উপজেলা নির্বাচন সরকারের আরেকটা ফাঁদ : মির্জা আব্বাস

প্রতিবেদক, রাজনীতি ডটকম

উপজেলা পরিষদের আসন্ন নির্বাচন ‘সরকারের আরেকটা পাতানো ফাঁদ’ বলে মন্তব্য করেছেন মির্জা আব্বাস। সোমবার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এক মানববন্ধনে এই মন্তব্য করেন তিনি।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য বলেন, ‘‘আরেকটা ফাঁদ… সর্বশেষ ফাঁদ পেতেছেন আমাদের আজকের সরকার। তারা বলছেন, উপজেলা নির্বাচন। এর আগে জাতীয় নির্বাচনেও ফাঁদ পেতেছিলেন… বিএনপিকে নির্বাচনে নেবেন কিন্তু বিএনপি সেই নির্বাচন প্রত্যাখান করেছে।”

‘‘ যেই নির্বাচনে জনগণ ভোট দিতে পারবে না সেই নির্বাচনের প্রয়োজন বাংলাদেশে নাই। রাজতন্ত্র কায়েম করতে পারেন, রাজতন্ত্র ঘোষণা দিতে পারেন। কিন্তু নির্বাচনের কথা আপনাদের মুখ দিয়ে মানায় না।"

জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে ঢাকা মহানগর দক্ষিণের যুগ্ম আহ্বায়ক হাবিবুর রশিদ হাবিবের মুক্তির দাবিতে হাবিবুর রশিদ হাবিব মুক্তি পরিষদ এই মানববন্ধনের আয়োজন করে।

উপজেলা নির্বাচনে নিজেরাই নিজেদের প্রার্থীদের দাঁড়াতে দিচ্ছে না এমন কয়েকটি ঘটনার উল্লেখ করে মির্জা আব্বাস বলেন, ‘বিএনপি দাঁড়ালে কী অবস্থা হতো! আমাদের সিদ্ধান্ত সঠিক আছে, সঠিক থাকবে।’

বর্তমানে ‘স্বৈরশাসন’ চলছে অভিযোগ করে মির্জা আব্বাস বলেন, ‘জনরোষের মুখে একদিন না একদিন এই সরকারের পতন ঘটবেই। এটা কেউ ঠেকিয়ে রাখতে পারবে না। গ্রেপ্তার করে বিশ্বে কোনো আন্দোলন থামানো গেছে বলে জানা নেই।’

বিএনপির এ জ্যেষ্ঠ নেতা আরও বলেন, ‘আমরা আন্দোলন করছি, আন্দোলন হবে, মুক্ত হবে দেশ—আমি দেখতে পারব কি না, জানি না। কিন্তু কেউ না কেউ আসবে দেশকে মুক্ত করার জন্য। আমাদের নেতা তারেক রহমান একদিন দেশে ফেরত আসবেন। জনরোষের মুখে এই সরকারের যখন পতন হবে, তখন তিনি দেশে ফেরত আসবেন, নেতৃত্ব দেবেন দেশকে।’

দলের নেতা-কর্মীদের ওপর সরকারের নির্যাতনের চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘‘ একজন-দুইজন-তিনজন করে প্রতিদিন কোর্টে আত্মসমর্পন করছে, স্বেচ্ছায় জেলে যাচ্ছে। আমরা তাদের মুক্তির দাবি করে আসছি, আজকে এই মানববন্ধনে হচ্ছে।”

‘‘ বিচিত্র এই বাংলাদেশ ! সেদিন দেখলাম আমার কোনো এক ভাই এক‘শ টাকা চুরির জন্যে চোরের হাত বেঁধে রাখেন আর ১ হাজার কোটি টাকা চুরি যারা করে তাদেরকে স্যালুট দেন… এই হলো বাংলাদেশ। আজকে বাংলাদেশের কি করুণ অবস্থা, কি দুরাবস্থার মধ্যে আছে.. এটা আওয়ামী লীগ ছাড়া বিশ্বের সকলেই জানে। আর তার চেয়ে বেশি জানে বিএনপির নেতা-কর্মীরা তারা কি অবস্থার মধ্যে আছে…. অনেক নেতা-কর্মী কারাগারে আছে…।”

মির্জা আব্বাস বলেন, ‘‘ ভাগ্যের কি নির্মম পরিহাস এই দেশ স্বাধীন করেছিলেন জিয়াউর রহমান। তার দল বিএনপি সেই দলের নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া এখন গণতন্ত্রের জন্য যুদ্ধ করতে করতে মৃত্যুর সাথে লড়াই করছেন। আল্লাহ জানেন কখন যে কি হয়।”

‘‘ তাকে বিদেশে যেতে দেয়া হচ্ছে না। আমরা কত বার বলেছি, দেশনেত্রীকে মুক্তি দিয়ে অথবা চিকিৎসার জন্য বিদেশে পাঠান। উনার অবস্থা বেশি ভালো না। তারা (সরকার) আইন নাই। কেনো? আইন থাকবে না কেনো? রাশেদ খান মেননকে বিদেশে পাঠানো হয় নাই, আসম আবদুর রবকে বিদেশে পাঠানো হয় নাই। আসম রবকে বন্দি অবস্থায় জিয়াউর রহমান এবং রাশেদ খান মেননকে বেগম খালেদা জিয়াকে বিদেশে পাঠিয়েছিলেন। আজকে তারা বলছে, বেগম খালেদা জিয়াকে বিদেশে পাঠানো যাবে না। অর্থাৎ তাকে হত্যা করতে হবে এবং এমনভাবে করতে হবে যাতে কেউ কিছু বলতে না পারে।”

বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতা আরও বলেন, আজকে বিএনপির নেতা-কর্মীদের সম্পর্কে কি বলা হচ্ছে? ওই যে কাদের সাহেব (ওবায়দুল কাদের) বললেন, কোনো রাজনৈতিক বন্দি জেলে নাই। কি সন্দুর কথা বললেন… কাদের সাহেব আমার খুব হাসি পায়.. আপনি যখন ১/১১ জেলে ছিলেন.. আপনি কি চোর হিসেবে জেলে গিয়েছিলেন না রাজনৈতিক বন্দি হিসেবে গিয়েছিলেন… আমি জানতে চাই। ১/১১ সময়ে আজকের প্রধানমন্ত্রী উনিও জেলে ছিলেন… উনি কি হিসেবে বন্দি হয়েছিলেন আমি জানতে চাই।”

‘‘ কথা বলার সময়ে খেয়াল থাকে না… কথা বলেন রাজনৈতিক বন্দি জেলে নাই… আপনারা একটা করে মামলা দেবেন, গ্রেফতার করবেন, জেলে পাঠাবেন আর বলবেন এরা তো মামলার আসামি। কোন মামলার আসামি? রাজনৈতিক মামলার আসামি যারা আপনাদের বিরুদ্ধে কথা বলে, আপনাদের কাজ-কর্মের বিরুদ্ধে কথা বলে।”

মির্জা আব্বাস বলেন, ‘‘ আজকে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, খালেদা জিয়া দেশের সর্বনাশ করে গেছে। উনি নাকি ঠিক-ঠাক করছেন। ভাই কি ঠিক করছেন আমার জানা নাই্।”

‘‘দেশে আজকে সাধারণ মানুষের দিকে নজর দেন টাকা-পয়সা নাই… কয়েকজন লোকের দিকে নজর দেন পেট বড়ো হয়ে গেছে। হাজার হাজার লক্ষ কোটি কোটি টাকা বাংলাদেশ থেকে পাচার হয়ে গেছে। দেশের মানুষের পেটে ভাত নাই… যারা তিন বেলা খেতেন তারা দুই বেলা খায়, যারা দুই বেলা খেতেন তারা এক বেলা খায়, যারা এক বেলা খেতেন তারা আধা বেলা খায়… এই হচ্ছে দেশের অবস্থা। তিনি দেশের উন্নয়ন করেছেন… এই উন্নয়ন চুরির উন্নয়ন… এটা দেশের মানুষ কখনো মেনে নেবে না।”

সংগঠনের আহ্বায়ক এ এ জহির উদ্দিন তুহিনের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক জয়দেব জয়ের সঞ্চালনায় সমাবেশে বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, মহানগর দক্ষিন বিএনপির সদস্য সচিব রফিকুল আলম মজনু, স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি এসএম জিলানি, যুব দলের সাধারণ সম্পাদক মোনায়েম মুন্নাসহ মহানগর দক্ষিন বিএনপিরসহ অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন।

ad
ad

রাজনীতি থেকে আরও পড়ুন

ইসির আচরণে নির্বাচনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে: রিজভী

নির্বাচন কমিশনের (ইসি) দায়িত্ব পালনে নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে বলে মন্তব্য করে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, ইসির এমনভাবে কাজ করা উচিত, যাতে নির্বাচন নিয়ে কোনো ধরনের সন্দেহ বা প্রশ্নের অবকাশ না থাকে। কিন্তু কমিশনের বিভিন্ন আচরণে সেই নিরপেক্ষতা নিয়েই উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

১৫ ঘণ্টা আগে

নির্বাচনে ঠিক হবে দেশ উদারপন্থি নাকি উগ্রপন্থিদের হাতে যাবে: মির্জা ফখরুল

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, এই নির্বাচনে নির্ধারিত হবে দেশ লিবারেল ডেমোক্রেসির (উদার গণতন্ত্র) হাতে থাকবে, নাকি উগ্রপন্থি-রাষ্ট্রবিরোধীদের দখলে যাবে।

১৭ ঘণ্টা আগে

জামায়াতের পলিসি সামিটে ভারতসহ ৩০ দেশের প্রতিনিধি

কূটনৈতিক প্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতা, শিক্ষাবিদ, শিল্পোদ্যোক্তা, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি ও সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে চলছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর পলিসি সামিট-২০২৬।

১৭ ঘণ্টা আগে

শুধু দল নয়, বাংলাদেশের মানুষ থেকে মন্ত্রী বানানো হবে: তাহের

জনগণের ম্যান্ডেট পেয়ে সরকার গঠন করলে শুধু দল থেকে নয়, বাংলাদেশের মানুষ থেকে মন্ত্রী বানানো হবে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের।

১৮ ঘণ্টা আগে