ঢাবি প্রতিনিধি
শিক্ষার মানোন্নয়ন, গবেষণায় বাজেট বাড়ানো ও নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাসহ ১৮ দফা ইশতেহার ঘোষণা করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনে অংশ নেওয়া প্রতিরোধ পর্ষদ প্যানেল।
রোববার (৩১ আগস্ট) বিকেলে মধুর ক্যানটিনে এক সংবাদ সম্মেলনে ১৮ দফা ইশতেহার তুলে ধরে বামজোটের এই প্যানেল। এ সময় ইশতেহার পাঠ করেন প্যানেলের সাধারণ সম্পাদক (জিএস) প্রার্থী মেঘমল্লার বসু।
ইশতেহারে একাডেমিক ক্যালেন্ডারে কেন্দ্রীয় ও হল সংসদ নির্বাচনের তারিখ সুনির্দিষ্ট করা, প্রথম বর্ষ থেকেই প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে আসন নিশ্চিত করা, খাদ্য ও পুষ্টিমান নিশ্চিত করা, গণরুম-গেস্টরুম ও র্যাগিং প্রথা নিষিদ্ধ করা এবং সব জাতিগোষ্ঠীর সমমর্যাদা ও অধিকার প্রতিষ্ঠায় কাজ করার প্রতিশ্রুতি উঠে এসেছে।
ডাকসুর কাঠামোর সংস্কার ও ক্ষমতা বৃদ্ধি
একাডেমিক ক্যালেন্ডারে কেন্দ্রীয় ও হল সংসদ নির্বাচনের তারিখ সুনির্দিষ্ট করা। সিনেটের কোরাম পূর্ণ করতে ন্যূনতম দুজন নির্বাচিত ছাত্র প্রতিনিধির উপস্থিত থাকার বাধ্যবাধকতা রেখে ’৭৩-এর অধ্যাদেশ সংশোধন করা। সিনেটে পাঁচজন নয়, ন্যূনতম ১০ জন নির্বাচিত ছাত্র প্রতিনিধি রাখার বিধান যুক্ত করা।
হল সংসদ ও কেন্দ্রীয় সংসদের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের অপসারণ বা কোনো কারণে বিলুপ্ত করতে হলে তা শিক্ষার্থীদের গণভোটের মাধ্যমে হতে হবে, কোনোভাবেই প্রাধ্যক্ষ ও উপাচার্যের হাতে এ ক্ষমতা না রাখা। অনুষদভিত্তিক শিক্ষার্থী প্রতিনিধি নির্বাচন করা।
শিক্ষার্থীদের ক্ষমতায়ন করে শিক্ষার মানোন্নয়ন
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার বাণিজ্যিকীকরণ-বেসরকারিকরণ-সংকোচন নিষিদ্ধ ঘোষণা করা। আইএমএফ, বিশ্বব্যাংকের পরামর্শে গৃহীত ইউজিসির কৌশলপত্র বাতিল করা। বিশ্ববিদ্যালয়ে পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি), ইনস্টিটিউশনাল কোয়ালিটি অ্যাশুরেন্সে সেল, বাণিজ্যিক নাইট কোর্সসহ শিক্ষা বিধ্বংসী সব প্রকল্প রুখে দেওয়া।
সব ধরনের ফি বৃদ্ধি বা আরোপ বন্ধ করা, তিন মাসের মধ্যে পরীক্ষার ফল প্রকাশ বাধ্যতামূলক করা। শিক্ষক মূল্যায়ন ব্যবস্থা সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের অবগত করা ও মূল্যায়নের ওপর ভিত্তি করে বিভাগের পক্ষ থেকে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া। উপস্থিতির হারের ওপর ভিত্তি করে শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত না করা, নন-কলেজিয়েট/ডিসকলেজিয়েট ফি-এর নামে জরিমানা বাতিল করা ও অস্বচ্ছল শিক্ষার্থীদের জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণের শিক্ষাবৃত্তির ব্যবস্থা করা।
গবেষণায় অগ্রাধিকার
গবেষণা ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার থাকবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের বাজেটের অন্তত ১০ শতাংশ গবেষণা খাতে বরাদ্দ নিশ্চিত করতে হবে। শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে প্রতিটি গবেষণাগার আধুনিকায়নের ব্যবস্থা করা হবে।
প্রতিটি বিভাগে গবেষণা প্রকল্প গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া ও বছর শেষে গবেষণা প্রকল্পের অগ্রগতি সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের অবগত করা। গবেষণা প্রকল্পে শিক্ষার্থীদের রিসার্চ অ্যাসিস্ট্যান্টশিপ, রিসার্চ ফেলোশিপ দেওয়া। থিসিস নেওয়ার ক্ষেত্রে সিজিপিএর প্রতিবন্ধকতা দূর করা।
আবাসন সংকট নিরসন
সব হলে সন্ত্রাস-দখলদারিত্ব বন্ধ করা। পুরনো ভবনগুলোর সংস্কার, সম্প্রসারণ ও নতুন ভবন নির্মাণ করতে প্রশাসনকে বাধ্য করা। প্রথম বর্ষ থেকেই প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে হলে আসন নিশ্চিত করা। হলের ভেতর জোরপূর্বক রাজনৈতিক বা অরাজনৈতিক কর্মসূচিতে নেওয়া কিংবা কর্মসূচিতে যেতে বাধা প্রদান বন্ধ করা। গণরুম, গেস্টরুম ও র্যাগিং প্রথা নিষিদ্ধ করে ক্যাম্পাস চার্টার প্রকাশ। হলগুলোতে পর্যাপ্ত সিসি ক্যামেরা কার্যকর থাকাটা নিশ্চিত করা।
নারীবান্ধব ক্যাম্পাস
নারী শিক্ষার্থীদের সাইবার সুরক্ষা, চলাফেরার স্বাধীনতা ও মতপ্রকাশের অধিকার নিশ্চিত করতে প্রশাসনকে বাধ্য করা। বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌন নিপীড়নবিরোধী সেল কার্যকর করার সার্বিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা। প্রতিটি ফ্যাকাল্টি, নারী হল ও ডিপার্টমেন্টগুলোতে কার্যকর ভেন্ডিং মেশিন স্থাপন। গর্ভবতী ও সদ্য মা হওয়া নারী শিক্ষার্থীদের জন্য ইনটেনসিভ কেয়ার সেন্টার ও ব্রেস্টফিডিং কর্নার স্থাপনসহ সামগ্রিক স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করা।
নারী হলে ‘লোকাল গার্ডিয়ান’ নামক হয়রানির নির্মূলসহ হলের যাবতীয় হয়রানিমূলক নিয়মকানুনের অবসান ঘটানো। নারীদের হলে প্রবেশের সময়সীমা প্রত্যাহার করা। হলে আবাসিক-অনাবাসিক নারী শিক্ষার্থীদের প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করা।
সব জাতিসত্তার অধিকার নিশ্চিত করা
পাহাড় ও সমতলে সব জাতিসত্তার ভাষা, সংস্কৃতি, কৃষ্টি ও ঐতিহ্য সংরক্ষণের ব্যবস্থা করা। সব জাতিগোষ্ঠীর সমমর্যাদা ও অধিকার প্রতিষ্ঠায় কাজ করা।
খাদ্য এবং পুষ্টিমান সুরক্ষা
হলগুলোত ব্যক্তিমালিকাধীন ক্যানটিন নয়, প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে ক্যাফেটেরিয়া চালু করা। প্রতিবেলা খাবারে অন্তত ৮০০ কিলোক্যালরি খাদ্যশক্তি নিশ্চিত করা। ভর্তুকি দিয়ে খাবারের দাম কমানো, মান বাড়ানো। খাবারে বৈচিত্রময় মেন্যু নিশ্চিত করা।
রাত ১২টা পর্যন্ত খাবারের ব্যবস্থা রাখা। কার্জন, মোকাররম, সামাজিক বিজ্ঞান, মোতাহার ভবনসহ (অ্যানেক্স বিল্ডিং) সব একাডেমিক ভবনে ক্যাফেটেরিয়া চালু করা। কলাভবন ও টিএসসি ক্যাফেটেরিয়ার সংস্কার করা। খাবার ও পানীয়ের মান তিন মাস পরপর পরীক্ষা করা।
শারিরীক স্বাস্থ্য সুরক্ষা
শহিদ বুদ্ধিজীবী ডা. মোহাম্মদ মোর্তজা মেডিকেল সেন্টারকে আধুনিক ও ন্যূনতম ১০০ শয্যায় উন্নীত করা। ২৪ ঘণ্টা সেখানে পর্যাপ্ত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, নার্স, অ্যাম্বুলেন্স ও চালক নিশ্চিত করা। সব প্রয়োজনীয় ওষুধ নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য একটি কেন্দ্রীয় ঔষধাগার স্থাপন করা।
প্রতিটি হলে ফার্মেসি চালু করা ও ২৪ ঘণ্টা খোলা রাখার ব্যবস্থা করা। নারী শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে রাতের বেলা হল বন্ধ হওয়ার পর বাইরে চিকিৎসা সংক্রান্ত কাজে যাতায়াতের ক্ষেত্রে প্রশাসনিক জটিলতা দূর করা।
মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষা
মেডিকেল সেন্টারের আওতায় ‘মেন্টাল হেলথ সাপোর্ট সেন্টার’ গড়ে তোলা এবং অনলাইন-অফলাইনে সেবা দেওয়া। নাসিরুল্লাহ সাইকোথেরাপি ও টিএসসির থেরাপি সেন্টারের পাশাপাশি থেরাপি ইউনিট বাড়ানো। শিক্ষার্থীদের মধ্যে মানসিক চাপ, হতাশা, আসক্তি ও আত্মহত্যা প্রতিরোধে সচেতনতা তৈরি করা। মাদকমুক্ত ক্যাম্পাস গড়ে তোলা। স্বাস্থ্যবিধি, পুষ্টি, ব্যায়াম ও মানসিক প্রশান্তি বিষয়ে কর্মশালার আয়োজন করা।
লাইব্রেরি, সেমিনার, রিডিংরুম এবং কমনরুম
কেন্দ্রীয় লাইব্রেরি সার্বক্ষণিক উন্মুক্ত রাখা। নতুন লাইব্রেরি ভবন নির্মাণ ও ২৪ ঘণ্টা খোলা রাখা। নতুন এডিশনের বই নিয়মিত যুক্ত করা। শিক্ষার্থীদের প্রাতিষ্ঠানিক ইমেইল ব্যবহার করে পর্যাপ্তসংখ্যক আন্তর্জাতিক জার্নাল, স্বনামধন্য লাইব্রেরি, ই-বুক, সফটওয়্যার, টুলস, ডোমেইনসহ বিভিন্ন রিসোর্সে বিনামূল্যে প্রবেশ নিশ্চিত করা।
সেমিনারে আসন ও বইয়ের সংখ্যা বাড়ানো। মেয়েদের হলের রিডিং রুম ২৪ ঘণ্টা খোলা রাখা। প্রতিটি অনুষদের শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ কমনরুম নির্মাণ করা।
প্রকাশনা সংস্থাকে সচল করা
বিশ্ববিদ্যালয় প্রকাশনা সংস্থাকে সচল করা এবং নিয়মিত বিভিন্ন বই ও গবেষণাপত্র প্রকাশ করা। মাতৃভাষায় উচ্চ শিক্ষা অর্জনের লক্ষ্যে একটি পূর্ণাঙ্গ অনুবাদ কেন্দ্র প্রতিষ্ঠার কাজ সূচনা করা। শিক্ষার্থীদের থেকে গবেষণা প্রবন্ধ নেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করা।
মুক্ত পরিসর পুনরুদ্ধার ও রক্ষণাবেক্ষণ
বিশ্ববিদ্যালয়ের বেহাত হওয়া জমি পুনরুদ্ধারের ব্যবস্থা করা। অবকাঠামো নির্মাণের ক্ষেত্রে যেন মুক্ত পরিসর সংকুচিত ও পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সেদিকে নজর রাখা। বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘মাস্টারপ্ল্যান’ শিক্ষার্থী ও ডাকসু প্রতিনিধিদের যুক্ত করে পুনর্মূল্যায়ন এবং সংশোধন করা।
সাহিত্য ও সংস্কৃতি
হলগুলোতে নৃত্যকলা, নাট্যকলা, সংগীত ওও চারুকলার শিক্ষার্থীদের চর্চার জন্য আলাদা রুমের সুব্যবস্থা করা। হল অডিটোরিয়ামগুলোকে সংস্কার ও সক্রিয় করার উদ্যোগ নেওয়া। হল-অনুষদে নিয়মিত সাহিত্য-সংস্কৃতিবিষয়ক আড্ডার আয়োজন করা।
সাহিত্য-সংস্কৃতিবিষয়ক মাসিক পত্রিকা প্রকাশ করা। সাহিত্য-শিল্পবিষয়ক বৃত্তির আয়োজন করা। প্রতিবছর ঐতিহ্যবাহী লোক উৎসবের আয়োজন করা। ভিন্ন ভিন্ন জাতিসত্ত্বার মানুষদের সংস্কৃতি তুলে ধরে সাংস্কৃতিক আয়োজন করা।
পরিবহন
বিআরটিসি থেকে ভাড়াভিত্তিক নয়, নিজস্ব অর্থায়নে বাস কেনা। মেরামত কারখানাসহ পূর্ণাঙ্গ পরিবহন ব্যবস্থা ও নীতিমালা গড়ে তোলা। বাসের রুট ও ট্রিপ বাড়ানো। রাত ৮টা পর্যন্ত বাস সার্ভিস চালু রাখা। শনিবারে একাডেমিক প্রয়োজন ও পরীক্ষার্থীদের জন্য বাস সার্ভিস চালু রাখা। বেসরকারিভাবে নয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যোগে আভ্যন্তরীণ যাতায়াতের জন্য শাটল সার্ভিস চালু করা।
ক্রীড়া
বার্ষিক স্পোর্টস ক্যালেন্ডার তৈরি করা, যা একাডেমিক ক্যালেন্ডারের সঙ্গে সমন্বিত হবে। নতুন মাঠ বাড়ানো ও পরিত্যাক্ত মাঠ উদ্ধার করে ব্যবহারযোগ্য করে তোলা। কেন্দ্রীয় ও হলগুলোর মাঠ হবে শুধু খেলার জন্য, বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহারের জন্য নয়— এটি নিশ্চিত করা। কেন্দ্রীয় খেলার মাঠের ড্রেনেজ ও লাইটিং সিস্টেম সংস্কার করা।
বিশ্ববিদ্যালয় জিমনেশিয়াম, সুইমিংপুল, খেলার মাঠ নারীবান্ধব করা। এগুলোর সময়সূচি নমনীয় করা ও আধুনিক সরঞ্জামাদি যুক্ত করা। প্রতিটি অনুষদ ও হলে গেমস রুম করা, যেখানে ক্যারাম, দাবা, টেবিল টেনিসসহ ইনডোর গেমসের ব্যবস্থা থাকবে।
পরিবেশ ও প্রতিবেশ সুরক্ষা
নির্মাণাধীন কাজে নির্মাণসামগ্রী যেন ধূলা-দূষণের উৎস না হয় সেদিকে খেয়াল রাখা। পর্যাপ্তসংখ্যক ডাস্টবিন স্থাপন করা। আড্ডার জায়গাগুলোতে গাড়ি পার্কিং নিষিদ্ধ করা, পার্কিংয়ের জায়গা নির্ধারণ করা। ক্যাম্পাসের ভেতর যানজট ও যানবাহনের হর্ন নিয়ন্ত্রণে প্রক্টরিয়াল টিমকে তৎপর করা।
বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন স্থানে প্রয়োজনমাফিক গণশৌচাগার স্থাপন ও প্রতিদিন রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করা। বিরল ও পুরনো গাছগুলোকে সংরক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া এবং পরিকল্পিত সবুজায়ন করা। বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরে যে জীববৈচিত্র্য রয়েছে তার ডেটাবেজ তৈরি করা। জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে সেল গঠন করা। মাস্টারপ্ল্যান ছাড়া গাছ কাটা নিষিদ্ধ করা।
গণতন্ত্র, স্বায়ত্তশাসন ও মতপ্রকাশের অধিকার
’৭৩-এর অধ্যাদেশের অগণতান্ত্রিক ধারা বাতিল করে পূর্ণাঙ্গ স্বায়ত্তশাসন ও স্বাধীনতা নিশ্চিত করা। প্রশাসনিক ও একাডেমিক কোনো কাজেই রাষ্ট্র-সরকারের হস্তক্ষেপ চলবে না। প্রতিটি শিক্ষার্থীর মানবাধিকার, মতপ্রকাশ ও সংগঠন করার অধিকার নিশ্চিত করা। সাম্প্রদায়িক, জাতিগত ও লৈঙ্গিক বৈষম্য সৃষ্টিকারী সব তৎপরতাকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা। ফিজিক্যালি চ্যালেঞ্জড (প্রতিবন্ধী) শিক্ষার্থীবান্ধব ক্যাম্পাস গড়ে তোলায় উদ্যোগ নেওয়া।
মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলন
মহান মুক্তিযুদ্ধ, নব্বইয়ের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন ও চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানসহ সব গণতান্ত্রিক আন্দোলনের ইতিহাস সংরক্ষণের লক্ষ্যে আর্কাইভ প্রতিষ্ঠা, গবেষণা বৃত্তি নিশ্চিত ও ত্রৈমাসিক প্রকাশনা বের করা। জাতীয়-আন্তর্জাতিক পরিসরে সব গণতান্ত্রিক আন্দোলনে সংহতি, বিশ্বব্যাপী যুদ্ধবিরোধী অবস্থান ও স্বাধীন ফিলিস্তিনের পক্ষে জনমত গঠন করা।
এদিকে মুক্তিযুদ্ধ চেতনাবিরোধী বক্তব্য দেওয়ার জন্যে ফাতেমা তাসনিম জুমার ডাকসু প্রার্থিতা বাতিল করার দাবি জানিয়েছে প্রতিরোধ পর্ষদ। এ বক্তব্যের জন্যে দেশবাসীর কাছে ছাত্রশিবিরকে ক্ষমা চাওয়ার দাবিও জানায় প্যানেলটি।
শিক্ষার মানোন্নয়ন, গবেষণায় বাজেট বাড়ানো ও নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাসহ ১৮ দফা ইশতেহার ঘোষণা করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনে অংশ নেওয়া প্রতিরোধ পর্ষদ প্যানেল।
রোববার (৩১ আগস্ট) বিকেলে মধুর ক্যানটিনে এক সংবাদ সম্মেলনে ১৮ দফা ইশতেহার তুলে ধরে বামজোটের এই প্যানেল। এ সময় ইশতেহার পাঠ করেন প্যানেলের সাধারণ সম্পাদক (জিএস) প্রার্থী মেঘমল্লার বসু।
ইশতেহারে একাডেমিক ক্যালেন্ডারে কেন্দ্রীয় ও হল সংসদ নির্বাচনের তারিখ সুনির্দিষ্ট করা, প্রথম বর্ষ থেকেই প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে আসন নিশ্চিত করা, খাদ্য ও পুষ্টিমান নিশ্চিত করা, গণরুম-গেস্টরুম ও র্যাগিং প্রথা নিষিদ্ধ করা এবং সব জাতিগোষ্ঠীর সমমর্যাদা ও অধিকার প্রতিষ্ঠায় কাজ করার প্রতিশ্রুতি উঠে এসেছে।
ডাকসুর কাঠামোর সংস্কার ও ক্ষমতা বৃদ্ধি
একাডেমিক ক্যালেন্ডারে কেন্দ্রীয় ও হল সংসদ নির্বাচনের তারিখ সুনির্দিষ্ট করা। সিনেটের কোরাম পূর্ণ করতে ন্যূনতম দুজন নির্বাচিত ছাত্র প্রতিনিধির উপস্থিত থাকার বাধ্যবাধকতা রেখে ’৭৩-এর অধ্যাদেশ সংশোধন করা। সিনেটে পাঁচজন নয়, ন্যূনতম ১০ জন নির্বাচিত ছাত্র প্রতিনিধি রাখার বিধান যুক্ত করা।
হল সংসদ ও কেন্দ্রীয় সংসদের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের অপসারণ বা কোনো কারণে বিলুপ্ত করতে হলে তা শিক্ষার্থীদের গণভোটের মাধ্যমে হতে হবে, কোনোভাবেই প্রাধ্যক্ষ ও উপাচার্যের হাতে এ ক্ষমতা না রাখা। অনুষদভিত্তিক শিক্ষার্থী প্রতিনিধি নির্বাচন করা।
শিক্ষার্থীদের ক্ষমতায়ন করে শিক্ষার মানোন্নয়ন
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার বাণিজ্যিকীকরণ-বেসরকারিকরণ-সংকোচন নিষিদ্ধ ঘোষণা করা। আইএমএফ, বিশ্বব্যাংকের পরামর্শে গৃহীত ইউজিসির কৌশলপত্র বাতিল করা। বিশ্ববিদ্যালয়ে পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি), ইনস্টিটিউশনাল কোয়ালিটি অ্যাশুরেন্সে সেল, বাণিজ্যিক নাইট কোর্সসহ শিক্ষা বিধ্বংসী সব প্রকল্প রুখে দেওয়া।
সব ধরনের ফি বৃদ্ধি বা আরোপ বন্ধ করা, তিন মাসের মধ্যে পরীক্ষার ফল প্রকাশ বাধ্যতামূলক করা। শিক্ষক মূল্যায়ন ব্যবস্থা সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের অবগত করা ও মূল্যায়নের ওপর ভিত্তি করে বিভাগের পক্ষ থেকে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া। উপস্থিতির হারের ওপর ভিত্তি করে শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত না করা, নন-কলেজিয়েট/ডিসকলেজিয়েট ফি-এর নামে জরিমানা বাতিল করা ও অস্বচ্ছল শিক্ষার্থীদের জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণের শিক্ষাবৃত্তির ব্যবস্থা করা।
গবেষণায় অগ্রাধিকার
গবেষণা ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার থাকবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের বাজেটের অন্তত ১০ শতাংশ গবেষণা খাতে বরাদ্দ নিশ্চিত করতে হবে। শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে প্রতিটি গবেষণাগার আধুনিকায়নের ব্যবস্থা করা হবে।
প্রতিটি বিভাগে গবেষণা প্রকল্প গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া ও বছর শেষে গবেষণা প্রকল্পের অগ্রগতি সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের অবগত করা। গবেষণা প্রকল্পে শিক্ষার্থীদের রিসার্চ অ্যাসিস্ট্যান্টশিপ, রিসার্চ ফেলোশিপ দেওয়া। থিসিস নেওয়ার ক্ষেত্রে সিজিপিএর প্রতিবন্ধকতা দূর করা।
আবাসন সংকট নিরসন
সব হলে সন্ত্রাস-দখলদারিত্ব বন্ধ করা। পুরনো ভবনগুলোর সংস্কার, সম্প্রসারণ ও নতুন ভবন নির্মাণ করতে প্রশাসনকে বাধ্য করা। প্রথম বর্ষ থেকেই প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে হলে আসন নিশ্চিত করা। হলের ভেতর জোরপূর্বক রাজনৈতিক বা অরাজনৈতিক কর্মসূচিতে নেওয়া কিংবা কর্মসূচিতে যেতে বাধা প্রদান বন্ধ করা। গণরুম, গেস্টরুম ও র্যাগিং প্রথা নিষিদ্ধ করে ক্যাম্পাস চার্টার প্রকাশ। হলগুলোতে পর্যাপ্ত সিসি ক্যামেরা কার্যকর থাকাটা নিশ্চিত করা।
নারীবান্ধব ক্যাম্পাস
নারী শিক্ষার্থীদের সাইবার সুরক্ষা, চলাফেরার স্বাধীনতা ও মতপ্রকাশের অধিকার নিশ্চিত করতে প্রশাসনকে বাধ্য করা। বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌন নিপীড়নবিরোধী সেল কার্যকর করার সার্বিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা। প্রতিটি ফ্যাকাল্টি, নারী হল ও ডিপার্টমেন্টগুলোতে কার্যকর ভেন্ডিং মেশিন স্থাপন। গর্ভবতী ও সদ্য মা হওয়া নারী শিক্ষার্থীদের জন্য ইনটেনসিভ কেয়ার সেন্টার ও ব্রেস্টফিডিং কর্নার স্থাপনসহ সামগ্রিক স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করা।
নারী হলে ‘লোকাল গার্ডিয়ান’ নামক হয়রানির নির্মূলসহ হলের যাবতীয় হয়রানিমূলক নিয়মকানুনের অবসান ঘটানো। নারীদের হলে প্রবেশের সময়সীমা প্রত্যাহার করা। হলে আবাসিক-অনাবাসিক নারী শিক্ষার্থীদের প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করা।
সব জাতিসত্তার অধিকার নিশ্চিত করা
পাহাড় ও সমতলে সব জাতিসত্তার ভাষা, সংস্কৃতি, কৃষ্টি ও ঐতিহ্য সংরক্ষণের ব্যবস্থা করা। সব জাতিগোষ্ঠীর সমমর্যাদা ও অধিকার প্রতিষ্ঠায় কাজ করা।
খাদ্য এবং পুষ্টিমান সুরক্ষা
হলগুলোত ব্যক্তিমালিকাধীন ক্যানটিন নয়, প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে ক্যাফেটেরিয়া চালু করা। প্রতিবেলা খাবারে অন্তত ৮০০ কিলোক্যালরি খাদ্যশক্তি নিশ্চিত করা। ভর্তুকি দিয়ে খাবারের দাম কমানো, মান বাড়ানো। খাবারে বৈচিত্রময় মেন্যু নিশ্চিত করা।
রাত ১২টা পর্যন্ত খাবারের ব্যবস্থা রাখা। কার্জন, মোকাররম, সামাজিক বিজ্ঞান, মোতাহার ভবনসহ (অ্যানেক্স বিল্ডিং) সব একাডেমিক ভবনে ক্যাফেটেরিয়া চালু করা। কলাভবন ও টিএসসি ক্যাফেটেরিয়ার সংস্কার করা। খাবার ও পানীয়ের মান তিন মাস পরপর পরীক্ষা করা।
শারিরীক স্বাস্থ্য সুরক্ষা
শহিদ বুদ্ধিজীবী ডা. মোহাম্মদ মোর্তজা মেডিকেল সেন্টারকে আধুনিক ও ন্যূনতম ১০০ শয্যায় উন্নীত করা। ২৪ ঘণ্টা সেখানে পর্যাপ্ত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, নার্স, অ্যাম্বুলেন্স ও চালক নিশ্চিত করা। সব প্রয়োজনীয় ওষুধ নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য একটি কেন্দ্রীয় ঔষধাগার স্থাপন করা।
প্রতিটি হলে ফার্মেসি চালু করা ও ২৪ ঘণ্টা খোলা রাখার ব্যবস্থা করা। নারী শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে রাতের বেলা হল বন্ধ হওয়ার পর বাইরে চিকিৎসা সংক্রান্ত কাজে যাতায়াতের ক্ষেত্রে প্রশাসনিক জটিলতা দূর করা।
মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষা
মেডিকেল সেন্টারের আওতায় ‘মেন্টাল হেলথ সাপোর্ট সেন্টার’ গড়ে তোলা এবং অনলাইন-অফলাইনে সেবা দেওয়া। নাসিরুল্লাহ সাইকোথেরাপি ও টিএসসির থেরাপি সেন্টারের পাশাপাশি থেরাপি ইউনিট বাড়ানো। শিক্ষার্থীদের মধ্যে মানসিক চাপ, হতাশা, আসক্তি ও আত্মহত্যা প্রতিরোধে সচেতনতা তৈরি করা। মাদকমুক্ত ক্যাম্পাস গড়ে তোলা। স্বাস্থ্যবিধি, পুষ্টি, ব্যায়াম ও মানসিক প্রশান্তি বিষয়ে কর্মশালার আয়োজন করা।
লাইব্রেরি, সেমিনার, রিডিংরুম এবং কমনরুম
কেন্দ্রীয় লাইব্রেরি সার্বক্ষণিক উন্মুক্ত রাখা। নতুন লাইব্রেরি ভবন নির্মাণ ও ২৪ ঘণ্টা খোলা রাখা। নতুন এডিশনের বই নিয়মিত যুক্ত করা। শিক্ষার্থীদের প্রাতিষ্ঠানিক ইমেইল ব্যবহার করে পর্যাপ্তসংখ্যক আন্তর্জাতিক জার্নাল, স্বনামধন্য লাইব্রেরি, ই-বুক, সফটওয়্যার, টুলস, ডোমেইনসহ বিভিন্ন রিসোর্সে বিনামূল্যে প্রবেশ নিশ্চিত করা।
সেমিনারে আসন ও বইয়ের সংখ্যা বাড়ানো। মেয়েদের হলের রিডিং রুম ২৪ ঘণ্টা খোলা রাখা। প্রতিটি অনুষদের শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ কমনরুম নির্মাণ করা।
প্রকাশনা সংস্থাকে সচল করা
বিশ্ববিদ্যালয় প্রকাশনা সংস্থাকে সচল করা এবং নিয়মিত বিভিন্ন বই ও গবেষণাপত্র প্রকাশ করা। মাতৃভাষায় উচ্চ শিক্ষা অর্জনের লক্ষ্যে একটি পূর্ণাঙ্গ অনুবাদ কেন্দ্র প্রতিষ্ঠার কাজ সূচনা করা। শিক্ষার্থীদের থেকে গবেষণা প্রবন্ধ নেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করা।
মুক্ত পরিসর পুনরুদ্ধার ও রক্ষণাবেক্ষণ
বিশ্ববিদ্যালয়ের বেহাত হওয়া জমি পুনরুদ্ধারের ব্যবস্থা করা। অবকাঠামো নির্মাণের ক্ষেত্রে যেন মুক্ত পরিসর সংকুচিত ও পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সেদিকে নজর রাখা। বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘মাস্টারপ্ল্যান’ শিক্ষার্থী ও ডাকসু প্রতিনিধিদের যুক্ত করে পুনর্মূল্যায়ন এবং সংশোধন করা।
সাহিত্য ও সংস্কৃতি
হলগুলোতে নৃত্যকলা, নাট্যকলা, সংগীত ওও চারুকলার শিক্ষার্থীদের চর্চার জন্য আলাদা রুমের সুব্যবস্থা করা। হল অডিটোরিয়ামগুলোকে সংস্কার ও সক্রিয় করার উদ্যোগ নেওয়া। হল-অনুষদে নিয়মিত সাহিত্য-সংস্কৃতিবিষয়ক আড্ডার আয়োজন করা।
সাহিত্য-সংস্কৃতিবিষয়ক মাসিক পত্রিকা প্রকাশ করা। সাহিত্য-শিল্পবিষয়ক বৃত্তির আয়োজন করা। প্রতিবছর ঐতিহ্যবাহী লোক উৎসবের আয়োজন করা। ভিন্ন ভিন্ন জাতিসত্ত্বার মানুষদের সংস্কৃতি তুলে ধরে সাংস্কৃতিক আয়োজন করা।
পরিবহন
বিআরটিসি থেকে ভাড়াভিত্তিক নয়, নিজস্ব অর্থায়নে বাস কেনা। মেরামত কারখানাসহ পূর্ণাঙ্গ পরিবহন ব্যবস্থা ও নীতিমালা গড়ে তোলা। বাসের রুট ও ট্রিপ বাড়ানো। রাত ৮টা পর্যন্ত বাস সার্ভিস চালু রাখা। শনিবারে একাডেমিক প্রয়োজন ও পরীক্ষার্থীদের জন্য বাস সার্ভিস চালু রাখা। বেসরকারিভাবে নয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যোগে আভ্যন্তরীণ যাতায়াতের জন্য শাটল সার্ভিস চালু করা।
ক্রীড়া
বার্ষিক স্পোর্টস ক্যালেন্ডার তৈরি করা, যা একাডেমিক ক্যালেন্ডারের সঙ্গে সমন্বিত হবে। নতুন মাঠ বাড়ানো ও পরিত্যাক্ত মাঠ উদ্ধার করে ব্যবহারযোগ্য করে তোলা। কেন্দ্রীয় ও হলগুলোর মাঠ হবে শুধু খেলার জন্য, বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহারের জন্য নয়— এটি নিশ্চিত করা। কেন্দ্রীয় খেলার মাঠের ড্রেনেজ ও লাইটিং সিস্টেম সংস্কার করা।
বিশ্ববিদ্যালয় জিমনেশিয়াম, সুইমিংপুল, খেলার মাঠ নারীবান্ধব করা। এগুলোর সময়সূচি নমনীয় করা ও আধুনিক সরঞ্জামাদি যুক্ত করা। প্রতিটি অনুষদ ও হলে গেমস রুম করা, যেখানে ক্যারাম, দাবা, টেবিল টেনিসসহ ইনডোর গেমসের ব্যবস্থা থাকবে।
পরিবেশ ও প্রতিবেশ সুরক্ষা
নির্মাণাধীন কাজে নির্মাণসামগ্রী যেন ধূলা-দূষণের উৎস না হয় সেদিকে খেয়াল রাখা। পর্যাপ্তসংখ্যক ডাস্টবিন স্থাপন করা। আড্ডার জায়গাগুলোতে গাড়ি পার্কিং নিষিদ্ধ করা, পার্কিংয়ের জায়গা নির্ধারণ করা। ক্যাম্পাসের ভেতর যানজট ও যানবাহনের হর্ন নিয়ন্ত্রণে প্রক্টরিয়াল টিমকে তৎপর করা।
বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন স্থানে প্রয়োজনমাফিক গণশৌচাগার স্থাপন ও প্রতিদিন রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করা। বিরল ও পুরনো গাছগুলোকে সংরক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া এবং পরিকল্পিত সবুজায়ন করা। বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরে যে জীববৈচিত্র্য রয়েছে তার ডেটাবেজ তৈরি করা। জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে সেল গঠন করা। মাস্টারপ্ল্যান ছাড়া গাছ কাটা নিষিদ্ধ করা।
গণতন্ত্র, স্বায়ত্তশাসন ও মতপ্রকাশের অধিকার
’৭৩-এর অধ্যাদেশের অগণতান্ত্রিক ধারা বাতিল করে পূর্ণাঙ্গ স্বায়ত্তশাসন ও স্বাধীনতা নিশ্চিত করা। প্রশাসনিক ও একাডেমিক কোনো কাজেই রাষ্ট্র-সরকারের হস্তক্ষেপ চলবে না। প্রতিটি শিক্ষার্থীর মানবাধিকার, মতপ্রকাশ ও সংগঠন করার অধিকার নিশ্চিত করা। সাম্প্রদায়িক, জাতিগত ও লৈঙ্গিক বৈষম্য সৃষ্টিকারী সব তৎপরতাকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা। ফিজিক্যালি চ্যালেঞ্জড (প্রতিবন্ধী) শিক্ষার্থীবান্ধব ক্যাম্পাস গড়ে তোলায় উদ্যোগ নেওয়া।
মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলন
মহান মুক্তিযুদ্ধ, নব্বইয়ের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন ও চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানসহ সব গণতান্ত্রিক আন্দোলনের ইতিহাস সংরক্ষণের লক্ষ্যে আর্কাইভ প্রতিষ্ঠা, গবেষণা বৃত্তি নিশ্চিত ও ত্রৈমাসিক প্রকাশনা বের করা। জাতীয়-আন্তর্জাতিক পরিসরে সব গণতান্ত্রিক আন্দোলনে সংহতি, বিশ্বব্যাপী যুদ্ধবিরোধী অবস্থান ও স্বাধীন ফিলিস্তিনের পক্ষে জনমত গঠন করা।
এদিকে মুক্তিযুদ্ধ চেতনাবিরোধী বক্তব্য দেওয়ার জন্যে ফাতেমা তাসনিম জুমার ডাকসু প্রার্থিতা বাতিল করার দাবি জানিয়েছে প্রতিরোধ পর্ষদ। এ বক্তব্যের জন্যে দেশবাসীর কাছে ছাত্রশিবিরকে ক্ষমা চাওয়ার দাবিও জানায় প্যানেলটি।
আরিফুল ইসলাম আদীব বলেন, বিগত তিনটি অবৈধ নির্বাচনকে বৈধতা দিতে জাতীয় পার্টি অংশ নিয়েছিল। তাদের পোস্টারেও আওয়ামী মনোনীত প্রার্থী লেখা ছিল। আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির মধ্যে পার্থক্য নেই। জাতীয় পার্টির কার্যক্রম স্থগিত করার জন্য পদক্ষেপ নিতে আহ্বান জানিয়েছে এনসিপি।
৫ ঘণ্টা আগেডা. তাহের বলেন, জাতীয় পার্টির বিষয়ে আমরা সুস্পষ্ট করে বলেছি— তারা ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগের সহযোগী ছিল। তাই যেভাবে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হয়েছে, একইভাবে জাতীয় পার্টিকেও নিষিদ্ধ করা যেতে পারে।
৫ ঘণ্টা আগেআগামী দিনে বিএনপি জনগণের আস্থা অর্জন করেই ৩১ দফা সংস্কার কর্মসূচি বাস্তবায়ন করবে জানিয়ে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, গত দেড় যুগের আন্দোলনে যেসব মানুষ শহীদ হয়েছেন, গুম হয়েছেন, ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, তাদের প্রতি আমি সহমর্মিতা জানাই। আমরা আশাবাদী, গুম হওয়া প্রিয়জনদের সুস্থভাবে ফিরিয়ে
৭ ঘণ্টা আগে