সবার জন্য আইনের শাসন সমান হতে হবে: জামায়াত আমির

প্রতিবেদক, রাজনীতি ডটকম
আপডেট : ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০২: ০৮
জামায়াত আমির শফিকুর রহমান। ছবি: সংগৃহীত

জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘দেশের যেসব এলাকায় সহিংসতা, ভয়ভীতি প্রদর্শন বা বেআইনি কর্মকাণ্ডের অভিযোগ পাওয়া যাবে, সেখানেই শক্ত পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। আইনের শাসন সবার জন্য সমান হতে হবে।’ আজ শনিবার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে এ কথা বলেন তিনি।

পোস্টে জামায়াত আমির বলেন, বিএনপি জোট সংখ্যাগরিষ্ঠ আসন অর্জন করেছে। আমরা এই ফলাফলকে স্বীকৃতি দিই এবং সাংবিধানিক প্রক্রিয়াকে সম্মান করি। তবে জাতীয় ভোটের ফলাফল একটি আরো গভীর ও জটিল বাস্তবতার কথাও তুলে ধরে।

বিএনপির প্রায় ৫৪ শতাংশ ভোটের বিপরীতে প্রায় ৪০ শতাংশ ভোট পেয়ে জামায়াত-নেতৃত্বাধীন জোট একটি শক্তিশালী জাতীয় শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। আমাদের বর্তমান ‘ফার্স্ট-পাস্ট-দ্য-পোস্ট’ পদ্ধতিতে লক্ষ লক্ষ ভোট কাঠামোগতভাবে তাদের যথাযথ মূল্যায়ন পায় না। ৫৩টি আসনে বিএনপি মাত্র কয়েক শত থেকে কয়েক হাজার ভোটের ব্যবধানে জয়লাভ করেছে। এর মধ্যে কয়েকটি আসন বর্তমানে নির্বাচন কমিশনে আনুষ্ঠানিকভাবে পর্যালোচনাধীন রয়েছে এবং আমরা আইনের আওতায় বৈধ সব পন্থায় প্রচেষ্টা চালাব। এটি জাতীয় ফলাফল প্রত্যাখ্যান নয়, বরং নির্দিষ্ট যেসব আসনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে সেখানে ভোটের স্বচ্ছতা ও সততা রক্ষার একটি দায়িত্বশীল প্রচেষ্টা। একই সাথে গণতন্ত্রের জন্য স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহি অপরিহার্য।

যেখানেই ভোট গণনায় বিলম্ব, অনিয়ম বা বিরোধের অভিযোগ উঠেছে, সেখানে আমাদের প্রতিনিধিগণ আইনগত কাঠামোর মধ্যেই পুনর্গণনা ও আইনি প্রতিকারে চেষ্টা করছেন। প্রতিটি ভোট অবশ্যই সঠিকভাবে গণনা করা এবং প্রতিটি সংগত উদ্বেগ গুরুত্বের সাথে যাচাই করা জরুরি। জনগণের আস্থা নির্ভর করে স্বাধীন প্রতিষ্ঠানগুলোর স্বচ্ছতা ও দ্রুততার সাথে কাজ করার উপর।

ত্যাগ-কুরবানি ও সংস্কারের চেতনায় প্রণীত জুলাই সনদ এবং গণভোটে ৪৮,০৭৪,৪২৯ জন ‘হ্যাঁ’ এবং ২২,৫৬৫,৬২৭ জন ‘না’ ভোট দিয়েছেন, যাতে প্রায় ৬৮ শতাংশ বৈধ ভোট সংস্কারের পক্ষে এসেছে। এটা পরিবর্তনের জন্য স্পষ্ট একটি জাতীয় ম্যান্ডেট।

আমরা আশা করি, নতুন সরকার এই ম্যান্ডেটকে সম্মান করবে, আইনের শাসন সমুন্নত রাখবে এবং সংযম ও জবাবদিহিতার সঙ্গে শাসনকার্য পরিচালনা করবে। সংস্কার কোনো স্লোগান নয়, এটি একটি আমানত।

আমি নির্বাচন কমিশনের প্রতি আহ্বান জানাই, তারা যেন সম্পূর্ণ নিরপেক্ষতার সঙ্গে তাদের দায়িত্ব পালন করেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে আমার প্রত্যাশা, যেখানেই সহিংসতা, ভয়ভীতি প্রদর্শন বা বেআইনি কর্মকাণ্ডের অভিযোগ পাওয়া যাবে, সেখানেই তারা যেন শক্ত পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। আইনের শাসন সবার জন্য সমান হতে হবে। একই সঙ্গে, আমি বিএনপির নেতৃত্বের প্রতি আহ্বান জানাই, তারা যেন বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে প্রমাণ করেন যে তারা সংবিধানের নিয়মের মধ্যে থেকে দেশ পরিচালনা করবেন এবং আইন লঙ্ঘনকারী যে কোনো কর্মীকে পক্ষপাতিত্ব ছাড়াই জবাবদিহির আওতায় আনা হবে।

এটি এমন একটি মুহূর্ত যখন পরিপক্বতা ও জাতীয় দায়িত্ববোধের প্রয়োজন। আসুন, আমরা শান্ত ও দৃঢ় সংকল্প নিয়ে সামনে এগিয়ে যাই। আমাদের প্রতিষ্ঠানগুলোকে রক্ষা করি, জনগণের ইচ্ছাকে সম্মান করি এবং এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তোলার কাজ অব্যাহত রাখি, যেখানে ক্ষমতার প্রয়োগ করা হয় সততা, সংযম ও জবাবদিহির সঙ্গে।

ad
ad

রাজনীতি থেকে আরও পড়ুন

৩০ আসনে শপথ স্থগিত রাখতে জামায়াতের আবেদন

নির্বাচনে কারচুপি ও অনিয়মের অভিযোগ তুলে ৩০ আসনে পুনরায় ফল গণনার আবেদন করেছে জামায়াতে ইসলামী বলে জানিয়েছেন দলটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের।

১০ ঘণ্টা আগে

বিজয়ের পর খালেদা জিয়াকে স্মরণ করে কাঁদলেন ডা. জাহিদ

ডা. জাহিদ বলেন, শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি বিএনপির চেয়ারপারসন, গণতন্ত্রের মা, সাবেক তিনবারের প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে। দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের পথে আমাদের শতশত সহকর্মী শহীদ হয়েছেন, গুম হয়েছেন প্রায় আটশোর অধিক নেতাকর্মী। অনেকে পঙ্গুত্ব বরণ করে এখনো দুর্বিষহ জীবনযাপন করছেন।

১১ ঘণ্টা আগে

জনগণ সুস্থ গণতান্ত্রিক ধারার আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটিয়েছে: ওয়ার্কার্স পার্টি

দলের পলিটব্যুরো নেতারা বলেন, একটি অগণতান্ত্রিক সাম্রাজ্যবাদী-মৌলবাদী-মবতান্ত্রিক অস্থির অন্তবর্তী সরকারের অপশাসন থেকে বেরিয়ে আসার আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করেছে জনগণ। শত সীমাবদ্ধতায়ও একতরফা কৌশলের নির্বাচনে জনগণ যে রায় দিয়েছে তা স্বস্তিকর ও সুস্থ গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার ধারা তৈরির মনোভাবকেই প্রকাশ করেছে।

১১ ঘণ্টা আগে

স্বৈরাচার প্রতিরোধ দিবসে শিক্ষা ও গণতন্ত্র স্তম্ভে ছাত্রনেতাদের শ্রদ্ধাঞ্জলি

শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) সকালে ১৯৮২ থেকে ১৯৯০ সাল সময়ের ছাত্রনেতারা সেখানে শ্রদ্ধাঞ্জলি জানান। ১৯৮৩ সালের এই দিনে এরশাদ সরকারের নতুন শিক্ষানীতির বিরুদ্ধে রাজপথে নেমেছিল ছাত্র সংগঠনগুলো। সেদিন স্মারকলিপি দিতে সচিবালয়ের দিকে যাওয়ার সময় পুলিশ গুলি চালালে অন্তত ১০ জন নিহত হন।

১২ ঘণ্টা আগে