ক্ষমতায় গেলে জনগণের সম্পদে আমরা হাত দেব না: জামায়াত আমির

প্রতিবেদক, রাজনীতি ডটকম

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জাতি আমাদের ওপর দায়িত্ব অর্পণ করলে—আল্লাহর কসম, আল্লাহর কসম, আল্লাহর কসম—জনগণের সম্পদের ওপর আমরা হাত দেব না।

সোমবার (২৬ জানুয়ারি) দুপুরে মেহেরপুর সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত নির্বাচনি জনসভায় তিনি এ কথা বলেন।

জামায়াত আমির বলেন, আমরা জনগণের চৌকিদার হয়ে আমানত হেফাজত করব। নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের সম্পদ বৃদ্ধি হতে দেব না। প্রতিবছর আয়-ব্যয়ের হিসাব জনগণের সামনে তুলে ধরব। চাঁদাবাজদের পুনর্বাসন নয়, বরং কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হবে—যাতে তাদের আর চাঁদাবাজিতে জড়াতে না হয়।

শফিকুর রহমান বলেন, মেহেরপুর ছোট জেলা—মাত্র তিনটি উপজেলা। মানুষ একে অপরকে চেনে। অথচ এই জেলাও চাঁদাবাজদের দখলে চলে গেছে। জনগণের রায়ে আমরা ক্ষমতায় গেলে এই মানুষগুলোর দায়িত্ব নেব। তাদের কাজ দেব, যাতে চাঁদাবাজি করতে না হয়।

গণভোট প্রসঙ্গে জামায়াত আমির বলেন, ‘হ্যাঁ’ মানে আজাদি, ‘না’ মানে গোলামি। আমাদের প্রথম ভোট হবে ‘হ্যাঁ’ ভোট। সবাই ‘হ্যাঁ’ ভোট নিশ্চিত করলে দেশ বিজয়ী হবে। ভোটের দিন ভোটকেন্দ্র পাহারা দিতে হবে। কেউ ভোট ডাকাতি করতে গেলে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।

বিগত সব সরকারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, কেউ বলতে পারবে না—আমাদের সময় দুর্নীতি হয় নাই, দেশের মানুষের সম্পদ লুট হয় নাই, ব্যাংক ডাকাতি হয় নাই। তারা এটাও বলতে পারবে না যে আমাদের সময় শিশুদের ভবিষ্যতের উপযুক্ত শিক্ষা দেওয়া হয়েছে।

গত ৫৪ বছরের শাসকদের সমালোচনা করে তিনি বলেন, এই সময়ে দেশে ইনসাফ প্রতিষ্ঠা হয়নি। তরুণ সমাজ মাদক ও নানা অপকর্মে জড়িয়ে পড়েছে। তাদের জন্য আমাদের মায়া হয়। দায়িত্ব পেলে দেশকে ফুলের মতো সাজাবো, যাতে মানুষ দেশ নিয়ে গর্ব করতে পারে।

চাঁদাবাজি ও দুর্নীতির বিষয়ে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আমরা চাঁদাবাজি করব না, দুর্নীতি করব না, দুর্নীতিকে প্রশ্রয়ও দেব না। মানুষ ইতোমধ্যে সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছে—কাকে ভোট দেবে।

বেকার ভাতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমরা বেকার ভাতা দেব না—রাষ্ট্রের টাকা থাকলেও না। ভাতা দিলে বেকারত্ব কমে না, বরং বাড়ে। আমরা ভাতা নয়, কাজ দেব।

তিনি আরও বলেন, তরুণদের শক্তিতেই দেশ এগিয়ে যাবে। সেই লক্ষ্যেই যুব সমাজকে প্রস্তুত করা হচ্ছে।

মেহেরপুর-১ আসনের প্রার্থী মাওলানা মো. তাজউদ্দীন খান এবং মেহেরপুর-২ (গাংনী) আসনের প্রার্থী মো. নাজমুল হুদার সমর্থনে এ জনসভার আয়োজন করা হয়।

এতে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন জেনারেল ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ সিবগা, কেন্দ্রীয় অধিকার পরিষদের সেক্রেটারি আমিরুল ইসলাম, এনসিপির কেন্দ্রীয় সদস্য ইঞ্জিনিয়ার সোহেল রানা এবং জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মো. ইকবাল হোসাইন প্রমুখ।

ad
ad

রাজনীতি থেকে আরও পড়ুন

প্রতিমন্ত্রী শাহে আলমকে বিতর্কিত করার অপচেষ্টা চলছে: রাশেদ

রাশেদ খানের ভাষ্য, মীর শাহে আলমকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ঘনিষ্ঠ হিসেবে তুলে ধরে তার সমালোচনার আড়ালে মূলত প্রধানমন্ত্রীকে বিতর্কিত করার অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে।

২ দিন আগে

জামায়াত-এনসিপিকে হারানোর ষড়যন্ত্রে জড়িত ছিল ইন্টেরিমও— অভিযোগ শফিকুরের

শফিকুর রহমান বলেন, “ইন্টেরিম গভর্নমেন্টের পরিচয় ছিল নিরপেক্ষ, দল নিরপেক্ষ। তারাও এই ষড়যন্ত্রে শরিক ছিল। এটা তারাই স্বীকার করেছে যে, ষড়যন্ত্র করে ১১ দলকে হারানো হয়েছে।”

২ দিন আগে

এনসিপির সমাবেশে হামলার নিন্দা বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির, দোষীদের গ্রেপ্তার দাবি

সাভারে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সমাবেশে ককটেল হামলা এবং কয়েকজন আহত হওয়ার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি। একই সঙ্গে স্থানীয় প্রশাসন এ হামলার দায় এড়াতে পারে না উল্লেখ করে দ্রুত হামলাকারীদের গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবি জানিয়েছে দলটি।

৩ দিন আগে

এনসিপির সমাবেশে বিস্ফোরণ: জামায়াতের ‘নীরবতা’ নিয়ে প্রশ্ন রাশেদ খাঁনের

রাশেদ খাঁন লেখেন, “আমরা না হয় বিরোধিতা বা সমালোচনা করতে পারি। কিন্তু একসঙ্গে একজোটে থেকে কীভাবে এনসিপির উত্থান ও জাগরণ ঠেকাতে জাশি (জামায়াত-শিবির) এমন ফ্রেমিং করা শুরু করলো? যেখানে জাশির (জামায়াত-শিবির) পক্ষ থেকে বিবৃতি বা বিক্ষোভ করে জোটসঙ্গীদের পাশে থাকার কথা ছিল।”

৩ দিন আগে