রাষ্ট্রপতি পদে মির্জা ফখরুল কেন সবার পছন্দ?

রাহাতুল ইসলাম রাফি
আপডেট : ১১ আগস্ট ২০২৬, ২২: ৫৯
রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ছবি: কোলাজ

দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতির জন্য অপেক্ষা যখন আর মাত্র ৯ দিনের, তখন এ পদে ঘরে-বাইরে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছেন বিএনপি সরকারের স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় ও দলের মহাসচিবের দায়িত্বে থাকা মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বিএনপির একাধিক সূত্র জানিয়েছে, দুঃসময়ে দলের হাল ধরে রাখা পোড় খাওয়া এই রাজনীতিবিদকেই বিএনপি প্রার্থী করবে, যার মধ্য দিয়ে ভোটের আনুষ্ঠানিকতায় তিনিই নির্বাচিত হবেন নতুন রাষ্ট্রপতি।

কেবল বিএনপির মধ্যে নয়, অন্যান্য রাজনৈতিক দলের নেতা ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকরাও ‘ক্লিন ইমেজে’র মির্জা ফখরুলকেই রাষ্ট্রপতি পদে যোগ্যতম ও বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে বিবেচনা করছেন। তারা বলছেন, দলের প্রতি দীর্ঘদিনের আনুগত্য ও চরম দুঃসময়ে দলের কাণ্ডারির ভূমিকা পালনের পুরস্কার হিসেবে বিএনপি তাকে রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী করতে পারে। ভবিষ্যতে তত্ত্বাবধায়ক সরকার চালু হলে তখন রাষ্ট্রপতির ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। সে ক্ষেত্রেও মির্জা ফখরুল তার রাজনৈতিক প্রজ্ঞা কাজে লাগাতে পারবেন।

নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না রাজনীতি ডটকমকে বলেন, ‘যাদের নাম আলোচনায় আছে, তাদের মধ্যে মির্জা ফখরুলই বেস্ট বলে মনে হয়। তবে তিনি শ্রেষ্ঠ কি না, এটি বলা যায় না। আলোচিতদের মধ্যে নিঃসন্দেহে মির্জা ফখরুল যোগ্যতায় এগিয়ে।’

রাষ্ট্রবিজ্ঞানী, শিক্ষাবিদ ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক অধ্যাপক ড. দিলারা চৌধুরী রাজনীতি ডটকমকে বলেন, ‘আমার ধারণা, মির্জা ফখরুল ইসলামই দলীয় মনোনয়ন পাবেন। কারণ তার ইতিবাচক পাবলিক ইমেজ রয়েছে। দলীয় পরিচয়ের বাইরেও সুশীল সমাজে তিনি অনেকটাই গ্রহণযোগ্য।’

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকার ও রাজনীতি বিভাগের সাবেক অধ্যাপক ড. আব্দুল লতিফ মাসুম রাজনীতি ডটকমকে বলেন, ‘২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকে রাষ্ট্রপতিকে ক্ষমতায়িত করার আলোচনা আছে। সে ব্যাপারটা যদি কিছুটাও প্রতিষ্ঠিত হয়, সেক্ষেত্রে স্বাভাবিকভাবেই বিএনপির দায়িত্বশীল কাউকে সেখানে বসানোর চেষ্টা থাকবে। এ দিক থেকে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর যথার্থ লোক।’

২০২৪ সালের আগস্টে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকেই রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা ও ভূমিকা নিয়ে নানা আলোচনা শুরু হয়। এরপর চলতি বছরের জুলাই পর্যন্ত রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের নিয়োগ দেওয়া রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। গত ২৪ জুলাই তার পদত্যাগের পরই নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তোড়জোড় শুরু হয়েছে।

এরই মধ্যে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন। তফসিল অনুযায়ী, ১৩ আগস্ট পর্যন্ত রাষ্ট্রপতি পদে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া যাবে। ১৬ আগস্টের মধ্যে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষ করবে কমিশন। আর প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময় ১৮ আগস্ট। নতুন রাষ্ট্রপতি বেছে নিতে ভোট হবে আগামী ২০ আগস্ট।

এ নির্বাচন সামনে রেখে এরই মধ্যে সংসদের বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন জোট কর্নেল (অব.) অলি আহমদকে প্রার্থী ঘোষণা করেছে। তবে ক্ষমতাসীন বিএনপি এখনো প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেনি। দলটির স্থায়ী কমিটির সভার সিদ্ধান্ত— দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানই ঠিক করবেন— কে হবেন বিএনপির রাষ্ট্রপতি প্রার্থী।

সাড়ে ৩ দশক পরে রাষ্ট্রপতি পদে ভোট

বাংলাদেশে সর্বশেষ রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে অবশ্য ভোট হয়েছিল প্রায় সাড়ে তিন দশক আগে— ১৯৯১ সালে। পরবর্তী সময়ে টানা সাতবার একক প্রার্থী হিসেবেই রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়েছেন সরকারি দল মনোনীত প্রার্থীরা, ভোটের আর প্রয়োজন হয়নি।

বিধি বলছে, বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন পরোক্ষ ভোটে, তথা সংসদ সদস্যদের ভোটে। সংসদে সরকারি দলের নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকলে তাদের প্রার্থীই ব্যতিক্রমহীনভাবে জয় পাবেন, তা ধরেই নেওয়া যায়। আর সে কারণেই গত সাড়ে তিন দশক ধরে দেশে সরকারি দল মনোনীত প্রার্থীদের বিপরীতে অন্য কেউ প্রার্থী দেয়নি।

৩৫ বছর পর এসে সেই ধারাবাহিকতায় ছেদ পড়তে যাচ্ছে। জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন বিরোধী দলীয় জোট এরই মধ্যে রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী ঘোষণা করেছে। অন্যদিকে বিএনপির পক্ষ থেকে দুটি মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করা হয়েছে। ফলে এখন পর্যন্ত প্রায় নিশ্চিত, আগামী ২০ আগস্ট সংসদ কক্ষে সংসদ সদস্যদের ভোটেই নির্বাচিত হবেন দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি।

বিএনপিতে মির্জা ফখরুলকে ঘিরে জোর গুঞ্জন

সরকারি দল বিএনপি রাষ্ট্রপতি পদের জন্য দুটি মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছে। বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি এবং জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী মনোনয়ন ফরম দুটি সংগ্রহ করেন।

এরপর থেকেই বেড়েছে গুঞ্জন। এরই মধ্যে সবচেয়ে বেশি আলোচনা শোনা গেছে দলের মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে ঘিরে। দীর্ঘদিন ধরে তিনি দলের অন্যতম নির্ভরতার নাম। বিশেষ করে খালেদা জিয়া কারাবরণ করার পরবর্তী সময়ে তারেক রহমানও যখন দেশের বাইরে, তখন মাঠে দলের হাল ধরে রেখেছিলেন তিনিই।

এ ছাড়া আলোচনা আছে স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশারফ হোসেন ও নজরুল ইসলাম খানের নামও। তবে রাষ্ট্রপতি পদে দায়িত্ব পালনের জন্য তারা স্বাস্থ্যের দিক থেকে কতটা উপযোগী, সে প্রশ্নও রয়েছে। এর বাইরে বর্তমানে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্বে থাকা মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদের নামও শোনা যাচ্ছে বিভিন্ন আলোচনায়।

বিএনপির নির্ভরযোগ্য সূত্রগুলো বলছে, ১৩ আগস্ট রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন হওয়ায় সেদিনই বিএনপি প্রার্থীর নাম আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে। তবে দলীয়ভাবে এখনো প্রকাশ করা না হলেও মির্জা ফখরুল ইসলামই হতে যাচ্ছেন বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী— এমনটিই মনে করছেন দলের নেতাকর্মীদের বড় অংশ।

Mahmudur Rahman Manna Quote For President Story 11-08-2026

আলোচনায় থাকা বিএনপি নেতাদের মধ্যে মির্জা ফখরুলকেই ‘বেস্ট’ উল্লেখ করা নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না বাকিদের শারীরিক অবস্থাকে বিবেচনায় নিচ্ছেন। তিনি বলেন, ‘নজরুল ইসলাম খান সাহেব ভালো প্রার্থী। কিন্তু তিনি অসুস্থ।’

বিএনপি দুটি মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করায় ‘চমক’ থাকার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দিচ্ছেন না মান্না। রাজনীতি ডটকমকে তিনি বলেন, ‘সরকারের কাছে আরও কোনো প্রার্থী আছে কি না, তা আমরা জানি না। দুটি মনোনয়নপত্র যেহেতু বিএনপির পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছে, সেখানে চমকও থাকতে পারে। বাংলাদেশ তো চমকের দেশ। সাহাবুদ্দিন যে প্রেসিডেন্ট হবেন, ইউনূস যে প্রধান উপদেষ্টা হবেন— এগুলো কি কারও কল্পনায় ছিল? আবার মন্ত্রিসভায় যেসব মুখ এসেছে, তাদের অনেককেই মন্ত্রী হিসেবে কেউ চিন্তাও করেনি।’

রাষ্ট্রবিজ্ঞানী অধ্যাপক দিলারা চৌধুরী রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে কেবল ‘দলীয় ব্যাপার’ হিসেবেই দেখছেন। তার অভিমত, এই পদের তেমন কোনো ক্ষমতা নেই। রাজনীতি ডটকমকে তিনি বলেন, ‘জামায়াতে ইসলামী প্রার্থী দেওয়ায় ভোটাভুটি হবে। আমার বিশ্বাস, বিএনপির দলের মধ্যে থেকেই কেউ একজন প্রার্থী হবেন। ইতিবাচক পাবলিক ইমেজ ও সুশীল সমাজসহ সর্বস্তরে গ্রহণযোগ্যতার কারণে আমার ধারণা মির্জা ফখরুল ইসলামই দলীয় মনোনয়ন পাবেন।’

অন্য দুই সম্ভাব্য প্রার্থী খন্দকার মোশারফ হোসেন ও নজরুল ইসলাম খানের প্রসঙ্গে দিলারা চৌধুরী বলেন, ‘মির্জা ফখরুল যে খুব সুস্থ, তাও নয়। তবে রাষ্ট্রপতি পদে আর যারা আলোচনায় আছেন, তারা বেশ অসুস্থ। দলের ভেতর ও বাইরেও মির্জা ফখরুল ইসলামের গ্রহণযোগ্যতাই বেশি।’

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকার ও রাজনীতি বিভাগের সাবেক অধ্যাপক ড. আব্দুল লতিফ মাসুমও এ পদে নির্বাচনকে বিশেষ ‘গুরুত্ববহ’ বলে মনে করছেন না। তার মতে, এ পদের ক্ষেত্রে শাসক দলের প্রয়োজন ও অগ্রাধিকারই মুখ্য হয়ে থাকে। তবে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকে রাষ্ট্রপতিকে ক্ষমতায়িত করার আলোচনা এবং আগামী নির্বাচন, যা তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে হবে বলে অনুমেয়— এই দুটি বিষয়কে সামনে রেখে বিএনপির একধরনের বোঝাপড়া থাকবে বলে মনে করেন তিনি।

অধ্যাপক মাসুম বলেন, ‘মির্জা ফখরুল ইসলামের নাম শোনা যাচ্ছে। উনার রাষ্ট্রপতি হওয়ার যৌক্তিকতা অনুভব করি। গত ১৭ বছর দলের দুঃসময়ে তিনি নেতৃত্ব দিয়েছেন। ফলে পুরস্কৃত করার বিষয়টাও থাকতে পারে এখানে। তাছাড়া রাষ্ট্রপতিকে ক্ষমতায়িত করার বিষয়টি মাথায় রাখলেও স্বাভাবিকভাবেই বিএনপি দায়িত্বশীল কাউকে সেখানে বসালে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর যথার্থ লোক হবেন।’

অধ্যাপক মাসুম আরও বলেন, ‘আগামী নির্বাচনটা যে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে হবে, সেটা বেশ অনুমেয়। এ ক্ষেত্রে দায়িত্ব বাড়বে। সব মিলিয়ে মির্জা ফখরুল ইসলামকেই বিএনপি এই পদে চাইবে— এটাই মনে হয় আমার।’

বিএনপির সম্ভাব্য অন্য দুই প্রার্থী প্রসঙ্গে এই অধ্যাপক বলেন, ‘নজরুল ইসলাম খান সংসদ সদস্যও হননি। তাকে পুরষ্কৃত করার ব্যাপার থাকতে পারে। খন্দকার মোশারফ হোসেনের ক্ষেত্রেও তেমনই। তবে তাদের স্বাস্থ্যগত পরিস্থিতি একটি চ্যালেঞ্জ বটে।’

Prof Abdul Latif Masum Quote For President Story 11-08-2026

বিরোধী দলের প্রার্থী নিয়ে আলোচনা

রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সামনে রেখে এরই মধ্যে জোট শরিক লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান অলি আহমদকে প্রার্থী ঘোষণা করেছে জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় ঐক্য।

অলি আহমেদ একজন রণাঙ্গনের মুক্তিযোদ্ধা, বীর বিক্রম খেতাব পেয়েছেন তিনি। সেনা কর্মকর্তা হিসেবেও তার সুনাম ছিল। অলি আহমেদ রাজনীতি করেছেন প্রয়াত প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের সঙ্গে। তার দল এলডিপি একসময় বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের শরিক দলও ছিল।

এদিকে মুক্তিযুদ্ধের বিরোধী শক্তি হিসেবে পরিচিত জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে একজন মুক্তিযোদ্ধাকে প্রার্থী করাকে সাধারণ চোখে দেখছেন না সংশ্লিষ্টরা। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন— অলি আহমেদকে প্রার্থী করার ক্ষেত্রে জামায়াতে ইসলামীর ‘ইমেজ উদ্ধারে’র প্রচেষ্টা রয়েছে।

অধ্যাপক দিলারা চৌধুরী রাজনীতি ডটকমকে বলেন, ‘নিঃসন্দেহে বিরোধী দলের প্রার্থী শক্তিশালী। তিনি নামকরা একজন মুক্তিযোদ্ধা, জিয়াউর রহমান সাহেবের সঙ্গে রাজনীতি করেছেন। এই প্রার্থী নির্বাচনে অলি আহমদের চেয়ে জামায়াতের ইমেজের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। কারণ জামায়াতকে রাজাকারদের দল বলা হয়। সে জামায়াতই একজন বড় মুক্তিযোদ্ধাকে প্রার্থী করেছে।’

‘তারা এ নির্বাচনে নিশ্চিতভাবেই জিততে পারবে না, কিন্তু তাকে প্রার্থী করার মধ্যে তাদের পলিটিক্যাল গেইন আছে,’— বলেন অধ্যাপক দিলারা।

Prof Abdul Latif Masum Quote For President Story 11-08-2026

বিরোধী দলের রাষ্ট্রপতি প্রার্থী হিসেবে কর্নেল অলি আহমদের মনোনয়ন প্রসঙ্গে মাহমুদুর রহমান মান্না রাজনীতি ডটকমকে বলেন, ‘তিনি তো জামায়াতেই যোগ দিয়েছেন বলে শুনেছি। তিনি বা তার দল যখন জামায়াত জোটে যোগ দেন, তখন রাষ্ট্রপতি পদে মনোনয়ন পাওয়ার বিষয়টি হয়তো মাথায় ছিল না। তিনি কেন কীভাবে এই জোটে যোগ দিলেন— সেটাও জানি না।’

তিনি বলেন, ‘অনেক মুক্তিযোদ্ধাই স্বাধীনতাবিরোধী হতে পারেন। কর্নেল অলিও তার সাক্ষাৎকারে বলেছেন, তিনি জামায়াতকে স্বাধীনতাবিরোধী বলে মনে করেন না। এখন প্রেসিডেন্ট হবেন না জেনেও তিনি প্রার্থী হয়েছেন। কারণ, এটি এক ধরনের হাইপ তৈরি করে।’

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকার ও রাজনীতি বিভাগের সাবেক অধ্যাপক আব্দুল লতিফ মাসুম অবশ্য বিষয়টিকে ‘ইতিবাচক’ হিসেবেই দেখছেন। তিনি বলেন, ‘জামায়াত নিঃসন্দেহে স্বাধীনতাবিরোধী দল। তাদের অবশ্যই ক্ষমা চাওয়া উচিত। তবে বিভাজনের বাস্তবতা এখন আর নেই।’

তিনি বলেন, ‘কমন সেন্স থেকে বুঝি— একজন মুক্তিযোদ্ধাকে প্রার্থী করার মধ্য দিয়ে জামায়াতের এক ধরনের প্রচেষ্টা আছে। স্বাধীনতাবিরোধিতার ট্যাগটা তারা মিনিমাইজ করতে চায়। এ ক্ষেত্রে কর্নেল অলিদের মতো লোকেদের বিকল্প নেই। আমি ব্যাপারটাকে অ্যাপ্রিশিয়েট করি।’

ড. ইউনূসকে ঘিরে আলোচনায় ‘পাশ্চত্যের চাপ’

বিএনপি ও জামায়াত জোটের আলোচিত প্রার্থী ছাড়াও নাম শোনা যাচ্ছে সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নাম। ওই সরকারের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকা খলিলুর রহমানকে বিএনপির পররাষ্ট্রমন্ত্রী করার ঘটনা টেনে অনেকেই অধ্যাপক ইউনূসের সম্ভাবনাকেও উড়িয়ে দিচ্ছেন না। এ ছাড়া পাশ্চাত্য ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের চাপ থাকতে পারে বলেও মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

অধ্যাপক দিলারা চৌধুরী বলেন, ‘এ পদের ক্ষেত্রে আলাদা কোনো চমক থাকবে বলে মনে করি না। একমাত্র চমক হবে যদি অধ্যাপক ইউনূসকে প্রার্থী করা হয়। ধারণা পাওয়া যায়, যুক্তরাষ্ট্রে তাকে সমর্থন দিচ্ছে, যদিও ভারত সেটি চায় না। যুক্তরাষ্ট্র যদি সে রকম চাপ না দেয়, তাহলে অধ্যাপক ইউনূসের প্রার্থী হওয়ার সম্ভাবনা কম।’

‘আমার মনে হয়, যুক্তরাষ্ট্র সেভাবে চাপ দেবে না। অবশ্য গুঞ্জন আছে— সার্জিও গোর বাংলাদেশ সফরে এসে অধ্যাপক ইউনূসের পক্ষে কথা বলে গেছেন। খলিলুর রহমান পররাষ্ট্রমন্ত্রী হওয়ার পর মার্কিন প্রভাবের বিষয়টি বেশি আলোচনায় আসছে। এটি নির্ভর করবে তাদের চাপ কত বেশি ও সরকার কতটা হজম করতে পারে, তার ওপর,’— বলেন রাষ্ট্রবিজ্ঞানী অধ্যাপক দিলারা চৌধুরী।

অধ্যাপক ইউনূসের নামটি এ ক্ষেত্রে ‘প্রাসঙ্গিক’ হবে না বলে মনে করছেন অধ্যাপক মাসুম। তবে ‘পাশ্চত্যের চাওয়া-পাওয়া’কে উড়িয়ে দিচ্ছেন না তিনিও।

রাজনীতি ডটকমকে অধ্যাপক আব্দুল লতিফ মাসুম বলেন, ‘আমার মনে হয় না এ ক্ষেত্রে উনার নাম রেলেভেন্ট। তবে পাশ্চত্যের কাছে উনি পছন্দের লোক। অন্যদিকে ভারতের পক্ষ থেকে আবার তার বিরোধিতা থাকবে। সব মিলিয়ে একটা চেক-অ্যান্ড ব্যালেন্স থাকবে বলে মনে করি আমি।’

মাহমুদুর রহমান মান্না আবার মনে করছেন, অধ্যাপক ইউনূসের রাষ্ট্রপতি হওয়াটা ‘বেমানান’ হবে। তিনি বলেন, ‘অধ্যাপক ইউনূস সদ্য সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ছিলেন। তাকে নিয়ে আলোচনা তো আছেই। তবে তিনি রাষ্ট্রপতি হলে সেটি হবে খুবই বেমানান।’

Ad
Ad
ad
ad
ad

রাজনীতি থেকে আরও পড়ুন

ক্ষমতায় গিয়ে প্রতারণা করছে বিএনপি: জামায়াত আমির

সোমবার (১০ আগস্ট) দুপুরে গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার বোনারপাড়া কাজী আজহার আলী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে এক জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

২ দিন আগে

জামায়াতের ‘ইতিহাস প্রদর্শনী’ নিয়ে বিতর্ক, রাজনৈতিক টানাপোড়েনের বহির্প্রকাশ?

বিএনপির পক্ষ থেকে এ বিষয়টিকে ‘রহস্যজনক’ বলে অভিহিত করা হয়েছে। আর বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ক্ষমতাসীন বিএনপির সঙ্গে বিরোধী দল জামায়াতের যে রাজনৈতিক টানাপোড়েন, তারই বহির্প্রকাশ হতে পারে এই প্রদর্শনী।

২ দিন আগে

পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে রুদ্ধদ্বার বৈঠকে ভারতীয় দূত, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক সোমবার

রোববারের বৈঠকের পর পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানকে ঘিরে ধরেছিলেন সাংবাদিকরা। তারা বৈঠকের আলোচ্য বিষয় নিয়ে জানতে চান মন্ত্রীর কাছে। তবে খলিলুর রহমান বৈঠকের আলোচনা নিয়ে কিছু বলেননি। তিনিও কেবল জানিয়েছেন, সোমবার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করবেন ভারতীয় হাইকমিশনার। ওই বৈঠকের পরই আনুষ্ঠানিকভাবে গণমাধ্যমে ব

২ দিন আগে

জনগণের ভাগ্য নিয়ে কাউকে ছিনিমিনি খেলতে দেওয়া হবে না: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এখন সময় দেশ গড়ার, এখন সময় জাতির ভাগ্য গঠনের। কাজেই আমাদের ২০ কোটি মানুষের ৪০ কোটি হাতকে শ্রমিকের হাতে রূপান্তরিত করতে হবে। আমাদের দেশকে সামনের দিনগুলোতে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে।’

২ দিন আগে