বিএনপি কার্যালয়ে হট্টগোলের মুখে কনকচাঁপা, রিজভীর নিন্দা

প্রতিবেদক, রাজনীতি ডটকম
শিল্পী কনকচাঁপা ও বিএনপির লোগো। ছবি: কোলাজ

রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংরক্ষিত নারী আসনের মনোনয়ন ফরম জমা দিতে গিয়ে তৃণমূল নেত্রীদের হট্টগোলের মুখে পড়েছেন প্রখ্যাত কণ্ঠশিল্পী রুমানা মোর্শেদ কনকচাঁপা। ওই সময় বগুড়া জেলা বিএনপির এক নেত্রীর নেতৃত্বে একদল কর্মী তার পথরোধ করেন এবং তাকে ‘সুবিধাবাদী’ আখ্যা দিয়ে হট্টগোল করেন।

শনিবার (১১ এপ্রিল) বিকেলে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় শিল্পী কনকচাঁপা বিমর্ষ অবস্থায় কার্যালয় ত্যাগ করেন। পরে রোববার (১২ এপ্রিল) এ ঘটনার নিন্দা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উপদেষ্টা ও বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ।

দলীয় কার্যালয়ের সামনে ঘটে যাওয়া ঘটনা তুলে ধরে ফেসবুকে লম্বা একটি পোস্ট দিয়েছেন কনকচাঁপা। সেখানে লিখেছেন, ‘আমি বিশ্বাস করি সব ফয়সালার কারিগর আল্লাহ রহমানুর রহিম। দল আমাকে মনোনীত করেনি, তা আমি কষ্ট পেলেও মেনে নিয়েছি। কিন্তু অযথা অন্যায়ভাবে মিথ্যাচার করে মানুষের কাছে আমাকে হেয় প্রতিপন্ন করার হীন প্রচেষ্টা বস্তুতই দুরভিসন্ধি। আমার সঙ্গে করা অনেক অন্যায়ের বিচারের ভার আমি আল্লাহর ওপর ছেড়ে দিলাম।’

২০১৩ সালে প্রয়াত বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার নির্দেশে রাজনীতিতে সক্রিয় হন বলে জানান কনকচাঁপা। ২০১৮ সালের নির্বাচনে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে অংশ নিয়েছিলেন বলেও জানান তিনি।

দলের জন্য নিজের ত্যাগের বর্ণনা দিয়ে শিল্পী বলেন, ‘বিগত আমলে আমরা নেতাকর্মীরা নানাভাবে নির্যাতিত হয়েছি। আর আমি? আমি মানসিক ও অর্থনৈতিকভাবে নিঃস্ব হয়ে গেছি। একজন শিল্পী গাইতে না পারলে তার কী বাকি থাকে বলুন? বাংলাদেশের মাটিতে কোথাও কোনো গান গাইতে পারিনি। আমার ক্যারিয়ার হারানো বা নিঃস্ব হয়ে যাওয়ার কি কোনো স্বীকৃতি আমি পেতে পারি না?’

শিল্পী জানান, দলের প্রতি তার শতভাগ আনুগত্য থাকলেও কিছু নেতাকর্মীর ব্যবহার তাকে গভীরভাবে মর্মাহত করেছে। যারা চেয়েছিলেন এবারের জাতীয় নির্বাচনে তিনি যেন মনোনয়ন না পান, তারাই এমন ব্যবহার করেছে বলে মনে করছেন কনকচাঁপা।

শনিবার বিকেলে এ ঘটনার সূত্রপাত হয় কনকচাঁপাকে লক্ষ্য করে বগুড়া জেলা বিএনপির সহসাংগঠনিক সম্পাদক সুরাইয়া জেরিন রনি চিৎকার শুরু করলে। ওই সময় তিনি বলছিলেন, ‘কনকচাঁপা দলের কে? কী দরকার কনকচাঁপার? আমরা যারা ১৭ বছর জেল খেটেছি, রাজপথে লড়াই করেছি, তাদের সরিয়ে দিয়ে কেন কনকচাঁপাদের গুরুত্ব দেওয়া হবে?’

সুরাইয়া জেরিন আরও বলেন, ‘বগুড়ার রাজপথে ছিলাম, ঢাকার রাজপথে ছিলাম। সারা বাংলাদেশে মহিলাদের মধ্যে সর্বোচ্চ মামলা খেয়েছি। কনকচাঁপা এতদিন কোথায় ছিল? কয়টা মামলা খেয়েছে সে? আমরা সুবিধাবাদীদের দেখতে চাই না। রাজপথে যারা লড়াই-সংগ্রাম করেছে, আমরা তাদের চাই।’

তার এমন বক্তব্যে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে হট্টগোল তৈরি হয়, বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি দেখা দেয়।

শিল্পী কনকচাঁপাকে নিয়ে দলের নেতাকর্মীদের এমন আচরণকে ‘সাংস্কৃতিক ঘাটতি’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন দলের জ্যেষ্ঠ নেতা রুহুল কবির রিজভী আহমেদ। তিনি বলেন, ‘কেন সেলিব্রেটি বা বড় কোনো শিল্পী দলে আসবে না? কনকচাঁপার মতো একজন বড় শিল্পী যখন বিএনপির গণতন্ত্র ফেরানোর আন্দোলনের পক্ষে থাকেন, তখন সেটি দলের জন্য অনেক বড় শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়ায়। পার্টি অফিসে আসা একজন সম্মানিত শিল্পীর সঙ্গে এমন ব্যবহার করা মোটেও কাম্য নয়।’

মাঠ পর্যায়ের নেতাদের রূঢ় আচরণের সমালোচনা করে রিজভী আরও বলেন, ‘কাউকে সমর্থন জানানোর জন্য কি সবাইকে রাস্তায় নেমে রিকশার পাম ছাড়তে হবে? অধ্যাপক এমাজউদ্দীন আহমদ রাস্তায় নেমে মিছিল করতেন না, কিন্তু তার সমর্থন আমাদের জন্য অনেক কার্যকর ছিল। আমাদের কি মনে হয় যে শুধু মিছিল করলেই রাজনীতি হয়? শিল্পীদের সম্মান দিতে না পারাটা আমাদের বড় ধরনের সাংগঠনিক ও মানসিক ত্রুটি।’

বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতারা এ ঘটনায় বিব্রতবোধ করছেন এবং ঘটনাটি খতিয়ে দেখার আশ্বাস দিয়েছেন। তবে এ ঘটনা দলটির মধ্যে ত্যাগী নেতা বনাম তারকা প্রার্থীর মধ্যেকার দীর্ঘদিনের দ্বন্দ্ব নতুন করে আলোচনায় নিয়ে এসেছে। রাজপথের কর্মীদের দাবি ও কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সাংস্কৃতিক উদারতার মধ্যে এই সংঘাত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও ব্যাপক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

ফেসবুক স্ট‍্যাটাসে আমার দেশের নির্বাহী সম্পাদক সৈয়দ আবদাল আহমেদ বলেন, ‘নারী আসনের জন্য বিএনপির মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করতে গিয়ে আসনপ্রত্যাশী অনেক নেত্রীকে অনেকের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ ও আক্রমণ করতে দেখছি। আমার মনে হয় এটা ঠিক নয়। প্রতিযোগিতা থাকবে, তবে প্রতিযোগিতার ভাষা এমন হওয়া উচিত নয়। সমাজের ভালো ভালো মানুষকে দলে সুযোগ দিতে না পারলে দলটি আলোকিত ও সচল থাকবে না। দেশে, সমাজে ও দলে ভালো মানুষের বিকল্প নেই।’

গত সংসদ নির্বাচনের আগে সিরাজগঞ্জের কাজীপুরে রাজনীতিতে সরব হন শিল্পী কনকচাঁপা। বিএনপির প্রার্থী হিসেবে সিরাজগঞ্জ-১ (কাজীপুর ও সদরের একাংশ) আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার প্রস্তুতি নেন তিনি। তবে শেষ পর্যন্ত দলীয় মনোনয়ন পাননি তিনি।

এর আগে ২০১৮ সালে অনুষ্ঠিত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রথমবারের মতো সিরাজগঞ্জ-১ আসনে বিএনপির মনোনয়ন নিয়ে প্রার্থী হন তিনি। তার প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য প্রয়াত মোহাম্মদ নাসিম। ওই সময় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের বাধায় কনকচাঁপা নির্বাচনি প্রচার চালাতে পারেননি বলে অভিযোগ তুলেছিলেন।

ad
ad

রাজনীতি থেকে আরও পড়ুন

‘জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তায় সরকারের বক্তব্যের সঙ্গে বাস্তবের মিল নেই’

অর্থনীতি ও জ্বালানির বিকল্প হিসেবে ব্লু ইকোনমির কথা বলা হলেও, বাস্তবে কয়েকটি জাহাজ চলাচল ও মাছ আহরণের বাইরে এ খাতে উল্লেখযোগ্য কোনো অগ্রগতি নেই।

১ দিন আগে

বগুড়া-৬ ও শেরপুর-৩ আসনে পুনর্নির্বাচন চায় জামায়াত

শুক্রবার রাজধানীর বায়তুল মোকাররম মসজিদের উত্তর ফটকে আয়োজিত এক বিক্ষোভ সমাবেশে এ দাবি জানান দলের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।

২ দিন আগে

জামায়াত আমিরের ক্ষোভ— এরা হলুদ সাংবাদিকতা ছাড়বে কখন

৩ দিন আগে

মানবাধিকার কমিশন হলো বিরোধী দল দমন কমিশন: হাসনাত

জাতীয় মানবাধিকার কমিশনকে ‘বিরোধী দল ও মত দমন কমিশন’ বরে মন্তব্য করেছেন কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ। ২০০৯ সালের জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন পুনঃপ্রচলনের বিরোধিতা করে তিনি বলেছেন, এই আইন কার্যকর হলে তা জাতিকে এগিয়ে নেওয়ার পরিবর্তে পিছিয়ে দেবে।

৩ দিন আগে