
প্রতিবেদক, রাজনীতি ডটকম

মহান ২১ শে ফেব্রুয়ারি ভাষা আন্দোলনের চেতনাকে ধারণ করে বাংলাদেশের হারানো গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও জনগণের ভোটাধিকার ফিরিয়ে আনার আন্দোলন অব্যাহত থাকবে বলে পুনর্ব্যক্ত করেছে বিএনপি।
দলের শীর্ষ নেতারা মঙ্গলবার এক সভায় বলেন, ভাষা আন্দোলন শুধু ভাষা আন্দোলন ছিল না। সেটি প্রকৃত পক্ষে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সূচনা পর্ব। ভাষা আন্দোলনের চেতনাই কিন্তু পরবর্তীতে বাঙালি জাতিকে স্বাধীনতাযুদ্ধে অংশ নিতে প্রেরণা জুগিয়েছে। আজকে বর্তমানে দেশে গণতন্ত্র নেই, কথা বলা ও লেখার স্বাধীনতা নেই। জনগণের ভোটাধিকার নেই। ফলে বিএনপির একদফার যে আন্দোলন তা চলবে।
আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষ্যে রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে বিএনপির উদ্যোগে এই আলোচনা সভা হয়।
বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল নোমানের সভাপতিত্বে ও সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুস সালাম আজাদ ও সহপ্রচার সম্পাদক আমিরুল ইসলাম খান আলিমের পরিচালনায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার।
অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আব্দুল মঈন খান, বেগম সেলিমা রহমান, ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল আউয়াল মিন্টু, নিতাই রায় চৌধুরী, ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা জয়নুল আবদীন ফারুকসহ বিভিন্ন অঙ্গ ও সংগঠনের নেতারা।
অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা জেড মোর্তুজা চৌধুরী তুলা, অঙ্গ সংগঠনের হেলেন জেরিন খান, মো. আব্দুর রহিম, আব্দুল মোনায়েম মুন্না, শাহ মো. নেছারুল হক, অধ্যক্ষ নজরুল ইসলাম তালুকদার, কাজী মো. সেলিম রেজা, তানজিল হাসানসহ সহস্রাধিক নেতাকর্মী। কুরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে শুরু হওয়া সভার আগে ভাষা আন্দোলন ও চলমান গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার আন্দোলনের শহীদদের স্মরণে রুহের মাগফিরাত কামনায় বিশেষ মুনাজাত করা হয়।
এদিকে অভ্যন্তরীণ গ্রুপিংয়ের কারণে জাতীয়তাবাদী ওলামা দলের নেতাকর্মীদের মাঝে ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটে।
ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার বলেন, জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের উন্নয়নে যা করেছেন, তা বলে শেষ হবে না। তিনি দেশের কৃষির উন্নয়নে খাল খনন কর্মসূচি করেছেন। শিক্ষার উন্নয়নে অসংখ্য স্কুল প্রতিষ্ঠা করেন। একটি ছোট দেশ হয়েও তিনি নিজের পায়ের ওপর দাঁড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছিলেন। তিনি আমাদের আত্মমর্যাদা প্রতিষ্ঠায় কাজ করেছেন। তার শাসনামলে যে নির্বাচন হয়েছিলো সেখানে সকল দল অংশ নিয়েছিল।
তিনি বলেন, বেগম খালেদা জিয়া কত সুন্দরভাবে দেশ পরিচালনা করেছিলেন। কোনো বিরোধী দলের নেতাকর্মীদেরকে বন্দি করে কারাগারে পাঠান নাই। ইনশাআল্লাহ আবারও তার নেতৃত্বে বিএনপি সফল হবে। তার যোগ্য পুত্র তারেক রহমান দলের হাল ধরেছেন। আজকে তিনি দেশে আসতে পারছেন না। দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হলে তিনি ফিরবেন। বিএনপি মানেই শান্তি ও গণতন্ত্র। বিএনপি মানেই সাধারণ মানুষের উন্নতি ও সাধারণ মানুষের জন্য শিক্ষা।
গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের মাধম্যেই কিন্তু বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সূচনা ঘটে। তার আগে মাতৃভাষার চেতনাকে কেন্দ্র করেই ৬৯, ৭০ পর্যন্ত এসেছিলাম। আমরা পাকিস্তানিদের বলেছিলাম তোমাদের বৈষম্যের শাসন মানি না। সেদিন বাঙালি তাদের ব্যালটের মাধ্যমে পাকিস্তানীদেরকে বুঝিয়ে দিয়েছিল তোমাদেরকে চায় না। ফলে পাকিস্তান মুসলিম লীগ সরকারের ভরাডুবি হয়েছিল।
তিনি বলেন, ৭ মার্চের ভাষণ গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু তিনি তো চূড়ান্ত ঘোষণা দেননি। ফলে নেতৃত্বের শূণ্যতা দেখা দিলে জিয়াউর রহমান স্বাধীন বাংলাদেশের মানুষের কাছে দিশারী, অসময়ের কান্ডারি। তিনি হানাদারমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে স্বাধীনতার ঘোষণা দেন। এ কথা যারা অস্বীকার করে তারা কাপুরুষ। অথবা স্বাধীনতাযুদ্ধে তাদের কোনো অবদান নেই। আজকে হাজার হাজার কোটি টাকা খরচ করে নিজেদের পরিচিতি তুলে ধরছে নানা স্মৃতিচিহ্ন আবিষ্কারের দ্বারা।
গয়েশ্বর বলেন, আজকে শেখ হাসিনার বদৌলতে ঘরে ঘরে শহিদ মিনার হওয়ার দশা। যদি গুম-খুনের হিসাব করেন, ৭৫ সালের দুর্ভিক্ষের হিসেব করেন, তাহলে দেখা যাবে ৫০ হাজার ছাড়িয়েছে। আজও যদি হিসাব করেন যারা স্বাধীনতা রক্ষার দাবিদার তাদের হাতে মুক্তিযোদ্ধাসহ বিভিন্ন দলের লক্ষাধিক নেতাকর্মী নিহত, ক্ষতিগ্রস্ত ও নির্যাতিত হয়েছেন। ফলে শেখ হাসিনা দেশের মানুষকে লক্ষাধিক শহিদ মিনার উপহার দিয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, সুতরাং যেখানে নির্যাতন নিপীড়ন করে যেই পাকিস্তানের রক্ষা হয়নি। এই আওয়ামী লীগ সরকারও পারবে না। আজকে যেখানে রাষ্ট্রীয় সম্পদ যারা রক্ষা করার কথা। তারাই তো লুট করে দেউলিয়া করেছে। কোনো কর্মসংস্থান নেই। হাজার হাজার বেকার। দেশ কোন দিকে যাচ্ছে? এজন্য তো মুক্তিযুদ্ধ হয়নাই।
গয়েশ্বর বলেন, এই সরকার হলো পাকিস্তানের প্রেতাত্মা সরকার। এদের কোনো চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য নেই। আবার তারাই বলে, আমি তো থাকতে চাই নাই। কিন্তু জনগণ আমাকে ছাড়লোনা। আসলে এদের কোনো লাজ লজ্জা নেই। এদের নৈতিকতা নেই। তারা বিরোধী রাজনীতিবিদদের নিয়ে যেরকম ভেংচি কাটে এবং কথা বলে তাতে প্রমাণিত হয় লজ্জা নেই। আমাদের নেতাদের নিয়ে কটূক্তি করছেন। যখন খুশি মামলা দিচ্ছে। বিচারকরা কোনো যাচাই বাছাই করেন না।
তিনি বলেন, কারাগারে নেওয়ার পর তো নেতাকর্মীদের থেকে টাকা নিয়ে বাণিজ্য করে। জামিনের পরও মুক্তি নিয়ে সময় ক্ষেপণ করা হয়। এই কাগজ তো ওই কাগজ। এই অফিসার তো ওই অফিসার। আবার বাইরের খাবার নিতে দেয় না। কিন্তু কিছু টাকা দিবেন বাইরের খাবার নেওয়া যাবে। আসলে অত্যাচারের শেষ কোথায়? একটা মানুষকে অত্যাচার করতে করতে কবরে না যাওয়া পর্যন্ত ওরা থামে না।
গয়েশ্বর আরও বলেন, আমি প্রধান বিচারপতিকে বলবো- আপনার বাড়ির গেট ভাঙার সময় কী আপনি বাড়িতে ছিলেন? নাকি আপনার মান-সম্মান বাড়লো? এরপর যারা টিভিতে আপনার বাড়ির চিত্র দেখালো। এ বিষয়ে কি আপনি সরকারকে প্রশ্ন করেছেন? মনে রাখবেন আপনার পূর্বসূরী সাবেক প্রধান বিচারপতিকে বন্দুকের নলে বের করেছে তারাই আপনার বাড়িতে হামলার নাটক করেছে। আপনি একটি তদন্ত কমিটি গঠন করুন। তবেই তাদেরকে খুঁজে পাবেন। মনে রাখবেন সবসময় সবাইকে ধমক দিয়ে চুপ রাখা যায় না। যাবেও না। আমরা শান্তিপ্রিয় শান্ত মায়ের শান্ত ছেলে, কভু শত্রু এলে অস্ত্র হাতে ধরতে জানি।
ড. আব্দুল মঈন খান বলেন, যে লক্ষ্য নিয়ে মুক্তিযুদ্ধ করেছিলাম সেটি আজ ভূলুণ্ঠিত। এই সরকার ভোটাধিকার কেড়ে নিয়েছে। গণতন্ত্র হত্যা করেছে। আমরা এই দুইটি ফিরিয়ে আনার আন্দোলন করছি।
সেলিমা রহমান বলেন, আমাদের সকল অধিকার কেড়ে নেওয়ার প্রতিবাদে ১৯৫২ সালে ভাষা আন্দোলনের সূচনা হয়েছিল। সেইসঙ্গে একাত্তর সালের মুক্তিযুদ্ধের বীজ বপন করা হয়েছিল। সেই আন্দোলন আমাদেরকে আজও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার আন্দোলনে অনুপ্রেরণা জোগায়। সেদিন পাকিস্তানিদের অপশাসন ও শোষনের বিরুদ্ধে দেশের ছাত্রসমাজসহ সাধারণ মানুষ বিদ্রোহ করেছিল।
তিনি বলেন, আজকে ছাত্রসমাজের কি করুণ দশা। প্রতিদিন বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্ষমতাসীন দলের ছাত্র সংগঠনের নেতাকর্মীরা নারীদেরকে লাঞ্ছিত ও সম্ভ্রহানি করছে। তারা দখলদারিত্ব কায়েম করেছে। তারা নদী দখল, ভূমি দখলসহ সবকিছু দখলের মাধ্যমে ধ্বংস করেছে। শুধু ইট-কাঠ দিয়ে উন্নয়ন হয়না। এখানে কথা বলা ও লেখার কোনো স্বাধীনতা নেই। পেয়াজ ও রসুনের উৎপাদন বাড়লেও দেশের কৃষকরা পণ্যের ন্যায্যমূল্য পায় না। ক্ষমতাসীনদের চাঁদাবাজির কারণে সব পণ্যের দাম বেড়েছে।
সেলিমা রহমান আরও বলেন, এই আওয়ামী লীগ আমাদের হাজার হাজার নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার ও নির্যাতন করে একতরফা ডামি নির্বাচন করেছে ৭ জানুয়ারি। এই সরকার সবচেয়ে ভয় পায় বিএনপিকে। যার নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া। আমাদের আন্দোলন কিন্তু চলমান। আমরা ভোট বর্জনের আহ্বান জানিয়েছিলাম। জনগণ তাতে সাড়া দিয়েছে। ফলে আমরা সফল হয়েছি। আমরা দেশের সকল মানুষকে সঙ্গে নিয়েই এই অবৈধ সরকারকে পদত্যাগ ঘটিয়ে সত্যিকারের ভোটাধিকার ও গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনার হবে।

মহান ২১ শে ফেব্রুয়ারি ভাষা আন্দোলনের চেতনাকে ধারণ করে বাংলাদেশের হারানো গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও জনগণের ভোটাধিকার ফিরিয়ে আনার আন্দোলন অব্যাহত থাকবে বলে পুনর্ব্যক্ত করেছে বিএনপি।
দলের শীর্ষ নেতারা মঙ্গলবার এক সভায় বলেন, ভাষা আন্দোলন শুধু ভাষা আন্দোলন ছিল না। সেটি প্রকৃত পক্ষে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সূচনা পর্ব। ভাষা আন্দোলনের চেতনাই কিন্তু পরবর্তীতে বাঙালি জাতিকে স্বাধীনতাযুদ্ধে অংশ নিতে প্রেরণা জুগিয়েছে। আজকে বর্তমানে দেশে গণতন্ত্র নেই, কথা বলা ও লেখার স্বাধীনতা নেই। জনগণের ভোটাধিকার নেই। ফলে বিএনপির একদফার যে আন্দোলন তা চলবে।
আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষ্যে রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে বিএনপির উদ্যোগে এই আলোচনা সভা হয়।
বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল নোমানের সভাপতিত্বে ও সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুস সালাম আজাদ ও সহপ্রচার সম্পাদক আমিরুল ইসলাম খান আলিমের পরিচালনায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার।
অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আব্দুল মঈন খান, বেগম সেলিমা রহমান, ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল আউয়াল মিন্টু, নিতাই রায় চৌধুরী, ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা জয়নুল আবদীন ফারুকসহ বিভিন্ন অঙ্গ ও সংগঠনের নেতারা।
অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা জেড মোর্তুজা চৌধুরী তুলা, অঙ্গ সংগঠনের হেলেন জেরিন খান, মো. আব্দুর রহিম, আব্দুল মোনায়েম মুন্না, শাহ মো. নেছারুল হক, অধ্যক্ষ নজরুল ইসলাম তালুকদার, কাজী মো. সেলিম রেজা, তানজিল হাসানসহ সহস্রাধিক নেতাকর্মী। কুরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে শুরু হওয়া সভার আগে ভাষা আন্দোলন ও চলমান গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার আন্দোলনের শহীদদের স্মরণে রুহের মাগফিরাত কামনায় বিশেষ মুনাজাত করা হয়।
এদিকে অভ্যন্তরীণ গ্রুপিংয়ের কারণে জাতীয়তাবাদী ওলামা দলের নেতাকর্মীদের মাঝে ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটে।
ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার বলেন, জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের উন্নয়নে যা করেছেন, তা বলে শেষ হবে না। তিনি দেশের কৃষির উন্নয়নে খাল খনন কর্মসূচি করেছেন। শিক্ষার উন্নয়নে অসংখ্য স্কুল প্রতিষ্ঠা করেন। একটি ছোট দেশ হয়েও তিনি নিজের পায়ের ওপর দাঁড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছিলেন। তিনি আমাদের আত্মমর্যাদা প্রতিষ্ঠায় কাজ করেছেন। তার শাসনামলে যে নির্বাচন হয়েছিলো সেখানে সকল দল অংশ নিয়েছিল।
তিনি বলেন, বেগম খালেদা জিয়া কত সুন্দরভাবে দেশ পরিচালনা করেছিলেন। কোনো বিরোধী দলের নেতাকর্মীদেরকে বন্দি করে কারাগারে পাঠান নাই। ইনশাআল্লাহ আবারও তার নেতৃত্বে বিএনপি সফল হবে। তার যোগ্য পুত্র তারেক রহমান দলের হাল ধরেছেন। আজকে তিনি দেশে আসতে পারছেন না। দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হলে তিনি ফিরবেন। বিএনপি মানেই শান্তি ও গণতন্ত্র। বিএনপি মানেই সাধারণ মানুষের উন্নতি ও সাধারণ মানুষের জন্য শিক্ষা।
গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের মাধম্যেই কিন্তু বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সূচনা ঘটে। তার আগে মাতৃভাষার চেতনাকে কেন্দ্র করেই ৬৯, ৭০ পর্যন্ত এসেছিলাম। আমরা পাকিস্তানিদের বলেছিলাম তোমাদের বৈষম্যের শাসন মানি না। সেদিন বাঙালি তাদের ব্যালটের মাধ্যমে পাকিস্তানীদেরকে বুঝিয়ে দিয়েছিল তোমাদেরকে চায় না। ফলে পাকিস্তান মুসলিম লীগ সরকারের ভরাডুবি হয়েছিল।
তিনি বলেন, ৭ মার্চের ভাষণ গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু তিনি তো চূড়ান্ত ঘোষণা দেননি। ফলে নেতৃত্বের শূণ্যতা দেখা দিলে জিয়াউর রহমান স্বাধীন বাংলাদেশের মানুষের কাছে দিশারী, অসময়ের কান্ডারি। তিনি হানাদারমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে স্বাধীনতার ঘোষণা দেন। এ কথা যারা অস্বীকার করে তারা কাপুরুষ। অথবা স্বাধীনতাযুদ্ধে তাদের কোনো অবদান নেই। আজকে হাজার হাজার কোটি টাকা খরচ করে নিজেদের পরিচিতি তুলে ধরছে নানা স্মৃতিচিহ্ন আবিষ্কারের দ্বারা।
গয়েশ্বর বলেন, আজকে শেখ হাসিনার বদৌলতে ঘরে ঘরে শহিদ মিনার হওয়ার দশা। যদি গুম-খুনের হিসাব করেন, ৭৫ সালের দুর্ভিক্ষের হিসেব করেন, তাহলে দেখা যাবে ৫০ হাজার ছাড়িয়েছে। আজও যদি হিসাব করেন যারা স্বাধীনতা রক্ষার দাবিদার তাদের হাতে মুক্তিযোদ্ধাসহ বিভিন্ন দলের লক্ষাধিক নেতাকর্মী নিহত, ক্ষতিগ্রস্ত ও নির্যাতিত হয়েছেন। ফলে শেখ হাসিনা দেশের মানুষকে লক্ষাধিক শহিদ মিনার উপহার দিয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, সুতরাং যেখানে নির্যাতন নিপীড়ন করে যেই পাকিস্তানের রক্ষা হয়নি। এই আওয়ামী লীগ সরকারও পারবে না। আজকে যেখানে রাষ্ট্রীয় সম্পদ যারা রক্ষা করার কথা। তারাই তো লুট করে দেউলিয়া করেছে। কোনো কর্মসংস্থান নেই। হাজার হাজার বেকার। দেশ কোন দিকে যাচ্ছে? এজন্য তো মুক্তিযুদ্ধ হয়নাই।
গয়েশ্বর বলেন, এই সরকার হলো পাকিস্তানের প্রেতাত্মা সরকার। এদের কোনো চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য নেই। আবার তারাই বলে, আমি তো থাকতে চাই নাই। কিন্তু জনগণ আমাকে ছাড়লোনা। আসলে এদের কোনো লাজ লজ্জা নেই। এদের নৈতিকতা নেই। তারা বিরোধী রাজনীতিবিদদের নিয়ে যেরকম ভেংচি কাটে এবং কথা বলে তাতে প্রমাণিত হয় লজ্জা নেই। আমাদের নেতাদের নিয়ে কটূক্তি করছেন। যখন খুশি মামলা দিচ্ছে। বিচারকরা কোনো যাচাই বাছাই করেন না।
তিনি বলেন, কারাগারে নেওয়ার পর তো নেতাকর্মীদের থেকে টাকা নিয়ে বাণিজ্য করে। জামিনের পরও মুক্তি নিয়ে সময় ক্ষেপণ করা হয়। এই কাগজ তো ওই কাগজ। এই অফিসার তো ওই অফিসার। আবার বাইরের খাবার নিতে দেয় না। কিন্তু কিছু টাকা দিবেন বাইরের খাবার নেওয়া যাবে। আসলে অত্যাচারের শেষ কোথায়? একটা মানুষকে অত্যাচার করতে করতে কবরে না যাওয়া পর্যন্ত ওরা থামে না।
গয়েশ্বর আরও বলেন, আমি প্রধান বিচারপতিকে বলবো- আপনার বাড়ির গেট ভাঙার সময় কী আপনি বাড়িতে ছিলেন? নাকি আপনার মান-সম্মান বাড়লো? এরপর যারা টিভিতে আপনার বাড়ির চিত্র দেখালো। এ বিষয়ে কি আপনি সরকারকে প্রশ্ন করেছেন? মনে রাখবেন আপনার পূর্বসূরী সাবেক প্রধান বিচারপতিকে বন্দুকের নলে বের করেছে তারাই আপনার বাড়িতে হামলার নাটক করেছে। আপনি একটি তদন্ত কমিটি গঠন করুন। তবেই তাদেরকে খুঁজে পাবেন। মনে রাখবেন সবসময় সবাইকে ধমক দিয়ে চুপ রাখা যায় না। যাবেও না। আমরা শান্তিপ্রিয় শান্ত মায়ের শান্ত ছেলে, কভু শত্রু এলে অস্ত্র হাতে ধরতে জানি।
ড. আব্দুল মঈন খান বলেন, যে লক্ষ্য নিয়ে মুক্তিযুদ্ধ করেছিলাম সেটি আজ ভূলুণ্ঠিত। এই সরকার ভোটাধিকার কেড়ে নিয়েছে। গণতন্ত্র হত্যা করেছে। আমরা এই দুইটি ফিরিয়ে আনার আন্দোলন করছি।
সেলিমা রহমান বলেন, আমাদের সকল অধিকার কেড়ে নেওয়ার প্রতিবাদে ১৯৫২ সালে ভাষা আন্দোলনের সূচনা হয়েছিল। সেইসঙ্গে একাত্তর সালের মুক্তিযুদ্ধের বীজ বপন করা হয়েছিল। সেই আন্দোলন আমাদেরকে আজও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার আন্দোলনে অনুপ্রেরণা জোগায়। সেদিন পাকিস্তানিদের অপশাসন ও শোষনের বিরুদ্ধে দেশের ছাত্রসমাজসহ সাধারণ মানুষ বিদ্রোহ করেছিল।
তিনি বলেন, আজকে ছাত্রসমাজের কি করুণ দশা। প্রতিদিন বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্ষমতাসীন দলের ছাত্র সংগঠনের নেতাকর্মীরা নারীদেরকে লাঞ্ছিত ও সম্ভ্রহানি করছে। তারা দখলদারিত্ব কায়েম করেছে। তারা নদী দখল, ভূমি দখলসহ সবকিছু দখলের মাধ্যমে ধ্বংস করেছে। শুধু ইট-কাঠ দিয়ে উন্নয়ন হয়না। এখানে কথা বলা ও লেখার কোনো স্বাধীনতা নেই। পেয়াজ ও রসুনের উৎপাদন বাড়লেও দেশের কৃষকরা পণ্যের ন্যায্যমূল্য পায় না। ক্ষমতাসীনদের চাঁদাবাজির কারণে সব পণ্যের দাম বেড়েছে।
সেলিমা রহমান আরও বলেন, এই আওয়ামী লীগ আমাদের হাজার হাজার নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার ও নির্যাতন করে একতরফা ডামি নির্বাচন করেছে ৭ জানুয়ারি। এই সরকার সবচেয়ে ভয় পায় বিএনপিকে। যার নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া। আমাদের আন্দোলন কিন্তু চলমান। আমরা ভোট বর্জনের আহ্বান জানিয়েছিলাম। জনগণ তাতে সাড়া দিয়েছে। ফলে আমরা সফল হয়েছি। আমরা দেশের সকল মানুষকে সঙ্গে নিয়েই এই অবৈধ সরকারকে পদত্যাগ ঘটিয়ে সত্যিকারের ভোটাধিকার ও গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনার হবে।

জামায়াত আমির বলেন, ‘তারা গতকাল শুধু ভাইদের গায়ে নয়, আমাদের মা বোনদের গায়েও হামলা করেছে। আমরা এর তীব্র নিন্দা জানাই। ওরা কি মায়ের পেট থেকে জন্ম নেয় নাই? তাদের ঘরে কি মা-বোন নেই? আমরা আর এ ধরনের নোংরা অবস্থা দেখতে চাই না।’
৩ ঘণ্টা আগে
এ সময় নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, ‘তারেক রহমান কড়াইলের বস্তিতে ফ্ল্যাট করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। এটা তিনি করতে পারেন না। নির্বাচন কমিশন এ বিষয়ে নিশ্চুপ, কেউ কথা বলছে না। তাহলে প্রশাসন ও বিএনপি একসঙ্গে কাজ করবে? তারেক রহমানের ক্ষেত্রে এক নীতি, অন্যদের ক্ষেত্রে আরেক নীতি।’
৩ ঘণ্টা আগে
বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র মাহদী আমিন এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, 'আমরা চাই একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন। আমরা বিশ্বাস করি যদি সত্যিকার অর্থে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড থাকে, জনগণের ভোটের অধিকার সত্যিকার অর্থে মূল্যায়িত হয়, তা হলে অবশ্যই বিএনপি সরকার গঠন করবে।'
৩ ঘণ্টা আগে
সিপিবির প্রার্থী তালিকায় দলটির বাইরের চারজন প্রার্থীও রয়েছেন। এর মধ্যে ময়মনসিংহ-১ আসনে গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টির আজহারুল ইসলাম আজাদ ও মাদারীপুর-১ আসনে বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক পার্টির আব্দুল আলী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। এ ছাড়া সিপিবি-সমর্থিত প্রার্থী নিরব রবি দাস ও শিপন রবি দাস যথাক্রমে গাইবান্ধা-৫
২০ ঘণ্টা আগে