"খেলা হবে‍‍` বলা শামীম ওসমান বোরখা পরে পালিয়েছে"

প্রতিবেদক, রাজনীতি ডটকম

যারা সন্ত্রাস, চাঁদাবাজির সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকবে, যারা মানুষের শান্তি নষ্ট করবে তাদের সঙ্গে বিএনপির কোনো সম্পর্ক নেই বলে মন্তব্য করেছেন জেলা বিএনপির সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা মুহাম্মদ গিয়াসউদ্দিন।

তিনি বলেন, আমাদের দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান, আগামীর দেশনায়ক তারেক রহমান ইতোমধ্যে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে দিয়ে বলেছেন, বিএনপি হলো ভালো মানুষের দল। এই দলে সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজদের কোনো স্থান নেই। বিএনপি করতে হলে মানুষের সঙ্গে সংযোগ রাখতে হবে। মানুষ যাকে ভালো না বাসবে, তার স্থান বিএনপিতে হবে না। সুতরাং সাবধান হয়ে যান, অপকর্ম যারা করেন বা করার চেষ্টা করছেন সেদিক থেকে ফিরে এসে মানুষের জন্য কাজ করুন। মানুষকে ভালোবাসুন। মানুষের ভালেবাসা অর্জন করতে পারলে তবেই আপনি বিএনপি নেতা হবেন। অন্যথায় আপনি এই দলের কেউ নন।

শুক্রবার বিকেলে সিদ্ধিরগঞ্জের ১ নং ওয়ার্ড বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের উদ্যোগে সন্ত্রাস, নৈরাজ্য, চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে আয়োজিত সমাবেশে ওই কথা বলেন তিনি।

শামীম ওসমানকে গডফাদার হিসেবে আখ্যায়িত করে গিয়াসউদ্দিন বলেন, ২০০১ সালে কর্মীদের রেখে রাতের আঁধারে বোরখা পরে পালিয়েছিলেন তিনি। ফিরে এসে সিংহের গর্জন দিয়ে মানুষকে ভয় দেখিয়ে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি রামরাজত্ব কায়েম করেছেন। ছাত্র যুবকের হাতে অস্ত্র তুলে দিয়েছিলেন। বক্তব্যে বড় বড় কথা বলতেন। বিএনিপিকে পিষে মারার হুমকি দিতেন। খেলা হবে ঘোষণা দিয়েছিলেন,তখন আমি বলেছিলাম সে আবারও বোরখা পরে পালাবে। গডফাদার পালিয়েছে। তার কর্মী সমর্থকদের ফেলে রেখে ৫ আগস্ট সে পালিয়েছে।

তিনি বলেন, স্বৈরশাসকের অন্যতম দোসর শামীম ওসমান হাজার হাজার কোটি টাকা লুটপাট করে বিদেশ পাচার করেছে। ষোল বছর ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকারে ছত্রছায়ায় সে এই নারায়ণগঞ্জকে জিম্মি করে রেখেছিল।

গিয়াসউদ্দিন আরও বলেন, স্বৈরাচার শেখ হাসিনা ক্ষমতায় টিকে থাকতে পুলিশ দিয়ে নির্বিচারে গুলি চালিয়ে ছাত্র জনতার বুকের রক্ত ঝরিয়েছে। তারপরও স্বৈরশাসকের শেষ রক্ষা হয়নি। ঐতিহাসিক ৫ আগস্ট সে পালিয়ে গেলো। তার সঙ্গে সঙ্গে তার দোসররাও পালিয়ে গেল, আত্মগোপনে চলে গেল।

তিনি বলেন, অনেক ত্যাগের বিনিময়ে এই আন্দোলন সংগ্রামের ফসল উঠেছে। স্বৈরশাসকের দোসরার এই আন্দোলনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার জন্য নানা রকম অপকৌশল চালাচ্ছে। এ ব্যাপারে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো অবস্থাতে ৫ আগস্টের অর্জনকে প্রশ্নবিদ্ধ করা যাবে না।

গিয়াসউদ্দিন বলেন, দিনের ভোট রাতে সম্পন্ন করে স্বৈরশাসক শেখ হাসিনা ভোটের অধিকার কেড়ে নিয়েছে। বিচার ব্যবস্থা ধংস করে দিয়েছে। দুর্নীতি হয়েছে লাগামহীন। ব্যাংকগুলোকে তারা সমপূর্ণভাবে শেষ করে দিয়েছে। লুটপাট করে হাজার হাজার কোটি টাকা পাচার করেছে। কথা বলার স্বাধীনতা কেড়ে নিয়েছিল। তাদের অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা সেয়ারে গেলেই পুলিশ দিয়ে গুলি ছুড়েছিল। দেশের সমগ্র প্রশাসনিক কাঠামো তারা ধংস করে দিয়েছে।

তিনি বলেন, পুলিশ বাহিনীসহ সকল বাহিনীকে স্বৈরাচার হাসিনা সাধারণ মানুষের বিরদ্ধে নামিয়ে দিয়েছিল। রাষ্ট্রের মালিক জনগণের উপর রাষ্ট্রের কর্মচারি দিয়ে গুলি চালিয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে পুলিশসহ অন্যান্য বাহিনীর শৃঙ্খলা নষ্ট করে দিয়েছে স্বৈরাচার হাসিনা। এ কারণে দেশের আইন শৃঙ্খলার অবনতি হলেও পুলিশ কোনো সাহায্য করতে পারছে না।

সাবেক এই এমপি আরও বলেন, আমাদের আন্দোলন শেষ হয়ে গেছে ভাবলে চলবে না। স্বৈরাচারের দোসররা দেশের শৃঙ্খলা নষ্ট করার জন্য ষড়যন্ত্র করছে। তাদের এই ষড়যন্ত্র প্রতিহত করতে হবে। সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।

নিজের নেতাকর্মীদের সতর্ক করে দিয়ে তিনি আরও বলেন, ভালো মানুষক জায়গা করে না দিলে দেশ কখনই ভালো হবে না। আপনারা যা আমার কর্মী সমর্থক আছেন তারা যদি কেউ সমাজের ভালো মানুষকে হেয় করেন, অসম্মান করেন তাহলে সে যত বড় নেতাই হোন না কেন আমার সঙ্গে

থাকতে পারবেন না। সন্ত্রাসী চাঁদাবাজি কেউ করলে আমাদের কাছে লিখিত অভিযোগ দিবেন, সে যত বড় নেতাই হোক আমরা তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন, সিদ্ধিরগঞ্জ থানা বিএনপির সভাপতি মাজেদুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক আকবর হোসেন,রওশন আলী সভাপতি ১নং ওয়ার্ড জনাব এম এ হালিম জুয়েল প্রুমখ।

ad
ad

রাজনীতি থেকে আরও পড়ুন

আওয়ামী লীগের বিচার না করলে রাস্তা খুঁজুন: জামায়াত আমির

শফিকুর রহমান বলেন, আওয়ামী লীগের দ্বারা যত গণহত্যা সংঘটিত হয়েছে, তার প্রতিটি হত্যাকাণ্ডের বিচার নিশ্চিত করতে হবে। কারও প্রতি কোনো প্রতিশোধ নয়, ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে হবে। ন্যায়বিচার নিশ্চিত না করা অন্যায়। আমরা পরিষ্কার বলে দিচ্ছি— আপনারা বিচার নিশ্চিত করুন, না হয় আপনারা যাওয়ার রাস্তা খুঁজে বের করুন।

৬ দিন আগে

সাংবাদিকদের ওপর হামলা: কর্মীদের ‘সম্পৃক্ততা’ পেলে ‘ব্যবস্থা’ নেবে জামায়াত

ঢাকার ধানমন্ডিতে সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে নেতাকর্মীদের দ্বারা তাদের ওপর যে হামলা-হেনস্তার অভিযোগ উঠেছে, তা পর্যালোচনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটি বলেছে, এ ঘটনায় তাদের কোনো কর্মীর ‘সম্পৃক্ততা’ পেলে তার বিরুদ্ধে ‘সাংগঠনিক ব্যবস্থা’ নেওয়া হবে।

৬ দিন আগে

সাংবাদিকদের ওপর ‘জামায়াত নেতাকর্মীদের হামলা’য় নিন্দা ও প্রতিবাদ ছাত্রদলের

রাজধানীর ধানমন্ডি-৩২ এলাকায় পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে কয়েকজন সাংবাদিকের ওপর হামলা ও হেনস্তার অভিযোগে উঠেছে জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনাকে ‘জামায়াত নেতাকর্মীদের সন্ত্রাসী কায়দায় বর্বরোচিত হামলা এবং লাঞ্ছনা’ অভিহিত করে তীব্র ক্ষোভ, গভীর উদ্বেগ ও প্রতিবাদ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তা

৬ দিন আগে

নিষিদ্ধ আ.লীগের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড জনগণকে নিয়ে রুখে দেওয়া হবে: রিজভী

রিজভী আরও বলেন, দেশকে অস্থিতিশীল করতে দেশবিরোধী, দেশের সার্বভৌমত্ব বিরোধী বক্তব্য দেয়া হচ্ছে। এত সাহস পেলেন কিভাবে? এই জাতিকে গোলাম বানাবেন? দিল্লির ক্রীতদাস বানাবেন? জনগণ তা হতে দেবে না।

৭ দিন আগে