যুক্তরাষ্ট্রে শুল্ক আলোচনায় সুফল মেলেনি, আলোচনা চলবে

ডেস্ক, রাজনীতি ডটকম
আপডেট : ১২ জুলাই ২০২৫, ১২: ৫৪
যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত শুল্ক আলোচনায় বাংলাদেশের প্রতিনিধি দল। ছবি: প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং

বাংলাদেশের পণ্যের ওপর ৩৫ শতাংশ শুল্ক আরোপে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সিদ্ধান্ত নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের সঙ্গে আলোচনা শেষ হলেও কোনও সিদ্ধান্ত আসেনি। বেশ কিছু বিষয় অমীমাংসিত রয়েছে।

বাংলাদেশে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং শনিবার (১২ জুলাই) সকালে জানিয়েছে, দ্বিতীয় দফার বাণিজ্য আলোচনার তৃতীয় ও শেষ দিনে কিছু বিষয়ে দুই দেশ একমত হয়েছে। কয়েকটি বিষয় এখনও অমীমাংসিত রয়ে গেছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বাংলাদেশ, জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়াসহ বিশ্বের ১৪টি দেশের ওপর নতুন করে শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেন, যা আগামী ১ আগস্ট থেকে কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে।

ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, এটিই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নয়, এ নিয়ে আলোচনার সুযোগ রয়েছে। বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সেই আলোচনায় অংশ নিলেও ৩৫ শতাংশ শুল্কের বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনও সুফল আসেনি।

তবে দুই পক্ষই এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে যে, নিজেদের মধ‍্যে আন্তঃমন্ত্রণালয় আলোচনা চালু থাকবে। তারপর আবার দুই দেশের প্রতিনিধিরা আলোচনায় বসবেন। সেই আলোচনা ভার্চুয়ালি এবং সামনাসামনি দুই প্রক্রিয়াতেই হতে পারে। খুব দ্রুতই সেই সময়-তারিখ নির্ধারিত হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে বলে জানায় প্রেস উইং।

বাণিজ‍্য উপদেষ্টা, সচিব ও অতিরিক্ত সচিব আজ শনিবার (১২ জুলাই) দেশে ফিরবেন। প্রয়োজন হলে তারা আবার যাবেন। তিন দিনের আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশির উদ্দিন ও নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান আশাবাদী যে, নির্ধারিত সময়ের মধ‍্যে একটি ইতিবাচক অবস্থানে পৌঁছানো যাবে।

বাংলাদেশ পক্ষের নেতৃত্ব দেন বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দিন। জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমান এবং প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী জনাব ফয়েজ তৈয়ব ঢাকা থেকে ভার্চুয়ালি অংশগ্রহণ করেন। ভার্চুয়ালি আরও উপস্থিত ছিলেন সরকারি উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ও বিশেষজ্ঞরা।

তিনদিনের এই আলোচনার পুরো বিষয়টি সমন্বয় করেছে ওয়াশিংটন ডিসির বাংলাদেশ দূতাবাস।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন ব্যবসায়ী নেতা রাজনীতি ডটকম-কে জানান, গত বছর (২০২৪) মে মাসে বাংলাদেশ থেকে ১০ ডলারের একটি পণ্য যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে রপ্তানির জন্য শুল্ক দিতে হতো গড়ে ১ দশমিক ৬৭ ডলার। চলতি বছরের মে মাসে একই মূল্যের পণ্যে শুল্ক দিতে হয়েছে ২ দশমিক ১১ ডলার। আগামী ১ আগস্ট থেকে পাল্টা শুল্ক কার্যকর হলে তা আরও বাড়বে এবং এর ফলে দেশের অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। কারণ অতিরিক্ত ৩৫ শতাংশ শুল্ক দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ক্রেতাপ্রতিষ্ঠানগুলো পোশাক নিতে আগ্রহী হবে না।

গত ৭ জুলাই ট্রাম্প জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়াসহ যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান কিছু বাণিজ্যিক অংশীদারকে চিঠি পাঠিয়ে এপ্রিলে স্থগিত করা শুল্ক ফিরিয়ে আনার ঘোষণা দেন।

ট্রাম্পের ট্রুথ সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে পোস্ট করা চিঠি অনুযায়ী, জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার পণ্যের ওপর ২৫ শতাংশ, ইন্দোনেশিয়ার ওপর ৩২ শতাংশ, থাইল্যান্ডের ওপর ৩৬ শতাংশ এবং বাংলাদেশের পণ্যের ওপর ৩৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে।

এর আগে, গত ২ এপ্রিলকে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক ‘স্বাধীনতা দিবস’ ঘোষণা করে বিভিন্ন দেশের আমদানিপণ্যের ওপর শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেন ট্রাম্প। কিন্তু বিশ্ববাজারে অস্থিরতা দেখা দিলে ৯০ দিনের জন্য সেটি স্থগিত করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। সেই মেয়াদ ৯ জুলাই শেষ হওয়ার আগেই তিনি নতুন করে এই চিঠি পাঠালেন। বাংলাদেশের ব্যবসায়ীরা এই শুল্ক আরোপের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছেন।

ad
ad

অর্থের রাজনীতি থেকে আরও পড়ুন

সোনার ভরিতে বাড়ল ২,২১৬ টাকা

বাজুসের তথ্য অনুযায়ী, রবিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) ২২ ক্যারেট সোনার দাম ছিল ভরিপ্রতি ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। আজ নতুন দরে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৬১ হাজার ৪০ টাকা, অর্থাৎ ভরিতে দাম বেড়েছে ২ হাজার ২১৬ টাকা।

৪ দিন আগে

স্মারক স্বর্ণ ও রৌপ্য মুদ্রার মূল্য পুনর্নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বিশ্ববাজারের সাথে সমন্বয় করতেই এই মূল্যবৃদ্ধি।

৪ দিন আগে

এ সরকারের আমলে চট্টগ্রাম বন্দরের চুক্তি হচ্ছে না: বিডা চেয়ারম্যান

আশিক চৌধুরী বলেন, ‘এই সরকারের আমলে ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে চট্টগ্রাম বন্দর ইজারার চুক্তি হচ্ছে না। তারা আমাদের কাছে একটু সময় চেয়েছে। কিন্তু আমাদের হাতে মাত্র দুটি কার্যদিবস বাকি আছে। তাই এ সময়ের মধ্যে (চুক্তি) হচ্ছে না।’

৫ দিন আগে

পাকিস্তান থেকে রেল কোচ ও ওয়াগন আমদানির পথে বাংলাদেশ

পাকিস্তান রেলওয়ের পক্ষ থেকে কম খরচে মানসম্মত কোচ সরবরাহের প্রস্তাবের প্রেক্ষিতে এই সফর অনুষ্ঠিত হয়। মূলত দুই দেশের ভ্রাতৃপ্রতিম সম্পর্ক এবং রেলওয়ে খাতের আধুনিকায়নে পারস্পরিক অংশীদারিত্ব বৃদ্ধির লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা সফল হলে বাংলাদেশের রেল যোগাযোগে নতুন গতির সঞ্চার হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

৫ দিন আগে