দুর্নীতির বিরুদ্ধে ১১ দফা প্রস্তাব গণসংহতি আন্দোলনের

প্রতিবেদক, রাজনীতি ডটকম

আন্তর্জাতিক দুর্নীতি বিরোধী দিবস উপলক্ষ্যে দুর্নীতির বিরুদ্ধে সর্বাত্মক আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছে গণসংহতি আন্দোলন-জিএসএ।

আজ মঙ্গলবার রাজধানীতে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির নির্বাহী সমন্বয়কারী আবুল হাসান রুবেল লিখিত বক্তব্যে এ আহ্বান জানান। সংবাদ সম্মেলনটি সঞ্চালনা করেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় সদস্য জুলহাসনাইন বাবু। এ সময় অন্যান্যের মধ্যে প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি, কেন্দ্রীয় সদস্য বাচ্চু ভূইঁয়া, মনিরুল হুদা বাবন, আমজাদ হোসেন, গোলাম মোস্তফা, জাহিদ সুজনসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, দুর্নীতি বাংলাদেশের এক দীর্ঘস্থায়ী সমস্যা। বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার পর থেকেই বিভিন্ন কৌশলে এখানে দুর্নীতি হয়ে আসছে। রাষ্ট্র ক্ষমতাকে নিজেদের ধন-সম্পদ বৃদ্ধির কাজে লাগাতে এখানে দুর্নীতিকেই নীতিতে পরিণত করা হয়েছে। বিগত ফ্যাসিবাদী সরকারের আমলে পরিস্থিতির এমন অধোগতি ঘটে যে, আইন বদলে, খেলাপি ঋণের সংজ্ঞা বদলে, ইনডেমনিটি দিয়ে দুর্নীতির দ্বার অবারিত করা হয়। টাকা পাচার সব রেকর্ড অতিক্রম করে, শ্বেতপত্রের তথ্য অনুযায়ী, শেখ হাসিনার আমলে পাচার হয় ২৩৪ বিলিয়ন ডলার। খেলাপি ঋণ বেড়ে এক লক্ষ ৫৬ হাজার কোটি টাকায় দাঁড়ায়, যার সাথে অবলোপনকৃত ও পুনঃতফসিলকৃত ঋণ যুক্ত হলে দাঁড়ায় চার লক্ষ কোটি টাকা। বড় বড় প্রকল্প হয়ে দাঁড়ায় বড় বড় চুরির মহোৎসব। রাষ্ট্রের আইন ফাঁকি দিয়ে দুর্নীতি করার যে ধারা আমরা বিভিন্ন দেশে দেখে থাকি, এটা ছিল তার চেয়ে এক নতুন স্তরের ব্যবস্থা, যেখানে রাষ্ট্রই হাজির হয়েছিল দুর্নীতির ব্যবস্থাপক হিসেবে। ফ্যাসিবাদী সরকারের আমলে আইনের অপব্যাখ্যা, খেলাপি ঋণের সংজ্ঞা পরিবর্তন এবং ইনডেমনিটির মাধ্যমে দুর্নীতিকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়া হয়। এর ফলে অর্থপাচার ইতিহাসের সব রেকর্ড ভেঙে দেয় এবং খেলাপি ঋণও অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পায়।

গণ-অভ্যুত্থানের পর স্বাভাবিকভাবেই জনগণের ভেতরে আশার সঞ্চার হয়েছিল যে এসব লুণ্ঠনকারীদের বিচারের সম্মুখীন করা হবে, পাচার হয়ে যাওয়া টাকা ফেরত আনতে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে, দুর্নীতি রোধে সরকার প্রশাসনের সকল স্তরে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হবে। তবে সব ক্ষেত্রে কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি হয়নি।

দুর্নীতি প্রতিরোধে দীর্ঘমেয়াদি কাঠামোগত পরিবর্তনের ওপর জোর দিয়ে গণসংহতি আন্দোলন ১১ দফা প্রস্তাব তুলে ধরে। প্রস্তাবগুলো হলো- উৎপাদনশীল অর্থনীতির বিকাশ ও বখরা তন্ত্রের অবসান, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং অনানুষ্ঠানিক খাত নিয়ন্ত্রণে পরিষ্কার আইন প্রণয়ন। দুর্নীতি দমন কমিশনকে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপমুক্ত, স্বাধীন ও শক্তিশালী করা, যথাযথ বাজেট, প্রযুক্তি ও জনবল নিশ্চিত করা। ব্যাংকিং খাতের আমূল সংস্কার, বাংলাদেশ ব্যাংকের পূর্ণ স্বায়ত্তশাসন, রাজনৈতিক বিবেচনায় ব্যাংক অনুমোদন বন্ধ এবং আর্থিক অনিয়মের নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করা। ক্রয় ও টেন্ডার প্রক্রিয়ায় বাধ্যতামূলক ই-টেন্ডার, ওপেন ডেটা পোর্টালে ক্রয়সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশ এবং বড় প্রকল্পে আন্তর্জাতিক মানের অডিট। সরকারি কর্মচারীদের জবাবদিহিতা বৃদ্ধি, পদোন্নতি, বদলি মেধা ও কর্মদক্ষতার ভিত্তিতে এবং জনপ্রতিনিধি ও উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের পরিবারসহ বাধ্যতামূলক সম্পদ বিবরণী প্রকাশ। গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও তথ্য উন্মুক্তকরণ, অফিশিয়াল সিক্রেসি অ্যাক্ট বাতিল এবং নাগরিক সমাজকে পর্যবেক্ষণের সুযোগ প্রদান। লাইসেন্স, অনুমোদনসহ বিভিন্ন নাগরিক সেবা ডিজিটালাইজেশন, ঘুস রোধে মানব সম্পৃক্ততা কমানো এবং এক টেবিল সেবা চালু। দুর্নীতি বিষয়ক তথ্যদাতার আইনগত সুরক্ষা, পরিচয় গোপন রেখে তদন্ত এবং সঠিক প্রমাণ পেলে পুরস্কার প্রদান। বিচারব্যবস্থার সংস্কার, রাজনৈতিক চাপমুক্ত আদালত এবং বড় দুর্নীতির মামলার জন্য পৃথক ট্রাইব্যুনাল গঠন। হয়রানিমুক্ত সরকারি সেবা নিশ্চিতকরণ, অভিযোগ বক্স স্থাপন ও দ্রুত নিষ্পত্তির ব্যবস্থা। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নৈতিকতা ও দুর্নীতি বিরোধী শিক্ষা, দুর্নীতিকে সামাজিকভাবে অগ্রহণযোগ্য করে তোলা।

দুর্নীতির বিরুদ্ধে চলমান লুণ্ঠনতন্ত্র ভেঙে দেশের অর্থনীতি, গণতন্ত্র ও সামাজিক মানসিকতা পুনর্গঠন করতে হলে জনগণকে সাথে নিয়ে সর্বাত্মক আন্দোলন গড়ে তোলা জরুরি মনে করছে গণসংহতি আন্দোলন।

ad
ad

রাজনীতি থেকে আরও পড়ুন

নির্বাচনে ‘ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের’ আশঙ্কা নেই, বিএনপি ল্যান্ডস্লাইড জয় পাবে: মির্জা ফখরুল

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘এবারের নির্বাচনে চেক অ্যান্ড ব্যালেন্স ও কাউন্টার ব্যালেন্স সঠিকভাবে থাকায় নির্বাচনে তথাকথিত ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের আশঙ্কা নেই। বিএনপি ল্যান্ডস্লাইড জয় পাবে বলে আমরা আশাবাদী।’

১৮ ঘণ্টা আগে

প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে কমনওয়েলথ নির্বাচন পর্যবেক্ষক দলের সৌজন্য সাক্ষাৎ

কমনওয়েলথ অবজারভার গ্রুপের (Commonwealth Observer Group) একটি প্রতিনিধিদল সোমবার প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন।

২০ ঘণ্টা আগে

জনগণ অনিশ্চয়তা ও বৈষম্যের শিকার হচ্ছে : সিপিবি সভাপতি

এই বাস্তবতারই ধারাবাহিকতায় আমরা সাম্প্রতিক সময়েও জনগণের প্রতিবাদ ও প্রতিরোধের শক্তিশালী প্রকাশ প্রত্যক্ষ করেছি। দেশবাসীকে ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করে, গণতন্ত্র হরণ করে, দমনপীড়ন চালিয়ে অনির্বাচিত সরকারের শাসন চাপিয়ে দিয়ে এবং শোষণ ও বৈষম্যের মাধ্যমে মানুষের জীবনকে দুর্বিষহ করে যে কর্তৃত্ববাদী ফ্যাসিস্ট

১ দিন আগে

সন্দেহজনক ভোটারের পরিচয় নিশ্চিত করতে হবে : মাহদী আমিন

মাহদী আমিন বলেন, ইসলামী মূল্যবোধের ধারক দল হিসেবে বিএনপি সবসময় বিশ্বাস করে, বাংলাদেশের প্রতিটি নাগরিকের কাছে বোরকা ও নিকাব ধর্মীয় সংস্কৃতির একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আমরা অবশ্যই নারীদের আবরু ও পর্দার ব্যাপারে সর্বোচ্চ শ্রদ্ধাশীল, কিন্তু ইসলামী সেই পোশাককে অপব্যবহার করে কেউ যদি মিথ্যা পরিচয়ে জ

২ দিন আগে