
পাপড়ি রহমান

টানা দেড় দশকেরও বেশি সময় ক্ষমতায় থাকার পর ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে পতন ঘটে আওয়ামী লীগের। এরপর অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দেশ পরিচালনা করেছে দেড় বছর। গত ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে ফের নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করেছে, দেশ ফিরেছে গণতন্ত্রের ধারায়।
এই নির্বাচনের মধ্য দিয়ে বিএনপি নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলেও রাজনৈতিক সমীকরণে চেনা রাজনীতির একঝাঁক অভিজ্ঞ ও পরিচিত মুখ বলতে গেলে দৃশ্যপটের বাইরে চলে গেছেন। নির্বাচনে পরাজিত হওয়া কিংবা রাজনৈতিক কৌশলে পিছিয়ে পড়ার পর তারা কেবল ভোটের মাঠ থেকেই ছিটকে যাননি, নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে নিজ নিজ দলের অভ্যন্তরীণ ও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডেও নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েছেন।
নির্বাচন-পরবর্তী গত ছয় মাসের তথ্য পর্যালোচনায় দেখা যায়, পরিবর্তিত রাজনৈতিক বাস্তবতা ও ভোটের মাঠে শক্ত অবস্থান নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হওয়ায় নাগরিক ঐক্যের মাহমুদুর রহমান মান্নাসহ বেশ কিছু ছোট দলের শীর্ষ নেতা এবং এমনকি ক্ষমতাসীন বিএনপির পরিচিত কিছু মুখও রাজনীতির মাঠ থেকে অনেকটা ছিটকে পড়েছেন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে থেকেই বিএনপির সঙ্গে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে মাঠে থাকা সমমনা ও যুগপৎ আন্দোলনের শরিক দলগুলোকে ভোটের মাঠে আসন ছাড় দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু শীর্ষ নেতাদের অনেকেই সেই সুযোগ কাজে লাগাতে ব্যর্থ হয়েছেন, পরাজিত হয়েছেন বিপুল ভোটে। তাদের মধ্যে নাগরিক ঐক্যের মাহমুদুর রহমান মান্না অন্যতম।
ডাকসুর সাবেক ভিপি এবং আওয়ামী লীগের একসময়কার সাংগঠনিক সম্পাদক মাহমুদুর রহমান মান্না বর্তমানে নাগরিক ঐক্যের সভাপতি। ২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি বগুড়া-২ (শিবগঞ্জ) আসন থেকে ধানের শীষ প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোটের প্রার্থীর কাছে পরাজিত হন। পরে ২০২৪ সালের দ্বাদশ নির্বাচন তিনি বর্জন করেন।
ত্রয়োদশ নির্বাচনে বগুড়া-২ ও ঢাকা-১৮— দুই আসন থেকে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন মান্না। তবে ভোটের মাত্র তিন দিন আগে (৯ ফেব্রুয়ারি) ঢাকা-১৮ আসন থেকে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে বগুড়া-২ আসনে মনোনিবেশ করলেও জয় ছিনিয়ে আনতে পারেননি। উলটো তার জামানত বাজেয়াপ্ত হয়।
এদিকে নির্বাচনের পর নাগরিক ঐক্যের মাঠপর্যায়ের কর্মসূচি স্থবির হয়ে পড়েছে। মান্না এখন জাতীয় প্রেস ক্লাবকেন্দ্রিক কিছু সেমিনার ও গোলটেবিল আলোচনার মধ্যেই রাজনৈতিক উপস্থিতি সীমাবদ্ধ রেখেছেন। অবশ্য বিএনপি সরকার গঠনের পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আমন্ত্রণে শরিকদের সঙ্গে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় বৈঠক অংশ নেন তিনি। সেখানে সমমনা জোটের শরিকদের সরকারের প্রতি নিজেদের ক্ষোভের বিষয়ও তুলে ধরেন।

সেদিন সরকারের উদ্দেশে মান্না বলেন, সরকার একা চলতে পারলে ভালো, তারা ক্ষমতার অংশীদারিত্ব চান না। কিন্তু সরকার ব্যর্থ হলে এর দায়ভার শরিকরা নেবে না।
বর্তমান ব্যস্ততা নিয়ে জানতে চাইলে মাহমুদুর রহমান মান্না রাজনীতি ডটকমকে বলেন, ‘এই মুহূর্তে দলীয় কর্মসূচি খুব একটা নেই। তবে রাজনৈতিক ব্যস্ততা আছে, দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ রয়েছে।’
যুগপৎ আন্দোলনের শরিক হিসেবে গত নির্বাচনে ঢাকা-১২ আসনটি বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হককে ছাড় দেয় বিএনপি। ফার্মগেট, কারওয়ান বাজার, তেজগাঁও, শেরেবাংলা নগর ও হাতিরঝিলের একাংশ নিয়ে গঠিত এই আসনে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী ছিলেন সাইফুল আলম নীরব।
দল থেকে বহিষ্কার করা হলেও প্রার্থিতা ছাড়েননি নীরব। ওই নির্বাচনে শেষ পর্যন্ত নিজ দলের প্রতীক ‘কোদাল’ নিয়ে নির্বাচন করে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী সাইফুল আলম খান মিলনের কাছে হেরে যান সাইফুল হক। তাদের ভোটের ব্যবধান ছিল ২২ হাজারের বেশি। অভিযোগ আছে, ভোটের দিন দুই প্রধান দলের মেরুকরণের মাঝে পড়ে পরাস্ত হন সাইফুল হক।

এর আগে ২০১৮ সালের নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসন থেকে লড়েছিলেন সাইফুল হক। পরে ২০২৪ সালের ভোট বর্জন করেন। সর্বশেষ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে হেরে যাওয়ার পর রাজনীতিতে তিনি খুব একটা সক্রিয় নন তিনি।
নির্বাচনের পর তোপখানা রোডের কার্যালয় ও প্রেস ক্লাবকেন্দ্রিক বক্তৃতা-বিবৃতির বাইরে সাইফুল হকের দলের কর্মসূচিও খুব একটা দৃশ্যমান নয়। গত ১৬ জুলাই কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি আয়োজিত শহিদ আবু সাঈদ দিবসের অনুষ্ঠান ছিল তার দলের বড় কর্মসূচি। সবশেষ গত বৃহস্পতিবার দলীয় কার্যালয়ে রিকশা শ্রমিক সংগঠকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা করে তার দল।
আবু সাঈদ দিবসের অনুষ্ঠানে সাইফুল হক অভিযোগ করেন, ‘শহিদেরা বৈষম্যহীন যে মানবিক ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের স্বপ্ন দেখেছিলেন, জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের পর রাষ্ট্র তার উলটো পথে হাঁটছে। এই সময়ে শোষণ-বৈষম্য আরও বেড়েছে; বেকারত্ব, চাকরিচ্যুতি, অভাব ও দারিদ্র্য আরও বেড়েছে।’
এর মাঝে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আমন্ত্রণে যমুনায় আয়োজিত শরিকদের বৈঠকেও গিয়েছিলেন সাইফুল হক। সেখানে তিনিও মাহমুদুর রহমান মান্নার মতো শরিকদের মূল্যায়ন না করার বিষয়ে কথা বলেন।
সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে জানতে চাইলে সাইফুল হক রাজনীতি ডটকমকে বলেন, ‘নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে মাঠের রাজনীতি সেই অর্থে নেই। তবে সার্বিক রাজনৈতিক পরিস্থিতির দিকে আমরা নজর রাখছি, যা সরকারেরও রাখা উচিত বলে মনে করি।’
সাইফুল হক বলেন, ‘সেদিন অনুষ্ঠানে আমি বলেছি, রাজনৈতিক প্রশ্নে আরও মনোযোগ দরকার, কারণ ভুল বার্তা দেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে। আর সারা দেশে আমরা সরকারকে দেখছি, কিন্তু বিএনপিকে দেখছি না। তাহলে মাঠ কি বিরোধী দল জামায়াতের জন্য ছেড়ে দেওয়া হলো? যুগপৎ আন্দোলনের শরিক দলগুলোও আগের মতো মাঠে নেই। আমরা সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করছি।’
চতুর্থ সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা এবং ১৯৯৬ সালে সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে লক্ষ্মীপুর-৪ (রামগতি-কমলনগর) আসন থেকে জাসদ (রব) প্রার্থী হিসেবে জয়ী হয়ে নৌপরিবহন মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছিলেন আ স আবদুর রব। পরে ২০০১ ও ২০০৮ সালে যথাক্রমে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি প্রার্থীর কাছে পরাজিত হন। সবশেষ ২০১৮ সালে একাদশ নির্বাচনে একই আসনে ধানের শীষ প্রতীকে লড়ে আওয়ামী লীগ প্রার্থীর কাছে পরাজিত হন।
২০২৪ সালে অনুষ্ঠিত দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন বর্জন করেছিলেন আ স ম রব। পরে শারীরিক অসুস্থতা ও বয়সের কারণে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থীই হননি তিনি। দল থেকে তার স্ত্রী তানিয়া রব প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। তবে নির্বাচনে সেভাবে সুবিধা করতে পারেননি তিনি। নির্বাচনে বিএনপির পক্ষ থেকে আশানুরূপ সহযোগিতা না পাওয়ার অভিযোগও ছিল রবের দলের।

এবারের নির্বাচনে এ আসনে বিজয়ী হন বিএনপির এ বি এম আশরাফ উদ্দিন নিজাম (এক লাখ ১৫ হাজার ১৯৯ ভোট)। দ্বিতীয় স্থানে ছিলেন জামায়াতের এ আর হাফিজ উল্লাহ (৭৩ হাজার ৭৫৬ ভোট)। আর তানিয়া রব পেয়েছিলেন মাত্র ২২ হাজার ৪০ ভোট।
পরপর কয়েকটি নির্বাচনে পরাজয়, দলের সাংগঠনিক স্থবিরতা ও শারীরিক অসুস্থতার কারণে আ স ম আবদুর রব এখন রাজনৈতিকভাবে পুরোপুরি অবসরে। একাধিকবার চেষ্টা করা হলেও তার সঙ্গে কথা বলতে পারেনি রাজনীতি ডটকম।
বিএনপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স ২০১৮ সালের নির্বাচনে ময়মনসিংহ-১ (হালুয়াঘাট-ধোবাউড়া) আসনে প্রথমবার ধানের শীষ প্রতীকে লড়ে আওয়ামী লীগ প্রার্থীর কাছে পরাজিত হন। ২০২৪ সালের নির্বাচন বর্জনের পর ত্রয়োদশ নির্বাচনে পুনরায় এই আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নামেন প্রিন্স। তবে দলের ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থীর কাছে অল্প ভোটের ব্যবধানে তিনি পরাজিত হন।
পরাজিত হলেও পরে প্রিন্সকে ময়মনসিংহ জেলা পরিষদের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেয় বিএনপি সরকার। গত ১৬ মার্চ তাকে এ পদে নিয়োগ দেওয়া হয়। ২৪ মার্চ জেলা পরিষদের প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন তিনি।
এদিকে নির্বাচনে পরাজিত হওয়ার পর ভোটে কারচুপির অভিযোগ এনে উচ্চ আদালতে মামলা করেন এমরান সালেহ প্রিন্স। গত ৩ মার্চ বিচারপতি জাকির হোসেনের নেতৃত্বাধীন নির্বাচনি আপিল ট্রাইব্যুনাল সে আবেদন গ্রহণ করে ব্যালট পেপার ও রেজাল্ট শিট হেফাজতে নেওয়ার নির্দেশ দেন।

নেতাকর্মীদের প্রত্যাশা ছিল, সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স নির্বাচিত হলে মন্ত্রিসভায় ঠাঁই পাবেন। তবে নির্বাচনে হেরে যাওয়ার পরও জেলা পরিষদের দায়িত্ব পাওয়ায় নেতাকর্মীদের কেউ হতাশ, আবার কেউ কিছুটা উচ্ছ্বসিত।
সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স অবশ্য এখনো আশা করছেন, আদালত থেকে সিদ্ধান্ত এলে ব্যালট পুনর্গণনা হবে এবং তাতে তার বিজয়ী হওয়ার সম্ভাবনা আছে।
জেলা পরিষদে নিয়োগ পাওয়ার পর প্রিন্স বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তার ইচ্ছায় দায়িত্ব দেওয়ায় জেলা পরিষদকে শক্তিশালী ও জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে কাজ করব। যতক্ষণ এই পদে থাকব, ততক্ষণ এটাকে জনসেবার একটি বিকল্প প্ল্যাটফর্ম হিসেবে দেখতে চাই। প্রশাসক হিসেবে সরাসরি জেলার উন্নয়নমূলক কাজ তদারক করা এবং মানুষের পাশে থাকার সুযোগটি কাজে লাগাতে চাই।’
ভোটের রাজনীতির সমীকরণে পিছিয়ে গিয়ে কোণঠাসা থাকলেও রাজনীতিতে টিকে থাকার চেষ্টা করছেন বিএনপি ও সমমনা দলের শীর্ষ নেতারা। তবে সবচেয়ে বেশি বেকায়দায় আছেন অতীতে আওয়ামী লীগের সঙ্গে জোট করে নির্বাচন করা দলগুলোর নেতারা।
আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন সাবেক মহাজোটের শরিকদের মধ্যে প্রভাবশালী ছিল জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ-ইনু)। দলটির প্রধান হাসানুল হক ইনু একসময় আওয়ামী লীগ সরকারে মন্ত্রী ছিলেন। ২০২৪ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের ‘বিদ্রোহী প্রার্থী’র কাছে পরাজিত হন তিনি।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পরপরই গ্রেপ্তার হন ইনু। বর্তমানে তিনি কারাগারে রয়েছেন এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে তার বিচার চলছে। অন্যদিকে একাধিক মামলা থাকায় জাসদের সাধারণ সম্পাদক শিরীন আখতার গ্রেপ্তার আতঙ্কে আত্মগোপনে রয়েছেন।

সার্বিক অবস্থা জানতে চাইলে জাসদের কেন্দ্রীয় কার্যকরী কমিটির দপ্তর সম্পাদক সাজ্জাদ হোসেন জানান, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে বর্তমান পরিস্থিতি কিছুটা সহনীয় হওয়ায় জেলা পর্যায়ে কার্যালয় খোলা ও নেতাকর্মীরা বসতে পারছেন।
দলীয় কর্মসূচি প্রসঙ্গে সাজ্জাদ রাজনীতি ডটকমকে বলেন, ‘আমাদের প্রধান কর্মসূচি হলো রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে করা হাসানুল হক ইনুর বিরুদ্ধে মামলা ও রায় বাতিলের দাবি তোলা। পাশাপাশি কারাগারে তার আইনি সুবিধা ও শারীরিক নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবি জানাচ্ছি। ডিভিশন পেলেও তিনি কাঙ্ক্ষিত সুযোগ-সুবিধা পাচ্ছেন না।’
শিরীন আখতার ২০১৪ ফেনী-১ আসন থেকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সংসদ সদস্য হন। ২০১৮ সালের নির্বাচনে মহাজোটের ব্যানারে ফেনী-১ আসন থেকে ফের সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন তিনি। ২০২৪ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী দেওয়ায় তিনি আর নির্বাচন করেননি।
শিরীন আখতারের বিষয়ে সাজ্জাদ বলেন, ‘যেহেতু তিনি একটি নির্দিষ্ট এলাকার সংসদ সদস্য ছিলেন এবং তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে, তাই তিনি আড়ালে আছেন। বর্তমান পরিস্থিতিতে যেকোনো সময় গ্রেপ্তারের ঝুঁকি রয়েছে।’
২০০৮, ২০১৪ ও ২০১৮ সালের নির্বাচনে রাজশাহী-২ (সদর) আসন থেকে মহাজোটের প্রার্থী হিসেবে টানা তিনবার সংসদ সদস্য হওয়া বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির নেতা ফজলে হোসেন বাদশা ২০২৪ সালের নির্বাচনে নৌকা প্রতীক পেয়েও আওয়ামী লীগেরই স্বতন্ত্র প্রার্থী শফিকুর রহমান বাদশার কাছে পরাজিত হন। পরে আর ভোটের মাঠে নামেননি তিনি। সরকারের পতনের পর তিনিও দেশ ত্যাগ করেন।

স্থানীয় সূত্র জানায়, ফজলে হোসেন বাদশা বর্তমানে ভারতের দিল্লিতে অবস্থান করছেন। সেখানে যাওয়ার পর থেকে ফোনে বা তার পুরনো হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরেও তাকে পাওয়া যাচ্ছে না। তবে এলাকার বাড়িতে কোনো ক্ষয়ক্ষতি না হলেও রাজশাহীতে তার দলীয় রাজনীতি এখন অনুপস্থিত। নেতাকর্মীদের খোঁজখবরও তিনি নিচ্ছেন না।
ফজলে হোসেন বাদশার দল ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেননও বর্তমানে কারাবন্দি। ২০২৪ সালের ২২ আগস্ট গ্রেপ্তার হওয়ার পর থেকেই কারাগারে রয়েছেন তিনি। হত্যাচেষ্টাসহ একাধিক মামলা রয়েছে তার নামে। সবশেষ একটি বিদ্যালয়ে নিয়োগে দুর্নীতির মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়েছে পুলিশ।
সাবেক রাষ্ট্রপতি এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরীর প্রতিষ্ঠিত দল বিকল্পধারা বাংলাদেশের অন্যতম নেতা মাহী বি চৌধুরীর ভরাডুবি ঘটে সবশেষ নির্বাচনে। এরপর থেকেই রাজনীতিতে কোণঠাসা হয়ে পড়া এই নেতা পরিবারসহ বিদেশে চলে গেছেন। তিনি কবে দেশে ফিরবেন তা বলতে পারছেন না ঘনিষ্ঠরাও।
মাহী বি চৌধুরী ২০০২ সালে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে এবং ২০০৪ সালের উপনির্বাচনে নিজ দল বিকল্পধারা থেকে মুন্সীগঞ্জ-১ আসনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। পরে ২০১৮ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোটের প্রার্থী হয়ে ‘নৌকা’ প্রতীকে নির্বাচিত হলেও ২০২৪ সালের দ্বাদশ নির্বাচনে নিজ দলের প্রতীক ‘কুলা’ নিয়ে লড়ে পরাজিত হন।
নির্বাচনি বিপর্যয়ের পর রাজনীতি থেকে অনেকটাই দূরে সরে যেতে থাকেন মাহী বি চৌধুরী। সংস্কৃতি চর্চায় মনোযোগ দেন তিনি। এবারের নির্বাচনে বিকল্পধারার সাংগঠনিক অবস্থান আরও দুর্বল হয়ে পড়েছে। মাহী বি চৌধুরীসহ দলের অন্য শীর্ষ নেতারাও রাজনীতি থেকে আড়ালে চলে গেছেন।

এদিকে গত ডিসেম্বরে দলের দ্বিতীয় কাউন্সিলে বিকল্পধারা বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট করা হয় মেজর (অব.) আবদুল মান্নানকে এবং মহাসচিব হন ওবায়দুর রহমান মৃধা। মাহী বি চৌধুরী প্রেসিডিয়াম সদস্য নির্বাচিত হন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে মাহী বি চৌধুরীর একটি ঘনিষ্ঠ সূত্র জানান, বর্তমানে পরিবারের সবাইকে নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন মাহী। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের শপথের দিন তাকে বঙ্গভবনে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে বঙ্গভবনে যাওয়ার পথে তিনি অপ্রীতিকর পরিস্থিতির (মব) শিকার হয়ে ফিরে আসেন। পরে সংবাদ সম্মেলন করে অধ্যাপক ইউনূসকে সমর্থন জানালেও ওই ঘটনার কিছুদিন পর তিনি বিদেশে চলে যান এবং আর ফেরেননি।
দলের বর্তমান কার্যক্রম সম্পর্কে ওই সূত্র জানায়, বিকল্পধারার সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড বর্তমানে নেই বললেই চলে।
সাবেক মন্ত্রী ব্যারিস্টার নাজমুল হুদার মেয়ে ব্যারিস্টার অন্তরা সেলিমা হুদা তৃণমূল বিএনপির নির্বাহী চেয়ারপারসন হলেও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।
এর আগে ২০২৪ সালের দ্বাদশ নির্বাচনে মুন্সীগঞ্জ-১ আসন থেকে ‘সোনালী আঁশ’ প্রতীকে নির্বাচন করে আওয়ামী লীগ প্রার্থীর কাছে বিপুল ব্যবধানে পরাজিত হন। ত্রয়োদশ নির্বাচনে তিনি তার বাবার পুরোনো আসন ঢাকা-১ (দোহার-নবাবগঞ্জ) থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে ‘হরিণ’ প্রতীকে নির্বাচন করলেও জয় পাননি।

এ আসনে বিএনপির প্রার্থী আবু আশফাক এক লাখ ৭৩ হাজার ৭৮১ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। জামায়াত নেতা মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম এক লাখ ১২ হাজার ৬২২ ভোট পেয়ে দ্বিতীয় হন। আর অন্তরা হুদা পান মাত্র চার হাজার ৮৮০ ভোট।
ভোটে ভরাডুবির পর রাজনীতি নিয়ে চরম হতাশার মুখে পড়েছেন অন্তরা হুদা। অন্যদিকে তৃণমূল বিএনপির রাজনীতিও সম্পূর্ণ নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েছে। ফলে বর্তমানে আইনি পেশাতেই নিজেকে সীমাবদ্ধ রেখেছেন তিনি।

টানা দেড় দশকেরও বেশি সময় ক্ষমতায় থাকার পর ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে পতন ঘটে আওয়ামী লীগের। এরপর অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দেশ পরিচালনা করেছে দেড় বছর। গত ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে ফের নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করেছে, দেশ ফিরেছে গণতন্ত্রের ধারায়।
এই নির্বাচনের মধ্য দিয়ে বিএনপি নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলেও রাজনৈতিক সমীকরণে চেনা রাজনীতির একঝাঁক অভিজ্ঞ ও পরিচিত মুখ বলতে গেলে দৃশ্যপটের বাইরে চলে গেছেন। নির্বাচনে পরাজিত হওয়া কিংবা রাজনৈতিক কৌশলে পিছিয়ে পড়ার পর তারা কেবল ভোটের মাঠ থেকেই ছিটকে যাননি, নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে নিজ নিজ দলের অভ্যন্তরীণ ও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডেও নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েছেন।
নির্বাচন-পরবর্তী গত ছয় মাসের তথ্য পর্যালোচনায় দেখা যায়, পরিবর্তিত রাজনৈতিক বাস্তবতা ও ভোটের মাঠে শক্ত অবস্থান নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হওয়ায় নাগরিক ঐক্যের মাহমুদুর রহমান মান্নাসহ বেশ কিছু ছোট দলের শীর্ষ নেতা এবং এমনকি ক্ষমতাসীন বিএনপির পরিচিত কিছু মুখও রাজনীতির মাঠ থেকে অনেকটা ছিটকে পড়েছেন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে থেকেই বিএনপির সঙ্গে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে মাঠে থাকা সমমনা ও যুগপৎ আন্দোলনের শরিক দলগুলোকে ভোটের মাঠে আসন ছাড় দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু শীর্ষ নেতাদের অনেকেই সেই সুযোগ কাজে লাগাতে ব্যর্থ হয়েছেন, পরাজিত হয়েছেন বিপুল ভোটে। তাদের মধ্যে নাগরিক ঐক্যের মাহমুদুর রহমান মান্না অন্যতম।
ডাকসুর সাবেক ভিপি এবং আওয়ামী লীগের একসময়কার সাংগঠনিক সম্পাদক মাহমুদুর রহমান মান্না বর্তমানে নাগরিক ঐক্যের সভাপতি। ২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি বগুড়া-২ (শিবগঞ্জ) আসন থেকে ধানের শীষ প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোটের প্রার্থীর কাছে পরাজিত হন। পরে ২০২৪ সালের দ্বাদশ নির্বাচন তিনি বর্জন করেন।
ত্রয়োদশ নির্বাচনে বগুড়া-২ ও ঢাকা-১৮— দুই আসন থেকে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন মান্না। তবে ভোটের মাত্র তিন দিন আগে (৯ ফেব্রুয়ারি) ঢাকা-১৮ আসন থেকে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে বগুড়া-২ আসনে মনোনিবেশ করলেও জয় ছিনিয়ে আনতে পারেননি। উলটো তার জামানত বাজেয়াপ্ত হয়।
এদিকে নির্বাচনের পর নাগরিক ঐক্যের মাঠপর্যায়ের কর্মসূচি স্থবির হয়ে পড়েছে। মান্না এখন জাতীয় প্রেস ক্লাবকেন্দ্রিক কিছু সেমিনার ও গোলটেবিল আলোচনার মধ্যেই রাজনৈতিক উপস্থিতি সীমাবদ্ধ রেখেছেন। অবশ্য বিএনপি সরকার গঠনের পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আমন্ত্রণে শরিকদের সঙ্গে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় বৈঠক অংশ নেন তিনি। সেখানে সমমনা জোটের শরিকদের সরকারের প্রতি নিজেদের ক্ষোভের বিষয়ও তুলে ধরেন।

সেদিন সরকারের উদ্দেশে মান্না বলেন, সরকার একা চলতে পারলে ভালো, তারা ক্ষমতার অংশীদারিত্ব চান না। কিন্তু সরকার ব্যর্থ হলে এর দায়ভার শরিকরা নেবে না।
বর্তমান ব্যস্ততা নিয়ে জানতে চাইলে মাহমুদুর রহমান মান্না রাজনীতি ডটকমকে বলেন, ‘এই মুহূর্তে দলীয় কর্মসূচি খুব একটা নেই। তবে রাজনৈতিক ব্যস্ততা আছে, দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ রয়েছে।’
যুগপৎ আন্দোলনের শরিক হিসেবে গত নির্বাচনে ঢাকা-১২ আসনটি বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হককে ছাড় দেয় বিএনপি। ফার্মগেট, কারওয়ান বাজার, তেজগাঁও, শেরেবাংলা নগর ও হাতিরঝিলের একাংশ নিয়ে গঠিত এই আসনে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী ছিলেন সাইফুল আলম নীরব।
দল থেকে বহিষ্কার করা হলেও প্রার্থিতা ছাড়েননি নীরব। ওই নির্বাচনে শেষ পর্যন্ত নিজ দলের প্রতীক ‘কোদাল’ নিয়ে নির্বাচন করে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী সাইফুল আলম খান মিলনের কাছে হেরে যান সাইফুল হক। তাদের ভোটের ব্যবধান ছিল ২২ হাজারের বেশি। অভিযোগ আছে, ভোটের দিন দুই প্রধান দলের মেরুকরণের মাঝে পড়ে পরাস্ত হন সাইফুল হক।

এর আগে ২০১৮ সালের নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসন থেকে লড়েছিলেন সাইফুল হক। পরে ২০২৪ সালের ভোট বর্জন করেন। সর্বশেষ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে হেরে যাওয়ার পর রাজনীতিতে তিনি খুব একটা সক্রিয় নন তিনি।
নির্বাচনের পর তোপখানা রোডের কার্যালয় ও প্রেস ক্লাবকেন্দ্রিক বক্তৃতা-বিবৃতির বাইরে সাইফুল হকের দলের কর্মসূচিও খুব একটা দৃশ্যমান নয়। গত ১৬ জুলাই কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি আয়োজিত শহিদ আবু সাঈদ দিবসের অনুষ্ঠান ছিল তার দলের বড় কর্মসূচি। সবশেষ গত বৃহস্পতিবার দলীয় কার্যালয়ে রিকশা শ্রমিক সংগঠকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা করে তার দল।
আবু সাঈদ দিবসের অনুষ্ঠানে সাইফুল হক অভিযোগ করেন, ‘শহিদেরা বৈষম্যহীন যে মানবিক ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের স্বপ্ন দেখেছিলেন, জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের পর রাষ্ট্র তার উলটো পথে হাঁটছে। এই সময়ে শোষণ-বৈষম্য আরও বেড়েছে; বেকারত্ব, চাকরিচ্যুতি, অভাব ও দারিদ্র্য আরও বেড়েছে।’
এর মাঝে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আমন্ত্রণে যমুনায় আয়োজিত শরিকদের বৈঠকেও গিয়েছিলেন সাইফুল হক। সেখানে তিনিও মাহমুদুর রহমান মান্নার মতো শরিকদের মূল্যায়ন না করার বিষয়ে কথা বলেন।
সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে জানতে চাইলে সাইফুল হক রাজনীতি ডটকমকে বলেন, ‘নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে মাঠের রাজনীতি সেই অর্থে নেই। তবে সার্বিক রাজনৈতিক পরিস্থিতির দিকে আমরা নজর রাখছি, যা সরকারেরও রাখা উচিত বলে মনে করি।’
সাইফুল হক বলেন, ‘সেদিন অনুষ্ঠানে আমি বলেছি, রাজনৈতিক প্রশ্নে আরও মনোযোগ দরকার, কারণ ভুল বার্তা দেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে। আর সারা দেশে আমরা সরকারকে দেখছি, কিন্তু বিএনপিকে দেখছি না। তাহলে মাঠ কি বিরোধী দল জামায়াতের জন্য ছেড়ে দেওয়া হলো? যুগপৎ আন্দোলনের শরিক দলগুলোও আগের মতো মাঠে নেই। আমরা সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করছি।’
চতুর্থ সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা এবং ১৯৯৬ সালে সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে লক্ষ্মীপুর-৪ (রামগতি-কমলনগর) আসন থেকে জাসদ (রব) প্রার্থী হিসেবে জয়ী হয়ে নৌপরিবহন মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছিলেন আ স আবদুর রব। পরে ২০০১ ও ২০০৮ সালে যথাক্রমে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি প্রার্থীর কাছে পরাজিত হন। সবশেষ ২০১৮ সালে একাদশ নির্বাচনে একই আসনে ধানের শীষ প্রতীকে লড়ে আওয়ামী লীগ প্রার্থীর কাছে পরাজিত হন।
২০২৪ সালে অনুষ্ঠিত দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন বর্জন করেছিলেন আ স ম রব। পরে শারীরিক অসুস্থতা ও বয়সের কারণে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থীই হননি তিনি। দল থেকে তার স্ত্রী তানিয়া রব প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। তবে নির্বাচনে সেভাবে সুবিধা করতে পারেননি তিনি। নির্বাচনে বিএনপির পক্ষ থেকে আশানুরূপ সহযোগিতা না পাওয়ার অভিযোগও ছিল রবের দলের।

এবারের নির্বাচনে এ আসনে বিজয়ী হন বিএনপির এ বি এম আশরাফ উদ্দিন নিজাম (এক লাখ ১৫ হাজার ১৯৯ ভোট)। দ্বিতীয় স্থানে ছিলেন জামায়াতের এ আর হাফিজ উল্লাহ (৭৩ হাজার ৭৫৬ ভোট)। আর তানিয়া রব পেয়েছিলেন মাত্র ২২ হাজার ৪০ ভোট।
পরপর কয়েকটি নির্বাচনে পরাজয়, দলের সাংগঠনিক স্থবিরতা ও শারীরিক অসুস্থতার কারণে আ স ম আবদুর রব এখন রাজনৈতিকভাবে পুরোপুরি অবসরে। একাধিকবার চেষ্টা করা হলেও তার সঙ্গে কথা বলতে পারেনি রাজনীতি ডটকম।
বিএনপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স ২০১৮ সালের নির্বাচনে ময়মনসিংহ-১ (হালুয়াঘাট-ধোবাউড়া) আসনে প্রথমবার ধানের শীষ প্রতীকে লড়ে আওয়ামী লীগ প্রার্থীর কাছে পরাজিত হন। ২০২৪ সালের নির্বাচন বর্জনের পর ত্রয়োদশ নির্বাচনে পুনরায় এই আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নামেন প্রিন্স। তবে দলের ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থীর কাছে অল্প ভোটের ব্যবধানে তিনি পরাজিত হন।
পরাজিত হলেও পরে প্রিন্সকে ময়মনসিংহ জেলা পরিষদের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেয় বিএনপি সরকার। গত ১৬ মার্চ তাকে এ পদে নিয়োগ দেওয়া হয়। ২৪ মার্চ জেলা পরিষদের প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন তিনি।
এদিকে নির্বাচনে পরাজিত হওয়ার পর ভোটে কারচুপির অভিযোগ এনে উচ্চ আদালতে মামলা করেন এমরান সালেহ প্রিন্স। গত ৩ মার্চ বিচারপতি জাকির হোসেনের নেতৃত্বাধীন নির্বাচনি আপিল ট্রাইব্যুনাল সে আবেদন গ্রহণ করে ব্যালট পেপার ও রেজাল্ট শিট হেফাজতে নেওয়ার নির্দেশ দেন।

নেতাকর্মীদের প্রত্যাশা ছিল, সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স নির্বাচিত হলে মন্ত্রিসভায় ঠাঁই পাবেন। তবে নির্বাচনে হেরে যাওয়ার পরও জেলা পরিষদের দায়িত্ব পাওয়ায় নেতাকর্মীদের কেউ হতাশ, আবার কেউ কিছুটা উচ্ছ্বসিত।
সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স অবশ্য এখনো আশা করছেন, আদালত থেকে সিদ্ধান্ত এলে ব্যালট পুনর্গণনা হবে এবং তাতে তার বিজয়ী হওয়ার সম্ভাবনা আছে।
জেলা পরিষদে নিয়োগ পাওয়ার পর প্রিন্স বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তার ইচ্ছায় দায়িত্ব দেওয়ায় জেলা পরিষদকে শক্তিশালী ও জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে কাজ করব। যতক্ষণ এই পদে থাকব, ততক্ষণ এটাকে জনসেবার একটি বিকল্প প্ল্যাটফর্ম হিসেবে দেখতে চাই। প্রশাসক হিসেবে সরাসরি জেলার উন্নয়নমূলক কাজ তদারক করা এবং মানুষের পাশে থাকার সুযোগটি কাজে লাগাতে চাই।’
ভোটের রাজনীতির সমীকরণে পিছিয়ে গিয়ে কোণঠাসা থাকলেও রাজনীতিতে টিকে থাকার চেষ্টা করছেন বিএনপি ও সমমনা দলের শীর্ষ নেতারা। তবে সবচেয়ে বেশি বেকায়দায় আছেন অতীতে আওয়ামী লীগের সঙ্গে জোট করে নির্বাচন করা দলগুলোর নেতারা।
আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন সাবেক মহাজোটের শরিকদের মধ্যে প্রভাবশালী ছিল জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ-ইনু)। দলটির প্রধান হাসানুল হক ইনু একসময় আওয়ামী লীগ সরকারে মন্ত্রী ছিলেন। ২০২৪ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের ‘বিদ্রোহী প্রার্থী’র কাছে পরাজিত হন তিনি।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পরপরই গ্রেপ্তার হন ইনু। বর্তমানে তিনি কারাগারে রয়েছেন এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে তার বিচার চলছে। অন্যদিকে একাধিক মামলা থাকায় জাসদের সাধারণ সম্পাদক শিরীন আখতার গ্রেপ্তার আতঙ্কে আত্মগোপনে রয়েছেন।

সার্বিক অবস্থা জানতে চাইলে জাসদের কেন্দ্রীয় কার্যকরী কমিটির দপ্তর সম্পাদক সাজ্জাদ হোসেন জানান, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে বর্তমান পরিস্থিতি কিছুটা সহনীয় হওয়ায় জেলা পর্যায়ে কার্যালয় খোলা ও নেতাকর্মীরা বসতে পারছেন।
দলীয় কর্মসূচি প্রসঙ্গে সাজ্জাদ রাজনীতি ডটকমকে বলেন, ‘আমাদের প্রধান কর্মসূচি হলো রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে করা হাসানুল হক ইনুর বিরুদ্ধে মামলা ও রায় বাতিলের দাবি তোলা। পাশাপাশি কারাগারে তার আইনি সুবিধা ও শারীরিক নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবি জানাচ্ছি। ডিভিশন পেলেও তিনি কাঙ্ক্ষিত সুযোগ-সুবিধা পাচ্ছেন না।’
শিরীন আখতার ২০১৪ ফেনী-১ আসন থেকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সংসদ সদস্য হন। ২০১৮ সালের নির্বাচনে মহাজোটের ব্যানারে ফেনী-১ আসন থেকে ফের সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন তিনি। ২০২৪ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী দেওয়ায় তিনি আর নির্বাচন করেননি।
শিরীন আখতারের বিষয়ে সাজ্জাদ বলেন, ‘যেহেতু তিনি একটি নির্দিষ্ট এলাকার সংসদ সদস্য ছিলেন এবং তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে, তাই তিনি আড়ালে আছেন। বর্তমান পরিস্থিতিতে যেকোনো সময় গ্রেপ্তারের ঝুঁকি রয়েছে।’
২০০৮, ২০১৪ ও ২০১৮ সালের নির্বাচনে রাজশাহী-২ (সদর) আসন থেকে মহাজোটের প্রার্থী হিসেবে টানা তিনবার সংসদ সদস্য হওয়া বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির নেতা ফজলে হোসেন বাদশা ২০২৪ সালের নির্বাচনে নৌকা প্রতীক পেয়েও আওয়ামী লীগেরই স্বতন্ত্র প্রার্থী শফিকুর রহমান বাদশার কাছে পরাজিত হন। পরে আর ভোটের মাঠে নামেননি তিনি। সরকারের পতনের পর তিনিও দেশ ত্যাগ করেন।

স্থানীয় সূত্র জানায়, ফজলে হোসেন বাদশা বর্তমানে ভারতের দিল্লিতে অবস্থান করছেন। সেখানে যাওয়ার পর থেকে ফোনে বা তার পুরনো হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরেও তাকে পাওয়া যাচ্ছে না। তবে এলাকার বাড়িতে কোনো ক্ষয়ক্ষতি না হলেও রাজশাহীতে তার দলীয় রাজনীতি এখন অনুপস্থিত। নেতাকর্মীদের খোঁজখবরও তিনি নিচ্ছেন না।
ফজলে হোসেন বাদশার দল ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেননও বর্তমানে কারাবন্দি। ২০২৪ সালের ২২ আগস্ট গ্রেপ্তার হওয়ার পর থেকেই কারাগারে রয়েছেন তিনি। হত্যাচেষ্টাসহ একাধিক মামলা রয়েছে তার নামে। সবশেষ একটি বিদ্যালয়ে নিয়োগে দুর্নীতির মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়েছে পুলিশ।
সাবেক রাষ্ট্রপতি এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরীর প্রতিষ্ঠিত দল বিকল্পধারা বাংলাদেশের অন্যতম নেতা মাহী বি চৌধুরীর ভরাডুবি ঘটে সবশেষ নির্বাচনে। এরপর থেকেই রাজনীতিতে কোণঠাসা হয়ে পড়া এই নেতা পরিবারসহ বিদেশে চলে গেছেন। তিনি কবে দেশে ফিরবেন তা বলতে পারছেন না ঘনিষ্ঠরাও।
মাহী বি চৌধুরী ২০০২ সালে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে এবং ২০০৪ সালের উপনির্বাচনে নিজ দল বিকল্পধারা থেকে মুন্সীগঞ্জ-১ আসনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। পরে ২০১৮ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোটের প্রার্থী হয়ে ‘নৌকা’ প্রতীকে নির্বাচিত হলেও ২০২৪ সালের দ্বাদশ নির্বাচনে নিজ দলের প্রতীক ‘কুলা’ নিয়ে লড়ে পরাজিত হন।
নির্বাচনি বিপর্যয়ের পর রাজনীতি থেকে অনেকটাই দূরে সরে যেতে থাকেন মাহী বি চৌধুরী। সংস্কৃতি চর্চায় মনোযোগ দেন তিনি। এবারের নির্বাচনে বিকল্পধারার সাংগঠনিক অবস্থান আরও দুর্বল হয়ে পড়েছে। মাহী বি চৌধুরীসহ দলের অন্য শীর্ষ নেতারাও রাজনীতি থেকে আড়ালে চলে গেছেন।

এদিকে গত ডিসেম্বরে দলের দ্বিতীয় কাউন্সিলে বিকল্পধারা বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট করা হয় মেজর (অব.) আবদুল মান্নানকে এবং মহাসচিব হন ওবায়দুর রহমান মৃধা। মাহী বি চৌধুরী প্রেসিডিয়াম সদস্য নির্বাচিত হন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে মাহী বি চৌধুরীর একটি ঘনিষ্ঠ সূত্র জানান, বর্তমানে পরিবারের সবাইকে নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন মাহী। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের শপথের দিন তাকে বঙ্গভবনে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে বঙ্গভবনে যাওয়ার পথে তিনি অপ্রীতিকর পরিস্থিতির (মব) শিকার হয়ে ফিরে আসেন। পরে সংবাদ সম্মেলন করে অধ্যাপক ইউনূসকে সমর্থন জানালেও ওই ঘটনার কিছুদিন পর তিনি বিদেশে চলে যান এবং আর ফেরেননি।
দলের বর্তমান কার্যক্রম সম্পর্কে ওই সূত্র জানায়, বিকল্পধারার সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড বর্তমানে নেই বললেই চলে।
সাবেক মন্ত্রী ব্যারিস্টার নাজমুল হুদার মেয়ে ব্যারিস্টার অন্তরা সেলিমা হুদা তৃণমূল বিএনপির নির্বাহী চেয়ারপারসন হলেও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।
এর আগে ২০২৪ সালের দ্বাদশ নির্বাচনে মুন্সীগঞ্জ-১ আসন থেকে ‘সোনালী আঁশ’ প্রতীকে নির্বাচন করে আওয়ামী লীগ প্রার্থীর কাছে বিপুল ব্যবধানে পরাজিত হন। ত্রয়োদশ নির্বাচনে তিনি তার বাবার পুরোনো আসন ঢাকা-১ (দোহার-নবাবগঞ্জ) থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে ‘হরিণ’ প্রতীকে নির্বাচন করলেও জয় পাননি।

এ আসনে বিএনপির প্রার্থী আবু আশফাক এক লাখ ৭৩ হাজার ৭৮১ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। জামায়াত নেতা মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম এক লাখ ১২ হাজার ৬২২ ভোট পেয়ে দ্বিতীয় হন। আর অন্তরা হুদা পান মাত্র চার হাজার ৮৮০ ভোট।
ভোটে ভরাডুবির পর রাজনীতি নিয়ে চরম হতাশার মুখে পড়েছেন অন্তরা হুদা। অন্যদিকে তৃণমূল বিএনপির রাজনীতিও সম্পূর্ণ নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েছে। ফলে বর্তমানে আইনি পেশাতেই নিজেকে সীমাবদ্ধ রেখেছেন তিনি।

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ায় ঠাকুরগাঁ-১ আসনটি শূন্য হয়েছে। এ আসনে উপনির্বাচন হবে আগামী ২৯ অক্টোবর।
১ দিন আগে
সকাল ৯টায় কাউন্সিলরদের নিবন্ধনের মধ্য দিয়ে দিনব্যাপী এই কর্মসূচি শুরু হয়। সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত কাউন্সিলররা ভোট দেন। পরে বিকেলে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
২ দিন আগে
প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী আরও বলেন, ৯০-এর স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন, ২৪-এর গণঅভ্যুত্থানে বিএনপি নেতৃত্ব দিয়েছে। বিএনপি ও অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা জীবন দিয়েছে। তাই, বিএনপি ফ্যাসিবাদ বিরোধী আন্দোলনের সকল পক্ষকে ঐক্যবদ্ধ রাখতে চায়। অন্যদিকে জামায়াত ও এনসিপি ফ্যাসিবাদ বিরোধী শক্তিগুলোর মধ্
২ দিন আগে