মির্জা ফখরুলের পদত্যাগ, বিএনপির পরবর্তী মহাসচিব কে?

নাজমুল ইসলাম হৃদয়
আপডেট : ১৩ আগস্ট ২০২৬, ১৬: ৪৩
মির্জা ফখরুলের পদত্যাগের পর বিএনপির সম্ভাব্য মহাসচিব হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন (বাঁ থেকে) রুহুল কবির রিজভী আহমেদ, সালাহউদ্দিন আহমদ, এ জেড এম জাহিদ হোসেন, শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি ও হাবিবুন নবী খান সোহেল। কোলাজ: রাজনীতি ডটকম

রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে দলের মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নাম চূড়ান্ত করেছে বিএনপি। জাতীয় সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতার সুবাদে তিনিই হতে যাচ্ছেন বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি। রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী হয়ে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, বিএনপির মহাসচিব এবং দলের স্থায়ী কমিটির সদস্যপদ থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

ফখরুলের বিদায়ে বিএনপির মহাসচিবের পদটি শূন্য হচ্ছে। এখন প্রশ্ন, তার জায়গায় কে আসছেন? আপাতত ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব কে হবেন, সেই সিদ্ধান্তও হয়নি। তবে দলের গঠনতন্ত্র ও প্রচলিত রেওয়াজ অনুযায়ী জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব হওয়ার সম্ভাবনাই সবচেয়ে বেশি।

পাশাপাশি স্থায়ী মহাসচিব পদে আলোচনায় রয়েছেন রিজভী, স্থায়ী কমিটির সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ, স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সমাজকল্যাণমন্ত্রী এ জেড এম জাহিদ হোসেন এবং যুগ্ম মহাসচিব ও পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি। আলোচনায় রয়েছে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হাবিব-উন-নবী খান সোহেলের নামও।

সিদ্ধান্ত এখনো হয়নি

বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) দুপুরে সচিবালয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী একসঙ্গে দুটি সিদ্ধান্তের কথা জানান। প্রথমত, দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে— রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপির প্রার্থী হচ্ছেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। দ্বিতীয়ত, রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ফখরুল মহাসচিব ও স্থায়ী কমিটির সদস্যপদ থেকে পদত্যাগ করেছেন।

তবে তৃতীয় প্রশ্নটির উত্তর এড়িয়ে যান রিজভী। মহাসচিবের পদ শূন্য হওয়ার পর ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব কে হচ্ছেন— সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এ নিয়ে আলোচনা এখনো চলমান। দলের চেয়ারম্যান এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ওপর দায়িত্ব দেওয়া আছে। তিনি সবার মতামত নিয়েই পরবর্তীতে সিদ্ধান্ত জানাবেন।

অর্থাৎ, সপ্তাহ জুড়ে গণমাধ্যমে যে নামটি ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব হিসেবে প্রায় নিশ্চিত বলে প্রচারিত হয়েছে, খোদ রিজভীর মুখে তার আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি মেলেনি। এ থেকে স্পষ্ট, মির্জা ফখরুলের বিদায়ে তৈরি হওয়া শূন্যতা আপাতদৃষ্টিতে যতটা সরল মনে হচ্ছে, বাস্তবে বিষয়টি ততটা সহজ নয়।

ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব কে হচ্ছেন?

দলীয় সূত্র বলছে, বিএনপির গঠনতন্ত্র ও দলীয় রেওয়াজ অনুযায়ী মহাসচিবের পদ শূন্য হলে সাধারণত জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিবই ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দায়িত্ব পান। এর সুনির্দিষ্ট নজিরও রয়েছে। ২০০৯ সালে বিএনপির পঞ্চম জাতীয় কাউন্সিলে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব নির্বাচিত হয়েছিলেন। ২০১১ সালে তৎকালীন মহাসচিব খন্দকার দেলোয়ার হোসেনের মৃত্যুর পর তৎকালীন চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ফখরুলকে ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দায়িত্ব দেন।

এরপর ২০১৬ সালের ষষ্ঠ জাতীয় কাউন্সিলে মির্জা ফখরুল পূর্ণাঙ্গ মহাসচিব নির্বাচিত হন। এখন রুহুল কবির রিজভী নিজেই দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব। ফলে একই ধারাবাহিকতায় তারই ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব হওয়ার কথা। তবে বৃহস্পতিবারের ব্রিফিংয়ে রিজভীর নিজের অনিশ্চিত জবাব প্রমাণ করে, দলীয় প্রথা আর আনুষ্ঠানিক ঘোষণা এক বিষয় নয়।

দলের চেয়ারম্যান হিসেবে তারেক রহমানের হাতে সরাসরি সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতাও গঠনতন্ত্রে সংরক্ষিত বলে জানা গেছে। যদিও এই মুহূর্তে ধারাবাহিকতার যুক্তিই রিজভীর পক্ষে সবচেয়ে জোরালো। রিজভী নিজেও এ বিষয়ে সতর্ক অবস্থান নিয়েছেন। মহাসচিব পদ নিয়ে দলে কী চলছে, তা তার জানা নেই বলে সপ্তাহের শুরুতে এক সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছিলেন তিনি।

রিজভী একই সঙ্গে বলেছিলেন, তিনি দলের প্রতি পূর্ণ আনুগত্য নিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন এবং দল তাকে কীভাবে মূল্যায়ন করবে, তা চেয়ারম্যান ও নীতিনির্ধারকদের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে। রিজভীর এই সংযত অবস্থানও তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ, এতে তিনি ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব হওয়া এবং স্থায়ীভাবে মহাসচিব হওয়ার বিষয়— দুটিকে আলাদা করে দেখেছেন।

স্থায়ী মহাসচিবের দৌড়ে কারা?

ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দায়িত্ব পাওয়া এবং পূর্ণাঙ্গ মহাসচিব হওয়া— দুটি সম্পূর্ণ আলাদা বিষয়। আর এখানেই বিএনপির ভেতরের আলোচনার মূল কেন্দ্র। দলীয় সূত্র অনুযায়ী, স্থায়ী মহাসচিব হিসেবে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছে চারটি নাম—রুহুল কবির রিজভী, স্থায়ী কমিটির সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ, স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সমাজকল্যাণমন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন এবং যুগ্ম মহাসচিব ও পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি।

এ ছাড়া বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হাবিব-উন-নবী খান সোহেলের নামও আলোচনায় রয়েছে। তবে চলতি সপ্তাহের মহাসচিব বিতর্কে তার নাম সরাসরি সেভাবে উঠে আসেনি। তিনি দলের নির্বাহী কমিটির যুগ্ম মহাসচিব এবং ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সভাপতি হিসেবে সক্রিয় থাকলেও মহাসচিব পদের আলোচনায় তার অনুপস্থিতিকে নিছক আলোচনার অভাব বলে উড়িয়ে দেওয়া ঠিক হবে না।

রিজভী ও সালাহউদ্দিনের পক্ষে যে যুক্তি

রুহুল কবির রিজভীর পক্ষে মূল যুক্তি সাংগঠনিক ধারাবাহিকতা। দলের দুঃসময়ে নিয়মিত ব্রিফিং, সংবাদ সম্মেলন এবং মাঠপর্যায়ের রাজনীতিতে সক্রিয় থাকার কারণে তৃণমূলে তার গ্রহণযোগ্যতা ব্যাপক। মন্ত্রিসভায় জায়গা না পেলেও পরে তাকে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা করা হয়।

সরকারের কোনো মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বও নেই রুহুল কবির রিজভীর। তাই দলীয় সূত্র মনে করছে, তুলনামূলকভাবে দলের সাংগঠনিক কাজে বেশি সময় দেওয়ার সুযোগ রয়েছে তার।

সালাহউদ্দিন আহমেদের ক্ষেত্রে চিত্র কিছুটা ভিন্ন। সরকার গঠনের আগে মহাসচিব পদে আলোচনায় তিনি এবং আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী এগিয়ে ছিলেন বলে জানা যায়। তবে ফেব্রুয়ারিতে সরকার গঠনের পর সালাহউদ্দিন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রিত্ব পান। অন্যদিকে আমীর খসরু দায়িত্ব পান অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের।

সালাহউদ্দিন এবং আমীর খসরু— দুজনই বর্তমানে মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব সামলাচ্ছেন। একাধিক প্রতিবেদনে রিজভীর তুলনামূলক কম সরকারি দায়িত্বের বিষয়টি এ কারণেই আলাদাভাবে উঠে এসেছে। তবে সালাহউদ্দিন আহমেদের রাজনৈতিক কৌশল নির্ধারণী অভিজ্ঞতা এবং নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে সক্রিয়তা তাকে এখনো মহাসচিব পদের আলোচনায় রেখেছে।

জাহিদ হোসেনের নামও আলোচনায়

ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেনের নাম তুলনামূলক কম আলোচিত হলেও দলীয় হাইকমান্ডের আস্থার জায়গা থেকে তাকে গুরুত্বপূর্ণ বিবেচনা করা হয়।

পেশাজীবী সংগঠন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশনের (ড্যাব) সাবেক নেতা জাহিদ হোসেন দলের দুঃসময়ে অসুস্থ চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার চিকিৎসা তদারকির গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন।

বর্তমানে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকা এই নেতাকে মন্ত্রণালয় থেকে সরিয়ে মহাসচিব করার গুঞ্জনও দলীয় সূত্রে পাওয়া গেছে। তবে এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো ইঙ্গিত নেই।

এ্যানির সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা

শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানির ক্ষেত্রে ছাত্ররাজনীতি থেকে কেন্দ্রীয় রাজনীতিতে দীর্ঘ ও ধারাবাহিক সম্পৃক্ততাকে বড় যোগ্যতা হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

দলের নীতি ও আদর্শের প্রতি অনুগত থেকে সাংগঠনিক সংকট মোকাবিলা এবং কর্মী-সমর্থকদের সংগঠিত রাখার ক্ষেত্রে তাঁর দক্ষতার কথাও দলীয় সূত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে এ্যানিও বর্তমানে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে রয়েছেন। ফলে সালাহউদ্দিন আহমেদ ও জাহিদ হোসেনের মতো তার ক্ষেত্রেও সরকার ও দলের দ্বৈত দায়িত্বের প্রশ্নটি প্রাসঙ্গিক।

সরকার ও দল কি আলাদা হবে?

এই দ্বৈত দায়িত্বের প্রশ্নটি শুধু জল্পনা নয়। একাধিক সূত্রে জানা গেছে, দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সরকার থেকে দলের নেতৃত্বকে অনেকটা আলাদা রাখার চিন্তাভাবনা করছেন।

এর পেছনে ব্যবহারিক যুক্তিও রয়েছে। মহাসচিবের দায়িত্ব এখন শুধু সাংগঠনিক কার্যক্রমের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। সরকারের সঙ্গে দলীয় সমন্বয় এবং মাঠপর্যায়ের রাজনীতি সামলানোও এর গুরুত্বপূর্ণ অংশ হবে। বিশেষ করে সামনে স্থানীয় সরকার নির্বাচন থাকায় মহাসচিবের ওপর সাংগঠনিক চাপ আরও বাড়বে।

এই বিবেচনায় সরকারের গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকা নেতাদের পরিবর্তে সাংগঠনিকভাবে অভিজ্ঞ এবং পূর্ণ সময় দলের কাজে দিতে পারবেন— এমন কাউকে মহাসচিব করার সম্ভাবনার কথা বলা হচ্ছে। স্বাভাবিকভাবেই এই যুক্তি রিজভীর পক্ষে যায়।

তবে এটি এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নয়। সম্ভাবনার পর্যায়ে থাকা এই চিন্তা থেকে শেষ পর্যন্ত তারেক রহমান ভিন্ন পথেও যেতে পারেন।

ফখরুলের বিদায়ে মন্ত্রিসভাতেও শূন্যতা

মির্জা ফখরুল রাষ্ট্রপতি হলে শুধু বিএনপির মহাসচিবের পদই শূন্য হচ্ছে না। একই সঙ্গে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর পদও খালি হয়েছে।

ফলে মন্ত্রিসভায় একটি পৃথক রদবদলের প্রয়োজন তৈরি হবে। দল ও সরকার— দুই জায়গাতেই একই সময়ে শূন্যতা তৈরি হওয়ায় তারেক রহমানের সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রক্রিয়া আরও জটিল হয়ে উঠেছে।

কাউন্সিল কবে, সিদ্ধান্ত কার?

বিএনপির স্থায়ী কমিটি এ বছরের ডিসেম্বরে দলের সপ্তম জাতীয় কাউন্সিল আয়োজনের নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জুলাই থেকে একাধিক সংবাদমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।

২০১৬ সালের ষষ্ঠ কাউন্সিলের পর প্রায় নয় বছরে এটিই হতে যাচ্ছে বিএনপির প্রথম জাতীয় কাউন্সিল। তবে কাউন্সিলের সুনির্দিষ্ট তারিখ এখনো চূড়ান্ত হয়নি। অর্থাৎ, বিষয়টি এখনো পরিকল্পনার পর্যায়ে রয়েছে, চূড়ান্ত ঘোষণার পর্যায়ে নয়।

এখন প্রশ্ন হচ্ছে, নতুন মহাসচিব নির্ধারণে কাউন্সিল পর্যন্ত অপেক্ষা করা হবে, নাকি তার আগেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। দলীয় সূত্র অনুযায়ী, দুটি পথই খোলা রয়েছে।

গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, দলের চেয়ারম্যানের হাতে সরাসরি কাউকে মহাসচিব ঘোষণা করার ক্ষমতা রয়েছে। তাই কাউন্সিলের জন্য অপেক্ষা করা বাধ্যতামূলক নয়।

ফলে রিজভী ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দায়িত্ব পেলেও তিনি ডিসেম্বরের কাউন্সিল পর্যন্ত সেই ভূমিকায় থাকবেন, নাকি তার আগেই কাউকে পূর্ণাঙ্গ মহাসচিব করা হবে— তা এখনই বলা কঠিন।

অতীতের রেওয়াজ বলছে, কাউন্সিলে নেতৃত্ব নির্বাচনের ক্ষেত্রেও দলের চেয়ারম্যানের মতামতই শেষ পর্যন্ত প্রাধান্য পেয়েছে। অর্থাৎ প্রক্রিয়া যা-ই হোক, সিদ্ধান্তের কেন্দ্রে থাকছেন তারেক রহমান।

যে পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে মহাসচিব বিতর্ক

মহাসচিব বদল নিয়ে বিএনপির ভেতরে যে আলোচনা চলছে, তা আসলে দলটির একটি বড় রূপান্তরের প্রতিফলন। বিরোধী দল থেকে ক্ষমতাসীন দলে পরিণত হওয়ার পর বিএনপির সাংগঠনিক নেতৃত্ব ও সরকার পরিচালনার নেতৃত্ব ক্রমশ একে অপরের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ছে। আর ঠিক এই জায়গাতেই তৈরি হচ্ছে নতুন টানাপোড়েন।

মির্জা ফখরুলের দীর্ঘ মহাসচিব-জীবনে তিনি মূলত আন্দোলনের সমন্বয়কারী এবং দলের যোগাযোগমুখ হিসেবে কাজ করেছেন। এখন সরকারে থাকা বিএনপির জন্য এমন একজন মহাসচিব প্রয়োজন, যিনি একই সঙ্গে তৃণমূল সংগঠন, সরকার ও দলের সমন্বয় এবং আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রস্তুতি— এই তিনটি দায়িত্ব সামলাতে পারবেন।

এই বাস্তবতাই ভারপ্রাপ্ত ও স্থায়ী মহাসচিব ভিন্ন ব্যক্তি হওয়ার সম্ভাবনাকে আরও জোরালো করছে।

মহাসচিব কে?

সব মিলিয়ে এখনই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না, বিএনপির পরবর্তী মহাসচিব কে হবেন। দলীয় প্রথা এবং সাম্প্রতিক আলোচনার ভিত্তিতে রুহুল কবির রিজভীর ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব হওয়ার সম্ভাবনাই সবচেয়ে বেশি। কিন্তু খোদ রিজভীর বক্তব্য অনুযায়ী, এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা হয়নি।

অন্যদিকে স্থায়ী মহাসচিব পদের জন্য রিজভী, সালাহউদ্দিন আহমেদ, এ জেড এম জাহিদ হোসেন ও শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি— এই চারজনের নাম সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছে। হাবিব-উন-নবী খান সোহেলের নামও আলোচনায় থাকলেও সাম্প্রতিক বিতর্কে তা তুলনামূলকভাবে কম দৃশ্যমান।

শেষ পর্যন্ত সরকার ও দলের দায়িত্ব আলাদা রাখার বিষয়ে তারেক রহমান কোন পথে হাঁটবেন, তার ওপরই অনেকটা নির্ভর করছে মহাসচিব পদের চূড়ান্ত হিসাব। ডিসেম্বরে সম্ভাব্য জাতীয় কাউন্সিল এই সিদ্ধান্তকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে পারে। আবার তার অনেক আগেই দলের চেয়ারম্যানের এক ঘোষণায় পুরো সমীকরণ পালটে যেতে পারে।

আপাতত নিশ্চিত শুধু এটুকুই— মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বিদায়ের মধ্য দিয়ে বিএনপির সাংগঠনিক নেতৃত্বে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা হচ্ছে। পরবর্তী কয়েক সপ্তাহেই স্পষ্ট হবে, সেই অধ্যায়ের নেতৃত্বে কে আসছেন এবং ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও স্থায়ী মহাসচিবের পদে শেষ পর্যন্ত একই ব্যক্তি থাকছেন, নাকি তৈরি হচ্ছে নতুন কোনো সমীকরণ।

Ad
Ad
ad
ad
ad

রাজনীতি থেকে আরও পড়ুন

জল্পনার অবসান, মির্জা ফখরুলই রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপির প্রার্থী

বৃহস্পতিবার (১২ আগস্ট) দুপুরে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে বিএনপির উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকে মির্জা ফখরুল ইসলামকে দলের রাষ্ট্রপতি প্রার্থী ঘোষণা করেন তারেক রহমান। দুপুর সাড়ে ১২টায় এ বৈঠক শুরু হয়।

৫ ঘণ্টা আগে

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে অলি আহমদের মনোনয়নপত্র জমা দিল জামায়াত জোট

রাষ্ট্রপতি পদে এলডিপি প্রেসিডেন্ট কর্নেল (অব.) অলি আহমদের মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্য। জামায়াত নেতা এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে এ মনোনয়নপত্র জমা দেয়।

৫ ঘণ্টা আগে

১২টায় বসছে বিএনপির স্থায়ী কমিটি, রাষ্ট্রপতি প্রার্থীর মনোনয়ন জমা ১টায়

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে কার নাম চূড়ান্ত করা হবে, তা নিয়ে দলের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে আলোচনা চলছে। আজকের স্থায়ী কমিটির বৈঠকে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা রয়েছে।

৮ ঘণ্টা আগে

পরিকল্পনাহীনতা থেকে সংকট জ্বালানি-বিদ্যুতের, উত্তরণে ১৫ প্রস্তাব নাহিদের

বিএনপি নিজেই নিজের নির্বাচনি ইশতেহারের খেলাপ করছে অভিযোগ করে নাহিদ লিখেছেন, ‘বিএনপির ৩১ দফা ও নির্বাচনি ইশতেহারে স্পষ্ট প্রতিশ্রুতি ছিল— বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ খাতে দায়মুক্তি আইনসহ সব কালাকানুন বাতিল হবে। কারণ পতিত ফ্যাসিবাদী সরকার এই দায়মুক্তির আড়ালেই কুইক রেন্টাল ও আইপিপির নামে ক্যাপাসিটি চার

১৯ ঘণ্টা আগে