‘ভূমির মালিকানায় নারীরা সবসময় বৈষম্যের শিকার’

প্রতিবেদক, রাজনীতি ডটকম
ফাইল ছবি

বাংলাদেশের জনসংখ্যার প্রায় অর্ধেক নারী এবং এর মধ্যে প্রান্তিক পর্যায়ে নারীর সংখ্যাই অধিক। ভূমির মালিকানায় নারীরা সবসময় বৈষম্যের শিকার। সার্বিকভাবে ভূমির মালিকানায় নারীরা বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে। গ্রামীণ নারীরা কৃষিতে সরাসরি যুক্ত কিন্তু ভূমি মালিকানায় তাদের নেই কোনো অংশ। একইভাবে আদিবাসী নারীরাও তাদের ভূমি মালিকানায় পিছিয়ে।

বৈষম্যমূলক ঔপনিবেশিক ও ধর্মীয় আইন, প্রাতিষ্ঠানিক বিধি বিধান, যেমন: অর্পিত সম্পত্তি আইন, পরিবারিক উত্তরাধিকার আইন, আদিবাসীদের প্রথাগত সম্পত্তির স্বীকৃতি না থাকায় তা ভূমি দখলকারীদের অনুকূলে চলে যাচ্ছে।

মঙ্গলবার ইনসিডিন বাংলাদেশ এবং সাউথ এশিয়া অ্যালায়েন্স ফর পোভার্টি ইর‌্যাডিকেশন (SAAPE) এর যৌথ উদ্যোগে ইনসিডিন রাজধানীর মোহাম্মদপুরস্থ অফিসে আয়োজিত একটি মতবিনিময় সভায় বক্তারা এই বিষয়ে আলোচনা করেন।

সভায় মূল ধারণাপত্র উপস্থাপন করেন ইনসিডিন বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক এ. কে. এম. মাসুদ আলী। তিনি বলেন, সাউথ এশিয়া অ্যালায়েন্স ফর পোভার্টি ইর‌্যাডিকেশন (SAAPE) যে বিশ্বাসকে সামনে রেখে কাজ করে যাচ্ছে, তা হল বৈষম্যের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে হলে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর ঐক্যের প্রয়োজন। এই ঐক্যের মঞ্চ হিসেবে বৈশ্বিক, আঞ্চলিক এবং জাতিগতভাবে সামাজিক যে ফোরাম রয়েছে তা আমাদের দেশেও বিদ্যমান যেখানে বিশ্বায়নকে মানবিকায়ন করার ভাবনা রয়েছে। প্রান্তিক নারী শব্দটি দূর্বলতাকে নয় বরং বৈষম্যকে প্রতিফলিত করে। সমাজে যে নারীর অবস্থান শক্তিশালী, প্রান্তিক নারীর সাথে তার স্ববিরোধী অবস্থান রয়েছে।

একদিকে আমরা ভাবছি প্রান্তিক নারীর অধিকার নিয়ে অপরদিকে তাদের দিয়েই আমাদের নারীমুক্তি ও সমাজ বদলের আশা।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ইনসিডিন বাংলাদেশ এর প্রোগ্রাম ম্যানেজার অ্যাডভোকেট রফিকুল ইসলাম খান, অপারেশন চিফ মো. মুশফিকুর রহমান, সিএসপি ফোকাল পার্সন শেখ জেসমিন নাহার, ওয়ার্কিং উইমেনস ফোরামের সভাপতি, ঢাকা সাব-এডিটরস কাউন্সিলের সহ-সভাপতি আনজুমান আরা শিল্পী, বিশিষ্ট সাংবাদিক সাজেদুল ইসলাম সহ প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা।

সভায় বক্তারা আরো বলেন, খাসজমি ব্যবস্থাপনা ও বন্টন নীতিমালা যেখানে তাদের কোন প্রবেশাধিকার নেই। বৈষম্যের পরিবর্তন করে নারী বিশেষত প্রান্তিক নারীদের ভূমি মালিকানায় ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠায় নারীর সাংবিধানিক স্বীকৃতি আজ সময়ের দাবি।

গত দুই মাসব্যাপী ২৪টি সংগঠন, সরকারী প্রতিনিধিসহ নাগরিক ও সরকারী পর্যায়ে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় কিছু প্রস্তাবনা তৈরি করা হয়: প্রান্তিক, দরিদ্র, ভূমিহীন নারীদের ভূমিতে প্রবেশাধিকারের সংগঠনের ভুমিকা ও কার্যাবলী বিশ্লেষণ, ভূমিতে নারীর পূর্ণ অধিকার ভোগের ক্ষেত্রে প্রচলিত নীতি কাঠামোর প্রতিবন্ধকতা ও উত্তরণের উপায় এবং জাতীয় পর্যায়ে সরকারী, বেসরকারী ও ব্যক্তি পর্যায়ে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের উপায় নির্ধারণ।

এই মতবিনিময় সভা থেকে উল্লেখযোগ্য কিছু সুপারিশ তুলে ধরা হল:

১. ভূমি মালিকানার ক্ষেত্রে আইনের পরিমার্জন ও তার সার্বজনীন প্রয়োগ দরকার।

২.‘প্রান্তিক নারী’ এই শব্দের ব্যবহার নারীর অবস্থান দূর্বল করে। তাই শব্দচয়নের ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করা।

৩. শিক্ষাক্ষেত্রে নারী শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়া প্রতিরোধে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া।

৪. আদিবাসীদের স্বার্থ সুরক্ষায় রাষ্ট্রযন্ত্রের পাশাপাশি সমাজের সকলের সহাবস্থান কামনা।

৫. নারীর ভূমি উত্তরাধিকার নিশ্চিতে একটি চলমান ফোরাম গঠন যা একটি সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে সহায়তা করবে।

৬. নারী অধিকার ও ভ‚মি অধিকার প্রতিষ্ঠায় মনস্তাত্তিক পরিবর্তন জরুরী, নারী যতক্ষণ পর্যন্ত নিজের জন্য না দাঁড়াবে পরিবর্তন আসবেনা।

৭. খাস জমি নারীর নামে প্রত্যয়ন নারীর অভিগম্যতা বৃদ্ধি করে।

৮. স্বামী পরিত্যক্তা শব্দটি নারীকে আরও অপাংতেয় করে। শব্দচয়নের ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করা।

৯. নারীর ভোটাধিকার নিশ্চিত করা।

১০. আইন ও ধর্মের অপব্যাখ্যার বিরুদ্ধে প্রচার দৃঢ় করতে হবে।

১১. যোগযোগের ভাষা করতে হবে - এছাড়া বিভিন্ন সামাজিকবর্গকে সম্পৃক্ত করা যাবে না।

১২. আমাদের আলোচনাকে সংবিধান ও আইন প্রণয়ণ প্রক্রিয়ায় তুলে ধরতে হবে।

১৩. নারী কৃষকের ভ‚মিহীনতা বিবেচনায়এনে কৃষি ব্যাংকসহ রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের মাধ্যমে স্বল্প সুদে ঋণের ব্যবস্থা করা।

১৪. নারী কৃষকের প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতি প্রদান এবং বাজার ব্যবস্থায় নারী অভিগম্যতা নিশ্চিত করা।

১৫. কৃষি, বন, পাহাড় রক্ষা এবং ভ‚মিতে আদিবাসীদের প্রথাগত অধিকার স্বীকৃতি প্রদান করা।

১৬. সমতলের আদিবাসীদের ভূমি অধিকার রক্ষায় আদিবাসী ভূমি কমিশন গঠন।

১৭. পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির পূর্ণ বাস্তবায়ন কাম্য, বিশেষত, পার্বত্য এলাকার ভূমি বিরোধের দ্রুত ও কার্যকর নিষ্পত্তিকরণ।

ad
ad

রাজনীতি থেকে আরও পড়ুন

বিরোধী দলের কর্মকাণ্ডেই ফ্যাসিবাদী মানসিকতার প্রতিফলন: রিজভী

বিরোধীদলের সমালোচনা করে রিজভী বলেন, তারা নতুন ফ্যাসিবাদের অভিযোগ তুলছে, অথচ তাদের নিজেদের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডেই ফ্যাসিবাদী মানসিকতার প্রতিফলন দেখা যায়।

৬ দিন আগে

জামায়াতপন্থি আইন কর্মকর্তাদের পদত্যাগকে ‘পলিটিক্যাল স্ট্যান্টবাজি’ বলল বিএনপি

‘‘উনাদের ওই বক্তব্যটা টোটালি পলিটিক্যাল স্ট্যান্টবাজি, রাজনৈতিকভাবে প্রভাবিত। তারা যদি সরকারের বিরুদ্ধে আচরণই করত, তারা যদি সরকারের সুযোগ-সুবিধাই না নিত, তাহলে সরকার গঠন হওয়ার পরদিনই তাদের পদত্যাগ করে চলে যাওয়ার কথা’’

৬ দিন আগে

আওয়ামী লীগের বিচার না করলে রাস্তা খুঁজুন: জামায়াত আমির

শফিকুর রহমান বলেন, আওয়ামী লীগের দ্বারা যত গণহত্যা সংঘটিত হয়েছে, তার প্রতিটি হত্যাকাণ্ডের বিচার নিশ্চিত করতে হবে। কারও প্রতি কোনো প্রতিশোধ নয়, ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে হবে। ন্যায়বিচার নিশ্চিত না করা অন্যায়। আমরা পরিষ্কার বলে দিচ্ছি— আপনারা বিচার নিশ্চিত করুন, না হয় আপনারা যাওয়ার রাস্তা খুঁজে বের করুন।

৭ দিন আগে

সাংবাদিকদের ওপর হামলা: কর্মীদের ‘সম্পৃক্ততা’ পেলে ‘ব্যবস্থা’ নেবে জামায়াত

ঢাকার ধানমন্ডিতে সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে নেতাকর্মীদের দ্বারা তাদের ওপর যে হামলা-হেনস্তার অভিযোগ উঠেছে, তা পর্যালোচনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটি বলেছে, এ ঘটনায় তাদের কোনো কর্মীর ‘সম্পৃক্ততা’ পেলে তার বিরুদ্ধে ‘সাংগঠনিক ব্যবস্থা’ নেওয়া হবে।

৭ দিন আগে