
শাহরিয়ার শরীফ

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে বিএনপির সঙ্গে আসন সমঝোতা করে ভোটের মাঠে নামলেও খুব একটা স্বস্তিতে নেই মিত্র দলগুলোর নেতারা। তাদের অভিযোগ, বিএনপি আসন ছাড়লেও তৃণমূলের নেতাকর্মীদের কাছ থেকে তারা প্রত্যাশিত সহযোগিতা পাচ্ছেন না। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ নির্বাচন পরিচালনা কমিটির নেতাদের কাছে মাঠ পর্যায়ের সমস্যা নিয়ে কথাও বলছেন এসব দলের নেতারা।
বিএনপির থেকে আসন ছাড় পাওয়া কিছু দলের নেতা নিজ প্রতীকেই নির্বাচনে লড়বেন। অন্য কিছু নেতা দল ছেড়ে সরাসরি যোগ দিয়েছেন বিএনপিতে, নির্বাচন করবেন ধানের শীষে। মাঠ পর্যায়ের তথ্য বলছে, দ্বিতীয় ধরনের নেতারা সমস্যায় পড়ছেন বেশি। বিএনপির মনোনয়নবঞ্চিতরা স্বতন্ত্র নির্বাচন করায় বেশির ভাগ স্থানীয় নেতাকর্মী তাদের দিকে ঝুঁকে পড়েছেন। সেখানে ভিনদল থেকে এসে নতুন করে ধানের শীষের প্রার্থী হওয়া নেতারা সুবিধা করতে পারছেন না।
বিএনপির থেকে আসন সমঝোতায় ছাড় পাওয়া একাধিক নেতার সঙ্গে আলাপে তাদের এমন বিড়ম্বনায় কথা উঠে এসেছে। অবশ্য বিএনপির হাইকমান্ডের কাছে সহযোগিতা চাওয়ার পর মাঠের পরিস্থিতি কিছুটা বদলাতে শুরু করেছে বলে জানালেন দলটির মিত্ররা। পুরোপুরি সহযোগিতা পেতে দল থেকে আনুষ্ঠানিক নির্দেশনা চাচ্ছেন তারা।
পটুয়াখালী-৩ আসন থেকে লড়ছেন গণঅধিকার পরিষদের নুরুল হক নুর। আসনটি বিএনপি ছাড়লেও এখানে দল থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন বিএনপি নেতা (পরে বহিষ্কৃত) হাসান মামুন। জানা যাচ্ছে, স্থানীয় বেশির ভাগ নেতাকর্মী হাসান মামুনের পক্ষেই কাজ করছেন।
জানতে চাইলে নুরুল হক নুর রাজনীতি ডটকমকে বলেন, ‘এখানকার স্বতন্ত্র প্রার্থীকে বিএনপি বহিষ্কার করলেও নেতাকর্মীরা বেশির ভাগ তার সঙ্গে কাজ করছে। কারণ কমিটিগুলো তার করা। এখন দল থেকে যদি আনুষ্ঠানিকভাবে আমার পক্ষে কাজ করার জন্য না বলা হয়, তাহলে নির্বাচনে বড় ধরনের প্রভাব পড়ার আশঙ্কা করছি। এমন হলে তো আসন সমঝোতার কোনো মূল্য থাকল না।’
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি তাদের যুগপৎ আন্দোলনের শরিক ও নিজেদের দল বিলুপ্ত করে যারা বিএনপিতে যোগ দিয়েছেন তাদের সঙ্গে আসন সমঝোতা করেছে। এর মধ্যে বগুড়া-২ আসনে নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না, পিরোজপুর-১ আসনে জাতীয় পার্টির (কাজী জাফর) মোস্তফা জামাল হায়দার, নড়াইল-২ আসনে এনপিপির চেয়ারম্যান ফরিদুজ্জামান ফরহাদ ও যশোর-৫ আসনে ইসলামী ঐক্যে জোটের মুফতি রশিদ বিন ওয়াক্কাস লড়বেন আসন সমঝোতার প্রার্থী হিসেবে।
আবার পটুয়াখালী-৩ আসন গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর, ঝিনাইদহ-৪ আসন একই দলের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খাঁন (পরে বিএনপিতে যোগ দিয়েছেন), ঢাকা-১২ আসন বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, ঢাকা-১৩ আসন এনডিএমের ববি হাজ্জাজ ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ আসন গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকির জন্য ছেড়ে দিয়েছে বিএনপি।
এ ছাড়া লক্ষ্মীপুর-১ আসনে বিএলডিপির চেয়ারম্যান শাহাদাত হোসেন সেলিম, কিশোরগঞ্জ-৫ আসনে জাতীয় দলের এহসানুল হুদা ও কুমিল্লা-৭ আসনে এলডিপির মহাসচিব ড. রেদওয়ান আহমেদ ছাড় পেয়েছেন। এই তিনজনই আবার সরাসরি যোগ দিয়েছেন বিএনপিতে, প্রথম দুজন নিজেদের দলই বিলুপ্ত ঘোষণা করেছেন। ফরিদুজ্জামান ফরহাদ, ববি হাজ্জাজ, রাশেদ খাঁন ও বিএনপিতে যোগ দিয়ে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে ভোটে লড়ছেন।
এর বাইরে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের সঙ্গে চারটি আসনে সমঝোতা করেছে বিএনপি। এর মধ্যে সিলেট-৫ আসনে জমিয়তের সভাপতি মাওলানা মোহাম্মদ উবায়দুল্লাহ ফারুক, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে দলটির সহসভাপতি মাওলানা জুনায়েদ আল হাবিব, নীলফামারী-১ আসনে মহাসচিব মাওলানা মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দী ও নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে কেন্দ্রীয় নেতা মুফতি মনির হোসেন কাসেমী নির্বাচন করছেন। তারা চারজনই ভোট করছেন দলীয় প্রতীক খেজুর গাছ নিয়ে।
এদিকে ঢাকা-১৭ আসনটি বিজেপি সভাপতি ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থর জন্য ছেড়ে দেওয়ার কথা জানিয়েছিল বিএনপি। পরে এ আসন থেকে নির্বাচন করার সিদ্ধান্ত নেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। পরে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না এলেও ভোলা-১ আসনটি পার্থর জন্য ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত আছে বিএনপির। আবার পিরোজপুর-১ আসনে জাপা নেতার অসুস্থতার কারণে বিএনপি নেতা আলমগীর হোসেনকে প্রার্থী করা হয়েছে।
দেখা গেছে, দীর্ঘদিন যুগপৎ আন্দোলন করা সঙ্গীদের জন্য ছেড়ে দেওয়া একাধিক আসনেই স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে বিএনপি নেতারা মাঠে রয়েছেন। এতে জোট প্রার্থীরা ভোটের মাঠে প্রচারে সুবিধা করতে পারছেন না। কেউ প্রচারে নামলেও স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীদের সামনে বিরূপ পরিস্থিতির মুখে পড়ছেন। অনেক এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের একটি অংশ জোট প্রার্থীদের মেনে নিতে অনীহা দেখাচ্ছেন। প্রতিবাদ মিছিলও হচ্ছে কিছু কিছু জায়গায়।
অবশ্য শুরুর দিকেই বিএনপি এমন ৯ জন স্বতন্ত্র প্রার্থীকে বহিষ্কার করেছে দল থেকে। কিন্তু মাঠে তাদের জনসমর্থন বেশি থাকায় শরিক দলের প্রার্থীরা কুলিয়ে উঠতে পারছেন না।
পটুয়াখালী-৩ আসনের কথা আগেই বলা হয়েছে। ঢাকা-১২ আসনে বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাইফুল হকের বিপরীতে সরব বিএনপি নেতা সাইফুল আলম নীরব। ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে জোট প্রার্থী মাওলানা জুনায়েদ আল হাবিবের বিপরীতে স্বতন্ত্র প্রার্থী আছেন ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা ও হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান কল্যাণ ফ্রন্টের মহাসচিব এসএন তরুণ দে।
এ ছাড়া ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ আসনে গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকির বিপরীতে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বাঞ্চারামপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি কৃষিবিদ মেহেদী হাসান পলাশ।
এরই মধ্যে হাসান মামুন, রুমিন ফারহানা, তরুণ দে ও মেহেদী হাসান পলাশকে বিএনপি বহিষ্কার করেছে। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, বহিষ্কার করলেও বিএনপির রাজনীতিতে বেড়ে ওঠা এসব নেতাদের হাইকমান্ড থেকে ডাক পড়তে পারে। ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান নিজেই তাদের সঙ্গে কথা বলে নির্দেশনা দিতে পারেন। শরিক দলগুলোর নেতাদেরও এমন আশ্বাস দেওয়া হয়েছে বলেও জানা গেছে।
বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক গুলশানে তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে ঢাকা-১২ আসনের পরিস্থিতি তুলে ধরেছেন বলে জানা গেছে। তিনি বিদ্রোহী প্রার্থী সাইফুল আলম নীরবের বিষয়ে বিএনপি প্রধানের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
সাইফুল হক রাজনীতি ডটকমকে বলেন, ‘শুরুর দিকে পরিস্থিতি যা ছিল এখন কিছুটা ভালো। বিএনপির হাইকমান্ড বিষয়টি অবহিত হওয়ার পরে মহানগর উত্তরের দায়িত্বশীলরা ওয়ার্ড ও থানার নেতাদের নির্দেশনা দেওয়ায় এখন অনেকেই সহযোগিতা করছেন। আশা করি সহসাই সবাইকে পাশে পাব।’
কিশোরগঞ্জ-৫ আসন থেকে ভোটে লড়াই করা এহসানুল হুদা রাজনীতি ডটকমকে বলেন, ‘ভোটের মাঠে অভূতপূর্ব সাড়া পাচ্ছি। কিন্তু বিএনপির নেতাকর্মীদের সেভাবে পাশে পাচ্ছি না, এটা সত্য। অনেকে আছেন, নিয়মিত কাজ করছেন। কিন্তু বিএনপির যে নেতা স্বতন্ত্র নির্বাচন করছেন তার আসলে পেশীশক্তি আছে। ভয়ে অনেকে হয়তো নামছেন না। দেখি কী করে শেষ পর্যন্ত।’
বিএনপির হাইকমান্ডকে এ বিষয়ে অবহিত করছেন কি না— জানতে চাইলে এহসানুল হুদা বলেন, ‘আমি অভিযোগ করায় বিশ্বাসী না। নিশ্চয়ই তারা মাঠের খোঁজ রাখেন। দেখি নির্বাচন পরিচালনা কমিটি সমস্যা সমাধানে কী পদক্ষেপ নেয়।’
এদিকে মাঠের এমন বৈরী পরিস্থিতি সম্পর্কে অবহিত বিএনপির হাইকমান্ডও। মনোনয়ন প্রত্যাহারের সময়ের মধ্যেই বিদ্রোহী ও স্বতন্ত্র হিসেবে যারা লড়ছেন তাদের ডেকে কথা বলা হবে বলে জানা গেছে।
জানতে চাইলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান নজরুল ইসলাম খান রাজনীতি ডটকমকে বলেন, ‘এমন সমস্যা খুব একটা হচ্ছে না, তা নয়। আমরা এ নিয়ে কাজ করব। আশা করি দলের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সবাই প্রার্থীদের পক্ষে কাজ করবেন।’

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে বিএনপির সঙ্গে আসন সমঝোতা করে ভোটের মাঠে নামলেও খুব একটা স্বস্তিতে নেই মিত্র দলগুলোর নেতারা। তাদের অভিযোগ, বিএনপি আসন ছাড়লেও তৃণমূলের নেতাকর্মীদের কাছ থেকে তারা প্রত্যাশিত সহযোগিতা পাচ্ছেন না। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ নির্বাচন পরিচালনা কমিটির নেতাদের কাছে মাঠ পর্যায়ের সমস্যা নিয়ে কথাও বলছেন এসব দলের নেতারা।
বিএনপির থেকে আসন ছাড় পাওয়া কিছু দলের নেতা নিজ প্রতীকেই নির্বাচনে লড়বেন। অন্য কিছু নেতা দল ছেড়ে সরাসরি যোগ দিয়েছেন বিএনপিতে, নির্বাচন করবেন ধানের শীষে। মাঠ পর্যায়ের তথ্য বলছে, দ্বিতীয় ধরনের নেতারা সমস্যায় পড়ছেন বেশি। বিএনপির মনোনয়নবঞ্চিতরা স্বতন্ত্র নির্বাচন করায় বেশির ভাগ স্থানীয় নেতাকর্মী তাদের দিকে ঝুঁকে পড়েছেন। সেখানে ভিনদল থেকে এসে নতুন করে ধানের শীষের প্রার্থী হওয়া নেতারা সুবিধা করতে পারছেন না।
বিএনপির থেকে আসন সমঝোতায় ছাড় পাওয়া একাধিক নেতার সঙ্গে আলাপে তাদের এমন বিড়ম্বনায় কথা উঠে এসেছে। অবশ্য বিএনপির হাইকমান্ডের কাছে সহযোগিতা চাওয়ার পর মাঠের পরিস্থিতি কিছুটা বদলাতে শুরু করেছে বলে জানালেন দলটির মিত্ররা। পুরোপুরি সহযোগিতা পেতে দল থেকে আনুষ্ঠানিক নির্দেশনা চাচ্ছেন তারা।
পটুয়াখালী-৩ আসন থেকে লড়ছেন গণঅধিকার পরিষদের নুরুল হক নুর। আসনটি বিএনপি ছাড়লেও এখানে দল থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন বিএনপি নেতা (পরে বহিষ্কৃত) হাসান মামুন। জানা যাচ্ছে, স্থানীয় বেশির ভাগ নেতাকর্মী হাসান মামুনের পক্ষেই কাজ করছেন।
জানতে চাইলে নুরুল হক নুর রাজনীতি ডটকমকে বলেন, ‘এখানকার স্বতন্ত্র প্রার্থীকে বিএনপি বহিষ্কার করলেও নেতাকর্মীরা বেশির ভাগ তার সঙ্গে কাজ করছে। কারণ কমিটিগুলো তার করা। এখন দল থেকে যদি আনুষ্ঠানিকভাবে আমার পক্ষে কাজ করার জন্য না বলা হয়, তাহলে নির্বাচনে বড় ধরনের প্রভাব পড়ার আশঙ্কা করছি। এমন হলে তো আসন সমঝোতার কোনো মূল্য থাকল না।’
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি তাদের যুগপৎ আন্দোলনের শরিক ও নিজেদের দল বিলুপ্ত করে যারা বিএনপিতে যোগ দিয়েছেন তাদের সঙ্গে আসন সমঝোতা করেছে। এর মধ্যে বগুড়া-২ আসনে নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না, পিরোজপুর-১ আসনে জাতীয় পার্টির (কাজী জাফর) মোস্তফা জামাল হায়দার, নড়াইল-২ আসনে এনপিপির চেয়ারম্যান ফরিদুজ্জামান ফরহাদ ও যশোর-৫ আসনে ইসলামী ঐক্যে জোটের মুফতি রশিদ বিন ওয়াক্কাস লড়বেন আসন সমঝোতার প্রার্থী হিসেবে।
আবার পটুয়াখালী-৩ আসন গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর, ঝিনাইদহ-৪ আসন একই দলের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খাঁন (পরে বিএনপিতে যোগ দিয়েছেন), ঢাকা-১২ আসন বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, ঢাকা-১৩ আসন এনডিএমের ববি হাজ্জাজ ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ আসন গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকির জন্য ছেড়ে দিয়েছে বিএনপি।
এ ছাড়া লক্ষ্মীপুর-১ আসনে বিএলডিপির চেয়ারম্যান শাহাদাত হোসেন সেলিম, কিশোরগঞ্জ-৫ আসনে জাতীয় দলের এহসানুল হুদা ও কুমিল্লা-৭ আসনে এলডিপির মহাসচিব ড. রেদওয়ান আহমেদ ছাড় পেয়েছেন। এই তিনজনই আবার সরাসরি যোগ দিয়েছেন বিএনপিতে, প্রথম দুজন নিজেদের দলই বিলুপ্ত ঘোষণা করেছেন। ফরিদুজ্জামান ফরহাদ, ববি হাজ্জাজ, রাশেদ খাঁন ও বিএনপিতে যোগ দিয়ে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে ভোটে লড়ছেন।
এর বাইরে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের সঙ্গে চারটি আসনে সমঝোতা করেছে বিএনপি। এর মধ্যে সিলেট-৫ আসনে জমিয়তের সভাপতি মাওলানা মোহাম্মদ উবায়দুল্লাহ ফারুক, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে দলটির সহসভাপতি মাওলানা জুনায়েদ আল হাবিব, নীলফামারী-১ আসনে মহাসচিব মাওলানা মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দী ও নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে কেন্দ্রীয় নেতা মুফতি মনির হোসেন কাসেমী নির্বাচন করছেন। তারা চারজনই ভোট করছেন দলীয় প্রতীক খেজুর গাছ নিয়ে।
এদিকে ঢাকা-১৭ আসনটি বিজেপি সভাপতি ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থর জন্য ছেড়ে দেওয়ার কথা জানিয়েছিল বিএনপি। পরে এ আসন থেকে নির্বাচন করার সিদ্ধান্ত নেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। পরে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না এলেও ভোলা-১ আসনটি পার্থর জন্য ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত আছে বিএনপির। আবার পিরোজপুর-১ আসনে জাপা নেতার অসুস্থতার কারণে বিএনপি নেতা আলমগীর হোসেনকে প্রার্থী করা হয়েছে।
দেখা গেছে, দীর্ঘদিন যুগপৎ আন্দোলন করা সঙ্গীদের জন্য ছেড়ে দেওয়া একাধিক আসনেই স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে বিএনপি নেতারা মাঠে রয়েছেন। এতে জোট প্রার্থীরা ভোটের মাঠে প্রচারে সুবিধা করতে পারছেন না। কেউ প্রচারে নামলেও স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীদের সামনে বিরূপ পরিস্থিতির মুখে পড়ছেন। অনেক এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের একটি অংশ জোট প্রার্থীদের মেনে নিতে অনীহা দেখাচ্ছেন। প্রতিবাদ মিছিলও হচ্ছে কিছু কিছু জায়গায়।
অবশ্য শুরুর দিকেই বিএনপি এমন ৯ জন স্বতন্ত্র প্রার্থীকে বহিষ্কার করেছে দল থেকে। কিন্তু মাঠে তাদের জনসমর্থন বেশি থাকায় শরিক দলের প্রার্থীরা কুলিয়ে উঠতে পারছেন না।
পটুয়াখালী-৩ আসনের কথা আগেই বলা হয়েছে। ঢাকা-১২ আসনে বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাইফুল হকের বিপরীতে সরব বিএনপি নেতা সাইফুল আলম নীরব। ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে জোট প্রার্থী মাওলানা জুনায়েদ আল হাবিবের বিপরীতে স্বতন্ত্র প্রার্থী আছেন ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা ও হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান কল্যাণ ফ্রন্টের মহাসচিব এসএন তরুণ দে।
এ ছাড়া ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ আসনে গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকির বিপরীতে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বাঞ্চারামপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি কৃষিবিদ মেহেদী হাসান পলাশ।
এরই মধ্যে হাসান মামুন, রুমিন ফারহানা, তরুণ দে ও মেহেদী হাসান পলাশকে বিএনপি বহিষ্কার করেছে। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, বহিষ্কার করলেও বিএনপির রাজনীতিতে বেড়ে ওঠা এসব নেতাদের হাইকমান্ড থেকে ডাক পড়তে পারে। ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান নিজেই তাদের সঙ্গে কথা বলে নির্দেশনা দিতে পারেন। শরিক দলগুলোর নেতাদেরও এমন আশ্বাস দেওয়া হয়েছে বলেও জানা গেছে।
বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক গুলশানে তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে ঢাকা-১২ আসনের পরিস্থিতি তুলে ধরেছেন বলে জানা গেছে। তিনি বিদ্রোহী প্রার্থী সাইফুল আলম নীরবের বিষয়ে বিএনপি প্রধানের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
সাইফুল হক রাজনীতি ডটকমকে বলেন, ‘শুরুর দিকে পরিস্থিতি যা ছিল এখন কিছুটা ভালো। বিএনপির হাইকমান্ড বিষয়টি অবহিত হওয়ার পরে মহানগর উত্তরের দায়িত্বশীলরা ওয়ার্ড ও থানার নেতাদের নির্দেশনা দেওয়ায় এখন অনেকেই সহযোগিতা করছেন। আশা করি সহসাই সবাইকে পাশে পাব।’
কিশোরগঞ্জ-৫ আসন থেকে ভোটে লড়াই করা এহসানুল হুদা রাজনীতি ডটকমকে বলেন, ‘ভোটের মাঠে অভূতপূর্ব সাড়া পাচ্ছি। কিন্তু বিএনপির নেতাকর্মীদের সেভাবে পাশে পাচ্ছি না, এটা সত্য। অনেকে আছেন, নিয়মিত কাজ করছেন। কিন্তু বিএনপির যে নেতা স্বতন্ত্র নির্বাচন করছেন তার আসলে পেশীশক্তি আছে। ভয়ে অনেকে হয়তো নামছেন না। দেখি কী করে শেষ পর্যন্ত।’
বিএনপির হাইকমান্ডকে এ বিষয়ে অবহিত করছেন কি না— জানতে চাইলে এহসানুল হুদা বলেন, ‘আমি অভিযোগ করায় বিশ্বাসী না। নিশ্চয়ই তারা মাঠের খোঁজ রাখেন। দেখি নির্বাচন পরিচালনা কমিটি সমস্যা সমাধানে কী পদক্ষেপ নেয়।’
এদিকে মাঠের এমন বৈরী পরিস্থিতি সম্পর্কে অবহিত বিএনপির হাইকমান্ডও। মনোনয়ন প্রত্যাহারের সময়ের মধ্যেই বিদ্রোহী ও স্বতন্ত্র হিসেবে যারা লড়ছেন তাদের ডেকে কথা বলা হবে বলে জানা গেছে।
জানতে চাইলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান নজরুল ইসলাম খান রাজনীতি ডটকমকে বলেন, ‘এমন সমস্যা খুব একটা হচ্ছে না, তা নয়। আমরা এ নিয়ে কাজ করব। আশা করি দলের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সবাই প্রার্থীদের পক্ষে কাজ করবেন।’

তাদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে দলীয় সিদ্ধান্ত মোতাবেক আজ বুধবার (৭ জানুয়ারি) তাদের বহিস্কার আদেশ প্রত্যাহার করে প্রাথমিক সদস্য পদ ফিরিয়ে দেয়া হয়েছে।
১৩ ঘণ্টা আগে
হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, আপনারা কি চান ৫ বছর পরপর স্বাধীন কমিশনের অধীনের নির্বাচন হোক? পুলিশ হোক জনগণের? আপনারা কি চান, বাংলাদেশ দুর্নীতিমুক্ত হোক? গণভোটে প্রশ্নে হ্যাঁ ভোট প্রয়োজন।
১৪ ঘণ্টা আগে
বুধবার (৭ জানুয়ারি) বিকেলে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হুমায়ুন কবির উপস্থিত ছিলেন।
১৫ ঘণ্টা আগে
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান আগামী ১৩ জানুয়ারি লালমনিরহাট সফরে যাচ্ছেন। সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে জেলা বিএনপির আয়োজিত দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠানে যোগ দিতেই তিনি লালমনিরহাট যাচ্ছেন বলে জানিয়েছে দলীয় সূত্র।
১৫ ঘণ্টা আগে