নির্বাচনের পর দেশজুড়ে প্রথম সমাবেশে বাধা, বিএনপির নিন্দা

প্রতিবেদক, রাজনীতি ডটকম
খালেদা জিয়ার মুক্তি দাবিতে পটুয়াখালীতে বিএনপির সমাবেশে বুধবার দফায় দফায় হামলার অভিযোগ। ছবি: সংগৃহীত

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে গত ২৯ জুন ঢাকায় ও ১ জুলাই সারাদেশে আয়োজিত সমাবেশে নেতাকর্মীদের ওপর হামলার তীব্র নিন্দা ও জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

পূর্ব ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে বুধবার সকাল থেকে বিভিন্ন জেলায় সমাবেশ করতে গিয়ে বিভিন্ন স্থানে হামলার শিকার হয়েছেন বিএনপি নেতা-কর্মীরা।

গত ৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পরে দেশজুড়ে প্রথমবারের মতো জেলায় জেলায় এই সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

বুধবার এক বিবৃতিতে মির্জা ফখরুল বলেন, 'আজ নাটোর জেলা বিএনপির সমাবেশে আওয়ামী সন্ত্রাসীরা সশস্ত্র হামলা চালিয়ে বিএনপির বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক ও রাজশাহী সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল, নাটোর জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক শহীদুল ইসলাম বাচ্চুসহ অনেক নেতাকর্মীকে গুরুতর আহত করে।'

তিনি আরও বলেন, 'পটুয়াখালী জেলা বিএনপির সমাবেশে যাওয়ার পথে আওয়ামী সন্ত্রাসীরা বিএনপি নেতাকর্মীদের গাড়িবহরে অতর্কিত হামলা চালিয়ে কয়েকটি গাড়ি ভাঙচুর এবং কলাপাড়া উপজেলা যুবদলের যুগ্ম-আহ্বায়ক মামুন সিকদারসহ অনেক নেতাকর্মীকে গুরুতর আহত করে।'

বুধবার সকাল থেকে বাগেরহাট জেলা বিএনপি কার্যালয়ের ভেতর বিএনপির গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক কৃষিবিদ শামীমুর রহমান শামীমসহ নেতাদেরকে পুলিশ বাহিনী অবরুদ্ধ করে রাখে

নারায়ণগঞ্জ জেলাধীন আড়াইহাজার থানা বিএনপি নেতা ও দুবতারা ইউনিয়ন বিএনপি নেতার ওপর আওয়ামী সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের হামলা ও তাদের গুরুতর আহত করা হয়েছে।

গত ৩০ জুন কামরাঙ্গীচর থানার একটি মিথ্যা মামলায় থানা বিএনপির ১ম যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক হাজী মো. জহিরুল হকসহ মোট ৬ নেতাকর্মী এবং কোতয়ালী থানার একটি মিথ্যা মামলায় ঢাকা মহানগর দক্ষিণ শ্রমিক দলের আহ্বায়ক সুমন ভূঁইয়ার জামিন বাতিল ও তাদের কারাগারে পাঠানো হয় বলেও অভিযোগ করেন মির্জা ফখরুল।

তিনি বলেন, 'গতকাল রাত আড়াইটার দিকে রাজধানীর শিশু হাসপাতাল থেকে ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের সাবেক যুগ্ম-সম্পাদক মারজুক আহমেদ আল-আমিনকে সাদা পোশাকধারী আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তুলে নিয়ে যায়। এখন পর্যন্ত তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।'

'এ ছাড়া গত ৩০ জুন দুপুর ১২টার দিকে সাতক্ষীরা জেলাধীন কালিগঞ্জ উপজেলা কৃষক দলের সিনিয়র যুগ্ম-আহ্বায়ক মো. কামরুজ্জামানকে রতনপুরে নিজ বাড়ি থেকে গোয়েন্দা পুলিশ তুলে নিয়ে যায়। এখন পর্যন্ত তার কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। গত ১ জুলাই সন্ধ্যায় ঢাকা কলেজ ছাত্রদলের সহ-সভাপতি আতিকুর রহমান রাসেলকে রাজধানীর আজিমপুর অগ্রণী স্কুলের সামনে থেকে গোয়েন্দা পুলিশ তুলে নিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি,' বলেন তিনি।

বিবৃতিতে বিএনপি মহাসচিব বলেন, '৭ জানুয়ারি ডামি নির্বাচনের মাধ্যমে জোর করে রাষ্ট্রক্ষমতা দখলকারী আওয়ামী অবৈধ শাসকগোষ্ঠী বিএনপি নেতাকর্মীদের ওপর ব্যাপক সহিংস আক্রমণ শুরু করেছে। নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালিয়ে তাদের গুরুতর জখমসহ বিভিন্নভাবে নির্যাতনের উদ্দেশ্যই হলো—আওয়ামী অবৈধ শাসন নিয়ে কেউ যেন প্রতিবাদ করতে সাহস না পায়।'

'বিএনপিসহ সমমনা দল এবং গণতন্ত্রকামী মানুষের চলমান আন্দোলন কর্মসূচিকে বাধাগ্রস্ত করতেই অবৈধ আওয়ামী দখলদার সরকার আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও তাদের সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের মাধ্যমে পৈশাচিক উন্মত্ততায় মেতে উঠেছে। এ ধরনের বর্বরতার বিরুদ্ধে ধিক্কার জানানোর ভাষা আমার জানা নেই। নিষ্ঠুরতা, পৈশাচিকতা, বর্বরতা, অমানবিকতার দৃষ্টান্ত হচ্ছে আওয়ামী লীগ,' যোগ করেন তিনি।

বিবৃতিতে তিনি আওয়ামী সন্ত্রাসীদের হামলায় গুরুতর আহত নেতাকর্মীদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন। নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার ও নিঃশর্ত মুক্তি এবং নিখোঁজ নেতাদের শিগগির তাদের পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার জোর আহ্বান জানান।

ad
ad

রাজনীতি থেকে আরও পড়ুন

জামায়াতপন্থি আইন কর্মকর্তাদের পদত্যাগকে ‘পলিটিক্যাল স্ট্যান্টবাজি’ বলল বিএনপি

‘‘উনাদের ওই বক্তব্যটা টোটালি পলিটিক্যাল স্ট্যান্টবাজি, রাজনৈতিকভাবে প্রভাবিত। তারা যদি সরকারের বিরুদ্ধে আচরণই করত, তারা যদি সরকারের সুযোগ-সুবিধাই না নিত, তাহলে সরকার গঠন হওয়ার পরদিনই তাদের পদত্যাগ করে চলে যাওয়ার কথা’’

৬ দিন আগে

আওয়ামী লীগের বিচার না করলে রাস্তা খুঁজুন: জামায়াত আমির

শফিকুর রহমান বলেন, আওয়ামী লীগের দ্বারা যত গণহত্যা সংঘটিত হয়েছে, তার প্রতিটি হত্যাকাণ্ডের বিচার নিশ্চিত করতে হবে। কারও প্রতি কোনো প্রতিশোধ নয়, ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে হবে। ন্যায়বিচার নিশ্চিত না করা অন্যায়। আমরা পরিষ্কার বলে দিচ্ছি— আপনারা বিচার নিশ্চিত করুন, না হয় আপনারা যাওয়ার রাস্তা খুঁজে বের করুন।

৭ দিন আগে

সাংবাদিকদের ওপর হামলা: কর্মীদের ‘সম্পৃক্ততা’ পেলে ‘ব্যবস্থা’ নেবে জামায়াত

ঢাকার ধানমন্ডিতে সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে নেতাকর্মীদের দ্বারা তাদের ওপর যে হামলা-হেনস্তার অভিযোগ উঠেছে, তা পর্যালোচনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটি বলেছে, এ ঘটনায় তাদের কোনো কর্মীর ‘সম্পৃক্ততা’ পেলে তার বিরুদ্ধে ‘সাংগঠনিক ব্যবস্থা’ নেওয়া হবে।

৭ দিন আগে

সাংবাদিকদের ওপর ‘জামায়াত নেতাকর্মীদের হামলা’য় নিন্দা ও প্রতিবাদ ছাত্রদলের

রাজধানীর ধানমন্ডি-৩২ এলাকায় পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে কয়েকজন সাংবাদিকের ওপর হামলা ও হেনস্তার অভিযোগে উঠেছে জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনাকে ‘জামায়াত নেতাকর্মীদের সন্ত্রাসী কায়দায় বর্বরোচিত হামলা এবং লাঞ্ছনা’ অভিহিত করে তীব্র ক্ষোভ, গভীর উদ্বেগ ও প্রতিবাদ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তা

৭ দিন আগে