আলোচনায় উঠে আসে।
আবুল মাল আবদুল মুহিতের প্রথম বাজেটগুলো ছিল অত্যন্ত বিশ্লেষণধর্মী। অন্যদিকে এম সাইদুজ্জামান প্রায় প্রতিটি বাজেটেই ব্যাংকিং ও আর্থিক খাতের সংস্কারকে অগ্রাধিকার দেন।
বিএনপির প্রথম মেয়াদ: ভ্যাট যুগের সূচনা
১৯৯১ সালে দীর্ঘ সামরিক শাসনের অবসান ঘটিয়ে সংসদীয় গণতন্ত্রে ফিরে আসে বাংলাদেশ। নির্বাচনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করে বিএনপি। অর্থমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেন এম সাইফুর রহমান। তার বাজেটগুলোর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক ছিল আধুনিক কর ব্যবস্থার ভিত্তি স্থাপন।
১৯৯১ সালের বাজেটেই মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) ব্যবস্থা চালুর ঘোষণা দেওয়া হয়। পরবর্তীতে এটি বাংলাদেশের রাজস্ব ব্যবস্থার প্রধান ভিত্তিতে পরিণত হয়। এ সময় কাঠামোগত সংস্কার, বাণিজ্য উদারীকরণ, বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবস্থার সংস্কার এবং বেসরকারি খাতের সম্প্রসারণে জোর দেওয়া হয়।
আওয়ামী লীগের প্রথম মেয়াদ: সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির ভিত্তি
১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর অর্থমন্ত্রী হন শাহ এ এম এস কিবরিয়া। তার নেতৃত্বে পাঁচটি বাজেট উপস্থাপিত হয়। এসব বাজেটে দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন, মানবসম্পদ উন্নয়ন, দারিদ্র্য হ্রাস এবং সামাজিক সুরক্ষাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়।
১৯৯৭-৯৮ অর্থবছরে প্রথমবারের মতো বয়স্ক ভাতা চালু করা হয়। মাত্র ৫০ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়ে শুরু হওয়া কর্মসূচিটি পরবর্তীতে দেশের বৃহত্তম সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিগুলোর একটিতে পরিণত হয়। এ সময় ৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন এবং দীর্ঘমেয়াদে দারিদ্র্য বিমোচনের লক্ষ্যও নির্ধারণ করা হয়।
বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার: কর সংস্কার ও রাজস্ব প্রশাসনের আধুনিকায়ন
২০০১ সালে বিএনপি নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট সরকার ক্ষমতায় আসে। আবারও অর্থমন্ত্রীর দায়িত্ব পান এম সাইফুর রহমান। এ সময় কর প্রশাসনের আধুনিকায়ন, করদাতার সংখ্যা বৃদ্ধি এবং রাজস্ব সংগ্রহ বাড়ানোর নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়।
টিআইএন বাধ্যতামূলক করা, আয়কর রিটার্ন জমা বাধ্যতামূলক করা, সরকারি দরপত্রে অংশ নিতে রিটার্ন দাখিলের শর্ত আরোপসহ নানা সংস্কার কার্যকর করা হয়। এ সময় কালো টাকা বৈধ করার সুযোগও একাধিকবার দেওয়া হয়, যা ব্যাপক বিতর্কের জন্ম দেয়।
তত্ত্বাবধায়ক সরকার: রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার মধ্যে সংস্কারধর্মী বাজেট
২০০৭ সালে রাজনৈতিক সংকটের মধ্যে দায়িত্ব নেয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার। অর্থ উপদেষ্টা এ বি মির্জ্জা মো. আজিজুল ইসলাম দুটি বাজেট উপস্থাপন করেন। এ সময় ভ্যাটের আওতা বাড়ানো, করমুক্ত আয়ের সীমা বৃদ্ধি, কর কাঠামো সহজ করা এবং শিল্প সুরক্ষার উদ্যোগ নেওয়া হয়।
বিশ্ব অর্থনীতিতে অনিশ্চয়তা থাকা সত্ত্বেও আর্থিক শৃঙ্খলা বজায় রাখার চেষ্টা ছিল এ সময়ের বাজেটগুলোর অন্যতম বৈশিষ্ট্য।
আওয়ামী লীগের টানা তিন মেয়াদ: লাখ কোটি টাকার বাজেটের যুগ
- আবুল মাল আবদুল মুহিত — ১০টি
- আ হ ম মুস্তফা কামাল — ৫টি
- আবুল হাসান মাহমুদ আলী — ১টি
২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর বাংলাদেশের বাজেটের আকার অভূতপূর্বভাবে বৃদ্ধি পায়। প্রথম ১০টি বাজেট উপস্থাপন করেন আবুল মাল আবদুল মুহিত। তার সময়েই বাজেট প্রথম এক লাখ কোটি, দুই লাখ কোটি, তিন লাখ কোটি ও চার লাখ কোটি টাকার সীমা অতিক্রম করে।
পরে অর্থমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেন আ হ ম মুস্তফা কামাল। তার সময় বাজেট পাঁচ লাখ, ছয় লাখ ও সাত লাখ কোটি টাকার ঘরে প্রবেশ করে। করোনা মহামারির সময় অর্থনীতি সচল রাখতে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করা হয়। প্রবাসী আয়ে প্রণোদনা, স্টার্টআপ তহবিল, অবকাঠামো উন্নয়ন, ডিজিটাল অর্থনীতি এবং সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির সম্প্রসারণ ছিল এই সময়ের উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য।
২০২৪ সালে আবুল হাসান মাহমুদ আলী শেষ বাজেট উপস্থাপন করেন। তবে বাজেট কার্যকরের আগেই রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের কারণে আওয়ামী লীগ সরকারের মেয়াদ শেষ হয়ে যায়।
অন্তর্বর্তী সরকার: ব্যয় সংযম, সংস্কার ও নতুন অর্থনৈতিক বাস্তবতা
২০২৪ সালের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর দায়িত্ব নেয় অন্তর্বর্তী সরকার। অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বাজেট উপস্থাপন করেন। বাজেটে ব্যয় সংযম, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি সম্প্রসারণ, উন্নয়ন প্রকল্প পুনর্মূল্যায়ন এবং রাজস্ব কাঠামো শক্তিশালী করার ওপর জোর দেওয়া হয়।
ফ্ল্যাট ও ভবনে বিনিয়োগের মাধ্যমে কালো টাকা সাদা করার সুযোগ বাতিল করা হয়। একই সঙ্গে সামাজিক নিরাপত্তা খাতে বরাদ্দ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো হয়।
সবচেয়ে বেশি বাজেট দিয়েছেন কারা?
স্বাধীনতার পর সবচেয়ে বেশি ১২টি করে বাজেট উপস্থাপন করেছেন দুজন ব্যক্তি— সাইফুর রহমান ও আবুল মাল আবদুল মুহিত। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পাঁচটি করে বাজেট উত্থাপনও করেছেন দুজন— শাহ এ এম এস কিবরিয়া ও আ হ ম মুস্তফা কামাল। এনকজরে বাজেট উত্থাপনকারীরা—
- আবুল মাল আবদুল মুহিত — ১২টি
- এম সাইফুর রহমান — ১২টি
- শাহ এ এম এস কিবরিয়া — ৫টি
- আ হ ম মুস্তফা কামাল — ৫টি
- এম সাইদুজ্জামান — ৪টি
- তাজউদ্দীন আহমদ — ৩টি
- জিয়াউর রহমান — ৩টি
অন্যরা এক বা দুইটি করে বাজেট উপস্থাপন করেছেন।
৫৫ বছরে বাজেটের বিবর্তন
বাংলাদেশের প্রথম যুদ্ধকালীন বাজেটের আকার ছিল মাত্র কয়েক কোটি টাকারও কম। স্বাধীনতার পর প্রথম পূর্ণাঙ্গ বাজেট ছিল ৭১৯ কোটি টাকার। এরপর ধীরে ধীরে বাজেটের আকার বেড়ে এক হাজার কোটি, ১০ হাজার কোটি, এক লাখ কোটি এবং পরে কয়েক লাখ কোটি টাকায় পৌঁছায়।
২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাজেটের আকার ছিল সাত লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকা। আর ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের আকার হতে পারে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা। অর্থাৎ যুদ্ধবিধ্বস্ত একটি দেশের পুনর্গঠনের বাজেট থেকে শুরু করে প্রায় ১০ লাখ কোটি টাকার অর্থনৈতিক পরিকল্পনায় পৌঁছানোর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের বাজেট ইতিহাস হয়ে উঠেছে রাষ্ট্রের অর্থনৈতিক যাত্রাপথের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দলিলগুলোর একটি।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট উপস্থাপন করলে বাংলাদেশের বাজেট ইতিহাসে যুক্ত হবে নতুন একটি অধ্যায়। একই সঙ্গে স্বাধীনতার পর বাজেট উপস্থাপনকারীর তালিকায় যুক্ত হবে ১৫তম নাম।

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বিকেল ৩টায় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে সংসদ অধিবেশন শুরু হয়। তার অনুমোদন দিয়ে বাজেট বক্তৃতা শুরু করেছেন অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, আগামীর বাংলাদেশ গড়ে তুলতে ১০টি বিষয়ে অগ্রাধিকার দিয়ে বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে।
১ ঘণ্টা আগে
বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী বলেন, “দেশের উন্নয়ন ও রাষ্ট্রীয় সেবা কার্যক্রম পরিচালনায় করদাতাদের অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।” তিনি জানান, করদাতাদের যথাযথ সম্মান ও স্বীকৃতি দেওয়ার মাধ্যমে সমাজে ইতিবাচক বার্তা পৌঁছে দিতে সরকার নতুন নীতিমালা প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে।
১ ঘণ্টা আগে
দোকান মালিক সমিতির সভাপতি মো. হেলাল উদ্দিন বলেন, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী কিছুক্ষণ আগে আমাদের জানিয়েছেন, আজ থেকে সকাল ১১টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত মার্কেট, বিপণি বিতান ও দোকানপাট খোলা রাখা যাবে।
২ ঘণ্টা আগে
২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট জাতীয় সংসদে উত্থাপন করতে যাচ্ছে বিএনপি সরকার। অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী এই বাজেট উত্থাপন করবেন। এরই মধ্যে মন্ত্রিসভায় ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার প্রস্তাবিত বাজেট অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এখন সংসদে উত্থাপনের অপেক্ষা।
৩ ঘণ্টা আগে